Showing posts with label Village. Show all posts
Showing posts with label Village. Show all posts

Thursday, June 20, 2024

চোলাই মদ খেয়ে মরলে ২লাখ! আর চোলাই থেকে বাঁচালে?

সাধারণত মোটরবাইক চালালে আমি ফোন ধরি না। কিন্তু সেদিন ১৪টা ফোন ধরেছি। সেক্টর ফাইভ থেকে বাড়ি আসার মধ্যে। অবশ্যই বাইক দাঁড় করিয়ে। একটা সর্বভারতীয় চ্যানেলের চাকরি ছাড়ার কথাটা সদ্য জানিয়ে পোস্ট করেছিলাম ফেসবুকে। একের পর এক ফোন, মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ। ওই সময়ে মা আর স্ত্রীর খুব সাপোর্ট পেয়েছিলাম। বন্ধুরা অনেকেই বলেছিল যা হবে ভালই হবে। বাবা বলেছিলেন, "এরপর করবি কী?" 

কোয়েল , ওয়ান্ডার ওয়ার্ল্ড বাংলা নামে একটা ইউটিউব চ্যানেল আর তার ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম পেজ তৈরি করেছিল। শুরু করলাম সেখানেই। স্বাধীন সাংবাদিকতা। 



কেন প্রথম স্টোরি কল্যাণী পালুই?  

কল্যাণীদির সঙ্গে অনেকদিনের আলাপ। ফোনে। বেশ কয়েকবার যাব যাব করেও যাওয়া হয়নি ওনার কাছে। ভাবলাম ওনার আর ওনার মেয়েদের ওপরেই তৈরি করি প্রথম ভিডিওটা। চোলাই মদের বিষক্রিয়ায় বাংলার বিভিন্ন জেলায় এখনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মিডিয়ায় সব খবর আসে না। এটা জানি। বেশ জোর দিয়েই বলতে পারি। কারন মিডিয়ার অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাঁরা পচা সুপারির তৈরি গুটখাকে পান মশলা বলে খবরের মাঝে মাঝে গেলাবেন। সেই সংবাদ মাধ্যম বা তাঁদের ইন্টারনেট পেজ যে অনেক শিশু, যুবক দেখে ওই বিষাক্ত পচা সুপারিকে ফ্যান্টাসাইজ করে মারাত্মক মুখের রোগের সম্মুখীন হবে এ সব খেয়াল তাঁরা রাখবেন না এটাই স্বাভাবিক। ইনকাম বড় বালাই। টার্গেট বালাই ৬০। 

এই অবস্থায় কল্যাণী দির মতো মানুষদের প্রচার আরও বেশি করে করা দরকার। অন্তত তাতে আমার ৭বছরের সন্তানের কাছে আমি মাথাটা উঁচু করে থাকতে পারব! টাকা পয়সা প্রয়োজন কিন্তু মগজ, শিরদাঁড়া? অনেকেই 'শিরদাঁড়া বিক্রি নেই' ক্যাপশন লেখা টিশার্ট পরেন। তাঁদের অনেককেই চিনি। কী পরিমাণে বিকৃত মগজ ও বিক্রিত শিরদাঁড়া সেসব শরীরে! যাই হোক সেকথা লেখা যাবে অন্য কোনও ব্লগে! এখানে কল্যাণী পালুইয়ের গল্প। 


শুটিংয়ের মাঝে আমাদের একটা সেলফি মোমেন্ট


কল্যাণী পালুই সমাজসেবী। কাজ শুরু করেছেন ২০০৪ থেকে। শেষ ২০ বছর ধরে দুহাতে সামলাচ্ছেন দুটি বড় কাজ। তাঁর ছোট্ট অফিস গ্রামীণ হাওড়ার তুলসিবেড়িয়ায়।


১ বাল্যবিবাহ রোধে স্কুল, কলেজে, গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে নাবালিকাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। সেই সচেতনতা আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে এক ক্লাস নাইনের মেয়ে তার বিয়ের কথা শুনে যোগাযোগ করে তুলসিবেড়িয়ার কল্যাণীদির মেয়েদের সঙ্গে। তাঁরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে সেই মেয়ের বিয়ে বানচাল করে দেয়। নবম শ্রেণির সেই মেয়ে এখন বি,এড করছেন। আবার লুকিয়ে চুরিয়ে নাবালিকার বিয়ে দিলেও তার প্রতিকার করতে ছুটে যান কল্যাণী।

