Showing posts with label bengali. Show all posts
Showing posts with label bengali. Show all posts

Wednesday, May 9, 2018

মিছে কোলাহল - ২৫ শে বৈশাখ

Whatsapp এ একটা ছবি পেলাম। ছবিটা দেখে বমি বমি ভাব মানে বিবমিষা লাগছিলো। একজন মানুষ যাঁর কাজ বহু মানুষ কে আলোর পথ দেখিয়েছে তাঁর ব্যক্তি সত্ত্বার প্রতি আমাদের কিছু মানুষের অন্ধতা যেমন হতাশাব্যাঞ্জক তেমনই  কুরুচিকর ও হতাশাব্যাঞ্জক এই ফটোশপ। একটা বাজে লেখার শুরু করছি।
ছবি: ইন্টারনেট 


রবি ঠাকুর আপনার প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, সম্মান নেই আমাদের। যদিও আজ আপনার দিন, আজ আপনাকে নিয়ে গদগদ ভাবাবেশ। তবু আজই বোধহয় সত্যি কথাটা কনফেস করা প্রয়োজন। বাঙালির কাছে আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয় আপনার সঙ্গীত। আপনার প্রবন্ধ গদ্য ছোটগল্পের ভাঁড়ার নিয়ে পশ্চিম বাংলার আম বাঙালির তেমন ইন্টারেস্ট নেই। আপনি বলতে সাধারণ বাঙালি যা বোঝে সেই সঙ্গীতের জনগণতান্ত্রীকতার জন্য বরাদ্দ এখন ট্রাফিক বাতির লাউড স্পিকার। যেখানে কাঠফাটা রোদে মিসম্যাচ আপনার একা জ্যোৎস্না রাতে ঘরে না থাকার আকুতি। ছুটন্ত শহর সময়ের পিছনে তাড়া করছে যখন, তখন আপনার সুর, কথা, কোথায় কী ?!! সেকেন্ড বদলাতে থাকা ইলেকট্রনিক মনিটরে তখন সব চোখ।
মাফ করবেন রবিন ঠাকুর!!! আজ আমরা আপনার ঐতিহ্য সম ব্যক্তিত্যের গায়ে পড়া আলোর প্রতিফলন টুকু নেওয়ার জন্য উন্মাদ। আপনার জন্মদিনে আপনার সৃষ্টি আপনার পৌত্তলিকতার কাছে হার মেনেছে। আপনি যতই দাবি করুন না কেন "মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক আমি তোমাদেরই লোক। " আমরা সযত্নে আপনাকে দামি, সুদৃশ্য, অ্যান্টিক শো পিসের মত সাজিয়ে গুজিয়ে আপনাকে দেবত্ব প্রদান করেছি। আপনার পুজোর বাহ্যিক আড়ম্বরে মৃত আপনার সৃষ্টি, আপনার মূল্যবোধ, আপনার অন্তরাত্মা। আর সেই ঠাকুর আপনির নৈবেদ্যর তলায় অবিশ্বাসের পচন, স্বার্থপরতার দুর্গন্ধ, হানাহানির শঙ্কা, আর ধর্মীয় মোহের অন্ধতা। আর ওপরে জেগে থাকে বাটিকের শৌখিন পাঞ্জাবি শাড়ি , বিদেশী পারফিউম আর রজনীগন্ধার বাহার।
