Showing posts with label pollution. Show all posts
Showing posts with label pollution. Show all posts

Sunday, July 15, 2018

হাসেন অন্তর্যামী : শহরের প্লাস্টিক দূষণ মাড়িয়ে চলল ইস্কন রথের চাকা Plastic Pollution in ISKCON Ratha Yatra

গতকাল ছিল রথযাত্রা। প্রতিবছরের মতন রথের ছবি করতে বেরিয়েছিলাম। অগুনতি ভক্তজন, কৃপাপ্রার্থী, সাধারণ মানুষের জনজোয়ারের ভিড়ে মিশে গিয়ে উৎসবের আঁচ গায়ে মাখতে মাখতে ছবি করছিলাম। শহর,রাজ্য,দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের ভিড়। পথে নেমেছেন জগতের নাথ। সবার রঙে রঙ মেশাতে। সবাইকে মিলিয়ে দিতে। 'জয় জগন্নাথ' ধ্বনিতে গমগম করছে পথ। আগে দেখুন সে ছবির কোলাজ তারপর বাকি গল্প।











এপর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। হৃদয় উজাড় করা শ্রদ্ধা ভক্তি। নামগান। দুবাহু তুলে হরিবোল। বিদেশি উচ্চারণে 'হারে কৃষ্ণা হারে রামা'। মনে হচ্ছিল বিশ্ব সমাগম মিছিলে যোগ দিয়েছেন জগন্নাথ যোগ দিয়েছে জনতা। 
নাচ , গান, আল্পনা , ধুনুচি , ছৌ সব মিলে দারুন এক আবহ , সুন্দর এক পরিবেশ। প্রতিটি রথ ও  ট্যাবলোর আগে ও পিছনে জল ও পানীয়বাহি ভ্যান গাড়ির ব্যবস্থা করেছিল ইস্কন কর্তৃপক্ষ। প্রচন্ড আর্দ্রতা ও গরমে যাতে অসুস্থ না হয়ে পড়ে কোনো ভক্ত তারই জন্য।  






এরই মাঝে ঘটল ঘটনাটা। শরৎ বোস রোডে কিছু মানুষজন রথযাত্রার পুণ্যার্থীদের সরবত খাওয়াতে আরম্ভ করলেন। গোলাপি সরবত প্লাস্টিকের গ্লাসে। মানুষ খেলেন কম ফেললেন বেশি। পড়ে রইলো আধখাওয়া প্লাস্টিক গ্লাস সমেত সরবত। 


ভাণ্ডারাওয়ালারা পুণ্যলাভের লোভে ভুলে গেলেন ওই পথেই আসছেন জগন্নাথ। চারপাশ পলিথিন প্লাস্টিক মলিন করে তাঁরা তখন মানুষজনকে জোরাজোরি করছেন সেবা নেওয়ার জন্য।
পড়ে রইল প্লাস্টিক। তার ওপরই মেয়েরা নাচগান করল। শহরের আপামর জনগন অপেক্ষা করল। আর রথ ,মূর্তি, সেবাইত সবাই চললেন সেই দূষণ মাড়িয়ে। হো হো হাসিতে মেতে উঠলেন জগতের নাথ।













হয়ত অনেকেই জানেন প্লাস্টিকের ভয়াবহতা। তাঁরা এটাও জানেন সম্প্রতি মুম্বই আর দিল্লিকে প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এখনও টেলিভিশন প্রাইমটাইমে , বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ রয়েছি প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। আর যাঁরা প্লাস্টিক দূষণকে হালকা ভাবে নেন তাঁরা এই ব্লগপোস্টটিকে পাগলের প্রলাপ, অর্বাচিনের মন্তব্য অনেককিছুই বলতে পারেন তাতে কিচ্ছু যায় কিম্বা আসে না।
পরিশেষে একটা কথা ঈশ্বর ভক্তির অছিলায় ভক্তদের সেবা যদি করতেই হয় তাহলে উচ্ছিষ্ট পরিষ্কার করাও সেই সেবারই অঙ্গ এটা মাথায় রাখাও উচিত।  

