Showing posts with label Forest. Show all posts
Showing posts with label Forest. Show all posts

Saturday, March 31, 2018

মানুষের বাঁদরামি | 'বন গরম ' | REST IN PEACE - Mother NATURE

সু দান তো গেল দেখে নিন আর কি কি অবলুপ্তির পথে যেতে চলেছে খুব শিগগিরই

প্রকাশিত লেখা


নেচার পত্রিকার ওয়েবসাইটে গত ২২শে মার্চ ২০১৮, বিশ্ব জল দিবসে একটা খবর বেরিয়েছে। খবর না বলে একটা চলমান অভিযানের রিপোর্ট বলাই ভালো। মহাসমুদ্রে ভাসমান জঞ্জাল নিয়ে একটা বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে নেচার জানাচ্ছে শুধুমাত্র প্রশান্ত মহাসাগরেই নাকি ভাসমান প্লাস্টিক জঞ্জালের পরিমান ৭৯০০০ টন ! তাও আবার ১.৬ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে আছে এই প্লাষ্টিক নোংরা। আর হবে নাই বা কেন ! প্রতি বছর গড়ে উৎপাদিত ৩২০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিকের কতটাই বা রিসাইকেল করা যায় ? কী ভাবছেন আজ শুরুতে কী হল আমার? লেখাতে  নস্টালজিয়া নেই , সিনেমা নেই , আছে আতঙ্ক ছড়ানো বুকিশ কিছু তথ্য। আমি আপনাদের বলছিনা যে ভাবুন অলিভ রিডলে কচ্ছপ, বা সিল, বা হাতুড়ি মাথা হাঙ্গর, বা নীল তিমিদের কি হচ্ছে কল্পনা করতে।
গ্রেট প্যাসেফিক গারবেজ প্যাচ 


আসলে সেদিন বিশ্ব জল দিবস গেল। তো আমার ব্লগে একটা লেখা লেখার জন্য একটু অন্তর্জাল সাগরে চান করে নিজেই ঘেঁটে গেছি। জল দিবস গেল। গেল তো গেল। কার তাতে কী ? আর্থ ডে যায়। যায় তো যায় ! ওয়াইল্ড লাইফ ডে যায়। যায় তো যায়! আদিখ্যেতা হয় ! ফেসবুক ট্যুইটার হয়। তারপর চুলকে মুলকে হালকা করে কড়ে আঙ্গুল তুলে শুয়ে পড়ি। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ভাবি আরো টাকা ,বড় ফ্ল্যাট ,বড় গাড়ি। একটা গ্রহ পৃথিবী। তার এক ভাগ স্থল তিন ভাগ জল আমরা জানি।  কিন্তু সেই জলের তিন চতুর্থাংশ মেরু বরফ হিসেবে বন্দী। বাকি জলের কেবল মাত্র ২.৫%   স্বচ্ছ , পেয়। এই জলের ওপর দখলদারি নিয়েই মধ্য প্রাচ্যে যত যুদ্ধ , যত অশান্তি সেই ১৯১৮ থেকে এক শতাব্দী কেটে গেল কিন্তু জল নিয়ে কেউ এক চুল ও মাটি ছাড়তে নারাজ। চীনের জনসংখ্যা মোট পৃথিবীর লোকসংখ্যার প্রায় ১/৪ ভাগ। সেই চীনেও প্রায় ৯০% জল ভয়ঙ্কর ভাবে দূষিত। তাই পৃথিবীর তাবড় অর্থনীতিবিদদের মতে আগামী ২০২৫ নাগাদ পেট্রো তেলের চেয়েও মহার্ঘ্য হবে পরিষ্কার পানীয় জল।

