Showing posts with label Children. Show all posts
Showing posts with label Children. Show all posts

Tuesday, May 4, 2021

"আমি অনেকদিন খেলতে যাই না"



প্রায় একটা বছরের বেশি হয়ে গেল আমরা ঘেঁটে গেছি। ভাইরাসের ভিমরুলে ভিরমি খেয়ে দিশাহারা হয়ে গেছি। মেলামেশা বন্ধ। আদানপ্রদান বন্ধ। মুখ নাক খুলে শ্বাস নেওয়া বন্ধ। সবচেয়ে বেশি কষ্ট ছোটদের। ওরা ওদের সামান্য প্রাপ্য, দাবী, আবদার গুলো কীভাবে স্যক্রিফাইস করছে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। আমার কন্যা সবে সাড়ে চার। সে এখনই বুঝতে শিখে গেছে বাবা দরজার বাইরে বেরিয়ে ফিরে এলে স্যানিটাইটাইজড না হলে কাছে আসতে নেই। নিজেকে বাঁধতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। 
তো তার ক্লাস হয় অনলাইনে। সেলফোন মনিটারে চোখ রেখে মাঝেমাঝে সহপাঠীদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। রোজ আমার স্ত্রীই ওকে নিয়ে বসেন অনলাইন স্কুলে। একদিন আমি বসলাম। মেয়ে আমার সেদিন খুব খুশি। সর্পের পঞ্চপদ দর্শন হয়েছে তার। ক্লাসে মন নেই। ম্যাডাম যা যা ইন্সট্রাকশন দিচ্ছেন কিচ্ছু শুনছে না। আমি তো গলদঘর্ম। অডিও অফ করে বকুনি দিলাম, "বী অ্যাটেনটিভ"! এরপর শুরু হল নতুন এক ঘটনা। আয়নার যেমনটা দেখা যায় তেমন লিখতে লাগল সে ইংরেজি বর্ণমালা। মানে মিরর ইমেজে B, C, D, J, K ইত্যাদি। আমার রাগ আরও বেড়ে গেল। চুপ থাকলাম। ক্লাসের শেষে ফোন বন্ধ করে তাকে খুব কড়া করে বকলাম। 
-আজ থেকে একদম কার্টুন দেখবে না
-টিভি চালানো বন্ধ, আর একদম খেলাও বন্ধ, কোথাও খেলতে যাবে না। 
- সে চুপ। মাথা নিচু করে চলে গেল। 
পাঁচ ছয় পা গিয়ে ঘুরে আমার দিকে হনহন করে এগিয়ে এসে চিৎকার করে বলল
-আমি অনেকদিন হয়ে গেল কোথাও যাই না, কারও সঙ্গে খেলতে যাই না। আমার কোনও বন্ধু নেই। 

আমার মাথাটা নিচু হয়ে গেল। সত্যিই তো ও তো আর খেলতে যায় না। কেন এরকম বললাম? এরপর শুরু হল ভয়। মেয়েটা আমার ডিসলেক্সিয়া আক্রান্ত হয়েছে নাকি? উল্টো লিখছে কেন? সারাদিন মাথায় ঘুরতে লাগল - আমি অনেকদিন হয়ে গেল কোথাও যাই না, কারও সঙ্গে খেলতে যাই না। আমার কোনও বন্ধু নেই। 
সন্ধ্যেয় বাড়ি ফিরে আমার স্ত্রীকে বললাম। সে বলল কোনও ডিসলেক্সিয়া নয় ওটা দুষ্টুমি। মেয়েকে ডাকলাম, "মাম্মাম চলো আমরা ছবি আঁকব " A  দিয়ে একটা তীর, B দিয়ে বল, C দিয়ে বেড়াল। D টা ইচ্ছে করে ওকে লিখতে দিলাম। ও আবার উল্টো ক্যাপিট্যাল D লিখল। আমি এবার না রেগে, হেসে বললাম, 
- এটা তো ভুল হয়ে গেল। এটা কি ডি হল? 
- বাবা এটাও ঠিক। এটা আসলে স্মল ডি। আমি ওপরের স্ট্যাণ্ডিং লাইনটাতো দিই নি। 
বলে উল্টোনো ডিএর ওপর একটা দাগ টেনে তাকে স্মল ডি করে দিল। 

আসলে ওরা যারা আমার মেয়ের সমবয়স্ক তারা সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের মধ্যে আছে। যে বয়সটায় ওদের চারপাশটা এক্সপ্লোর করবার সময়, সেই বয়সে ওরা বাধ্য হচ্ছে ঘরে বাঁধা হয়ে থাকতে। অথচ ওদের এই অসুবিধাটা বলে বোঝাবার মত শব্দ ওদের কাছে নেই। তাই ওদের এই কনফাইনমেন্ট, অ্যাগ্রেশন হয়ে বের হচ্ছে। কেউ চিৎকার করছে, কেউ ঘ্যানঘ্যান করছে কেউ বদমায়েসি করছে। মোদ্দা কথা ওরা ভাল নেই। আর কেউ চিন্তিতও নন ওদের নিয়ে। 

