Showing posts with label death. Show all posts
Showing posts with label death. Show all posts

Thursday, March 20, 2025

মৃত্যুকে আবার আগাম দেখা যায় নাকি!



লাইফ আফটার ডেথ আমাদের খুব প্রিয় চর্চার বিষয়। কিন্তু মৃত্যু? আজ সকালেই ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম - 

অন্য কারও মৃত্যুর অভিজ্ঞতা নিজে অনুভব করেছেন? গতকাল দুপুরবেলা, সব যেন নিজের চোখে দেখলাম! আর ঠিক তার পাঁচ মিনিটের মাথায়... 

এই পোস্টটা করতেই বহু মানুষ তাঁদের কনসার্ণ দেখিয়ে জানতে চেয়েছেন আমার কিছু হয়েছে কিনা। আসলে তেমন কিছু নয়। একটা বিরল, আগে অনুভব করিনি এমন অনুভূতি হল কাল। মৃত্যুর অনুভূতি! সেটাই বলছি! আমি ফেসবুক পোস্টটা করেছিলাম এটা জানতে এমনটা আর কারও সঙ্গে হয়েছে কিনা। আমার বন্ধু তালিকায় এমন কেউ আছেন কিনা। মোদ্দা কথা বিষয়টা স্বাভাবিক কিনা। দেখলাম প্রায় ১৫৯৭জন পোস্টটা দেখেছেন। তাঁদের মধ্যে ১জন মাত্র এরকম ঘটনা বা অনুভুতির সম্মুখীন হয়েছেন। শ্রী সম্রাট মৌলিক, বিখ্যাত রিভার সাইক্লিস্ট ও লেখক। সম্রাট লিখছেন তিনি বহুবার এমন ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। 

গতকাল দুপুরে একটা কাজে মোটরসাইকেলে চন্দননগর যাচ্ছি। বেলা সাড়ে ৩টে হবে। ঝাঁ ঝাঁ করছে রোদ। বম্বে রোড যেখানে দিল্লি রোডের সঙ্গে মিট করে ওই জায়গাটা ক্রস করছি। পাস দিয়ে একটা বড় লরি তীব্র গতিতে ওভারটেক করল। গরমের দুপুরে তার চলে যাওয়া দ্রুতগামী চাকা শব্দ করছে চটচটচটচটচট। আমার বাইকটা একই স্পিড আর একই গিয়ারে থাকায় ঘুঘুর মত কুরররররররর করে একটা আওয়াজ তুলে চলেছে। হঠাৎ মাথায় এল কিছু প্রশ্ন। 

এখন যদি ওই চলে যাওয়া ট্রাকটা আমার ওপর দিয়ে চলে যে? তারপর, কোন শেষ অডিও নিয়ে এই সুন্দর পৃথিবী ছাড়তাম? ট্রাকের চলে যাওয়া চটচটচটচটচট! তারপর আবার একটা প্রশ্ন পায়ের ওপর দিয়ে নাকি পেটের ওপর দিয়ে চাকা চলে যেত? বিশ্বাস করুন এই ৩টে প্রশ্ন মাথায় আসতেই এক ধাক্কায় বাইকের স্পীড ২০ কিলোমিটার নামিয়ে আরও সতর্ক হয়ে থ্রটল করতে লাগলাম। ততক্ষণে দিল্লি রোডের কানেক্টর পার করেছি। আর কিছুটা গেলেই ফ্লাই ওভারের নীচ দিয়ে ইউ টার্ন করে কোন্নগরের দিকের রাস্তাটা ধরব। এমন সময় দেখলাম রোড ব্লক। পুলিশ কর্ডন করে রাস্তা বন্ধ করেছে। জ্যামটা পাস কাটিয়ে এগিয়ে গেলাম সামনের দিকে। পুলিশ হাঁহাঁ করে এগিয়ে এল। 

কী হয়েছে? 

একজন সিভিক ভলান্টিয়ার বললেন - "ওই দেখুন!" বাঁদিকে তাকালাম। একটা ট্রেইলার ট্রাক, তার চাকার তলা দিয়ে দুটো পা দেখা যাচ্ছে। 

উনি আবার বললেন- "বিচ্ছিরি অবস্থা পা আর পেটের ওপর দিয়ে চাকা চলে গেছে।" 

উল্টো দিক থেকে তখন তীর বেগে পুলিশের একটা অ্যাম্বুলেন্স আসছে। ওটা ঘটনাস্থলে পৌঁছোতেই রোড ব্লক উঠে গেল। আমিও এগোলাম। 

মাথাটা ঝাঁ করে উঠল। এইরে এই দৃশ্যই তো জাস্ট পাঁচ মিনিট আগে যেন দেখলাম। এটা কী হল? এটা কী করে হল? এরকম আবার হয় নাকি! এটা কী দেজা ভু deja vu? 