Tuesday, June 5, 2018

"ওহ মা ! আর পারছি না !" এই মা আসলে কে ? World Environment Day

আমি মাঝে মাঝেই ভাবি , এই যে আমরা ক্লান্ত হয়ে বলি "ওহ মা ! আর পারছি না !" এই মা আসলে কে ? জন্মদাত্রী মা ? কোন দেবী ? কে ? কে এই মা যার স্মরণাপন্ন হই আমরা ঘন ঘন। ক্লান্তি তে দিনের শেষে ঘুমের জগতে পাড়ি দেওয়ার আগে যাকে রোজ মনে মনে ধন্যবাদ দিই আমি আপনি সবাই। জন্মদাত্রী নন কারণ তাঁর সামনে "ওহ মা" বলে  ডাকলেও তিনি কোন প্রতিক্রিয়া দেন না। দেবী দেবতা হওয়ার কোন প্রশ্নই নেই। অনেক ভেবে দেখেছি , এই মা হলেন প্রকৃতি মাতা। মাদার নেচার। যাঁর জন্য আজ বড় জাঁকজমক। তিনি ভাল নেই। বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধার চেয়েও খারাপ আছেন তিনি। ফুটপাথে পাঁপড় বিক্রি করা সন্তান দ্বারা বিতাড়িত মা এর চেয়েও কষ্টে তিনি। প্রতি নিয়ত সন্তানরা তাঁকে ধর্ষণ করছে। অথচ পরম মমতায় সেই সন্তানদেরই তিনি আদর করে আগলে রেখেছেন। বুকে ক্যান্সার বাতাস। সবুজ সজীব গায়ে প্লাষ্টিক পচন। পরনের সমুদ্র নীল শাড়ির মত স্বচ্ছ জলে ঘন কাল বিষ। ভাল নেই প্রকৃতি, ভাল নেই আমাদের চারপাশ ,পরিবেশ।
 এই ধরুন কিছুদিন ধরে সকালে কাগজ খুললে দেখছি পচা মাংস মাছ খাবার হিসেবে নাকি খেয়েছি আমরা বেশ কিছু দিন।  সন্ধেয় টেলিভিশনে বা সারাদিনের ই ভিডিওতে সেই পচা গলা মাংস বাজেয়াপ্ত করার সম্প্রচার। এদিকে আবার নিপা ভাইরাস ছড়াচ্ছে আম, লিচু , মুরগিতে। খাবেন কী মশাই ? ভয়েই মরে যাবেন। আপনার আমার মত সাধারণ মানুষ সাতেও নেই পাঁচেও নেই তাদের মানসিক শান্তি নয়ছয় করে দেওয়ার জন্য এই নিউজ ফিড গুলো যথেষ্ট। দাদা এই তো পরিবেশ। তার আবার দিবস!!! ও কি খায় না মাথায় মাখে ? ঠিকই তো। এই যে কুকুর খেয়েছি মাটন ভেবে এই ভাবনা মনে ঢোকার পর থেকে চাইলেও বমি করতে পারছি না এ কি কম জ্বালা। দাদাভাই ভাববেন না। কষ্ট করে একটু গুগল করুন দেখবেন কুকুর , বিড়াল , ষণ্ডের অন্ডকোষ , টিকটিকি, আরশোলা , মাকড়সা , স্যাপ, ব্যাঙ , জ্যান্ত অক্টপাস , সব খায় তামাম দুনিয়ার মানুষ। দুনিয়া কী এই দেশেই মিজো সমাজে কুকুর খুব সম্মানীয় ও উপাদেয় পদ হিসাবে পরিবেশন  করা হয়। আবার গুগুল করুন পচা আমিষ খাবার। পচা দুধ ,পচা চিজ , সার্ক মেরে তাকে মাটির তলায় চাপা দিয়ে পচিয়ে তাকে শুকিয়ে সেই প্রায় কাঁচা সার্ক যার পোশাকি নাম হাকর্ল সেটা পরিবেশন করা হয়। অবশ্য সেটা নাক খোলা রেখে কিভাবে খাওয়া সম্ভব যাঁরা খেয়েছেন তাঁরাই জানেন। অথবা ইতালির কাসু মারজু। সত্যিকারের পচা চিজ যার থেকে পোকা (ম্যাগট ) বেরোচ্ছে সেটা চাঁদ মুখ করে ওনারা খেয়ে নেন। আর আপনি ধাপার ভাগাড় ফেরত মাংস খেয়ে দ্বিধা করছেন কী খেলাম কী খেলাম ? এ তো দেখছি শাখা প্রশাখার আনন্দ বাবুর মত দাদু আমি একনম্বর জানি দু নম্বর জানি শুনে "কী শুনলাম কী শুনলাম !!!"
ভাবনা ছাড়ুন বরং ভাবুন গোটা পৃথিবীতে উন্নত দেশগুলোয় উল্টোপাল্টা খাবার পচা খাবার আনন্দ সহকারে খাওয়া হয় সেই আনন্দযজ্ঞের নিমন্ত্রনে আপনি পাত পেড়ে খেয়ে এলেন।
