Showing posts with label Wild Life. Show all posts
Showing posts with label Wild Life. Show all posts

Thursday, February 6, 2025

মশা মারতে কামান দাগা তো শুনেছেন, তা বলে বিড়াল বাঁচাতে কবাডি খেলা!

 

 

মশা মারতে কামান দাগা তো শুনেছেন, তা বলে বিড়াল বাঁচাতে কবাডি খেলা!

 

সরস্বতী পুজো কেমন কাটল সবার? এই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই পাখা চালাতে হচ্ছে। এখনই আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে গরমটা কেমন পড়তে চলেছে এই বছর! সেদিন একটা অনুষ্ঠানে অভিনেতা জিতু কামালের সঙ্গে কথা হচ্ছিল জিতু বলছিলেন আজকাল আমাদের এখানে শীত পড়ে না। সারা বছর গরম, বর্ষা আর অল্প গরম পড়ে। প্রসঙ্গ থেকে সরে যাচ্ছি। সরস্বতী পুজোতেও অন্য উৎসবের মতোই শব্দ দানবের তাণ্ডব চলল। হাওড়ার উলুবেড়িয়ার ভিডিও দেখে আতঙ্ক হচ্ছিল। তারস্বরে ডিজে চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ নেচে চলেছে। এ কোন আমদানি করা সংস্কৃতি বুঝতে পারছি না। আমি যে পাড়ায় থাকি সেখানেও উদ্দাম ভয়াবহ সব গান চলল। গান পয়েন্টে ঘুমের দফারফা হল রাত আড়াইটে অবধি। বুঝি না প্রশাসন, পুলিশ কী করেন? সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। ছাত্রদের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। মাইক আর লাউড স্পিকারে নিয়ন্ত্রণ আনলে কি ভোট ব্যাঙ্কে চাপ পড়ত? বা ছাপ পড়ত? তাই কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে গেলেন তাঁরা যাদের পাহারা দেওয়াটাই দস্তুর! উলুবেড়িয়ার উদ্দাম নাচের ছবি যখন ভাইরাল হচ্ছে তখনই সম্রাট, সায়ন, চিত্রক, কল্যাণী দিরা তুলে ধরলেন এক অন্য ছবি। উলুবেড়িয়া থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে ঘটল এমন এক ঘটনা যা ওই উদ্দাম, অর্থহীন, মগজহীনতার মুখে সজোরে একটা থাপ্পড় মারল।

 


পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র পর্ষদ, হাওড়া জেলা বন বিভাগ, জেলা পরিষদ, বিধায়ক আর হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ আমতার গাজীপুর পঞ্চানন সংঘে আয়োজন করল এক কবাডি প্রতিযোগিতা। না প্রো কবাড্ডি লিগের ম্যাচ না। ছিল না ততটা জৌলুসও। কিন্তু এই কবাডির গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপ্রাণী মেছো বিড়ালের সম্পর্কে সচেতনতা প্রসারে মেয়েদের এই কবাডি টুর্নামেন্ট।

 


পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র পর্ষদের সিনিয়র অফিসার সৌমেন্দ্রনাথ ঘোষ , হাওড়া জেলা মুখ্য বন আধিকারিক দীপক কুমার মন্ডল,উলুবেড়িয়া রেঞ্জ অফিসার রাজেশ মুখার্জী , হাওড়া জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মানস কুমার বসু, আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মিত্র ,আমতা কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক সুকান্ত পাল, হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ এর সভাপতি সৌরেন্দ্র শেখর বিশ্বাস ,সম্পাদিকা কল্যানী পালুই , কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেছোবিড়াল গবেষক সম্রাট চক্রবর্তী, সংসদ প্রতিনিধি তাপস বাকুলী, গাজীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান চন্দনা চোঙ্গদার ও আমতা থানার আধিকারিক সমাপ্তি রায় হাজির থেকে কবাডি খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিলেন।

