Showing posts with label floating garbege.Polyethylene terephthalate Polyvinyl chloride Polypropylene Polystyrene. Show all posts
Showing posts with label floating garbege.Polyethylene terephthalate Polyvinyl chloride Polypropylene Polystyrene. Show all posts

Sunday, April 22, 2018

আর্থ ডে র ছুতোয় আজ শোনাব প্লাষ্টিক এর কথা


জ ধরণী the boss !! আসলে আজ ধরণী দিবস কিন্তু মজা করতে ইচ্ছে হলে এভাবেও বলা যায়। মানুষ ছাড়া বসিং আর কেই বা দেখতে পারে এই জগতে ! আগেও বলেছি এই ব্লগে আবার বলছি আজ। আর্থ ডে র ছুতোয়। আজ শোনাব প্লাষ্টিক এর কথা। যে প্রজাতির বিছানার তোষকের তলায় ক্যারি ব্যাগ আর খবরের কাগজ শায়িত থাকে তাকেই বাঙালি বলে।  আমার মা ও এর ব্যতিক্রম নয়। বাজারের সব্জি মাছ মাংসের চেয়ে প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ তাঁর এত প্রিয় যে তাঁকে ক্ষেপিয়ে প্লাষ্টিক গণ আর ক্যারিব্যাগ রাশি বলি আমরা আড়ালে আবডালে। আসলে আমরা সবাই বোধহয় এমনই। শোর, গ্রামে ,রাস্তায় ,সমুদ্রতটে , মরুভূমিতে , দূরবর্তী পাহাড় বা দ্বীপে একটা জিনিস আমাদের জীবনযাত্রায় কমন- প্লাষ্টিক। পরিবেশ নোংরা করার সবচেয়ে সহজ এবং ভয়ঙ্কর উপাদান হল প্লাষ্টিক। প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে গোল্লায় যেতে বসেছে আমাদের এই গোলকটি। এই গ্রহটি। একমাত্র যেখানে প্রাণ বিরাজ করে। আপনি হয়ত বলবেন প্লাষ্টিক কি সত্যিই এত বড় ভয় ? আমাদের জীবনযাত্রাকে এত সুবিধা দেয় , জল থেকে বাঁচায় , জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে এত সাহায্য করে যে তা কি করে এতটা মারাত্মক হতে পারে।  আমাদের আসবাবপত্রে , ইমারতি দ্রব্যে , গাড়িতে, বাড়িতে , স্কুলে, অফিসে , ইলেক্ট্রনিক্সে , চিকিৎসায় সর্বত্র সবজায়গায় বিদ্যমান প্লাষ্টিক। এ তো আমাদের পরম আত্মীয়। সকালে ব্রাশ করা থেকে শুরু করে রাত্রে শুতে যাওয়া পর্যন্ত প্লাষ্টিক , পলিমার ,পলিথিন ছাড়া জীবন তো অচল ! তাহলে ধৈর্য্য ধরে এই লেখা টা পড়ুন।
১৯০৭এ প্লাস্টিকের আবিষ্কার সভ্যতার এক যুগান্তকারী ঘটনা। তারপরই প্লাস্টিকের জিনিসপত্র আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অঙ্গ হয়ে উঠল। তারপর বহুবছর ধরে প্লাষ্টিক, পলিথিনের মোহে আমরা বুঁদ হয়ে রইলাম। আমার পৃথিবী পলিথিনে মলিন করে Go Green এর গোঁয়ার্তুমি স্ট্যাটাস সিম্বল হল। আর আমরা বোঝার চেষ্টাই করলাম না পশুপাখির আর মানুষের শরীরে , প্রকৃতির ভারসাম্যে , জলবায়ুতে কোথায় কোথায় কী কী অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল প্লাস্টিকের হাত ধরে। তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরির বাইপ্রোডাক্ট হল প্লাষ্টিক। পরিবেশে বিলীন হয় না এমন কিছু হাইড্রোকার্বন যৌগ যার সবচেয়ে বড় মারণ ক্ষমতাই হল অবিনাশী হওয়া। যেন রক্তবীজের বংশ। একফোঁটা রক্ত মাটিতে পড়লেই তার থেকে হাজার হাজার রাক্ষস তৈরি হবে। আর এক্ষেত্রে জলে প্লাষ্টিক মিশলেই বেগতিক। সে প্রসঙ্গে আসছি পরে। তার আগে দেখে নি সরাসরি কিভাবে প্লাষ্টিক আমাদের মানবদেহের  ক্ষতি করছে।