সত্যি বলছি, একশো ভাগ খাঁটি, খুব রাগ হয়। আপনার অসহায়তা দেখে! আপনার ছবির বুক ঢেকে যাচ্ছে ফুলে, মালায়। অন্তরের নৈবেদ্য নেই, নেই আপনার কাজের চর্চা, আছে শুধু চোখ জ্বালা করা ধুপের ধোঁয়া, দীপের আলোর ধাপ্পাবাজি। কাগজে, পাথরে, কাপড়ে, সিল্কে, সুতিতে, টেরাকোটায়, তামায়, পিতলে, ব্রোঞ্জে, ফাইবার গ্লাসে আপনার মূর্তি বানানো। "প্রাণের ঠাকুর", "আলোর দিশারী", "জীবন কাণ্ডারী" নানান বিশেষণে আজ আপনি সবিশেষ। কিন্তু সত্যিটা ভাঙা রেকর্ডের মতই দূরে কোথাও একলা অবহেলায় বাজছে- "তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না করে শুধু মিছে কোলাহল, সুধা সাগরের তীরেতে বসিয়া পান করে শুধু হলাহল।" আপনি বাঙালির এস্ট্যাবলিশমেন্ট শট, গোটা জাতটার ব্র্যান্ড এম্বাসাডার, আইকনিক ফিগার। কিন্তু আপনার পর আপনাকে, আপনার চেতনার পথকে অনুসরণ করতে আমরা কী করেছি? বৎসরান্তে দুর্গাপুজোর মত পাড়ায় পাড়ায় মাচা ঠুকে ২৫শে বৈশাখ পালন, দু এক পিস সিডি রেকর্ড করা, ইউটিউব সিংগলস্ করা, বিজ্ঞাপনে আপনাার সৃষ্টির বিকৃতি করা, বিদগ্ধ মানুষজনের বৈবাহিক ডিভিডিতে আপনার গান এডিট করে লাগিয়ে দেওয়া।এই ভাবেই বাঙালি চর্বিত চর্বণ করছে ,করে চলেছে আপনাকে। আর মাল্টিপ্লেক্সের সিনেমার শুরুতে আপনার গানের ভ্যাঙানি ভার্সন - "জ্যান জ্ঞান ম্যান ইয়াধি ন্যাঈয়াক জ্যায় হে। হে হে রাভিন্দরনাথ!!বোধহয় এভাবে শুনতে ভাল লাগছে না, জানি কিন্তু কী করব বলুন! সত্য তো ভালতেও সত্য, মন্দতেও সত্য। আর ভাল লাগছে না বলেই লিখছি। আনুষ্ঠানিক উপাচারের বাইরে আজ কোথায় আপনি?  আমাদের দৈনন্দিন জীবন চর্চা, আমাদের দৈনন্দিন বিনোদন, আমাদের সৃষ্টি, কৃষ্টি, সংস্কৃতি আজ আপনাকে ছাড়াই সাবলম্বী। টেলিভিশন এর ভীষণ ভাষণ বা আধাখেঁচড়া বাংলা শুনে বড় হচ্ছে যে প্রজন্ম তাদের কথা তো বাদই দিন। যাদের হাতে টেলিভিশনাচারের গুরু দায়িত্ব তাদের আলমারিতে আপনি থাকলেও মননে - ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই । কিংবা সংবাদ পত্রে যাঁরা উদ্বেগ জনক খবরকে গুরুত্ব দেন যাঁরা, ধর্ষকাম কে ধিক্কার দিয়ে মনের মত বন্ধু বান্ধবী বা মাসাজ পার্লারের বিজ্ঞাপন আবার তাঁরাই ছাপেন। তাঁরাই আবার প্রান্তিকে বাড়ি করেন আপনার ছত্রছায়ায় থাকবেন বলে। আপনার নামে ট্রেন, বাস, হোটেল, ট্যুরিজম কোম্পানি, চায়ের দোকান, মনিহারী, চাউমিন ব্রান্ড। ঠাকুর, কিতনে আদমি হ্যায়!!! ও ঠাকুর হাট হাট। হাট বসেছে। আর সেই হাটে একমাত্র পণ্য আপনি। বিশ্বে বাংলার ব্রান্ড ভ্যালু আপনি। বাংলার ইউ এস পি, আপনি। অথচ আজ ভয়ঙ্কর ভাবে অনুপস্থিত আপনার অস্তিত্ত্ব। এ পোড়া জাতটাকে একবার বেঁচে উঠতে বলুন আপনার অন্তরাত্মাকে অনুসরণ করে। পৌত্তলিকতা , আপনার ভজনা আপনাকে আক্ষরিক অর্থে ঠাকুর বানিয়ে ফেলা বোবা বাঙালিকে বোকা বাঙালির বোধোদয় এর প্রার্থনা করুন আপনিও, রবীন্দ্রনাথ।
ছবি : ইন্টারনেট 