এখন আপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে কী এই রাজ্য প্রাণী, মেছো বিড়াল? কেন এই বিড়াল রাজ্য প্রাণী? চলুন আজ আমরা জেনে নিই এই বিড়াল সম্বন্ধে। আমরা জানি বিড়াল সাধারণত জলকে ভয় পায়। কিন্তু জলই এই বিড়ালের বেঁচে থাকার অন্যতম শর্ত। বলা ভাল প্রধান শর্ত। এরা জলাভূমির বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি। মেছো বিড়াল জলে ডুব দিয়ে তলা থেকে বড় বড় মাছ শিকার করে। দেড় বা দু কেজির মাছ তুলে আনা এদের কাছে নস্যি। এরা বিশ্বের একমাত্র বিড়াল প্রজাতি যারা জলের মধ্যে এভাবে শিকার করে। জলাজমি এদের বিচরণ ক্ষেত্র। জলা জমিতে শিল্প, জলা ভরাট বা জলাজমি নষ্ট হওয়ায় এরাও হয়ে পড়ছে বিপন্ন। এরা মাছ ছাড়াও কীট পতঙ্গ, ব্যাঙ ও সাপ খেয়ে পরোক্ষে চাষির উপকারই করে।

 


এদের বিজ্ঞান সম্মত নাম প্রিয়োনাইলুরাস ভাইভারিনাস। বাংলায় এদের অনেক নাম বাঘরোল, মাছবাঘা, গোবাঘা, মেছো বিড়াল। এদের আকার সাধারণ বিড়ালের থেকে অনেকটাই বড় হওয়ায় এদের অনেকেই বাঘ বলে ভুল করেন। বাঘরোল নাম জনপ্রিয় হবার কারনেও অনেকে এদের বাঘের সঙ্গে গুলিয়ে আতঙ্কিত হন। বলতে দ্বিধা নেই চাকরি করার সময়ে দেখেছি মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার অনেক বড় বড় অভিজ্ঞ সাংবাদিকদেরও এদের সম্বন্ধে সম্যক ধারণা নেই। আর তার ফলেই এদের দেখা গেলেই টিভি চ্যানেল গুলোতে হালচাল পড়ে। হেডলাইন হয়, ব্রেকিং নিউজ হয়- ‘অজানা প্রাণীর আতঙ্ক’। এদের বেঁচে থাকা আরও বিপদ সংকুল হয়ে পড়ে সৌজন্যে ‘অশিক্ষিত’ গণমাধ্যম! এই ধরনের হেডলাইনের বিরুদ্ধে আমি আগেও বহুবার সরব হয়েছি। আবারও হলাম। মাননীয় নিউজ প্রোডিউসার আপনি জানেন না যখন কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপককে ফুটেজ দেখান, তিনিই আইডেন্টিফাই করে দেবেন প্রাণিটির নাম। নইলে সময় কম থাকলে গুগল লেন্সে ফেলুন। উত্তর পাবেন। আপনার অজ্ঞতা মানেই কোনও প্রাণী অজানা হতে পারে না।

 