প্লাষ্টিক আর আপনি
দশকের পর দশক বিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্যালন তেল ও প্লাষ্টিক উৎপাদনের পর টনক নড়ল আমাদের।বুঝলাম আমরা কী মারাত্মক ফল এর। ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তখন দাপাদাপি করছে আমার ড্রয়িং রুমে , আপনার কিচেনে , ওনার ফ্রিজে। মাথাব্যথার বিষয় , বিড়ম্বনার বার্তা ততক্ষনে বয়ে এনেছে প্লাষ্টিক দূষণ। খাবার রাখার পাত্রে  আর পানীয় রাখার বোতলের থেকে ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত ক্ষতিকর সব বিষ যা এলোমেলো করে দিতে পারে মানব শরীরের রসায়ন। ঘেঁটে দিতে পারে ক্রোমোজোমের নামতার প্যাঁচ , বিচ্ছিরি প্রভাব ফেলতে পারে জননতনতন্ত্রের জটিলতায়। পারে কেন পারছে। প্লাস্টিকের প্রভাবে শুধু খাবার আর পানীয় বোতল, কাপ, গ্লাসে মেশা ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে বাড়ছে  অল্প বয়সে ডায়াবেটিস , মস্তিস্ক ও স্নায়ুরোগ , কার্ডিওভাসকুলার ক্ষতি , ওবেসিটি , আর্লি পিউবার্টির মত শারীরবৃত্তীয় দুর্ঘটনা।  এমনকি ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতাও বাড়াচ্ছে ওই প্লাষ্টিক , তাদের কুপ্রভাবে শরীরে কেমোথেরাপির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতাও জমিনে যাচ্ছে। কিছু প্লাস্টিকে আবার থাকে  DEHP প্যাথালেট আর কেমিক্যাল BPA ওই ধরণের প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার যদি রেখে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করা হয় আর সেই রাসায়নিক সংক্রমিত খাবার যদি কোনো শিশু খায় তবে তার মানসিক ও দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে , শুধু তাই নয় হতে পারে তার হরমোনাল আর রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমের গড়বড়ও। এবার কি একটু নিজের কাবার্ড খুলে কাচের বাসন গুলো ঝুল ঝেড়ে বের করবেন ?

প্লাষ্টিক আর পরিবেশ 
প্লাস্টিকের মত পরিবেশ নোংরা করার জুড়ি মেলা ভার। )তাই হয়তো আপনি ভাবতে পারেন নালা , নর্দমার মুখে জমে গিয়ে ব্লকেজ করে বানভাসি করা প্লাস্টিকের দূষণ চরিত্র। অরে দাঁড়ান দাঁড়ান। এখানেই শেষ নয় ক্ষতির খতিয়ান। চলুন দেখি কিভাবে জন্মায় প্লাস্টিক ? রিফাইন্ড গ্যাসোলিন , কেরোসিন , পেট্রল বা ডিজেলের মত প্লাস্টিকও একটা পেট্রোলিয়াম। তাই ড্রিল করে তৈলকূপ থেকে তেল বের করা থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে সেই তেল কে প্লাস্টিক পর্যন্ত যেতে যে সব প্রক্রিয়াকরণ চলে তাতে পরিবেশের বায়ুমণ্ডলে মেশে কার্বন মনোক্সাইড , হাইড্রোজেন সালফাইড , ওজন , বেঞ্জিন  আর মিথেন। এই গ্যাস গুলির মধ্যে মিথেনের গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়ানোর ক্ষমতা কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়েও বেশি। একটা হিসেবে দিই পেট ( PET) হল পলিথিলিন টেরেপথ্যালেট (Polyethylene Terephthalate ) যা থেকে প্লাস্টিকের বোতল তৈরী হয়।  এই পেট এর প্রতি এক আউন্স তৈরি করতে গিয়ে বাতাসে মেশে ৫আউন্স  কার্বন ডাই অক্সাইড। বুঝুন কান্ড ! কী মারাত্মক ঝঞ্ঝাটের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাগের মা প্রকৃতি , মা পৃথিবী। আগের কারণ গুলো ঘটনা গুলো একটু দূরবর্তী।  কিন্তু এটা তো একেবারে "ক্লিয়ার হ্যায় " তুফানি ঠান্ডা pet বোতলে ভরে সর উঠাকে পিও বলতে বলতে কতটা যে সর ঝুঁকিয়ে ফেলেছি আমরা। আমাদের নেহাত সখের জীবনযাত্রার খেসারত দিচ্ছে বায়ুমণ্ডল , বিষ বায়ু বুকে নিয়ে পাল্টে ফেলছে ক্লাইমেট। চলুন তো অনেক হয়েছে।  এবার সবাই অঙ্গীকার করি প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করাটা অভ্যাসে পরিণত করব। যুদ্ধং দেহি ভাবে বলি End Plastic Pollution