বাংলার গ্রামে গ্রামে সচেতনতার অভাবে আজও বহু নাবালিকার বিয়ে হয়। অনেক নাবালিকাকেই পাচার করে দেওয়া হয়। গল্প গুলো বলছিলেন কল্যাণী। তিনি হাওড়া স্টেশন থেকে এমনই ৬জন মেয়েকে উদ্ধার করেন একবার। কল্যাণীর কর্মকাণ্ডের আর একটি দিক-

২ বেআইনি চোলাই মদের ঠেকে চড়াও হয়ে মদ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্তদের আটক। তারপর পুলিশ ও আবগারি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দোষীদের ধরিয়ে দেওয়া। আর বাজেয়াপ্ত মদ আবগারি দফতরের হাতে তুলে দেওয়া। কখনও সখনও ভাঙচুর। আগুন লাগিয়ে মদের ঠেক পুড়িয়ে, জ্বালিয়ে দেওয়া। লাল পাড় সাদা শাড়ি, হাতে শাঁখা পলা। গ্রামের সাধারণ ঘরোয়া মহিলারাই অবৈধ মদের আসর দেখলে রণং দেহি হয়ে ওঠেন। তখন চুলোয় যাক কাজ, তা সে যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন!

ওঁরা নিতান্ত দ্ররিদ্র পরিবারের মহিলা। বাড়িতে বাবা, ভাই আর স্বামীদের মাতলামি দেখে অতিষ্ঠ। অনেকে প্রিয়জনদের মারা যেতেও দেখেছেন বিষমদের বিষক্রিয়ায়।দেওয়ালে ঠেকেছে ওঁদের পিঠ। তাই ওঁরা আজ ঘুরে পাল্টা মারটা দিচ্ছেন। আপনারা দেখবেন এই ব্লগের সঙ্গে দেওয়া ভিডিও A Hooch Story Of Howrah চোলাই ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে লড়াই Wonder World Bangla তে মেয়েরা বলছেন এই কাজে তাঁরা মারা গেলেও কোনও আক্ষেপ নেই।

আর এই কাজের কাণ্ডারি কল্যাণী তাঁকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বহুবার। গলায় ছুরি ধরে চমকানো হয়েছে। তবু তিনি দমে যাননি। বাংলার বিভিন্ন জেলায় আর ওড়িশায় ছুটে গেছেন বিষ মদ চোরাই চোলাইয়ের বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে।

পথে নেমে লড়াইয়ে সামিল কল্যাণী


এখনও এই লোকসভা নির্বাচনের আগে ফোন এসেছে ওঁদের কাছে- কদিন ধর পাকড়টা যদি একটু বন্ধ রাখেন। তাও ম্রিয়মান হননি ওঁরা। বাধা যত এসেছে বুঝেছেন ঠিক পথেই রয়েছেন। যে পথে কষ্ট থাকলেও শান্তি আছে অনেকটা। সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে নিজেকে বিকিয়ে দেওয়া নেই। বরং বিলিয়ে দেওয়া আছে। ওঁদের পোশাকে আঁকতে হয় না 'শিরদাঁড়া বিক্রি নেই!'

আজ আপনাদের পরিচয় করাব সাধারণের মধ্যে মিশে থাকা এই অসাধারণ মহিলা আর তাঁর দলকে। পরিচয় করাব কল্যাণী পালুইকে।



দেখুন ভিডিও ওপরে ক্লিক করে। আর অবশ্যই কমেন্ট করে জানান কেমন লাগল এই ভিডিওটা।


 







Tuesday, February 27, 2018

নামেই তো যায় আসে !!!