যাই হোক মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে আসছি, আবেগপ্রবণ হয়ে। ফিরি ফিশিং ক্যাটের গল্পে। হ্যাঁ গল্পই তো। এদের সংখ্যা যেভাবে কমছে, এদের সম্বন্ধে না জানলে আগামিদিনে এদের স্থান হবে গল্পের পাতায়। তাই চিনুন এদের। এরা ধৈর্যশীল শিকারি। একটা মাছ শিকারের জন্য এরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলের ধারে বসে থাকে। আর এতেই এরা মানুষের রোষে পড়ে। অথচ এরা মানুষের প্রতি মোটেই আক্রমণাত্মক নয়। সংরক্ষণের নিরিখে এরা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সমকক্ষ অর্থাৎ IUCN লাল তালিকাভুক্ত। মানে অতি সংবেদনশীল বিপন্ন প্রজাতির। আমাদের রাজ্যের রাজ্যপ্রাণী এই বিড়াল। ফেব্রুয়ারি মাস এদের জন্য সচেতনতা প্রসারের উদ্দেশ্যে বিশ্ব জুড়ে পালিত হয়। কেননা ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়াও এদের দেখা যায়, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বিস্তৃত জলাভুমিতে। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, আসাম, অন্ধ্রপ্রদেশে। আর আমাদের রাজ্যে এদের আবাস হাওড়া, হুগলী, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুরের জলাজমিতে। সম্প্রতি পুরুলিয়াতেও বাঘরোল দেখা গেছে বন বিভাগের ট্র্যাপ ক্যামেরায়। মাছে ভাতে বাঙালির রাজকীয় রোল মডেল বা রাজ্যপ্রাণী এরা ছাড়া আর কেই বা হতে পারে! এদের চিনুন এদের সম্বন্ধে সঠিক বিজ্ঞানসম্মত তথ্যই এদের বাঁচাতে পারে। মানুষের সঙ্গেই এরা এদের বাসস্থান ভাগাভাগি করে নেয় বলে অভয়ারণ্য বা স্যাঙ্কচুয়ারি করে এদের সংরক্ষণ প্রায় অসম্ভব। কথাটা আমি বলছি না, একসময়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির সময়ে এই কথা আমাকে বলেন রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল, ওয়াইল্ড লাইফ, আইএফএস, শ্রী দেবল রায় মহাশয়।    

 

এদের সংখ্যা রোজ কমছে। দ্রুত কমছে। এদের মৃত্যুর কারণ রোড কিল ও মানুষের সঙ্গে সংঘাত। এই কবাডি প্রতিযোগিতার শেষে হাওড়া বন দফতরের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয় রাস্তায় দেওয়া হবে সাইনেজ। যেসব জায়গা মেছো বিড়ালের পারাপারের করিডোর সেখানে বন দফতরের পক্ষ থেকে লাগানো হবে রোড সাইন।    

Saturday, March 31, 2018

মানুষের বাঁদরামি | 'বন গরম ' | REST IN PEACE - Mother NATURE

সু দান তো গেল দেখে নিন আর কি কি অবলুপ্তির পথে যেতে চলেছে খুব শিগগিরই

প্রকাশিত লেখা


নেচার পত্রিকার ওয়েবসাইটে গত ২২শে মার্চ ২০১৮, বিশ্ব জল দিবসে একটা খবর বেরিয়েছে। খবর না বলে একটা চলমান অভিযানের রিপোর্ট বলাই ভালো। মহাসমুদ্রে ভাসমান জঞ্জাল নিয়ে একটা বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে নেচার জানাচ্ছে শুধুমাত্র প্রশান্ত মহাসাগরেই নাকি ভাসমান প্লাস্টিক জঞ্জালের পরিমান ৭৯০০০ টন ! তাও আবার ১.৬ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে আছে এই প্লাষ্টিক নোংরা। আর হবে নাই বা কেন ! প্রতি বছর গড়ে উৎপাদিত ৩২০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিকের কতটাই বা রিসাইকেল করা যায় ? কী ভাবছেন আজ শুরুতে কী হল আমার? লেখাতে  নস্টালজিয়া নেই , সিনেমা নেই , আছে আতঙ্ক ছড়ানো বুকিশ কিছু তথ্য। আমি আপনাদের বলছিনা যে ভাবুন অলিভ রিডলে কচ্ছপ, বা সিল, বা হাতুড়ি মাথা হাঙ্গর, বা নীল তিমিদের কি হচ্ছে কল্পনা করতে।
গ্রেট প্যাসেফিক গারবেজ প্যাচ 