মহাসাগরে মাছের চেয়ে প্লাস্টিকের ওজন বাড়ছে 
চমকে যাবেন না বিজ্ঞানীদের মত ২০৫০এ সারা পৃথিবীর সব মহাসাগরে ভাসমান প্লাস্টিকের মোট ওজন যা হবে তত ওজনের মাছ থাকবে না সাগরজলে। ইতিমধ্যে পৃথিবীর তিনভাগ জলে তৈরী হয়েছে ৫টি গার্বেজ প্যাচ। ক্যালিফোর্নিয়া আর হাওয়াই দ্বীপের মাঝে , আটলান্টিক আর ভারত মহাসাগরে তৈরী হয়েছে এমনি সব ভাসমান জঞ্জালের প্যাচ। তবে এর মধ্যে GPGP বা গ্রেট প্যাসিফিক গার্বেজ প্যাচ এর কথা আপনারা যাঁরা জল দিবসের ব্লগটি পড়েছেন জানেন। তো সমুদ্রের জলে এই ভাসমান প্লাস্টিক জলের ধাক্কা আর রোদের তাপে ভাঙতে থাকে।  ভেঙে ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়। সামুদ্রিক জীবজন্তুর মস্তিস্ক মানুষের মত বদমাইসিতে ভরপুর না। ওরা খাদ্যভ্রমে প্লাস্টিকের টুকরো খেয়ে ফেলে। প্লাষ্টিক তো হজম হওয়ার নয়। তারফলে যা হওয়ার তাই হয়। প্লাস্টিক জমে থাকে পাকস্থলী জুড়ে।  ওই জীবটির খাদ্যগ্রহণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে মৃত্যুর অপেক্ষা করে প্রাণীটি। নয়তো মমির মত শুকিয়ে যায়। এদিকে পাখিদের অবস্থা আরও সঙ্গিন। মাছ ধরার সুতো , জঞ্জাল প্লাষ্টিক ব্যাগে জড়িয়ে মৃত্যু হয় বহু পাখির।সামুদ্রিক কচ্ছপরা প্লাস্টিক ব্যাগকে জেলিফিস ভেবে খেতে গিয়ে কাল ডেকে আনে। এ দৃশ্য ডকুমেন্টারি চ্যানেল গুলোয় দেখে দেখে কতকটা গা সওয়া হয়ে গেছে যেন আমাদের। সামুদ্রিক মাছ যদি প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে তাদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।  আর কালক্রমে ওই প্লাস্টিক ভাঙতে ভাঙতে পরিণত হয় মাইক্রোপ্লাস্টিকে। মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রক্তে প্রবেশ করে। তারপর সেই মাছ যে প্রাণী খায় তার দেহেও অনুপ্রবেশ ঘটে মাইক্রোপ্লাস্টিকের। টক্সিন ক্ষমতাধারী এই অনু প্লাস্টিক নিঃশব্দে ক্ষতি চালায়।  
মাইক্রোপ্লাস্টিক
দীর্ঘ দিন জলে বা সূর্যের আলোয় বা দুটিতেই যদি পরে থাকে সেক্ষেত্রে সেই কঠিন প্লাষ্টিক ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়। জলজ প্রাণীর খাদ্যের মাধ্যমে সেই মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে প্রাণীর রক্তে। এভাবে আমূল বদলে যায় ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য। এছাড়াও রয়েছে মাইক্রোবিড যা ব্যবহৃত হয় টুথপেস্ট , ফেস ওয়াশ , সাবান , শাওয়ার জেল আর কাপড় কাচার ডিটার্জেন্ট এ। এগুলি আসলে পলিথিলিন প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র রূপ। এছাড়া আমাদের ব্যবহার্য কাপড় যা সিন্থেটিক পলিয়েস্টার , এক্রাইলিক , নাইলন দিয়ে তৈরী সেগুলি ধোয়ার সময় ওই মাইক্রোবিডস এসে মেশে যদি নালা খালের জলে। এর  ফলেও জলে বাড়ে প্লাষ্টিক দূষণ। সরকারি সংস্থাগুলি যে জল পরিশ্রুতকরণের পদ্ধতি অবলম্বন করে তাতে ৫মিমি র কম মাইক্রোপ্লাস্টিক গুলি সরাসরি সাগরে বা নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিবিসির একটি রিপোর্ট অনুযায়ী
৯.১ বিলিয়ন মেট্রিক টন  রিসাইকেল্ড প্লাস্টিক তৈরি হয়েছে এপর্যন্ত যার জন্য ৬.৯ বিলিয়ন টন জঞ্জাল তৈরি হয়েছে। তার ৯% শুধু রিসাইকেল করা হয়েছে। আর ১২% ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি ৭৯% মাটি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বা সরাসরি মাটিতে জঞ্জাল হিসেবে পরে আছে।
এই বিশাল পরিমান প্লাস্টিক বর্জ্যর বেশিরভাগটাই আসে প্যাকেজিং শিল্প থেকে। ২০১৫ এ মোট প্লাস্টিক উৎপাদনের ৪২% লেগেছে প্যাকেজিং আর ৫২% প্লাস্টিক স্রেফ ফেলে দেওয়া হয়েছে। 
তবে কি কিছুই করার নেই 
একনজরে দেখে নিন আপনি কি করতে পারেন ?
১) যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলবেন না।  তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক হওয়া এড়ানো যাবে।
২) পুকুর , নদি ,নালা বা অনত্র যেখানে প্লাস্টিক দেখবেন সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে। ফেলুন
৩) এলাকায় প্লাস্টিক পরিষ্কার অভিযান আয়োজন করুন , জনমত তৈরী করুন। 
৪) মাইক্রোবিডস বিহীন প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। ইন্টারনেটে খোঁজ নিন কিসে কিসে মাইক্রোবিডস আছে। 
৫) যে সব কাপড়এ মাইক্রোফাইবার আছে তার ব্যবহার ও পরিষ্কারের ব্যাপারে সচেতন হন। 
৬) প্রাকৃতিক ফাইবার যুক্ত জামাকাপড় ব্যবহার করুন। 