বাসু ট্র্যাভেল এর ড্রাইভার রা রাস্তাঘাট বেশ ভাল ই চিনত। ওদের ওপর এক্কেবারে ডিডি গেঞ্জি র মত ভরসা করা যেত। তখন ২০০১। মোবাইল ফোনের গণতান্ত্রিকতা তখনও অধরা, বিদ্যাসাগর সেতুর টোল অনেকটা আলগা, এফ এম রেডিও তখনও আসেনি, টোটো বলতে যান নয় বাউন্ডুলে বোঝানো হত তখন। অ্যাসাইনমেন্টে ভোরে বেরোতে হলে আর রাতে ফিরতে হলে পিক আপ ড্রপিং তখন অপরাধবোধ তৈরি করত না ওটা অধিকার ছিল। আমার নামের পাশে খোঁজ খবর এর অ্যসাইনমেন্ট খাতায় লেখা হত 'কার রিপোর্টিং অ্যাট ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক হসপিটাল'। ওটাই ছিল বাড়ি র ঠিকানা। প্রায় ৫ - ৬ বছর ওরমই চলেছে। অ্যাট ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক হসপিটালে আমি দিব্যি অ্যাট হোম হয়েছি। বাধ সাধল ৬ বছর পরে। বলে না খাল কেটে কুমির ডাকা! আমার ক্ষেত্রে সেটা হল পাত পেড়ে আমার ই এক সহকর্মীকে ডাকা। শাক দিয়ে মাছ আর ঢাকতে পারলাম না।
আমার সেই সহকর্মী যে ছুপা রুস্তম হয়ে চুপি চুপি এসে আমার এক গোপনকথা পাঁচকান করবে ভাবতেও পারি নি।
তখন নরেন্দ্র মোদী গুজরাত এর মুখ্যমন্ত্রী । অফিসের গুলতানি তে শুভেন্দুদা ঝাড়ল ব্রহ্মাস্ত্র।
বল তো নন্দন আর নরেন্দ্র মোদী মধ্যে মিল কোথায়? ন্যাকা শয়তান রা সুর করে বলল কোথায়? শুভেন্দু দা শুরু করল
- মোদি সি এম (চিফ মিনিস্টার) , নন্দন সি সি এম (চিফ ক্যামেরাম্যান)
আর কী মিল
নরেন্দ্র মোদীর অস্বস্তি গোধরা, নন্দন এর অস্বস্তি পোদরা। (আমার ঠিকানা উত্তর পোদরা)
হাটে ভেঙে গেল হাঁড়ি। চারদিকে হা হা হিহি হৌ হৌ হু হু।
যতই শেক্ষপীর বলুন না কেন 'নামে কী আসে যায়' । কিন্তু আমার সে দিন থেকে এই এক নামের জন্য সরে আম বেইজ্জতি শুরু হল। ঠিকানা য় জায়গার নাম আমার মান সম্মান কেড়ে নিল।
ছোট বেলায় একটা মজার খেলা খেলতাম আমরা। যে কোন ম্যাপ নিয়ে বসে তাতে যে কোন একটা জায়গার নাম দেখে নিয়ে উল্টো দিকের বন্ধুকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া কোথায় আছে সেই জায়গাটা। স্থানের নামের খোঁজে সে অন্বেষণ এর খেলা পরবর্তীকালে ভূগোলে সাহায্য করেছিল। কতশত নাম, বিচিত্র তাদের বানান মন মাথায় একএকটা ছবি এঁকে যেত।