ও দাদা , ও দিদি আমাদের এই কলকাতা শহরে যত হাসপাতাল , ছোট খাবারের দোকান রয়েছে সেখানকার উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহ করে নিয়ে কিছু লোকজন সব মিলিয়ে মিশিয়ে একথালা করে পেট ভর্তি খাবার এই কলকাতার হ্যাভ নটসদের দেয়। দু এক টাকার বিনিময়ে। ওদের খিদে যে বড় মারাত্মক। পাকস্থলী ভরাতে উচ্ছিষ্ট আর পচা সব এক। আয়তন ডাজ ম্যাটার নট কোয়ালিটি।
জানি মারাত্মক গা গুলোচ্ছে। পচা পচা লাগছে। ভেবেছেন কেন এত মানুষ ফুটপাথে থাকবে? দেশ কেন তাদের খাদ্য , বস্ত্র বাসস্থানের দায়িত্ত্ব নেবে না? সব সম্বলহীন কিন্তু উন্মাদ নয়, তাদের শ্রম দিয়ে যা রোজগার সেই অর্থে তারা সম্মানের জীবন কাটাতে পারে। আসলে আমাদের জীবনযাত্রার জটিলতা বাড়ার সাথে সাথে সবচেয়ে বেশি পচেছি আমরা। আমাদের টার্গেট মুখী জীবন আমাদের মনকে ওই সার্কের মতই স্বার্থপরতার বালি পাথরে চাপা দিয়ে পচিয়ে দিয়েছে। ভাগাড়ের মাংস তো সেই পচনেরই বহিঃপ্রকাশ। আপনার বিশ্বাসের পুঁজি নিয়ে যদি কোন ব্যবসায়ী বা খাদ্য বিক্রেতা আপনাকে পচা মাংস , পচা খাবার খাওয়ায় তাহলে সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে পচেছে তার হৃদয় , মনুষত্ব।
আজ পরিবেশ দিবস। আমার পরিবেশ ? ঘরের ড্রয়িং রুমে ভয় দেখানো খবরীলাল টেলিভিশন। যাদের কাছে অনুপ্রাণিত করার মত খবরের অভাব। ঘন্টা খানেক এর স্বঘোষিত জিরো আওয়ার করে তারা পাতি ঠেকের ঝগড়া বসায় তর্কের নামে। সেটের আলো নিভলে পেমেন্ট নিয়ে আবার পরের দিনের ঝগড়ার জন্য তৈরী হয় ঝগড়ুটেরা। বিনোদন চ্যানেলগুলোতেও মূল উপজীব্য ঝগড়া। আর বস্তাপচা কুসংস্কার ,অন্ধকার। যেন পিরিয়ডিক্যাল সিরিজ হলেই ডায়লগ একটু গেঁয়ো করে দিলেই হল। এদের স্ক্রিপ্ট রাইটাররা কলকাতা সৰ্বস্ব, বাস্তবজ্ঞান রহিত। এদের কাছে গ্রাম মানেই নেগেটিভ অশিক্ষিত জনগণ । এই গেল সান্ধ্য বা মোটামুটি বিনোদনের ডেইলি ডোজ।
রাস্তায় আমার পরিবেশ। হর্নের দাপটে কান পাতা দায়। তার সাথে বেআইনি সাইলেন্সার ওয়ালা বাইক। পুলিশ দেখছে কিন্তু কিছু করার নেই। কারণ শব্দদূষণের জন্য আইন ততটা কড়া এখনো নয় এখানে।
আর পথচারী ? কানে হেডফোন  সোজা যেন ব্রেনে তার ঢুকে গেছে। ও ভাই ,ও বোনটি রাস্তা তো গান শোনার জায়গা নয়। বাড়িতে শোনো। ড্রাইভ করতে করতেও সে তখন সংগীত সুধা পান করে চলেছে। অতএব আমার পরিবেশ অস্থির , ভয়ার্ত , অবিশ্বাসের বিষে নষ্ট পচা।
এবার আসি মা প্রকৃতির কথায়। এর বেশ কয়েকটা আগের ব্লগে জল , প্লাষ্টিক এসব নিয়ে বলেছি।  সংরক্ষণ কর্মীদের কথা আজ একটু হোক।  পৃথিবীটা মানুষের একচেটিয়া অধিকার কায়েম করার জায়গা নয় এখানে একটা গুবরে পোকা যতটা গুরুত্বপূর্ণ , ততটাই একটা হাতি বা বটগাছ বা হাঙ্গর। শুধু মানুষের উন্নতির কথা ভাবলে বাড়বে দূষণ ,বদলাবে জলবায়ু।  এই ধরণের বিশ্বাসকে ধর্ম করে চলা পরিবেশ আক্টিভিস্ট দের মধ্যে ২০১৫ সালে  প্রায় ১৮৫ জন আর ২০১৬এ প্রায় ২০০ জন পরিবেশ কর্মী খুন হয়েছেন। ভারতে পরিবেশ কর্মীদের কবর খোঁড়ার সংখ্যাটা বাড়ছে।