আমি কৃতজ্ঞ সেই সব বন্ধুদের কাছে যারা আজ আমার সামান্য একটা পোস্টে উদ্বিগ্ন হয়েছেন। আমি তাঁদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।  

   

Thursday, June 20, 2024

চোলাই মদ খেয়ে মরলে ২লাখ! আর চোলাই থেকে বাঁচালে?

সাধারণত মোটরবাইক চালালে আমি ফোন ধরি না। কিন্তু সেদিন ১৪টা ফোন ধরেছি। সেক্টর ফাইভ থেকে বাড়ি আসার মধ্যে। অবশ্যই বাইক দাঁড় করিয়ে। একটা সর্বভারতীয় চ্যানেলের চাকরি ছাড়ার কথাটা সদ্য জানিয়ে পোস্ট করেছিলাম ফেসবুকে। একের পর এক ফোন, মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ। ওই সময়ে মা আর স্ত্রীর খুব সাপোর্ট পেয়েছিলাম। বন্ধুরা অনেকেই বলেছিল যা হবে ভালই হবে। বাবা বলেছিলেন, "এরপর করবি কী?" 

কোয়েল , ওয়ান্ডার ওয়ার্ল্ড বাংলা নামে একটা ইউটিউব চ্যানেল আর তার ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম পেজ তৈরি করেছিল। শুরু করলাম সেখানেই। স্বাধীন সাংবাদিকতা। 



কেন প্রথম স্টোরি কল্যাণী পালুই?  

কল্যাণীদির সঙ্গে অনেকদিনের আলাপ। ফোনে। বেশ কয়েকবার যাব যাব করেও যাওয়া হয়নি ওনার কাছে। ভাবলাম ওনার আর ওনার মেয়েদের ওপরেই তৈরি করি প্রথম ভিডিওটা। চোলাই মদের বিষক্রিয়ায় বাংলার বিভিন্ন জেলায় এখনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মিডিয়ায় সব খবর আসে না। এটা জানি। বেশ জোর দিয়েই বলতে পারি। কারন মিডিয়ার অনেক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাঁরা পচা সুপারির তৈরি গুটখাকে পান মশলা বলে খবরের মাঝে মাঝে গেলাবেন। সেই সংবাদ মাধ্যম বা তাঁদের ইন্টারনেট পেজ যে অনেক শিশু, যুবক দেখে ওই বিষাক্ত পচা সুপারিকে ফ্যান্টাসাইজ করে মারাত্মক মুখের রোগের সম্মুখীন হবে এ সব খেয়াল তাঁরা রাখবেন না এটাই স্বাভাবিক। ইনকাম বড় বালাই। টার্গেট বালাই ৬০। 

এই অবস্থায় কল্যাণী দির মতো মানুষদের প্রচার আরও বেশি করে করা দরকার। অন্তত তাতে আমার ৭বছরের সন্তানের কাছে আমি মাথাটা উঁচু করে থাকতে পারব! টাকা পয়সা প্রয়োজন কিন্তু মগজ, শিরদাঁড়া? অনেকেই 'শিরদাঁড়া বিক্রি নেই' ক্যাপশন লেখা টিশার্ট পরেন। তাঁদের অনেককেই চিনি। কী পরিমাণে বিকৃত মগজ ও বিক্রিত শিরদাঁড়া সেসব শরীরে! যাই হোক সেকথা লেখা যাবে অন্য কোনও ব্লগে! এখানে কল্যাণী পালুইয়ের গল্প। 


শুটিংয়ের মাঝে আমাদের একটা সেলফি মোমেন্ট


কল্যাণী পালুই সমাজসেবী। কাজ শুরু করেছেন ২০০৪ থেকে। শেষ ২০ বছর ধরে দুহাতে সামলাচ্ছেন দুটি বড় কাজ। তাঁর ছোট্ট অফিস গ্রামীণ হাওড়ার তুলসিবেড়িয়ায়।