আসলে সব জায়গার নামকরণের পিছনে থাকে দারুণ সব গল্প। আমেরিকার মিশিগানে হেল জনপদ তৈরি হয় জর্জ রিভেসের হাত ধরে। সেটা ১৮৩০। এরপর মিশিগান যখন স্টেটহুড পায় জর্জ রিভেস কে জানতে চাওয়া হয় কী হবে স্থানটির নাম? রিভেস বলেন, " I don't care you can name it hell for all I care" ঠিক একরকম গল্প রয়েছে আমাদের হাতের কাছে, এই বাংলায়। রেল লাইন পাতা হচ্ছে সাথে সাথে চলছে স্টেশনের নামকরণের কাজ। ব্রিটিশ ভারত। বাঙালি কেরানিকে নিয়ে ইউরোপিয়ান সাহেব চলেছেন রেলপথ তদারকিতে। সাথে সাথে হয়ে চলেছে স্টেশনের নামদান। সাহেব জিজ্ঞাসা করছেন কী নাম এ জায়গাটির? কেরানি বলছেন,  ঝাপাটের ঢাল, পিচকুড়ির ঢাল। সাহেব সায় দিলে টপাটপ টাই বাবুর কথা টুকে নিচ্ছেন তিনি। এমন সময় এল একটি স্টেশন, কেরানি কর্তাকে শুধোলেন কী নাম হবে এ স্টেশনের? ঢালের ধাক্কায় বিরক্ত রেলকর্তা বললেন No Other Dhal কেরানি তাঁর প্রভুভক্তির প্রতি আস্থা অটুট রেখে নাম লিখলেন নোয়াদার ঢাল! কথায় কথায় হেল থেকে নোয়াদার ঢালে এসে গেলাম। ওই হেল এর কাছে স্বর্গ মানে হেভেনও আছে! হেভেন না থাকলে প্যারাডাইস আসবে কোথা থেকে? মিশিগানে প্যারাডাইস আর হেল ৪৭৩ কিলোমিটারের তফাতে।
নাম বা বদ নাম যাই খুঁজতে জান রেলওয়ের জুড়ি মেলা ভার। পৈতৃক কারণে রেলের ছেলে বলে বলছি না রেল সত্যিই পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে ও সম্মান দিয়েছে স্টেশনের নামে।
রাজস্থানে BAP, Nana  তো বিহারে Bettiah, Bhabua আবার তেলেঙ্গানার Bibinagar থেকে রাজস্থানের Sali ,  সম্পর্কের ঝমঝম ঝমঝম।
আচ্ছা হরিয়ানার Diwana কী ঝাড়খন্ডের Daru খেয়ে তেলেঙ্গানার Mahboob Nagar এ হন্যে হয়ে ঘোরে রাজস্থানের Rani র খোঁজে!! তবে কেন যে কাকু মাথায় ওড়না দেয় Orhania Chacha একমাত্র ভারতীয় রেল ই দিতে পারে এর উত্তর।মজার নামের ভান্ডার ভরা পৃথিবীর বৃহত্তম রেলপথ এর দুপাশের নাম ফলকে। এক নজরে দেখে নিন রেলের পশুপ্রেম। Kutta কর্ণাটক, Billi উত্তর প্রদেশ, Kala Bakra পঞ্জাব, Gadha গুজরাত, Suar উত্তর প্রদেশ, Bhainsa তেলেঙ্গানা।
রেল স্টেশনের নামকরন করতে ঝক্কিও কম নয় এই যেমন হাওড়া খড়্গপুর লাইনে একটি স্টেশনের অনুমোদন এল। কিন্তু নাম কী হবে? প্রস্তাবিত স্টেশনটির কাছাকাছি ৩টি গ্রাম পাকুড়িয়া, মুড়াইল ও নারায়ণ। তিন পক্ষই স্টেশনের নামফলকে নিজের গ্রামের নাম দাবি করল। মামলা গড়াল কোর্ট অবধি। অবশেষে দীর্ঘতম স্টেশনের নাম পেল পশ্চিমবঙ্গ। নারায়ণপাকুড়িয়ামুড়াইল।
জায়গার নামে একটা অঞ্চলের মেজাজটাও আঁচ করা যায়। মুর্শিদ কুলি খাঁর মুর্শিদাবাদে তাই অনায়াসে হাতেহাত ধরে থাকে চেইনপাড়া, হামদামপুর, আয়েশবাগ, মতিঝিল, নশিপুর, জিয়াগঞ্জ, লালবাগ।
যথন মানুষ নিজেদের কর্মকান্ডের ডালপালা বিস্তারে মহীরূহ হয়ে ওঠেন তখন বোধহয় গান্ধীজীর মত মনে হয় তাঁকে। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী র নামাঙ্কিত ৫৫টি রাজপথ রয়েছে আমাদের দেশে। ভারত ছাড়া বহির্বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর নামে রয়েছে ৬৬টি রাস্তা, যার মধ্যে নেদারল্যান্ডসেই আছে ২৮টি পথ। আসলে পথের দিশা দেখানো মানুষদের এটাই বোধহয় পরম পাওয়া, পথের সন্ধান দিতে দিতে নিজের অজান্তেই কখন যেন তাঁরাই পথ হয়ে ওঠেন। তাঁরা তারা হয়ে ওঠেন, ধ্রুবতারার মত জেগে থেকে পথভ্রষ্টকে চালিত করেন।
আর একজন হো চি মিন, একটা মানুষের নামে একটা রাষ্ট্রের রাজধানী! ভাবতেই গায়ে কাঁটা দেয়।
যেমন কাঁটা দেয় কিছু কিছু জায়গার নাম। অবশ্য ভক্তিভালবাসায় নয়, শিরদাঁড়া ঠান্ডা করা ভয়ে। Y2K র প্রথম বিহার নির্বাচন কভার করতে গিয়েছি। পাটনা থেকে চলেছি সিওয়ান। বাহুবলি বিধায়ক। বারুদের স্তুপ। নিজের চোখে দেখে এসেছি। কিম্বা এই বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে একএকটা স্থান শুধুমাত্র নির্বাচনী ও রাজনৈতিক কারনে টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে 'নাম' করেছে। তবে বহু প্রাণের মূল্যে অমন নাম না করলেই সেটা সভ্যতার ক্ষেত্রে ভাল হত।
বিপর্যয় থেকে তৈরি হয়েছে কত নাম। ১৭৪২ এ সাত খানা ডিঙি নৌকো উল্টে গেল! কালক্রমে ওল্টানো ডিঙি বর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে হল উল্টোডাঙা। আজকের শ্রীরামপুরের নাম মাহাত্ম্য নাকি রাম কৃপা হীন। এক ভিক্ষাপ্রার্থীর কাতর আকুতি Sir I Am Poor থেকেই নাকি এল শ্রীরামপুর। আচ্ছা পুর, তলা, গড় দিয়ে কত জায়গার নাম আছে ভেবে দেখেছেন!