আসলে সেদিন বিশ্ব জল দিবস গেল। তো আমার ব্লগে একটা লেখা লেখার জন্য একটু অন্তর্জাল সাগরে চান করে নিজেই ঘেঁটে গেছি। জল দিবস গেল। গেল তো গেল। কার তাতে কী ? আর্থ ডে যায়। যায় তো যায় ! ওয়াইল্ড লাইফ ডে যায়। যায় তো যায়! আদিখ্যেতা হয় ! ফেসবুক ট্যুইটার হয়। তারপর চুলকে মুলকে হালকা করে কড়ে আঙ্গুল তুলে শুয়ে পড়ি। নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ভাবি আরো টাকা ,বড় ফ্ল্যাট ,বড় গাড়ি। একটা গ্রহ পৃথিবী। তার এক ভাগ স্থল তিন ভাগ জল আমরা জানি।  কিন্তু সেই জলের তিন চতুর্থাংশ মেরু বরফ হিসেবে বন্দী। বাকি জলের কেবল মাত্র ২.৫%   স্বচ্ছ , পেয়। এই জলের ওপর দখলদারি নিয়েই মধ্য প্রাচ্যে যত যুদ্ধ , যত অশান্তি সেই ১৯১৮ থেকে এক শতাব্দী কেটে গেল কিন্তু জল নিয়ে কেউ এক চুল ও মাটি ছাড়তে নারাজ। চীনের জনসংখ্যা মোট পৃথিবীর লোকসংখ্যার প্রায় ১/৪ ভাগ। সেই চীনেও প্রায় ৯০% জল ভয়ঙ্কর ভাবে দূষিত। তাই পৃথিবীর তাবড় অর্থনীতিবিদদের মতে আগামী ২০২৫ নাগাদ পেট্রো তেলের চেয়েও মহার্ঘ্য হবে পরিষ্কার পানীয় জল।

ধুর এত ভাববেন না তো। কী হবে ভেবে ? একসময় ডাইনোসর ছিল ,ম্যামথ ছিল। ছিল তো ছিল। আজ তো কেউ নেই সব ফর্সা। আছে কে ? হুমম এই মানুষ ছাড়া কেউ আছে নাকি এই পৃথিবীর BIG BOSS ??!! আমরাই তো একমাত্র ডারউইনের ছানা যারা সদর্পে বলতে পারি "মোরা হনু থেকে ম্যান হনু "!!!
অথচ ভাবুন কত শত পাখি, স্তন্যপায়ী, সরীসৃপ, মাছ স্রেফ টিকে থাকতে পারেনি বলে ওই 'ফরসা ' হয়ে গেল।  তা কী  করল তারা ? কী হল তাদের ? জটায়ু থাকলে বলতেন " ফেলুবাবু এটা কি মার্ডার না গুমখুন ? হাইলি সাসপিসাস ! " 
একটা তালিকা দিই আগে দেখুন তো এদের চেনেন কি ?
১) ওরিয়েন্টাল হোয়াইট ব্যাক্ড ভালচার
২) লং বিলড ভালচার
৩) স্লেন্ডার ভালচার
৪) ওয়েস্ট আফ্রিকান ব্ল্যাক রাইনোসরাস
৫) পাইরিনিয়ান আইবেক্স
৬) প্যাসেঞ্জার পিজন
৭) কোয়াগ্গা
৮) ক্যারিবিয়ান মংক সিল
৯) সি মিঙ্ক
১০) তাসমেনিয়ান টাইগার
১১) টিকোপা পাপফিস
১২) জাভান টাইগার
১৩) Great Auk
১৪) Bubal Hartbeest