Reduce
প্লাস্টিকের ব্যবহার কমান। চিন্তা ভাবনা করুন কিভাবে নিজের জীবন থেকে প্লাস্টিককে বিযুক্ত করবেন।  হয়তো প্লাস্টিকের বোতলের বদলে কাচ বা তামার বোতল ব্যবহার করতে পারেন জল রাখার কাজে।  মাটির কুঁজোও দারুন। কিন্তু প্লাস্টিক নৈব নৈব চ। প্লাস্টিকের কিছু কিনতে গেলে দুবার ভাবুন সেটা কি আপনার সত্যিই দরকার। তথাকথিত মিনারেল ওয়াটার আসলে বেশি মাত্রায় ক্লোরিন দেওয়া জল।  বাড়ি থেকে ফিল্টার করা জল ওয়াটার বটলে ক্যারি করুন। প্লাস্টিকের বোতলের কেনা জলের থেকে ওটা অনেক নিরাপদ আর নিখরচার। ডাবের জল বা কোল্ড ড্রিঙ্ক খেতে কি সত্যিই স্ট্র এর প্রয়োজন আছে ? অনুষ্ঠান বাড়িতে কলাপাতা , মাটির গ্লাস আজও কিন্তু লুকে হিট ,স্বাস্থ্যে ফিট। 