ধুর এত ভাববেন না তো। কী হবে ভেবে ? একসময় ডাইনোসর ছিল ,ম্যামথ ছিল। ছিল তো ছিল। আজ তো কেউ নেই সব ফর্সা। আছে কে ? হুমম এই মানুষ ছাড়া কেউ আছে নাকি এই পৃথিবীর BIG BOSS ??!! আমরাই তো একমাত্র ডারউইনের ছানা যারা সদর্পে বলতে পারি "মোরা হনু থেকে ম্যান হনু "!!!
অথচ ভাবুন কত শত পাখি, স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, মাছ স্রেফ টিকে থাকতে পারেনি বলে ওই 'ফরসা ' হয়ে গেল।  তা কী  করল তারা ? কী হল তাদের ? জটায়ু থাকলে বলতেন " ফেলুবাবু এটা কি মার্ডার না গুমখুন ? হাইলি সাসপিসাস ! " 
একটা তালিকা দিই আগে দেখুন তো এদের চেনেন কি ?
১) ওরিয়েন্টাল হোয়াইট ব্যাক্ড ভালচার
২) লং বিলড ভালচার
৩) স্লেন্ডার ভালচার
৪) ওয়েস্ট আফ্রিকান ব্ল্যাক রাইনোসরাস
৫) পাইরিনিয়ান আইবেক্স
৬) প্যাসেঞ্জার পিজন
৭) কোয়াগ্গা
৮) ক্যারিবিয়ান মংক সিল
৯) সি মিঙ্ক
১০) তাসমেনিয়ান টাইগার
১১) টিকোপা পাপফিস
১২) জাভান টাইগার
১৩) Great Auk
১৪) Bubal Hartbeest

 চেনেন ? তাসমেনিয়ান টাইগার নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি অনেকবার দেখিয়েছে ন্যাট জিও। একটু চেনা চেনা। বাকিদের চেনার কথা ছাড়ুন দেখার উপায় ও নেই। মানুষের অর্গানাইজড গুমখুনে ওরা কেউ নেই। মানে ওই যে বলে না গুষ্টি শুদ্ধ লোপাট ! সেই হয়েছে। পুরোপুরী নির্বংশঃ !!! আমার এই তালিকার একদম ওপরের তিন জন, তিনটি প্রজাতির শকুন, ছিল এই বাংলায়। ভাবুন ফেলুবাবু। কী পরিমান ফেলতে ফেলতে আমরা এগোচ্ছি ! আর একটু পিছনে যাব ? জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞ জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞ টি ,কে,পাল এই বাংলার  শুশুনিয়া পাহাড়ের দুটি গুহায় কিছু জীবাশ্ম পেয়েছিলেন। সেগুলি ছিল শিবালিক আন্টিলোপ ,শিবালিক নীলগাই, শিবালিক সজারু , শিবালিক গবাদি পশু , শিবালিক একুইড , শিবালিক হাতি , আফ্রিকান সিংহ ,জিরাফ আর স্পটেড হায়নার। ওরা কী সার্কাসে খেলা দেখাতে এসেছিল অত দূর থেকে ? তাই হবে। ঠিক। আচ্ছা দাঁড়ান দাঁড়ান। জীবাশ্ম গুলোর বয়স না ৪০০০০ থেকে ৫০০০০ বছর। কি হল? খেলেন তো বিষম নাকি চব্বনপ্রাস ! হ্যাঁ ওরা ঘুরত আমাদের রাঢ় বাংলায়। তারপর প্লেট মুভমেন্টে এশিয়া আফ্রিকা আলাদা হল। আফ্রিকায় ওরা বেঁচে বর্তে থাকল আর এখানে ? কী হল? দুষ্ট লোক হয়ে ভ্যানিশ হয়ে গেল।
আর একটা তালিকা দিই :-
১) ফল
২) চ্যাং
৩) ল্যাটা
৪) শোল
৫) চাঁদা
৬) কৈ
৭) মৌরলা
৮) কুচিয়া
৯) খলিসা
১০) বেলে
১১) ভ্যাদা
১২) পাঁকাল

এটা কোন রেস্তোরাঁর মেনু কার্ড নয়। বরং আপনার মেনু থেকে খুব শিগগির ভ্যানিশ হচ্ছে এরা। কী মুকুল সোনার কেল্লা দেখতে পাচ্ছ ? মগনলাল কে বা কারা বুঝলে চাঁদু ? হায়না তো চায়নায় থাকে মোহাই। ওগুলো শনি মনসা, শনি বারে শনি বারে ফুল ধরে। ধুধু মরুভুমি। ওয়াইড শট। ক্লাইম্যাক্স এ মুকুল কাঁদছে তুমি ময়ূরকে গুলি করলে কেন ? গুলি করলে কেন ?