এশিয়ার বেশ কয়েকটা দেশে প্রিস্কুলার বাচ্চারা যাতে ভাল থাকতে পারে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল করোনার প্রথম তরঙ্গের সময়ে। তরঙ্গ কিছুটা স্তিমিত হলে খোলা হয়েছিল স্কুলও। খুব সম্ভবত মালয়েশিয়ার একটা স্কুলের ছবিও দেখেছিলাম খবরে। শারিরীক দূরত্ববিধি মেনে প্রতিটি শিশুর চারিদিকে স্বচ্ছ দেওয়ালের ঘেরাটোপ দিয়ে ক্লাস চলছে। ওরা তার মধ্যে দিয়ে বন্ধুদের দেখছে, কমিউনিকেট করছে, হাসছে খেলছে, আর সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা "আমি একলা নই" এই অনুভূতিটা পাচ্ছে। 
আমাদের দেশে। এরকম যদি কোনও স্কুল করতে চায়, পরীক্ষামূলক ভাবেও। তাহলে। অবস্থাটা কল্পনা করুন একবার।

অতএব বিরাট কোহলিরা কেন খেলতে পারছে না আইপিএল তা নিয়ে না হয় আলোচনা হোক। তর্ক হোক। চায়ের কাপে, হোয়াটসঅ্যাপে মারামারি, মারকাটারি হোক । আর আমার আপনার ছোট্ট কচিকাঁচা গুলো তাদের বন্ধুদের দেখতে না পেয়ে, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে না পারার কষ্টে গুমরে গুমরে মরুক ঘরের কোনে। তাতে কি আর এমন এল গেল? 

Disclaimer : এই লেখাটি শিশুমনের অত্যন্ত অন্তরীণ একটি বিষয় নিয়ে। এই লেখার উদ্দেশ্য কখনই করোনাবিধি ভঙ্গ করা না। করোনার তৃতীয় তরঙ্গ শিশুদের জন্য মারাত্মক। শিশুর সুরক্ষা সম্বন্ধে অবহিত থাকুন। সুরক্ষা বিধি মেনে চলুন। বাড়ির মানুষদের সঙ্গে বেশি করে সময় কাটান। কে বলতে পারে আজ আছি কাল হয়ত নেই।  


Wednesday, March 21, 2018

আমার এই ছোট্ট ঝুড়ি, এতে রাম রাবণ আছে .......

পুতুল নাচ আমাদের বয়সী মানুষ জন অবশ্যই এক বার না এক বার দেখেছেন ছোটবেলায়। আমাদের দেশে পুতুল নাচের বিরাট এক ঐতিহ্য মন্ডিত ইতিহাস আছে। মধ্যযুগে অবিভক্ত বাংলা সাহিত্যে পুতুল নাচের উল্লেখ পাওয়া যায়। শুধু মাত্র শিশুদের খেলনা ছাড়াও সচেতনতা ও সামাজিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে এবং রামকৃষ্ণের ভাষায় 'লোকশিক্ষা ' র হাতিয়ার হিসেবে পুতুল নাচের ভূমিকা চিরায়ত। মূলতঃ স্বল্প শিক্ষিত প্রান্তিক গ্রামীণ মানুষ জন, যাদের বাস মাটির খুব কাছে তাদের অবকাশ বিনোদনের হাত ধরে বেঁচে রয়েছে এই আর্ট ফর্মটি। নেই কোনো সামাজিক স্বীকৃতি , কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা। রয়েছেন  কিছু প্রান্তিক মানুষজন আর তাদের নেশাকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছে। এদিকে রয়েছে বর্তমান সময়ে বিনোদনের হাজারো মাধ্যম , আর তাদের চোখ ধাঁধানো উপস্থাপনার মোড়ক।  ধাক্কায় পিছোতে পিছোতে প্রায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে এই শিল্প মাধ্যমটির।

বাঙলার পুতুল নাচের আসর আর এখন বসে না মফঃস্বলে। অথচ কী গৌরবান্বিত এই সংস্কৃতি ! বেণী পুতুল, ডাঙের পুতুল, তারের পুতুল, চদর বদর , সুতো পুতুল ,বনরাকু, ছায়া দিয়ে পুতুল নাচ আরও কত কী।  সহজ সরল উপস্থাপনা সরাসরি সংযোগ করে দর্শকদের সাথে। ছোটদের সাথে সাথে তাজ্জব বনে যায় বড়রাও ! পুতুল কথা বলে! হ্যাঁ আমি ভেন্ট্রিলোকুইজম এর কথা বলছি।
ধূমকেতু পাপেট থিয়েটারের প্রাণ দিলীপ মন্ডল ও তাঁর কথাবলা পুতুল 