১ বাল্যবিবাহ রোধে স্কুল, কলেজে, গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে নাবালিকাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। সেই সচেতনতা আজ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে এক ক্লাস নাইনের মেয়ে তার বিয়ের কথা শুনে যোগাযোগ করে তুলসিবেড়িয়ার কল্যাণীদির মেয়েদের সঙ্গে। তাঁরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে সেই মেয়ের বিয়ে বানচাল করে দেয়। নবম শ্রেণির সেই মেয়ে এখন বি,এড করছেন। আবার লুকিয়ে চুরিয়ে নাবালিকার বিয়ে দিলেও তার প্রতিকার করতে ছুটে যান কল্যাণী।

বাংলার গ্রামে গ্রামে সচেতনতার অভাবে আজও বহু নাবালিকার বিয়ে হয়। অনেক নাবালিকাকেই পাচার করে দেওয়া হয়। গল্প গুলো বলছিলেন কল্যাণী। তিনি হাওড়া স্টেশন থেকে এমনই ৬জন মেয়েকে উদ্ধার করেন একবার। কল্যাণীর কর্মকাণ্ডের আর একটি দিক-

২ বেআইনি চোলাই মদের ঠেকে চড়াও হয়ে মদ কেনাবেচার সঙ্গে যুক্তদের আটক। তারপর পুলিশ ও আবগারি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দোষীদের ধরিয়ে দেওয়া। আর বাজেয়াপ্ত মদ আবগারি দফতরের হাতে তুলে দেওয়া। কখনও সখনও ভাঙচুর। আগুন লাগিয়ে মদের ঠেক পুড়িয়ে, জ্বালিয়ে দেওয়া। লাল পাড় সাদা শাড়ি, হাতে শাঁখা পলা। গ্রামের সাধারণ ঘরোয়া মহিলারাই অবৈধ মদের আসর দেখলে রণং দেহি হয়ে ওঠেন। তখন চুলোয় যাক কাজ, তা সে যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন!

ওঁরা নিতান্ত দ্ররিদ্র পরিবারের মহিলা। বাড়িতে বাবা, ভাই আর স্বামীদের মাতলামি দেখে অতিষ্ঠ। অনেকে প্রিয়জনদের মারা যেতেও দেখেছেন বিষমদের বিষক্রিয়ায়।দেওয়ালে ঠেকেছে ওঁদের পিঠ। তাই ওঁরা আজ ঘুরে পাল্টা মারটা দিচ্ছেন। আপনারা দেখবেন এই ব্লগের সঙ্গে দেওয়া ভিডিও A Hooch Story Of Howrah চোলাই ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে লড়াই Wonder World Bangla তে মেয়েরা বলছেন এই কাজে তাঁরা মারা গেলেও কোনও আক্ষেপ নেই।

আর এই কাজের কাণ্ডারি কল্যাণী তাঁকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বহুবার। গলায় ছুরি ধরে চমকানো হয়েছে। তবু তিনি দমে যাননি। বাংলার বিভিন্ন জেলায় আর ওড়িশায় ছুটে গেছেন বিষ মদ চোরাই চোলাইয়ের বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে।

পথে নেমে লড়াইয়ে সামিল কল্যাণী


এখনও এই লোকসভা নির্বাচনের আগে ফোন এসেছে ওঁদের কাছে- কদিন ধর পাকড়টা যদি একটু বন্ধ রাখেন। তাও ম্রিয়মান হননি ওঁরা। বাধা যত এসেছে বুঝেছেন ঠিক পথেই রয়েছেন। যে পথে কষ্ট থাকলেও শান্তি আছে অনেকটা। সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে নিজেকে বিকিয়ে দেওয়া নেই। বরং বিলিয়ে দেওয়া আছে। ওঁদের পোশাকে আঁকতে হয় না 'শিরদাঁড়া বিক্রি নেই!'