এই তো সিনেমা সিনেমা মায়া। আর ওদিকে ছায়া ঘনাইছে বনে বনে। রেডিও সেট, সাইলেন্সার শটগান জড়ো হচ্ছে বনের বাফার এরিয়ায়, রাতের অন্ধকারে সেসব ঢুকছে কোর এরিয়ায়। ছাল, চামড়া, নখ, দাঁত , শৃঙ্গ উপড়ে চম্পট দস্যু। পড়ে থাকছে বন্য প্রাণ হাজারো তারাভরা কালো আকাশের নীচে রক্তাত, নিস্পন্দ, নিথর। পোচিং এর মোকাবিলা হচ্ছে অনেকদিন ধরে আসাম এ নিয়োগ হয়েছে ফরেস্ট কনস্টেবল,ম্যান এনিম্যাল কনফ্লিক্ট এ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ করা হচ্ছে যুদ্ধ কালীন তৎপরতায়। সুন্দরবন আবার ঘটিয়ে ফেলেছে এক ঘটনা যা চোরাশিকারিদের সমাজে ফিরিয়ে আনার এক মাইলফলক। চোরাশিকারীদেরই বানানো হয়েছে বনরক্ষী। একই মডেলে কাজ হচ্ছে অন্য স্যাংচুয়ারি ও ন্যাশানাল পার্ক গুলোয়। কিন্তু যে সব বন্য প্রাণ অরণ্য এলাকার বাইরে অথচ তাদের প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে তাদের বেলা ? বাঘরোলের নাম সবার চেনা চেনা লাগছে ? ওই যে কিছু ফেবু বীর কিছুদিন আগে যাদের কষা কষা গরম মশলা দিয়ে রান্না করে সেলফি পোস্ট করেছিল। অত্যন্ত এনডেঞ্জার্ড স্পেসিস। ঘটনাটা চোখে পড়ে বন্যপ্রাণ কর্মী তিয়াসা আঢ্যর। ৪৮টি দেশের ৫০০০ এর ও বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তিয়াসা প্রশাসনকে বাধ্য করেন অপরাধীদের ৩ বছরের জেল ও ১০০০০ টাকা ফাইন করতে।  হয় তাহলে। কিছুটা হলেও হয়। হাওড়া হুগলির জলাভূমিতে মাছবাঘা বা বাঘরোলের সংরক্ষণে তৈরি হয়েছে জনসংগঠনও। আসলে মানুষ আর পশুর মধ্যে কনফ্লিক্ট বা সংঘর্ষ যুগ যুগ ধরে হয়ে এসেছে। বুদ্ধির জোরে জিতেছে মানুষ আর বলের জোরে পশু।

কাজিরাঙা শতবর্ষ উৎসবে এ নিয়ে হয়েছিল একটা সেমিনার। সম্ভবতঃ একমাত্র ভারতীয় মিডিয়া হয়ে সেই সেমিনার কভার করেছিলাম। আসামের বনমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমরা গিয়েছিলাম। জানলাম হাতি বা গন্ডারের আক্রমনে সারা বছর যত মানুষ মারা যায় তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় কুকুরের কামড়ে !!! ভাবা যায় ? সেমিনার, বিহু নাচ, ফুড ফেস্টিভ্যাল সারা দিন কেটে গেল। পরের দিন আমাদের বন্ধু ড্রাইভার রিংকু এসে বলল একটা হাতি নাকি বাচ্চা দিয়েছে জঙ্গলের পশ্চিম রেঞ্জে। ক্যামেরা নিয়ে ছুটলাম। বিকেলের সাফারি সবে শুরু হয়েছে। রিংকুর হুড খোলা জংলা রঙের মারুতি জিপসি একটা ছোট ঝোরা পার করে দাঁড়ালো।
-" ডাডা সামনে ডেকো"