 চেনেন ? তাসমেনিয়ান টাইগার নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি অনেকবার দেখিয়েছে ন্যাট জিও। একটু চেনা চেনা। বাকিদের চেনার কথা ছাড়ুন দেখার উপায় ও নেই। মানুষের অর্গানাইজড গুমখুনে ওরা কেউ নেই। মানে ওই যে বলে না গুষ্টি শুদ্ধ লোপাট ! সেই হয়েছে। পুরোপুরী নির্বংশঃ !!! আমার এই তালিকার একদম ওপরের তিন জন, তিনটি প্রজাতির শকুন, ছিল এই বাংলায়। ভাবুন ফেলুবাবু। কী পরিমান ফেলতে ফেলতে আমরা এগোচ্ছি ! আর একটু পিছনে যাব ? জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অভিজ্ঞ জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞ টি ,কে,পাল এই বাংলার  শুশুনিয়া পাহাড়ের দুটি গুহায় কিছু জীবাশ্ম পেয়েছিলেন। সেগুলি ছিল শিবালিক আন্টিলোপ ,শিবালিক নীলগাই, শিবালিক সজারু , শিবালিক গবাদি পশু , শিবালিক একুইড , শিবালিক হাতি , আফ্রিকান সিংহ ,জিরাফ আর স্পটেড হায়নার। ওরা কী সার্কাসে খেলা দেখাতে এসেছিল অত দূর থেকে ? তাই হবে। ঠিক। আচ্ছা দাঁড়ান দাঁড়ান। জীবাশ্ম গুলোর বয়স না ৪০০০০ থেকে ৫০০০০ বছর। কি হল? খেলেন তো বিষম নাকি চব্বনপ্রাস ! হ্যাঁ ওরা ঘুরত আমাদের রাঢ় বাংলায়। তারপর প্লেট মুভমেন্টে এশিয়া আফ্রিকা আলাদা হল। আফ্রিকায় ওরা বেঁচে বর্তে থাকল আর এখানে ? কী হল? দুষ্ট লোক হয়ে ভ্যানিশ হয়ে গেল।
আর একটা তালিকা দিই :-
১) ফল
২) চ্যাং
৩) ল্যাটা
৪) শোল
৫) চাঁদা
৬) কৈ
৭) মৌরলা
৮) কুচিয়া
৯) খলিসা
১০) বেলে
১১) ভ্যাদা
১২) পাঁকাল

এটা কোন রেস্তোরাঁর মেনু কার্ড নয়। বরং আপনার মেনু থেকে খুব শিগগির ভ্যানিশ হচ্ছে এরা। কী মুকুল সোনার কেল্লা দেখতে পাচ্ছ ? মগনলাল কে বা কারা বুঝলে চাঁদু ? হায়না তো চায়নায় থাকে মোহাই। ওগুলো শনি মনসা, শনি বারে শনি বারে ফুল ধরে। ধুধু মরুভুমি। ওয়াইড শট। ক্লাইম্যাক্স এ মুকুল কাঁদছে তুমি ময়ূরকে গুলি করলে কেন ? গুলি করলে কেন ?

এই তো সিনেমা সিনেমা মায়া। আর ওদিকে ছায়া ঘনাইছে বনে বনে। রেডিও সেট, সাইলেন্সার শটগান জড়ো হচ্ছে বনের বাফার এরিয়ায়, রাতের অন্ধকারে সেসব ঢুকছে কোর এরিয়ায়। ছাল, চামড়া, নখ, দাঁত , শৃঙ্গ উপড়ে চম্পট দস্যু। পড়ে থাকছে বন্য প্রাণ হাজারো তারাভরা কালো আকাশের নীচে রক্তাত, নিস্পন্দ, নিথর। পোচিং এর মোকাবিলা হচ্ছে অনেকদিন ধরে আসাম এ নিয়োগ হয়েছে ফরেস্ট কনস্টেবল,ম্যান এনিম্যাল কনফ্লিক্ট এ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ করা হচ্ছে যুদ্ধ কালীন তৎপরতায়। সুন্দরবন আবার ঘটিয়ে ফেলেছে এক ঘটনা যা চোরাশিকারিদের সমাজে ফিরিয়ে আনার এক মাইলফলক। চোরাশিকারীদেরই বানানো হয়েছে বনরক্ষী। একই মডেলে কাজ হচ্ছে অন্য স্যাংচুয়ারি ও ন্যাশানাল পার্ক গুলোয়। কিন্তু যে সব বন্য প্রাণ অরণ্য এলাকার বাইরে অথচ তাদের প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে তাদের বেলা ? বাঘরোলের নাম সবার চেনা চেনা লাগছে ? ওই যে কিছু ফেবু বীর কিছুদিন আগে যাদের কষা কষা গরম মশলা দিয়ে রান্না করে সেলফি পোস্ট করেছিল। অত্যন্ত এনডেঞ্জার্ড স্পেসিস। ঘটনাটা চোখে পড়ে বন্যপ্রাণ কর্মী তিয়াসা আঢ্যর। ৪৮টি দেশের ৫০০০ এর ও বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তিয়াসা প্রশাসনকে বাধ্য করেন অপরাধীদের ৩ বছরের জেল ও ১০০০০ টাকা ফাইন করতে।  হয় তাহলে। কিছুটা হলেও হয়। হাওড়া হুগলির জলাভূমিতে মাছবাঘা বা বাঘরোলের সংরক্ষণে তৈরি হয়েছে জনসংগঠনও। আসলে মানুষ আর পশুর মধ্যে কনফ্লিক্ট বা সংঘর্ষ যুগ যুগ ধরে হয়ে এসেছে। বুদ্ধির জোরে জিতেছে মানুষ আর বলের জোরে পশু।