শীলা মাসুদ বাঘ বাঁচানোর আন্দোলন ও করাপ্সন এর বিরুদ্ধে কাজ করতে  গিয়ে ২০১১এ বাড়ির সামনে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলিবিদ্ধ হলেন। আবার কেরালার কাদার আদিবাসীদের হাতির পরিযান পথ ও রেন ফরেস্টের সংরক্ষণের জন্য ১৫ বছরের সংগ্রাম ভারতের পরিবেশ আন্দোলনে এক উজ্জ্বল উদাহরণ। 
এসব তো জানা কথা। এতক্ষন কিছুটা আশা অনেকটা হতাশা , খানিকটা ভয় সব হল। এখন চলুন দেখি পরিবেশ রক্ষায় আপনি আমি কি করতে পারি।   
১) বাড়ির চারধারে যতটা পারেন সবুজ গাছ লাগান। 
২) বাগান যদি থাকে বাগানে মাটি রাখুন যাতে বৃষ্টির জল  গভীরে যাওয়ার রাস্তা পায়। 
৩) কিছু গাছে পাখির জন্য ছোট ছোট বাসা বানিয়ে রাখুন। নুতুন অতিথিতে বাড়িটা ভরে যাবে। 
৪) পশু পাখির প্রতি স্নেহশীল হন। 
৫) জোর গান , লাউড স্পিকার বাজানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন। 
৬) প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করুন। 
৭) বাজার করতে গেলে কাপড়ের ব্যাগ , চটের ব্যাগ ব্যবহার করুন। 
৮) বাড়ি ও গাড়িতে প্রয়োজন ছাড়া এসি বন্ধ রাখুন। 
৯) গাড়ির হর্ন বাজানোর অভ্যাস কমান। 
১০) প্রয়োজন ছাড়া ইলেকট্রিক আলো পাখা বন্ধ রাখুন। 
১১) সোলার আলো পাখা খুব একটা বেশি দাম নয়।  অনলাইন বা বাজারে পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করুন। 
১২) দাড়ি কাটার ফোমের জায়গায় জেল ব্যবহার করুন। 
১৩) রুম স্প্রের জায়গায় ধুপ। ডিওডেরেন্টের জায়গায় পারফিউম বা আতর ব্যবহার করুন। ফুলের ব্যবহার করুন। 
১৪) পুজোর ফুল বেলপাতা নদীতে ফেলা থেকে বিরত থাকুন। 
১৫) বেড়াতে গেলে খেয়াল রাখুন যাতে আপনি প্লাস্টিক দূষণ না করেন।  অন্য কেউ প্লাষ্টিক ফেলে গেলে সেগুলো ওয়েস্ট বিনে ফেলুন। 
১৬) ঘর পরিষ্কার করার জন্য বিষাক্ত কেমিক্যাল ছেড়ে ভেষজ ক্লিনার ব্যবহার করুন। 
১৭) মশা মারার ক্ষতিকর ধুপ বা লিকুইড ছেড়ে ধুনোয় কালকাসুন্দা পাতা ব্যবহার করুন। 
১৮) শিশুদের জু গার্ডেন পার্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে যাওয়ার নিয়মিত অভ্যেস করুন।  ওদের সেখান স্বুস্থ পরিবেশের গুরুত্ব।  