পরিশেষে আর একটি সোশাল সাইটে বহুল প্রচারিত ছড়া দিলাম ছড়িয়ে।

তোমার নামে সদন যেথায়,
সেথায় আমরা প্রেম করি ;
তিনটে স্টেশন তোমার নামে,
রোজ সকালে ট্রেfন ধরি !
ভর দুপুরে ট্রাফিক জ্যামে
রোদ্দুরেতে কাঠ ফাটে,
লাউড- স্পিকারে তোমারি গান –
“পায়ের চিহ্ন এই বাটে”
আজকে তোমার হচ্ছে পুজো
ঝাড়ছি ধুলো, জ্বালছি ধূপ
বেবিডল আজ কৃষ্ণকলি
তোমার ফটোয় ফুলের স্তূপ।
কাল-ই কিন্তু স্টোর রুমেতে তে
পাঠিয়ে দেব তোমায় ঠিক,
প্রাণ জুড়োবে গান শুনিয়ে
রেডিও মির্চি রাবীন্দ্রিক !
আজকে তোমার মুর্তি ধুয়ে
করছি আমরা পরিপাটি
কাল থেকে ফের তোমার মাথায়
কাক পক্ষী করবে পটি....
আমরা পড়ব ব্যস্ত হয়ে,
আই পি এল এই সব দিনই
দাড়িবুড়ো তোমার জন্যে
বরাদ্দ বস একদিন-ই.....
ফ্যান তো হেথায় ভালোই জোটায়
অরিজিত আর হানি সিং
তোমার ফ্যানের কাউন্ট জানো?
ছদ্মবেশী ভানুসিং?
তোমার নামে পেজ রয়েছে
ফেসবুকে আজ খান শয়েক....
স্বর্গ থেকেই লাইক ঠুকে দাও
পেজ গুলোতে খান কয়েক ....
দেখবে কেমন ভরে যাবে
তোমার এফ বি নিউজ ফিড...
দেড়শ বছর পরেও তুমি
ইকুয়ালি সুপারহিট .....
আধুনিকের সংগা তুমি
তুমি গুরু তুলনাহীন
তুমি বিনা আমরা যেন
ফুচকাটা টক জল বিহীন ....
আগামী মাস টা বিয়ের সিজিন
ব্যাস্ত থাকবো প্রায় দিনই
কবিগুরু তোমার জন্য
বরাদ্দ বস এক দিনই.....

অসম্ভব একটা খারাপ লাগা থেকে উৎপন্ন হওয়া হতাশা থেকে এই লেখাটা লিখলাম। কারো খারাপ লাগলে হয় পাগলের প্রলাপ বলে ভুলে যাবেন। নয়ত নিজ গুনে ক্ষমা করবেন। 


Monday, May 7, 2018

Pradip Sur : Philosopher, Artist and Artisan







My chance to encounter with Pradip Sur was created by my current assignment. I am working in a documentary on a group of 17 prolific painters, sculptors, print maker and photographers. The shooting is taking place in Chandannagar, the former French enclave in West Bengal, His friendly behavior and jovial attitude made me feel at home and soon earned him the epithet of Da (a Bengali honorific denoting elder brother). Pradip Sir became Pradip da for all of us.

With his silvery white hair and beard, Khadi Kurta and flat cap, Pradip Sur resembles the quintessential Bengali intellectual. Not only does he live up to that image but he is also a humble  and down to earth man. So it’s hard to believe that the same person sculpted the logo of NANDAN, the Film and cultural hub of Bengal that was designed by Satyajit Ray.

Apparently the great Ray after he had designed the iconic NANDAN logo was looking for a sculptor to create the huge logo in steel. The chief engineer of the project was looking for young artists who could execute the same. The young troika of Bikas Mukherjee, Mohi Paul and Pradip Sur stepped forward. Then they had formed a new company called “United Designers”. Sur suggested that the sculpture be made from fiber glass material. The Chief engineer was too wary of Ray’s persona to make the suggestion himself. He setup a meeting between Sur and Ray. In the meeting Ray patiently listened to the young Sur and suggested Sur to return with a 1 feet diameter fiber glass replica of the logo. Sur came back within one week with a perfectly crafted fiber glass replica. Ray approved with some minimal correction and the rest is history. The 10 feet diameter NANDAN logo could still be seen on the facade of Kolkata’s premier Art and culture hub.

Sur in his young age was very much moved by Auguste Rodin’s sculpture after watching an exhibition of the famous French sculptor. He was inspired by the philosophy of Rodin’s work.


For him Rodin held out an important lesson. Namely the distinction between commercial and fine art, the distinction between artist and artisan is artificial. Sur noticed that all of the displayed works of Rodin were executed against “orders” but that never detracted from their artistic value.The great sculptor had left his Midas touch in all of his works which are now considered timeless. The fact that all of his work was delivered as commercial projects doesn’t come in way of their appreciation. ‘I think this is a fundamental learning for all of us who are engaged in the field of visual arts and sometimes feel snobbish about popular art works.” says Sur. 

What a vision! I think this should be the guideline for all who are engaged in the trade of serious visual art form. Now a days Mukherjee, Paul and Sur have all aged gracefully. With their silver mane and wizardry with their fingers they would not feel out of place as philosophers or as Gandalf in Lord Of The Rings. Sur still frequents the NANDAN precincts. Does he feel pangs of nostalgia? Or is it just another stepping stone in the artist’s journey? Sur demurs with his trademark gentle smile. “The only thing that’s important to me whether I am able to respect my own work.”