আজ আপনাদের পরিচয় করাব সাধারণের মধ্যে মিশে থাকা এই অসাধারণ মহিলা আর তাঁর দলকে। পরিচয় করাব কল্যাণী পালুইকে।



দেখুন ভিডিও ওপরে ক্লিক করে। আর অবশ্যই কমেন্ট করে জানান কেমন লাগল এই ভিডিওটা।


 







Friday, April 19, 2024

সম্পর্কের উত্তাপ বাড়িয়ে রাখুন


আমার শ্বশুরমশাইয়ের বয়স প্রায় ৮৩ বয়স জনিত সমস্যা সঙ্গে অ্যালঝাইমার্স। ফলে সমস্যা একটু হয় মাঝেমধ্যে। এই সে দিন বললেন -
খবরের কাগজে বলছে হাওয়ায় নিউমোনিয়া হচ্ছে। 
যাঁরা স্মৃতিবিপন্ন মানুষদের নিয়ে ঘর করেন তাঁদের কাছে এরকম ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। স্মৃতিশক্তির বিপন্নতায় ওঁরা ভুলতে থাকেন। যাক সে অন্য কথা। ইদানিং সেই শ্বশুরমশাইয়েরও গরম লাগছে। রীতিমত হাঁসফাঁস করছেন গরমে। সারা দুপুর জেগে থাকছেন গরমে। ওনার এয়ার কন্ডিশনার সহ্য হয় না। তাই আমরা একটা এয়ার কুলার কিনতে গেলাম। সেখানে গিয়ে একটা ঘটনা শুনলাম। সেটাই আজকের ব্লগে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। 

পৃথুলা এক মহিলার গল্প। গল্প নয় মোটেই। একেবারে টাটকা বাস্তব। তো সেই মহিলা একে পৃথুলা মানুষদের গরম একটু বেশি লাগে তার মধ্যে এই মরুভূমির মতন গ্রীষ্মতাপ। একেবারে জর্জরিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন একটি এসি কেনার। সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সময় থেকে শুরু হয় তাঁর স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি। পরবর্তীতে সেটা পৌঁছায় ঝগড়াতে। ওই শোরুমের এক কর্মীর মুখে ঘটনার বিবরণ শুনছি। 


তারপর ওই মহিলা একপ্রকার নিরুপায় হয়ে নিজেই চলে আসেন ইলেকট্রনিক কোম্পানির শোরুমে। সঙ্গে নিজের জমানো ২৮ হাজার টাকা। পিছু পিছু চলে আসেন ওই মহিলার স্বামী। শো রুমেই শুরু হয়ে যায় দম্পতির বাগবিতণ্ডা। শো রুমের কনকনে এয়ার কণ্ডিশনার চলছিল। তার মধ্যেই মহিলা দরদর করে ঘামছিলেন। স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া চলছিলই। মহিলা ততক্ষণে বিলিং করিয়ে নিয়েছেন। ২৮ হাজার ডাউন পেমেন্ট। বাকি টাকা ইন্সটলমেন্টে। পরের দিন সকালেই ডেলিভারির কথা ছিল। পৃথুলা সেই মহিলা বারেবারে স্টোর কিপারদের বলেছিলেন সকাল সকাল এসিটা ডেলিভারি দিতে।

পরের দিন সকালে শোরুম খুলতে ওই ভদ্রমহিলার স্বামীর একটা ফোন। এ প্রান্তে শোরুমের কর্মী, যিনি ফোন ধরেছিলেন তিনি বলছেন- 
-ডেলিভারি ম্যানরা এলেই আপনাদের এসিটা পাঠানো হবে। 
ও প্রান্তে ভদ্রলোক তখন হাউহাউ করে কাঁদছেন। বলছেন- 
-আর ওই এসি কার জন্য পাঠাবেন। ওটা আপনাদের কাছেই রেখে দিন। আমার স্ত্রী আজ ভোর রাত্রে মারা গিয়েছেন। 

শো রুমের কর্মীরা স্তম্ভিত। যেন সেই শোকের ছায়া ভুলতে পারছেন না এখনও ।                                  

গরমে সবাই ব্যতিব্যস্ত। সহজেই মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। সম্পর্ক গুলোকে একটু সময় দিন। নইলে আপনার অবহেলার উপলব্ধি আপনি যতক্ষণে করবেন ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাবে। সাবধানে থাকবেন এই উত্তাপে। মনের উত্তাপটা বাড়িয়ে রাখুন। বাইরের উত্তাপ বাড়ুক ক্ষতি নেই ভিতরের আগুনটা জিইয়ে রাখুন।