Sunday, April 22, 2018

আর্থ ডে র ছুতোয় আজ শোনাব প্লাষ্টিক এর কথা


আজ ধরণী the boss !! আসলে আজ ধরণী দিবস কিন্তু মজা করতে ইচ্ছে হলে এভাবেও বলা যায়। মানুষ ছাড়া বসিং আর কেই বা দেখতে পারে এই জগতে ! আগেও বলেছি এই ব্লগে আবার বলছি আজ। আর্থ ডে র ছুতোয়। আজ শোনাব প্লাষ্টিক এর কথা। যে প্রজাতির বিছানার তোষকের তলায় ক্যারি ব্যাগ আর খবরের কাগজ শায়িত থাকে তাকেই বাঙালি বলে।  আমার মা ও এর ব্যতিক্রম নয়। বাজারের সব্জি মাছ মাংসের চেয়ে প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ তাঁর এত প্রিয় যে তাঁকে ক্ষেপিয়ে প্লাষ্টিক গণ আর ক্যারিব্যাগ রাশি বলি আমরা আড়ালে আবডালে। আসলে আমরা সবাই বোধহয় এমনই। শোর, গ্রামে ,রাস্তায় ,সমুদ্রতটে , মরুভূমিতে , দূরবর্তী পাহাড় বা দ্বীপে একটা জিনিস আমাদের জীবনযাত্রায় কমন- প্লাষ্টিক। পরিবেশ নোংরা করার সবচেয়ে সহজ এবং ভয়ঙ্কর উপাদান হল প্লাষ্টিক। প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে গোল্লায় যেতে বসেছে আমাদের এই গোলকটি। এই গ্রহটি। একমাত্র যেখানে প্রাণ বিরাজ করে। আপনি হয়ত বলবেন প্লাষ্টিক কি সত্যিই এত বড় ভয় ? আমাদের জীবনযাত্রাকে এত সুবিধা দেয় , জল থেকে বাঁচায় , জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে এত সাহায্য করে যে তা কি করে এতটা মারাত্মক হতে পারে।  আমাদের আসবাবপত্রে , ইমারতি দ্রব্যে , গাড়িতে, বাড়িতে , স্কুলে, অফিসে , ইলেক্ট্রনিক্সে , চিকিৎসায় সর্বত্র সবজায়গায় বিদ্যমান প্লাষ্টিক। এ তো আমাদের পরম আত্মীয়। সকালে ব্রাশ করা থেকে শুরু করে রাত্রে শুতে যাওয়া পর্যন্ত প্লাষ্টিক , পলিমার ,পলিথিন ছাড়া জীবন তো অচল ! তাহলে ধৈর্য্য ধরে এই লেখা টা পড়ুন।
১৯০৭এ প্লাস্টিকের আবিষ্কার সভ্যতার এক যুগান্তকারী ঘটনা। তারপরই প্লাস্টিকের জিনিসপত্র আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অঙ্গ হয়ে উঠল। তারপর বহুবছর ধরে প্লাষ্টিক, পলিথিনের মোহে আমরা বুঁদ হয়ে রইলাম। আমার পৃথিবী পলিথিনে মলিন করে Go Green এর গোঁয়ার্তুমি স্ট্যাটাস সিম্বল হল। আর আমরা বোঝার চেষ্টাই করলাম না পশুপাখির আর মানুষের শরীরে , প্রকৃতির ভারসাম্যে , জলবায়ুতে কোথায় কোথায় কী কী অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল প্লাস্টিকের হাত ধরে। তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাস তৈরির বাইপ্রোডাক্ট হল প্লাষ্টিক। পরিবেশে বিলীন হয় না এমন কিছু হাইড্রোকার্বন যৌগ যার সবচেয়ে বড় মারণ ক্ষমতাই হল অবিনাশী হওয়া। যেন রক্তবীজের বংশ। একফোঁটা রক্ত মাটিতে পড়লেই তার থেকে হাজার হাজার রাক্ষস তৈরি হবে। আর এক্ষেত্রে জলে প্লাষ্টিক মিশলেই বেগতিক। সে প্রসঙ্গে আসছি পরে। তার আগে দেখে নি সরাসরি কিভাবে প্লাষ্টিক আমাদের মানবদেহের  ক্ষতি করছে।

প্লাষ্টিক আর আপনি
দশকের পর দশক বিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্যালন তেল ও প্লাষ্টিক উৎপাদনের পর টনক নড়ল আমাদের।বুঝলাম আমরা কী মারাত্মক ফল এর। ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তখন দাপাদাপি করছে আমার ড্রয়িং রুমে , আপনার কিচেনে , ওনার ফ্রিজে। মাথাব্যথার বিষয় , বিড়ম্বনার বার্তা ততক্ষনে বয়ে এনেছে প্লাষ্টিক দূষণ। খাবার রাখার পাত্রে  আর পানীয় রাখার বোতলের থেকে ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত ক্ষতিকর সব বিষ যা এলোমেলো করে দিতে পারে মানব শরীরের রসায়ন। ঘেঁটে দিতে পারে ক্রোমোজোমের নামতার প্যাঁচ , বিচ্ছিরি প্রভাব ফেলতে পারে জননতনতন্ত্রের জটিলতায়। পারে কেন পারছে। প্লাস্টিকের প্রভাবে শুধু খাবার আর পানীয় বোতল, কাপ, গ্লাসে মেশা ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে বাড়ছে  অল্প বয়সে ডায়াবেটিস , মস্তিস্ক ও স্নায়ুরোগ , কার্ডিওভাসকুলার ক্ষতি , ওবেসিটি , আর্লি পিউবার্টির মত শারীরবৃত্তীয় দুর্ঘটনা।  এমনকি ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতাও বাড়াচ্ছে ওই প্লাষ্টিক , তাদের কুপ্রভাবে শরীরে কেমোথেরাপির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতাও জমিনে যাচ্ছে। কিছু প্লাস্টিকে আবার থাকে  DEHP প্যাথালেট আর কেমিক্যাল BPA ওই ধরণের প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার যদি রেখে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করা হয় আর সেই রাসায়নিক সংক্রমিত খাবার যদি কোনো শিশু খায় তবে তার মানসিক ও দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে , শুধু তাই নয় হতে পারে তার হরমোনাল আর রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেমের গড়বড়ও। এবার কি একটু নিজের কাবার্ড খুলে কাচের বাসন গুলো ঝুল ঝেড়ে বের করবেন ?