কাজিরাঙা শতবর্ষ উৎসবে এ নিয়ে হয়েছিল একটা সেমিনার। সম্ভবতঃ একমাত্র ভারতীয় মিডিয়া হয়ে সেই সেমিনার কভার করেছিলাম। আসামের বনমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমরা গিয়েছিলাম। জানলাম হাতি বা গন্ডারের আক্রমনে সারা বছর যত মানুষ মারা যায় তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় কুকুরের কামড়ে !!! ভাবা যায় ? সেমিনার, বিহু নাচ, ফুড ফেস্টিভ্যাল সারা দিন কেটে গেল। পরের দিন আমাদের বন্ধু ড্রাইভার রিংকু এসে বলল একটা হাতি নাকি বাচ্চা দিয়েছে জঙ্গলের পশ্চিম রেঞ্জে। ক্যামেরা নিয়ে ছুটলাম। বিকেলের সাফারি সবে শুরু হয়েছে। রিংকুর হুড খোলা জংলা রঙের মারুতি জিপসি একটা ছোট ঝোরা পার করে দাঁড়ালো।
-" ডাডা সামনে ডেকো"


দেখি ১০ ফিটের মত সরু বনপথের বাঁ দিক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটা পূর্ণবয়স্ক বুল রাইনো। মুখে হাত দিয়ে সবাইকে চুপ করতে বলল রিংকু। আমার ক্যামেরা রোল হচ্ছে।  দুজন বনকর্মীর রাইফেলের সেফটি লক খোলার আওয়াজটা পেলাম। সঙ্গে সঙ্গে পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ৬ফুটের মধ্যে ওই ভয়ঙ্কর সুন্দর বিভীষিকা আমাদের গাড়ির দিকে ছুটে এল। রিংকুর হাত ততক্ষনে বাক গিয়ারে অনেকটা পিছনে সরে এলাম আমরা। এবার ও রাস্তার পুরো মাঝামাঝি সোজা আমাদের দিকে তাকিয়ে বনকর্মী দুজন অহমিয়াতে গণ্ডারটির উদ্দেশ্যে কিছু বলল। প্রায় ৩০-৪০ সেকেন্ড সব চুপচাপ। আচমকা আবার দৌড় এবার যেন ফেড়েই ফেলবে ! কানের পাশ দিয়ে দুটো ফায়ারিং এর শব্দ। একটা গুলি ওই পায়ের থেকে ২ফুট সামনে আর একটা গাছের ওপর। এবার রাস্তাটা ছেড়ে দিয়ে ডানপাশের জঙ্গল এ ঢুকে আমাদের ফলো করতে লাগল প্রায় ৭-৮ মিনিট পর কি মনে করে ঢুকে গেল জঙ্গলে। এত সামনে এতটা লো অ্যাঙ্গেল থেকে বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটা দেখতে পাবো ভাবতে পারি নি। ওই ট্রিপে দুজন মানুষ শ্রীমতি পার্বতী বড়ুয়া আর মার্ক স্যান্ড এর সাথে অনেকটা সময় কেটেছিল। ঘুরে দেখেছিলাম জঙ্গল, হাতিদের কুনকি বানানোর ট্রেনিং নিয়ে অনেক গল্প হয়েছিল। মোদ্দা কথা একরোখা কিছু মানুষ যাঁদের চোখে প্রত্যয় নামানুষ দুনিয়া টা কে ভাল রাখার, বাঁচানোর। তাদের কাজ দেখলে মাথা নুয়ে আসে শ্রদ্ধায়। এর আগে ও পরে গরুমারা, জলদাপাড়ায় এক শৃঙ্গ গন্ডার অনেকবার মোলাকাত করেছি। কাজিরাঙার বন্ধু কিশোর হাজারিকার রিসোর্টের পাশের নালা পেরিয়ে গন্ডারের বিষ্ঠা ত্যাগের পাহাড় দেখে এসেছি ( গন্ডার এ বিষয়ে খুব পার্টিকুলার )  কিন্তু আজও কাজিরাঙা ওয়েস্টের ওই বুল ভুলতে পারিনি।
সম্প্রতি উত্তর কেনিয়ায় পৃথিবীর শেষ পুরুষ সাদা গন্ডার সুদানের  ইউথানেশিয়া হল। একটা অধ্যায় শেষ হল। পড়ে রইল তার কন্যা ফাতু আর নাতনি নাজিন। বিজ্ঞানী Thomas Hildebrandt এর প্রায় ২০ বছরের চেষ্টা কোথাও একটু ধাক্কা খেল। আগামী বলবে সুদানের স্পার্ম ব্যাঙ্কএ জমিয়ে রাখা  থেকে কোন স্পার্ম ওই দুই সাদা গন্ডারের ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে সাদা গন্ডারের নির্বংশ হওয়া আটকাতে পারবে কি না ? কিন্তু বিষয় যেটা কালের নিয়মে,প্রকৃতির নিয়মে, যোগ্যতমই টিকে থাকবে। ডারউইন এটা বলেছেন। কিন্তু মানুষের বাঁদরামি র কথা ডারউইন বা ল্যামার্ক সাহেব বলেন নি। মানুষের আসুরিক লোভে  কোনো Prodigality of Production ই যথেষ্ট নয় একটা প্রজাতির বেঁচে থাকার জন্য।