Wednesday, February 7, 2018

এক অন্য প্রেমের গল্প | কে ভি প্যারাডাইস... K V Paradise | A different Love Story

আজ একটা প্রেমের গল্প শোনাবো।

প্রেম মরতে শেখায়, প্রেম বাঁচতে শেখায়; প্রেম মৃত্যুর দুয়ার থেকে জীবন এর দোরগোড়ায় মানুষকে ঝুঁটি ধরে টেনে আনে। কিন্তু এই প্রেম জীবন নদীর ওপারে গিয়েও উজ্জ্বল হয়ে থাকে ভালোবাসার উত্তাপে। জীবন মরণের সীমানা ছাড়িয়ে এই প্রেম অমরত্ব লাভ করে। জেগে থাকে নিষ্পলক।
উত্তর পূর্বের রাজ্য মিজোরামে ছোট্ট শহর আইজল। শহরে গেলে প্রথমেই চোখে পড়বে পথে দোকানে, পাবলিক প্লেস গুলোতে অহরহ এডস এর প্রচার বার্তা। অবাধ যৌনতা, যথেচ্ছ নেশা ও মাদক এর ব্যবহার আর  লাগামহীন জীবনযাত্রায় মিজো গড়পড়তা মানুষজনের মধ্যে এডস আর যক্ষা রোগ মহামারীর আকার নিয়েছে। গড় আয়ু ৫০ বছরে নেমে এসেছে গোটা জনগোষ্ঠীর। কাজেই সরকারি প্রচারে প্রতি ৫০ মিটারে পোস্টারিং, শারীরিক মেলামেশায় কন্ডোমের ব্যবহার এর। মনে হবে এ কোন জাহান্নামে এসে পড়লাম। ভিতর ভিতর একটা পঙ্কিল ভয় কাজ করবে। ঘিনঘিনে ভয়। রাত্রে ফাঁকা পথে একলা পুরুষ ও নিরাপদ নয় এখানে। রাত গভীর হলে রাত্রির নীরবতা খান খান করে সশব্দে ছুটে চলে দুচাকা চারচাকা যান। শহরের আলো আঁধারি গলি ঘুঁজিতে মিশকালো অন্ধকারে মিশে যায় দুটো শরীর। নেশাগ্রস্ত পা গুলো টলতে টলতে কোন আস্তানায় পৌঁছায় সে খবর আরক্ত চোখও রাখে না।
ব্যাভিচার এর এমন পীঠস্থানের পাঁকেই ফুটে উঠেছে প্রেমের শতদল।


Map of K V Paradise

আইজল শহর থেকে ৪৫মিনিটের দূরত্বে ব্যাংখঙ , ব্যাংখঙ এর কাছেই  ধূর্তলাং পাহাড়ে যে কাউকে মিনি তাজমহল এর ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেই  দেখিয়ে দেবে কে ভি প্যারাডাইস।
কে ভি - খলহ্রিং আর ভার্তে র নামের আদ্যাক্ষর।  খলহ্রিং এর স্ত্রী ভার্তে  ২০০১ সালে একটি পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। স্বভাবতই ভেঙে পড়েন খলহ্রিং। স্ত্রীর হঠাৎ বিয়োগে এলোমেলো করে যাওয়া জীবন হতেই পারত আর পাঁচটা জীবনের মত।  বিস্মৃতির আর স্বজন বিয়োগের বিরহে জীবন কাটিয়ে দিতেই পারতেন খলহ্রিং। কিন্তু সে পথে না হেঁটে অন্য রাস্তায় পা বাড়ালেন খলহ্রিং।

পাহাড়ের ঢালে
একটা জমি ছিল তার।  সে জমি তে ভার্তে র স্মৃতিতে তৈরী করলেন এক সৌধ।
নীল আকাশের পটভূমিতে তিনতলা শ্বেতশুভ্র সৌধ। যেন জমে থাকা নয়নের জল।
চারিদিকে ফিসফিস করে কথা বলে হাওয়া রা। পায়ের কাছে নীল লাল সাদা হলুদ নাম না জানা ফুল। আর চোখ ঝলসে দেওয়া সাদা মিনার- কে ভি প্যারাডাইস। একটু উঁচুতে মূল সৌধ তে উঠতে হয়। প্রায় ৫০-৬০ টি সিঁড়ি। গোটা সৌধকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য পাইন গাছ। সিঁড়ি পার করে সাদা চাতালে ওঠার মুখে একজন বৃদ্ধ কেয়ারটেকার। প্রবেশ মূল্য নিলেন ১০ টাকা। চোখ ধাঁধানো সাদার ওপর তখন বিকেলের রোদ পড়েছে। মূল দরজা পেরিয়ে ঢুকলাম সৌধর নিচের তলায়।
ভার্তে র বিশাল একটি ছবি আর ফুলের সমারোহ ঘিরে আছে সমাধি।