প্লাষ্টিক আর পরিবেশ 
প্লাস্টিকের মত পরিবেশ নোংরা করার জুড়ি মেলা ভার। )তাই হয়তো আপনি ভাবতে পারেন নালা , নর্দমার মুখে জমে গিয়ে ব্লকেজ করে বানভাসি করা প্লাস্টিকের দূষণ চরিত্র। অরে দাঁড়ান দাঁড়ান। এখানেই শেষ নয় ক্ষতির খতিয়ান। চলুন দেখি কিভাবে জন্মায় প্লাস্টিক ? রিফাইন্ড গ্যাসোলিন , কেরোসিন , পেট্রল বা ডিজেলের মত প্লাস্টিকও একটা পেট্রোলিয়াম। তাই ড্রিল করে তৈলকূপ থেকে তেল বের করা থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে সেই তেল কে প্লাস্টিক পর্যন্ত যেতে যে সব প্রক্রিয়াকরণ চলে তাতে পরিবেশের বায়ুমণ্ডলে মেশে কার্বন মনোক্সাইড , হাইড্রোজেন সালফাইড , ওজন , বেঞ্জিন  আর মিথেন। এই গ্যাস গুলির মধ্যে মিথেনের গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়ানোর ক্ষমতা কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়েও বেশি। একটা হিসেবে দিই পেট ( PET) হল পলিথিলিন টেরেপথ্যালেট (Polyethylene Terephthalate ) যা থেকে প্লাস্টিকের বোতল তৈরী হয়।  এই পেট এর প্রতি এক আউন্স তৈরি করতে গিয়ে বাতাসে মেশে ৫আউন্স  কার্বন ডাই অক্সাইড। বুঝুন কান্ড ! কী মারাত্মক ঝঞ্ঝাটের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের ভাগের মা প্রকৃতি , মা পৃথিবী। আগের কারণ গুলো ঘটনা গুলো একটু দূরবর্তী।  কিন্তু এটা তো একেবারে "ক্লিয়ার হ্যায় " তুফানি ঠান্ডা pet বোতলে ভরে সর উঠাকে পিও বলতে বলতে কতটা যে সর ঝুঁকিয়ে ফেলেছি আমরা। আমাদের নেহাত সখের জীবনযাত্রার খেসারত দিচ্ছে বায়ুমণ্ডল , বিষ বায়ু বুকে নিয়ে পাল্টে ফেলছে ক্লাইমেট। চলুন তো অনেক হয়েছে।  এবার সবাই অঙ্গীকার করি প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করাটা অভ্যাসে পরিণত করব। যুদ্ধং দেহি ভাবে বলি End Plastic Pollution