দেখি ১০ ফিটের মত সরু বনপথের বাঁ দিক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটা পূর্ণবয়স্ক বুল রাইনো। মুখে হাত দিয়ে সবাইকে চুপ করতে বলল রিংকু। আমার ক্যামেরা রোল হচ্ছে।  দুজন বনকর্মীর রাইফেলের সেফটি লক খোলার আওয়াজটা পেলাম। সঙ্গে সঙ্গে পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ৬ফুটের মধ্যে ওই ভয়ঙ্কর সুন্দর বিভীষিকা আমাদের গাড়ির দিকে ছুটে এল। রিংকুর হাত ততক্ষনে বাক গিয়ারে অনেকটা পিছনে সরে এলাম আমরা। এবার ও রাস্তার পুরো মাঝামাঝি সোজা আমাদের দিকে তাকিয়ে বনকর্মী দুজন অহমিয়াতে গণ্ডারটির উদ্দেশ্যে কিছু বলল। প্রায় ৩০-৪০ সেকেন্ড সব চুপচাপ। আচমকা আবার দৌড় এবার যেন ফেড়েই ফেলবে ! কানের পাশ দিয়ে দুটো ফায়ারিং এর শব্দ। একটা গুলি ওই পায়ের থেকে ২ফুট সামনে আর একটা গাছের ওপর। এবার রাস্তাটা ছেড়ে দিয়ে ডানপাশের জঙ্গল এ ঢুকে আমাদের ফলো করতে লাগল প্রায় ৭-৮ মিনিট পর কি মনে করে ঢুকে গেল জঙ্গলে। এত সামনে এতটা লো অ্যাঙ্গেল থেকে বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটা দেখতে পাবো ভাবতে পারি নি। ওই ট্রিপে দুজন মানুষ শ্রীমতি পার্বতী বড়ুয়া আর মার্ক স্যান্ড এর সাথে অনেকটা সময় কেটেছিল। ঘুরে দেখেছিলাম জঙ্গল, হাতিদের কুনকি বানানোর ট্রেনিং নিয়ে অনেক গল্প হয়েছিল। মোদ্দা কথা একরোখা কিছু মানুষ যাঁদের চোখে প্রত্যয় নামানুষ দুনিয়া টা কে ভাল রাখার, বাঁচানোর। তাদের কাজ দেখলে মাথা নুয়ে আসে শ্রদ্ধায়। এর আগে ও পরে গরুমারা, জলদাপাড়ায় এক শৃঙ্গ গন্ডার অনেকবার মোলাকাত করেছি। কাজিরাঙার বন্ধু কিশোর হাজারিকার রিসোর্টের পাশের নালা পেরিয়ে গন্ডারের বিষ্ঠা ত্যাগের পাহাড় দেখে এসেছি ( গন্ডার এ বিষয়ে খুব পার্টিকুলার )  কিন্তু আজও কাজিরাঙা ওয়েস্টের ওই বুল ভুলতে পারিনি।
সম্প্রতি উত্তর কেনিয়ায় পৃথিবীর শেষ পুরুষ সাদা গন্ডার সুদানের  ইউথানেশিয়া হল। একটা অধ্যায় শেষ হল। পড়ে রইল তার কন্যা ফাতু আর নাতনি নাজিন। বিজ্ঞানী Thomas Hildebrandt এর প্রায় ২০ বছরের চেষ্টা কোথাও একটু ধাক্কা খেল। আগামী বলবে সুদানের স্পার্ম ব্যাঙ্কএ জমিয়ে রাখা  থেকে কোন স্পার্ম ওই দুই সাদা গন্ডারের ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে সাদা গন্ডারের নির্বংশ হওয়া আটকাতে পারবে কি না ? কিন্তু বিষয় যেটা কালের নিয়মে,প্রকৃতির নিয়মে, যোগ্যতমই টিকে থাকবে। ডারউইন এটা বলেছেন। কিন্তু মানুষের বাঁদরামি র কথা ডারউইন বা ল্যামার্ক সাহেব বলেন নি। মানুষের আসুরিক লোভে  কোনো Prodigality of Production ই যথেষ্ট নয় একটা প্রজাতির বেঁচে থাকার জন্য।

