Showing posts with label national anthem. Show all posts
Showing posts with label national anthem. Show all posts

Sunday, August 15, 2021

অ্যান্থেমঃ শুনলেই কান্না পায়!

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। আজ বিভিন্ন জায়গায় বারেবারে বাজল যে গান অর্থাৎ জাতীয় সঙ্গীত বা ন্যাশানাল অ্যান্থেম। তাকে নিয়েই আজকের কথা। জাতীয় ফুটবল এবং রাগবি দলের বেশ কয়েকটা ম্যাচে সুযোগ হয়েছিল খেলোয়ারদের জাতীয় সংগীত গাওয়ার মুহূর্তটা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ক্যামেরাবন্দি করবার। সেই সময়ে এবং অন্য সময়ে গ্যালারিতে বসে জাতীয় সংগীত বা কোন অনুষ্ঠানের শেষে ওই গানটা শুনলেই কেন জানিনা দুটো চোখ জলে ভরে যেত, আজও যায়।
মুশকিলটা হল কাজের সময়ে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি ভারত আর ইরানের ম্যাচ শুরু হবে তার আগে টিম লাইন আপ হয়েছে। এবার শুরু হবে রবি ঠাকুরের গান। পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেমে ঘোষণা STAND UP FOR NATIONAL ANTHEM OF INDIA. নাক ফোঁসফোঁস আমার শুরু। বুক দুরু দুরু, কাঁধে থাকা ক্যামেরাটা না কেঁপে যায়! কমান্ড আসছে প্যানেল ডিরেক্টরের। ওই সময়ে আমার শট ছাড়াও আরও ৫টা ক্যামেরার শট সুইচ হয়ে একটা মালা গাঁথা হবে। টিম লাইন আপের একপ্রান্ত থেকে শুরু করে মোলায়েম পদক্ষেপে এক একজন খেলোয়াড়কে দেখিয়ে আমি যখন ক্যাপ্টেনের কাছে এসে থামব তখন অবশিষ্ট পড়ে থাকবে জাতীয় সঙ্গীতের "জয় জয় জয় জয় হে"। ব্যাস এটুকুই মাথায়। বুকে টলটলে কান্না। আর মনে আর কিচ্ছু নেই... ব্ল্যাঙ্ক।
আমার ডান চোখটা ঢাকত ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডার আর বাম চোখটা খোলা বন্ধ করবার কারণে কোনওদিন জল বেরোত না। তারপর দুইদলের করমর্দন আর টস। একটা অদ্ভুত ঘোর তৈরি হত ম্যাচ শুরুর ওই মুহুর্তে। এত বিচ্ছিরি একটা ভাল লাগা যে তা বারে বারে কাঁদাত। কিছুটা অ্যড্রিনালিন আর বাকিটাকে কী বলে জানি না, দেশপ্রেম কিনা। তবে ওই একটা কাজের জন্য খেলার ক্যামেরা ওয়ার্কে হ্যান্ডহেল্ড না ব্যাগিক্যাম আজও আমার সেরা পছন্দের পজ়িশন। 

অন্য দেশের জাতীয় সঙ্গীত এর ক্ষেত্রেও একই সমস্যা হত। যেমন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।  কারণ হয়ত ওই একই। রবীন্দ্রনাথ। "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি" এই গানটার "অঘ্রানে তোর আমের বোলের ঘ্রাণে পাগল করে"কানে ঢুকলেই তারপর থেকে শুরু হতো আমার ভেতরে তোলপাড়। বাংলাদেশের ফুটবলারদের অনেকে সেটা লক্ষ্যও করেছেন।  যদিও বহিঃপ্রকাশ থাকত না আমার।  কিন্তু যখন "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসিইইইইই"  দিয়ে শেষের স্ট্র্যাঞ্জা শেষ হত চোখে কেন জানিনা একফোঁটা জল চলে আসতই। বারেবারে হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে, বিভিন্ন মাঠে হয়েছে, কারণ জানা নেই। অথচ ওই সময় কী কঠিন ভাবে মনকে সামলাতাম আমি! 

প্রায় এক রকম হত FIFA অ্যান্থেমের প্রথম ৫ সেকেন্ড। ওই গান প্রায় ২০০০ বারের মত শুনেও আজও শুনলে একই রকম দুরুদুরু হয়। 

কোনওদিন একচুলও ভুলচুক হয় নি আমাদের কারও। এটাই স্পোর্টস ব্রডকাস্ট ক্যামেরা ক্রিউতে কাজ করবার একটা শিক্ষা। সিনিয়রদের দেখে একটা পরম্পরাকে ফলো করে বড় হওয়ার অভ্যাস। সারা গ্যালারি যখন অ্যান্থেমের আবহে আবেগে ভাসে। আমরা তখন কনসেনট্রসনের চূড়ান্ত শিখরে। তখন আমরা সেই আবেগের ঘোড়ার লাগাম শক্ত হাতে ধরে তাতে সওয়ার হয়ে ভেসে যাই, হাওয়ার মত, হাসির মত, কুসুমগন্ধরাশির মত। আর আমার মত কিছু নাদান, বাচ্চাকাচ্চা ওই সব দেখে কিছুটা ভয়ে কিছুটা সম্ভ্রমে আর ভাললাগায় কেঁদে ফেলে, এই আর কি।