Refuse
বাজারে করতে ব্যাগ নিয়ে জান। দোকানদার ক্যারিব্যাগে জিনিস দিতে চাইলে তাকে বারণ করুন। পুরোনো সুঅভ্যাসে ফিরুন।  প্লাস্টিকের থালা , গ্লাস , বাটি র ব্যবহার বর্জন করুন। বেশি সময় নিয়ে বাজার করুন।  মলের প্যাকেজড জিনিস না কিনে বাজার ঘুরে প্লাস্টিক প্যাক বিহীন জিনিস কিনুন। স্যাসে প্যাক না কিনে বড় প্যাক কিনুন।  সাশ্রয় ও হল পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হল না। রেস্টুরেন্ট , বাজার মল সব জায়গায় বিক্রেতা প্লাস্টিক দিতে এলে তাকে ব্যারন করুন , সাথে সাথে জিজ্ঞেস করুন এই প্যাক কিনতে তাঁর খরচ হয় কি না ? তাকে বোঝান আপনি তাঁর খরচ বাঁচাচ্ছেন। প্লাস্টিক দিয়ে তৈরী করা এই বাজার আসলে সত্য না।  আধুনিক প্রযুক্তি প্লাস্টিক বিহীন প্যাকেজিং এনেছে।  তাদের আস্তে দিন।  দেখুন বাংলাদেশে পাট দিয়ে তৈরি এই প্যাকেজিং। হুবহু প্লাস্টিকের মত দেখতে সোনালী ব্যাগ।  এর বিশেস্বত্ত্ব হল মাটিতে সম্পূর্ণ মিশে যায় এই ব্যাগ।



ছবি সৌজন্য : প্রথম আলো
Reuse 
পুরানো জামাকাপড় ফেলে না দিয়ে পরিষ্কার করে যাদের প্রয়োজন সে রকম মানুষদের দিন। গ্রোসারি র জন্য আলাদা ক্যানভাসের ব্যাগ রাখুন যাতে প্লাস্টিকের ব্যাগের প্রয়োজনও না পরে আর ওই ব্যাগটি বারবার ব্যবহার করা যায়। প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়ে নানান রকম জিনিসপত্র তৈরী হচ্ছে।  বোতল দিয়েই শুধু কত কি করা যায় দেখুন।





Recycle
রাতারাতি কিছুই হয়ে যাবে না।  পরিকল্পিত ভাবে প্লাস্টিকের রিসাইকেলই একমাত্র উপায় প্লাস্টিকের দূষণের হাত থেকে বাঁচার। রিসাইকেল এর বিষয়ে জানুন আর অন্যকে জানান। আপনার প্লাস্টিক চিনুন। দেখবেন যে কোন প্লাস্টিক প্রোডাক্টের গায়ে রিসাইকেলের লোগোর মাঝে ১,২,৩,৪, এরকম সংখ্যা দেওয়া থাকে। সেই সংখ্যা গুলোর মানে জানুন।
১) PET Polyethylene terephthalate ব্যবহৃত হয় সফট ড্রিঙ্কস বোতল , পিনাট বাটার জার এ। রিসাইকেল করে তৈরী হয় দড়ি , কার্পেট , স্লিপিং ব্যাগ , বালিশ।
২) HDPE (High-density polyethylene) মাখন এর কৌটো , ডিটারজেন্ট এর বোতল , মোটর অয়েলের বোতল এ। রিসাইকেল করে তৈরী হয় ফুলদানি ,ট্রাফিক ব্যারিয়ার কোন।
৩)  PVC (Polyvinyl chloride) শ্যাম্পু বোতল , ভোজ্য তেলের বোতল , ফাস্ট ফুড এর সার্ভিসে।
রিসাইকেল করে তৈরী হয় ড্রেনেজ আর সেচের পাইপ।
৪)LDPE (Low-density polyethylene) ক্যারি ব্যাগ , পাউরুটির ব্যাগ।
৫)  PP (Polypropylene) PP বোতলের ছিপি , স্ট্র , দইয়ের কন্টেনার। রিসাইকেল করে তৈরী হয় গাড়ির ব্যাটারি কেস , প্লাষ্টিক লাম্বার।
৬) PS (Polystyrene) গরম পানীয়র কাপ , প্যাকেজিং মেটেরিয়াল। রিসাইকেল করে তৈরী হয় ক্যাসেট বক্স , ফুলদানি ,প্লাষ্টিক লাম্বার।
৭)OTHER সব রকম প্লাস্টিক এর মিশ্রণ। মাইক্রোওয়েভ পাত্র , স্কুইজ করা যায় এমন পাত্র।  এটা রিসাইকেল হয় না।