বনে বাঘ দেখা গেলে সুন্দরবনের মানুষেরা বলেন 'বন গরম ' । অরণ্য সম্ভ্রম দাবি করে। অরণ্যচারীর অরণ্যের অধিকার বলে গলার রগ ফুলিয়ে প্রকৃতি-লুঠ চালাব বন ও বন্যপ্রাণের দফারফা করব আর তারপর 'রেস্ট ইন পিস মাদার নেচার' বলে মুতে ঘুমোব। এটা নপুংশকের মনোবৃত্তি।
সুদান গেছে , ভিস্তিওয়ালা গেছে , বছরে এক দুবার 'দেশে ' ফেরা কাজের লোক মায়া পিসিরাও গেছে , চড়াই পাখি গেছে , অনেক ধানের ভ্যারাইটিরা গেছে। কিন্তু এখনো আছে অনেক কিছু। রাস্তায় অনেক কুকুর বেড়াল আছে তাদের দত্তক নেওয়া যায়। গরম এ ব্যালকনি তে একটু জল একটু দানা শস্য রাখা যায়। সেদিন দেখলাম ফেসবুকে একজন জিজ্ঞেস করেছেন জলে বরফ দিয়ে রাখব? ওদের তো গরম লাগে! না অত আদিখ্যেতা না করলেও হবে। কোনও ফিঙে বা টিয়াকে বাজাজ ফিন্যান্সে ইনস্টলমেন্টে ফ্রিজ কিনতে দেখা যায় নি। বাড়ির চারপাশে গাছ লাগান ,জোরে গান চালানোর অভ্যেস ছাড়ুন , পারলে অল্প খরচে পাখি পশুদের আশ্রয় বানান। বাড়িটায় প্রকৃতির ছোঁয়া বাড়ান। ছোটদের শেখান পরিবেশ , পশু পাখি জল গাছ মাটির প্রতি সহমর্মী হতে। ওদের নিয়ে নিয়মিত ,বছরে অন্তত এক বা দুবার জঙ্গলে বেড়াতে যান। সবুজ সংরক্ষণের গুরুত্ত্ব বোঝান ওদের। বাকিটা ওরাই বুঝে নেবে।


If you like it, comment below in the comment box and follow
Me in facebook ,twitter & youtube 



Tuesday, February 27, 2018

নামেই তো যায় আসে !!!