বনে বাঘ দেখা গেলে সুন্দরবনের মানুষেরা বলেন 'বন গরম ' । অরণ্য সম্ভ্রম দাবি করে। অরণ্যচারীর অরণ্যের অধিকার বলে গলার রগ ফুলিয়ে প্রকৃতি-লুঠ চালাব বন ও বন্যপ্রাণের দফারফা করব আর তারপর 'রেস্ট ইন পিস মাদার নেচার' বলে মুতে ঘুমোব। এটা নপুংশকের মনোবৃত্তি।
সুদান গেছে , ভিস্তিওয়ালা গেছে , বছরে এক দুবার 'দেশে ' ফেরা কাজের লোক মায়া পিসিরাও গেছে , চড়াই পাখি গেছে , অনেক ধানের ভ্যারাইটিরা গেছে। কিন্তু এখনো আছে অনেক কিছু। রাস্তায় অনেক কুকুর বেড়াল আছে তাদের দত্তক নেওয়া যায়। গরম এ ব্যালকনি তে একটু জল একটু দানা শস্য রাখা যায়। সেদিন দেখলাম ফেসবুকে একজন জিজ্ঞেস করেছেন জলে বরফ দিয়ে রাখব? ওদের তো গরম লাগে! না অত আদিখ্যেতা না করলেও হবে। কোনও ফিঙে বা টিয়াকে বাজাজ ফিন্যান্সে ইনস্টলমেন্টে ফ্রিজ কিনতে দেখা যায় নি। বাড়ির চারপাশে গাছ লাগান ,জোরে গান চালানোর অভ্যেস ছাড়ুন , পারলে অল্প খরচে পাখি পশুদের আশ্রয় বানান। বাড়িটায় প্রকৃতির ছোঁয়া বাড়ান। ছোটদের শেখান পরিবেশ , পশু পাখি জল গাছ মাটির প্রতি সহমর্মী হতে। ওদের নিয়ে নিয়মিত ,বছরে অন্তত এক বা দুবার জঙ্গলে বেড়াতে যান। সবুজ সংরক্ষণের গুরুত্ত্ব বোঝান ওদের। বাকিটা ওরাই বুঝে নেবে।


If you like it, comment below in the comment box and follow
Me in facebook ,twitter & youtube