সৌনাভ সেনগুপ্ত র সাথে অনেক দিনের পরিচয়। মিরাক্কেল এ সবে তখন ও কাজ করেছে। খেল @ ১১ বলে একটা খেলার অনুষ্ঠানে Anchor করবে সৌনাভ। আমি ক্যামেরা র দায়িত্বে। সেই শুরু কাছ থেকে নারদ কে দেখা। নিজে দিনের খবর জেনে নিয়ে স্ক্রিপ্ট করত সৌনাভ।  নারদ (সৌনাভ র পুতুল - আমরা বলি অল্টার ইগো ) আর সৌনাভ করত উপস্থাপনা। ললিত মোদী কান্ড , গ্রেগ চ্যাপেল কান্ড , বি সি সি আই এর অন্দর মহল এর খবর। যে কথা গুলো কোনো নিউজ চ্যানেলে সৌনাভর মুখ দিয়ে বললে নির্ঘাত মানহানির মামলা হত সে গুলো নারদ এর মুখে পড়তেই পেটে খিল ধরানো হাসির রোল। রোল চলতে চলতে আমরা ফ্লোরে মুখ বন্ধ করে হাসতাম। এই হচ্ছে পাওয়ার অফ পাপেট। কখনও নারদ গাইত গাজীর গান কখনো সারে জাহাঁ সে আচ্ছা। বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে নারদের মত এত ধারালো ক্রিকেট উপস্থাপক বোধহয় আসে নি। ভেন্ট্রিলোকুইজমকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে ওরা দুজন ! নাকি একজন ! না বোধহয় দুজনই।
নারদ ও সৌনাভ সেনগুপ্ত  Khel @11 এর সেটে 


পুতুল নিয়ে এতো কথা বলছি কারণ আজ বিশ্ব পুতুল দিবস। পুতুলদের জন্য আজকের দিনটা। ১৯৯৩ থেকে ২১শে মার্চ পালিত হয়ে আসছে পুতুল দিবস। প্রখ্যাত পুতুলিয়া সংগীত নাটক একাডেমি বিজয়ী  দাদি পুদুমজি র পরামর্শে UNESCO র পৃষ্ঠপোষকতায় ২০০২ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে পুতুল দিবস।
আমাদের শহর কলকাতায় রবীন্দ্র ভারতী পশ্চিমবঙ্গ নৃত্য নাটক সংগীত ও দৃশ্যকলা আকাদেমি আজ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির দ্বারকানাথ মঞ্চে উদযাপন করল এই দিন। দুপুর ৩তে থেকে শুরু হল বিভিন্ন পুতুল নাটক। কোনোটায় বার্তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ,কোথাও পরিবেশ সচেতনতা ,কোনোটায় আবার বন ও বন্য প্রাণী রা এগিয়ে এসে বলছে "কী করছো তোমরা ! বন বাঁচাও তবে তো তোমরা বাঁচবে "



পাখি পুতুল 

বাঘ বাঁচাও 

বাতাসে অক্সিজেন কমছে  

দড়ি ধরে টানলেই  তালপাতার সেপাইয়ের হাত পা নড়ে !!!

বগুলা থেকে পুতুল নিয়ে এসেছিলেন প্রবীণ শিল্পী রঞ্জন রায়। শ্রীমা পুতুল নাট্য সমাজ নাম একটি দল চালান রঞ্জন বাবু। সুতোর পুতুলের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ দেখলে চোখকে বিশ্বাস করা যায় না। পুতুল টিকে নিয়ে জিমন্যাস্টিক্স দেখানোর দৃশ্য মঞ্চে শেষ হতেই দর্শকদের করতালিতে ফেটে পড়লো দ্বারকানাথ মঞ্চ। বগুলার মুড়াগাছার এই অসামান্য শিল্পীর কিছু মুহূর্ত রইল। 
অভ্যাস করছেন রঞ্জন রায় 











                                                         জিমন্যাস্টিক্স করছে পুতুল



বাংলার পুতুলনাট্য কর্মীরা সমবেত হয়ে এক ছাতার তলায় এসে তৈরি করেছে 'পাপেট মঞ্চ' সেই সংস্থার উদ্যোগে এই আয়োজন কিছু কচি কাঁচা সজীব মনকে শেখাল জীবনটা আসলে পুতুল খেলারই আসর। আমরা সবাই এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা।কার সুতোয় কখন কে টান মারে কেউ জানে না!!!