মহাসাগরে মাছের চেয়ে প্লাস্টিকের ওজন বাড়ছে 
চমকে যাবেন না বিজ্ঞানীদের মত ২০৫০এ সারা পৃথিবীর সব মহাসাগরে ভাসমান প্লাস্টিকের মোট ওজন যা হবে তত ওজনের মাছ থাকবে না সাগরজলে। ইতিমধ্যে পৃথিবীর তিনভাগ জলে তৈরী হয়েছে ৫টি গার্বেজ প্যাচ। ক্যালিফোর্নিয়া আর হাওয়াই দ্বীপের মাঝে , আটলান্টিক আর ভারত মহাসাগরে তৈরী হয়েছে এমনি সব ভাসমান জঞ্জালের প্যাচ। তবে এর মধ্যে GPGP বা গ্রেট প্যাসিফিক গার্বেজ প্যাচ এর কথা আপনারা যাঁরা জল দিবসের ব্লগটি পড়েছেন জানেন। তো সমুদ্রের জলে এই ভাসমান প্লাস্টিক জলের ধাক্কা আর রোদের তাপে ভাঙতে থাকে।  ভেঙে ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়। সামুদ্রিক জীবজন্তুর মস্তিস্ক মানুষের মত বদমাইসিতে ভরপুর না। ওরা খাদ্যভ্রমে প্লাস্টিকের টুকরো খেয়ে ফেলে। প্লাষ্টিক তো হজম হওয়ার নয়। তারফলে যা হওয়ার তাই হয়। প্লাস্টিক জমে থাকে পাকস্থলী জুড়ে।  ওই জীবটির খাদ্যগ্রহণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে মৃত্যুর অপেক্ষা করে প্রাণীটি। নয়তো মমির মত শুকিয়ে যায়। এদিকে পাখিদের অবস্থা আরও সঙ্গিন। মাছ ধরার সুতো , জঞ্জাল প্লাষ্টিক ব্যাগে জড়িয়ে মৃত্যু হয় বহু পাখির।সামুদ্রিক কচ্ছপরা প্লাস্টিক ব্যাগকে জেলিফিস ভেবে খেতে গিয়ে কাল ডেকে আনে। এ দৃশ্য ডকুমেন্টারি চ্যানেল গুলোয় দেখে দেখে কতকটা গা সওয়া হয়ে গেছে যেন আমাদের। সামুদ্রিক মাছ যদি প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে তাদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।  আর কালক্রমে ওই প্লাস্টিক ভাঙতে ভাঙতে পরিণত হয় মাইক্রোপ্লাস্টিকে। মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রক্তে প্রবেশ করে। তারপর সেই মাছ যে প্রাণী খায় তার দেহেও অনুপ্রবেশ ঘটে মাইক্রোপ্লাস্টিকের। টক্সিন ক্ষমতাধারী এই অনু প্লাস্টিক নিঃশব্দে ক্ষতি চালায়।  
মাইক্রোপ্লাস্টিক
দীর্ঘ দিন জলে বা সূর্যের আলোয় বা দুটিতেই যদি পরে থাকে সেক্ষেত্রে সেই কঠিন প্লাষ্টিক ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়। জলজ প্রাণীর খাদ্যের মাধ্যমে সেই মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করে প্রাণীর রক্তে। এভাবে আমূল বদলে যায় ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য। এছাড়াও রয়েছে মাইক্রোবিড যা ব্যবহৃত হয় টুথপেস্ট , ফেস ওয়াশ , সাবান , শাওয়ার জেল আর কাপড় কাচার ডিটার্জেন্ট এ। এগুলি আসলে পলিথিলিন প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র রূপ। এছাড়া আমাদের ব্যবহার্য কাপড় যা সিন্থেটিক পলিয়েস্টার , এক্রাইলিক , নাইলন দিয়ে তৈরী সেগুলি ধোয়ার সময় ওই মাইক্রোবিডস এসে মেশে যদি নালা খালের জলে। এর  ফলেও জলে বাড়ে প্লাষ্টিক দূষণ। সরকারি সংস্থাগুলি যে জল পরিশ্রুতকরণের পদ্ধতি অবলম্বন করে তাতে ৫মিমি র কম মাইক্রোপ্লাস্টিক গুলি সরাসরি সাগরে বা নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিবিসির একটি রিপোর্ট অনুযায়ী
৯.১ বিলিয়ন মেট্রিক টন  রিসাইকেল্ড প্লাস্টিক তৈরি হয়েছে এপর্যন্ত যার জন্য ৬.৯ বিলিয়ন টন জঞ্জাল তৈরি হয়েছে। তার ৯% শুধু রিসাইকেল করা হয়েছে। আর ১২% ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি ৭৯% মাটি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বা সরাসরি মাটিতে জঞ্জাল হিসেবে পরে আছে।
এই বিশাল পরিমান প্লাস্টিক বর্জ্যর বেশিরভাগটাই আসে প্যাকেজিং শিল্প থেকে। ২০১৫ এ মোট প্লাস্টিক উৎপাদনের ৪২% লেগেছে প্যাকেজিং আর ৫২% প্লাস্টিক স্রেফ ফেলে দেওয়া হয়েছে। 
তবে কি কিছুই করার নেই 
একনজরে দেখে নিন আপনি কি করতে পারেন ?
১) যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলবেন না।  তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক হওয়া এড়ানো যাবে।
২) পুকুর , নদি ,নালা বা অনত্র যেখানে প্লাস্টিক দেখবেন সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে। ফেলুন
৩) এলাকায় প্লাস্টিক পরিষ্কার অভিযান আয়োজন করুন , জনমত তৈরী করুন। 
৪) মাইক্রোবিডস বিহীন প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। ইন্টারনেটে খোঁজ নিন কিসে কিসে মাইক্রোবিডস আছে। 
৫) যে সব কাপড়এ মাইক্রোফাইবার আছে তার ব্যবহার ও পরিষ্কারের ব্যাপারে সচেতন হন। 
৬) প্রাকৃতিক ফাইবার যুক্ত জামাকাপড় ব্যবহার করুন। 


Reduce
প্লাস্টিকের ব্যবহার কমান। চিন্তা ভাবনা করুন কিভাবে নিজের জীবন থেকে প্লাস্টিককে বিযুক্ত করবেন।  হয়তো প্লাস্টিকের বোতলের বদলে কাচ বা তামার বোতল ব্যবহার করতে পারেন জল রাখার কাজে।  মাটির কুঁজোও দারুন। কিন্তু প্লাস্টিক নৈব নৈব চ। প্লাস্টিকের কিছু কিনতে গেলে দুবার ভাবুন সেটা কি আপনার সত্যিই দরকার। তথাকথিত মিনারেল ওয়াটার আসলে বেশি মাত্রায় ক্লোরিন দেওয়া জল।  বাড়ি থেকে ফিল্টার করা জল ওয়াটার বটলে ক্যারি করুন। প্লাস্টিকের বোতলের কেনা জলের থেকে ওটা অনেক নিরাপদ আর নিখরচার। ডাবের জল বা কোল্ড ড্রিঙ্ক খেতে কি সত্যিই স্ট্র এর প্রয়োজন আছে ? অনুষ্ঠান বাড়িতে কলাপাতা , মাটির গ্লাস আজও কিন্তু লুকে হিট ,স্বাস্থ্যে ফিট। 