বাসু ট্র্যাভেল এর ড্রাইভার রা রাস্তাঘাট বেশ ভাল ই চিনত। ওদের ওপর এক্কেবারে ডিডি গেঞ্জি র মত ভরসা করা যেত। তখন ২০০১। মোবাইল ফোনের গণতান্ত্রিকতা তখনও অধরা, বিদ্যাসাগর সেতুর টোল অনেকটা আলগা, এফ এম রেডিও তখনও আসেনি, টোটো বলতে যান নয় বাউন্ডুলে বোঝানো হত তখন। অ্যাসাইনমেন্টে ভোরে বেরোতে হলে আর রাতে ফিরতে হলে পিক আপ ড্রপিং তখন অপরাধবোধ তৈরি করত না ওটা অধিকার ছিল। আমার নামের পাশে খোঁজ খবর এর অ্যসাইনমেন্ট খাতায় লেখা হত 'কার রিপোর্টিং অ্যাট ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক হসপিটাল'। ওটাই ছিল বাড়ি র ঠিকানা। প্রায় ৫ - ৬ বছর ওরমই চলেছে। অ্যাট ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক হসপিটালে আমি দিব্যি অ্যাট হোম হয়েছি। বাধ সাধল ৬ বছর পরে। বলে না খাল কেটে কুমির ডাকা! আমার ক্ষেত্রে সেটা হল পাত পেড়ে আমার ই এক সহকর্মীকে ডাকা। শাক দিয়ে মাছ আর ঢাকতে পারলাম না।
আমার সেই সহকর্মী যে ছুপা রুস্তম হয়ে চুপি চুপি এসে আমার এক গোপনকথা পাঁচকান করবে ভাবতেও পারি নি।
তখন নরেন্দ্র মোদী গুজরাত এর মুখ্যমন্ত্রী । অফিসের গুলতানি তে শুভেন্দুদা ঝাড়ল ব্রহ্মাস্ত্র।
বল তো নন্দন আর নরেন্দ্র মোদী মধ্যে মিল কোথায়? ন্যাকা শয়তান রা সুর করে বলল কোথায়? শুভেন্দু দা শুরু করল
- মোদি সি এম (চিফ মিনিস্টার) , নন্দন সি সি এম (চিফ ক্যামেরাম্যান)
আর কী মিল
নরেন্দ্র মোদীর অস্বস্তি গোধরা, নন্দন এর অস্বস্তি পোদরা। (আমার ঠিকানা উত্তর পোদরা)
হাটে ভেঙে গেল হাঁড়ি। চারদিকে হা হা হিহি হৌ হৌ হু হু।
যতই শেক্ষপীর বলুন না কেন 'নামে কী আসে যায়' । কিন্তু আমার সে দিন থেকে এই এক নামের জন্য সরে আম বেইজ্জতি শুরু হল। ঠিকানা য় জায়গার নাম আমার মান সম্মান কেড়ে নিল।
ছোট বেলায় একটা মজার খেলা খেলতাম আমরা। যে কোন ম্যাপ নিয়ে বসে তাতে যে কোন একটা জায়গার নাম দেখে নিয়ে উল্টো দিকের বন্ধুকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া কোথায় আছে সেই জায়গাটা। স্থানের নামের খোঁজে সে অন্বেষণ এর খেলা পরবর্তীকালে ভূগোলে সাহায্য করেছিল। কতশত নাম, বিচিত্র তাদের বানান মন মাথায় একএকটা ছবি এঁকে যেত।