ঘোরানো সিঁড়ি উঠে গেছে ২য় তলায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় একটি কাঁচের আলমারি। সার সার সাজানো আছে মহিলাদের  জামাকাপড়। মিজো হরফ তর্জমা করে যা বুঝলাম সেগুলো ভার্তে র ব্যবহৃত পোশাক। সামনেই সেই অভিশপ্ত ট্রাডিশনাল মিজো ড্রেস যা পরে শেষ যাত্রায় সওয়ার

হয়েছিলেন ভার্তে। তারপর সার সার ভার্তে র পছন্দের পোশাক।  মন ভারাক্রান্ত হয়ে আসে। একটা মানুষের অস্তিত্ব যেন ওই পোশাক গুলোর মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট। এখানেই যেন কোথাও আছে সে। কোথাও যেন গেছে সে, এখনই এসে খুলে দেবে এই কাঁচের আলমারি ,তুলে ধরবে এ সব প্রিয় পোশাক ,প্রিয় ব্যবহার্য জিনিস। দূর পাহাড়ে সূর্যের আলোর তেজ কমে আসে। পড়ন্ত বেলায় কে যেন বলে ,
 "কৌন আয়েগা ? কোই নেহি আয়া হোগা !
সায়েদ হাওয়ানে মেরে দরওয়াজা হিলায়া হোগা ! "




এরপর ওপরের তলা। সিঁড়ি দিয়ে উঠে গম্বুজ এর মত অল্প আলোর ধ্যান কক্ষ। মনের দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ, বিহ্বলতা, সব কিছুর ওপরে জেগে থাকেন যে সর্বশক্তিমান । তাঁর অস্তিত্ত্বের  খোঁজে দু মিনিট বসলে কখন যেন আধ ঘন্টা কেটে যায়।
ভার্তে র সৌধ থেকে নেমে আসছি হঠাৎ নারী কণ্ঠের ফিসফিস, চাপা হাসি। সূর্যাস্তের লালিমা গোটা ভ্যালি জুড়ে। নাস্তিক মনেও হঠাৎ সন্দেহ এল !!! তবে কি ভার্তে ? ভুল ভাঙল ২য় তলায় এসে।


এক প্রেমিক যুগল অন্তরঙ্গ হয়ে বসে। এ তো আসলে ভার্তেই। এ তো আসলে খলহ্রিং এর স্বপ্ন। যে তাঁর প্রিয়তমা বেঁচে থাকবেন মৃত্যুর পরও।
ভাবতে অবাক লাগে এই গোটা কর্মকান্ড একটা মানুষ এর ব্যক্তিগত প্রয়াস। যে কর্মকান্ডের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর প্রেয়সীর প্রতি অদম্য ভালোবাসা।
শরীরী প্রেম এর তাৎক্ষণিকতা, প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে বিশ্বাসহীনতা ,ঘরে ঘরে বিচ্ছেদ যখন রোজনামচায় পরিণত হয়েছে সেই সময়ে খলহ্রিং এর এই প্রেম কাহিনী যেন অন্য এক দিগন্ত খুলে দেয়।

কে ভি প্যারাডাইসের ভিডিও
KV PARADISE | MINI TAJMAHAL


If you like it comment below in the comment box and follow
Follow me in facebook twitter & YouTube



Friday, March 27, 2015

I found God every time I watch TV

I can feel the omnipresent God around me, whenever I watch television. He knows everything. He knows that victory is waiting under the veil of fear. He slaps the genius when he tastes chocolate and says it's a chocolate not an experience. He explains that all dirt are not dirty, specifically if it has been created by the youngsters in your family. In advertisements I feel the presence of God. Without whose baritone voice a television commercial is incomplete. He controls every event from birth to death and beyond. To the unfathomable bed of sea to the limitless space God can monitor every single emotions. And at the end of his 15 second presence comes the teaching that neighbour's envy is the owner's pride. Sometimes he takes shape of some avatars like film stars or sports personal, he can promote almost everything and anything under the sun. Take it a music show, or a soap opera, or a sporting event, or in some cases be it patriotism, or awareness about nature  God goes flawless invincible all the time.
I feel relieved when I see that God is taking the side of a stammerer and boosts up his bogged down ego and whispers in his ear, "it takes time for buffering". My eyes become moist when my God talks for the minorities, for the downtrodden, for the powerless, for the uglies. Then I found him less like a God and more like an angel.