Refuse
বাজারে করতে ব্যাগ নিয়ে জান। দোকানদার ক্যারিব্যাগে জিনিস দিতে চাইলে তাকে বারণ করুন। পুরোনো সুঅভ্যাসে ফিরুন।  প্লাস্টিকের থালা , গ্লাস , বাটি র ব্যবহার বর্জন করুন। বেশি সময় নিয়ে বাজার করুন।  মলের প্যাকেজড জিনিস না কিনে বাজার ঘুরে প্লাস্টিক প্যাক বিহীন জিনিস কিনুন। স্যাসে প্যাক না কিনে বড় প্যাক কিনুন।  সাশ্রয় ও হল পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হল না। রেস্টুরেন্ট , বাজার মল সব জায়গায় বিক্রেতা প্লাস্টিক দিতে এলে তাকে ব্যারন করুন , সাথে সাথে জিজ্ঞেস করুন এই প্যাক কিনতে তাঁর খরচ হয় কি না ? তাকে বোঝান আপনি তাঁর খরচ বাঁচাচ্ছেন। প্লাস্টিক দিয়ে তৈরী করা এই বাজার আসলে সত্য না।  আধুনিক প্রযুক্তি প্লাস্টিক বিহীন প্যাকেজিং এনেছে।  তাদের আস্তে দিন।  দেখুন বাংলাদেশে পাট দিয়ে তৈরি এই প্যাকেজিং। হুবহু প্লাস্টিকের মত দেখতে সোনালী ব্যাগ।  এর বিশেস্বত্ত্ব হল মাটিতে সম্পূর্ণ মিশে যায় এই ব্যাগ।



ছবি সৌজন্য : প্রথম আলো
Reuse 
পুরানো জামাকাপড় ফেলে না দিয়ে পরিষ্কার করে যাদের প্রয়োজন সে রকম মানুষদের দিন। গ্রোসারি র জন্য আলাদা ক্যানভাসের ব্যাগ রাখুন যাতে প্লাস্টিকের ব্যাগের প্রয়োজনও না পরে আর ওই ব্যাগটি বারবার ব্যবহার করা যায়। প্লাস্টিকের বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়ে নানান রকম জিনিসপত্র তৈরী হচ্ছে।  বোতল দিয়েই শুধু কত কি করা যায় দেখুন।





Recycle
রাতারাতি কিছুই হয়ে যাবে না।  পরিকল্পিত ভাবে প্লাস্টিকের রিসাইকেলই একমাত্র উপায় প্লাস্টিকের দূষণের হাত থেকে বাঁচার। রিসাইকেল এর বিষয়ে জানুন আর অন্যকে জানান। আপনার প্লাস্টিক চিনুন। দেখবেন যে কোন প্লাস্টিক প্রোডাক্টের গায়ে রিসাইকেলের লোগোর মাঝে ১,২,৩,৪, এরকম সংখ্যা দেওয়া থাকে। সেই সংখ্যা গুলোর মানে জানুন।
১) PET Polyethylene terephthalate ব্যবহৃত হয় সফট ড্রিঙ্কস বোতল , পিনাট বাটার জার এ। রিসাইকেল করে তৈরী হয় দড়ি , কার্পেট , স্লিপিং ব্যাগ , বালিশ।
২) HDPE (High-density polyethylene) মাখন এর কৌটো , ডিটারজেন্ট এর বোতল , মোটর অয়েলের বোতল এ। রিসাইকেল করে তৈরী হয় ফুলদানি ,ট্রাফিক ব্যারিয়ার কোন।
৩)  PVC (Polyvinyl chloride) শ্যাম্পু বোতল , ভোজ্য তেলের বোতল , ফাস্ট ফুড এর সার্ভিসে।
রিসাইকেল করে তৈরী হয় ড্রেনেজ আর সেচের পাইপ।
৪)LDPE (Low-density polyethylene) ক্যারি ব্যাগ , পাউরুটির ব্যাগ।
৫)  PP (Polypropylene) PP বোতলের ছিপি , স্ট্র , দইয়ের কন্টেনার। রিসাইকেল করে তৈরী হয় গাড়ির ব্যাটারি কেস , প্লাষ্টিক লাম্বার।
৬) PS (Polystyrene) গরম পানীয়র কাপ , প্যাকেজিং মেটেরিয়াল। রিসাইকেল করে তৈরী হয় ক্যাসেট বক্স , ফুলদানি ,প্লাষ্টিক লাম্বার।
৭)OTHER সব রকম প্লাস্টিক এর মিশ্রণ। মাইক্রোওয়েভ পাত্র , স্কুইজ করা যায় এমন পাত্র।  এটা রিসাইকেল হয় না।