আসলে সব জায়গার নামকরণের পিছনে থাকে দারুণ সব গল্প। আমেরিকার মিশিগানে হেল জনপদ তৈরি হয় জর্জ রিভেসের হাত ধরে। সেটা ১৮৩০। এরপর মিশিগান যখন স্টেটহুড পায় জর্জ রিভেস কে জানতে চাওয়া হয় কী হবে স্থানটির নাম? রিভেস বলেন, " I don't care you can name it hell for all I care" ঠিক একরকম গল্প রয়েছে আমাদের হাতের কাছে, এই বাংলায়। রেল লাইন পাতা হচ্ছে সাথে সাথে চলছে স্টেশনের নামকরণের কাজ। ব্রিটিশ ভারত। বাঙালি কেরানিকে নিয়ে ইউরোপিয়ান সাহেব চলেছেন রেলপথ তদারকিতে। সাথে সাথে হয়ে চলেছে স্টেশনের নামদান। সাহেব জিজ্ঞাসা করছেন কী নাম এ জায়গাটির? কেরানি বলছেন,  ঝাপাটের ঢাল, পিচকুড়ির ঢাল। সাহেব সায় দিলে টপাটপ টাই বাবুর কথা টুকে নিচ্ছেন তিনি। এমন সময় এল একটি স্টেশন, কেরানি কর্তাকে শুধোলেন কী নাম হবে এ স্টেশনের? ঢালের ধাক্কায় বিরক্ত রেলকর্তা বললেন No Other Dhal কেরানি তাঁর প্রভুভক্তির প্রতি আস্থা অটুট রেখে নাম লিখলেন নোয়াদার ঢাল! কথায় কথায় হেল থেকে নোয়াদার ঢালে এসে গেলাম। ওই হেল এর কাছে স্বর্গ মানে হেভেনও আছে! হেভেন না থাকলে প্যারাডাইস আসবে কোথা থেকে? মিশিগানে প্যারাডাইস আর হেল ৪৭৩ কিলোমিটারের তফাতে।
নাম বা বদ নাম যাই খুঁজতে জান রেলওয়ের জুড়ি মেলা ভার। পৈতৃক কারণে রেলের ছেলে বলে বলছি না রেল সত্যিই পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে ও সম্মান দিয়েছে স্টেশনের নামে।
রাজস্থানে BAP, Nana  তো বিহারে Bettiah, Bhabua আবার তেলেঙ্গানার Bibinagar থেকে রাজস্থানের Sali ,  সম্পর্কের ঝমঝম ঝমঝম।
আচ্ছা হরিয়ানার Diwana কী ঝাড়খন্ডের Daru খেয়ে তেলেঙ্গানার Mahboob Nagar এ হন্যে হয়ে ঘোরে রাজস্থানের Rani র খোঁজে!! তবে কেন যে কাকু মাথায় ওড়না দেয় Orhania Chacha একমাত্র ভারতীয় রেল ই দিতে পারে এর উত্তর।মজার নামের ভান্ডার ভরা পৃথিবীর বৃহত্তম রেলপথ এর দুপাশের নাম ফলকে। এক নজরে দেখে নিন রেলের পশুপ্রেম। Kutta কর্ণাটক, Billi উত্তর প্রদেশ, Kala Bakra পঞ্জাব, Gadha গুজরাত, Suar উত্তর প্রদেশ, Bhainsa তেলেঙ্গানা।
রেল স্টেশনের নামকরন করতে ঝক্কিও কম নয় এই যেমন হাওড়া খড়্গপুর লাইনে একটি স্টেশনের অনুমোদন এল। কিন্তু নাম কী হবে? প্রস্তাবিত স্টেশনটির কাছাকাছি ৩টি গ্রাম পাকুড়িয়া, মুড়াইল ও নারায়ণ। তিন পক্ষই স্টেশনের নামফলকে নিজের গ্রামের নাম দাবি করল। মামলা গড়াল কোর্ট অবধি। অবশেষে দীর্ঘতম স্টেশনের নাম পেল পশ্চিমবঙ্গ। নারায়ণপাকুড়িয়ামুড়াইল।
জায়গার নামে একটা অঞ্চলের মেজাজটাও আঁচ করা যায়। মুর্শিদ কুলি খাঁর মুর্শিদাবাদে তাই অনায়াসে হাতেহাত ধরে থাকে চেইনপাড়া, হামদামপুর, আয়েশবাগ, মতিঝিল, নশিপুর, জিয়াগঞ্জ, লালবাগ।
যথন মানুষ নিজেদের কর্মকান্ডের ডালপালা বিস্তারে মহীরূহ হয়ে ওঠেন তখন বোধহয় গান্ধীজীর মত মনে হয় তাঁকে। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী র নামাঙ্কিত ৫৫টি রাজপথ রয়েছে আমাদের দেশে। ভারত ছাড়া বহির্বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর নামে রয়েছে ৬৬টি রাস্তা, যার মধ্যে নেদারল্যান্ডসেই আছে ২৮টি পথ। আসলে পথের দিশা দেখানো মানুষদের এটাই বোধহয় পরম পাওয়া, পথের সন্ধান দিতে দিতে নিজের অজান্তেই কখন যেন তাঁরাই পথ হয়ে ওঠেন। তাঁরা তারা হয়ে ওঠেন, ধ্রুবতারার মত জেগে থেকে পথভ্রষ্টকে চালিত করেন।
আর একজন হো চি মিন, একটা মানুষের নামে একটা রাষ্ট্রের রাজধানী! ভাবতেই গায়ে কাঁটা দেয়।
যেমন কাঁটা দেয় কিছু কিছু জায়গার নাম। অবশ্য ভক্তিভালবাসায় নয়, শিরদাঁড়া ঠান্ডা করা ভয়ে। Y2K র প্রথম বিহার নির্বাচন কভার করতে গিয়েছি। পাটনা থেকে চলেছি সিওয়ান। বাহুবলি বিধায়ক। বারুদের স্তুপ। নিজের চোখে দেখে এসেছি। কিম্বা এই বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে একএকটা স্থান শুধুমাত্র নির্বাচনী ও রাজনৈতিক কারনে টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে 'নাম' করেছে। তবে বহু প্রাণের মূল্যে অমন নাম না করলেই সেটা সভ্যতার ক্ষেত্রে ভাল হত।
বিপর্যয় থেকে তৈরি হয়েছে কত নাম। ১৭৪২ এ সাত খানা ডিঙি নৌকো উল্টে গেল! কালক্রমে ওল্টানো ডিঙি বর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে হল উল্টোডাঙা। আজকের শ্রীরামপুরের নাম মাহাত্ম্য নাকি রাম কৃপা হীন। এক ভিক্ষাপ্রার্থীর কাতর আকুতি Sir I Am Poor থেকেই নাকি এল শ্রীরামপুর। আচ্ছা পুর, তলা, গড় দিয়ে কত জায়গার নাম আছে ভেবে দেখেছেন!