নাম নিয়ে কথা বলতে বলতে মাথার ভিতরে কত নাম উড়ে বেড়াচ্ছে।পালামৌ, দলমা, ভীমবৈঠকা, কেঁচকি, শিওনি, কানহা, পেঞ্চ হয়ে ভিতরকণিকা, চুকচুকিয়া, মানস, বক্সা, গির, কাজিরাঙ্গা, মানস, রণথম্ভোর, সুন্দর আমার দেশের সুন্দরবন গুলো। সবুজ প্রকৃতি, সজীব বন্যপ্রাণী।  ওদেরও নাম বলতে হবে। বিশেষ করে ওই নামগুলো চেনাতে হবে আমাদের আগামী প্রজন্মকে। নইলে যে বাঁচার উপায় নেই।
বাঁচার উপায় না থাকলে মানুষ যেমন পথ খোঁজে। আমিও তেমন খুঁজছিলাম। কেন আমার ঠিকানার নাম পোদরা? অনেক উপহাস, মুচকি হাসি, ঠাট্টা র গ্লানিক্লেদ ঠেলে ইতিহাস পেলাম।
অবিভক্ত বাংলার বীরত্বময় সে ইতিহাস। পোদ উপজাতি রা সুন্দরবনে প্রথম আবাদ করে। শিকার, নদীতে লুঠতরাজ ছিল তাদের জীবিকা নির্বাহের উপায়। ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় যতগুলো আঞ্চলিক শক্তি পোদরা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম। তথ্যটা পেয়েই মন বলল মিলছে মিলছে। পূর্ণেন্দু পত্রী র কলকাতার ইতিহাসে পড়েছি বেতড় বা বেত্র তে বাঘ বেরোতে, কালিক্ষেত্র বা কালিঘাট অবধি ছিল সুন্দরবন। বাঘ আসত বলি প্রদত্ত পাঁঠার রক্তের ঘ্রাণে। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যে মানুষ গুলো প্রকৃতিকে হারিয়েছে তাদের কুর্নিশ করতেই তো আমার ঠিকানায় তাদের স্মৃতি। ইশ বড্ড ভুল হয়ে গেছে তাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে।


If you like it, comment below in the comment box and follow
Me in facebook , twitter & youtube