নাম নিয়ে কথা বলতে বলতে মাথার ভিতরে কত নাম উড়ে বেড়াচ্ছে।পালামৌ, দলমা, ভীমবৈঠকা, কেঁচকি, শিওনি, কানহা, পেঞ্চ হয়ে ভিতরকণিকা, চুকচুকিয়া, মানস, বক্সা, গির, কাজিরাঙ্গা, মানস, রণথম্ভোর, সুন্দর আমার দেশের সুন্দরবন গুলো। সবুজ প্রকৃতি, সজীব বন্যপ্রাণী।  ওদেরও নাম বলতে হবে। বিশেষ করে ওই নামগুলো চেনাতে হবে আমাদের আগামী প্রজন্মকে। নইলে যে বাঁচার উপায় নেই।
বাঁচার উপায় না থাকলে মানুষ যেমন পথ খোঁজে। আমিও তেমন খুঁজছিলাম। কেন আমার ঠিকানার নাম পোদরা? অনেক উপহাস, মুচকি হাসি, ঠাট্টা র গ্লানিক্লেদ ঠেলে ইতিহাস পেলাম।
অবিভক্ত বাংলার বীরত্বময় সে ইতিহাস। পোদ উপজাতি রা সুন্দরবনে প্রথম আবাদ করে। শিকার, নদীতে লুঠতরাজ ছিল তাদের জীবিকা নির্বাহের উপায়। ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় যতগুলো আঞ্চলিক শক্তি পোদরা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম। তথ্যটা পেয়েই মন বলল মিলছে মিলছে। পূর্ণেন্দু পত্রী র কলকাতার ইতিহাসে পড়েছি বেতড় বা বেত্র তে বাঘ বেরোতে, কালিক্ষেত্র বা কালিঘাট অবধি ছিল সুন্দরবন। বাঘ আসত বলি প্রদত্ত পাঁঠার রক্তের ঘ্রাণে। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যে মানুষ গুলো প্রকৃতিকে হারিয়েছে তাদের কুর্নিশ করতেই তো আমার ঠিকানায় তাদের স্মৃতি। ইশ বড্ড ভুল হয়ে গেছে তাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে।


If you like it, comment below in the comment box and follow
Me in facebook , twitter & youtube