About Pradip Sur: Sculptor Pradip Sur is the founder member of an artist guild of West Bengal named ‘CONTRIVANCE’-established in the year of 1979. Abundant Art Gallery has arranged an exhibition from 10th of this month in the Le Dame Art Gallery of London, where Sur and his other teammates’ art works will be exhibited. We are engaged in making promos for this very exhibition. 


Follow me in twitter , facebook and youtube


Saturday, March 10, 2018

টান টান, টাই টান, বা টাকাপয়সার টানাটানি, সবই আসলে টাটা

মুম্বাকা শহর একটা ওয়াইড শট। ক্রেন মুভমেন্ট শুরু। কাট টু একটা ট্যাক্সির ভিতর। চেনা ক্যাটরিনা, পরিচিত তোতলা রণবীর।             ক্যাট --- হোটেল        আগাপাশতলা
                                           ট্যাক্সি চালক --- হুইচ আগাপাশতলা ?
                                                       ক্যাট --- কিতনি আগাপাশতলা ?
                                           ট্যাক্সি চালক --- ১০০ টোটাল ইন মুম্বাকা নেশন
                                                    রণবীর --- নো নো ৯৮
                                                       ক্যাট --- আই হোপ হি ইস জোকিং রাইট !
                                                     রণবীর --- জেইসে বিকানির কি গলি গলি মে হ্যায় বিকানিরী ভুজিয়াওয়ালা ওই সে মুম্বাকা কে হর এক মোড় পে হ্যায়                                 হোটেল আগাপাশতলা
আগাপাশতলা ভিরমি খাওয়ার জোগাড় অভিনেত্রী সহ গোটা হলের দর্শকদের। আসলে বাঙলার থেকে দূরে বড় হলেও বাঙলার থেকে ভৌগোলিক দূরত্বে কাজকর্ম করলেও পরিচালক অনুরাগ বসুর বাঙালিয়ানা মজ্জায় মজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকায়। অনুরাগ এর প্রতিটি কাজ এ ( মানে সিনেমায়) হয় পরিষ্কার নয়তো প্রচ্ছন্ন ভাবে থেকে যায় বাঙালিয়ানা। হোটেল আগাপাশতলা , টিকটিকি স্টেশন, শুন্ডি আসলে সেই গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজোর ই প্রয়াস। ছবি তে ছুটে আসে ছেলে বেলার সবুজ ট্রেন যার বাদামি ধোঁয়ার পিছনে হারিয়ে যাই সাদা বেগুনি বগি গুলো।
মনে হয় আমাদেরও অমন একটা শৈশব ছিল যখন দিনগুলো সহজেই, কত সহজেই রঙিন হত। একটা হাঁসের ডিমের কুসুম রঙা সূর্য ছিল। একটা শীতের কমলালেবুর মতো বিকেল ছিল। একটা চার ছক্কা বাউন্ডারিতে সুনীল ছিল। একটা স্ট্যাম্প ওড়ানো বোলিং এ কোথাও কপিল ছিল। সাদা কালো টিভির মাঝে নুক্কড় আর বুনিয়াদে ভরসা ছিল। পাওয়ার কাটের লোডশেডিং এ গা ছমছমে একানড়ের কানে চড়া গল্প ছিল। শৈশবের মজাই হল লো অ্যাঙ্গেল শট এ দুনিয়া দেখার মজা। সবকিছুই বড় লাগে। বিশাল লাগে। দারুন লাগে। সহজেই রোমাঞ্চ জাগে। তাইতো শিশু বালক ছাগল ছানার মত অবিরাম ছটফটে। বালিকা প্রজাপতির মত রঙিন পাখনায় উড্ডীন। অদেখা টিম্বাকটু বা ঝুমরিতালাইয়া র খোঁজে সর্বদা Busy Without Business.

যা বলছিলাম তার থেকে ভেসে দূরে চলে এলাম। বোধহয় বয়স এর দোষ। কথাহীনতায় রোজনামচা , কথাহীনতাই অভ্যেস হতে হতে কথা বলতে গেলেই নীরবতার অন্ধকারে জোনাকির মত ছুটে আসে কথারা। ছোটবেলায় মানুষ শব্দ শেখে। শব্দ খোঁজেও। অজানা শব্দ পেলে মানে জানতে চায়। কিছু মানে পায় কিছু পায় না। উত্তর পায় "বড় হও সব জানবে "
সত্যি কি জানা যায় ? পাওয়া যায় শব্দার্থ। সেই কোন আলো আঁধারির স্মৃতির সময় থেকে বিদায় অভিবাদন জানিয়ে এসেছি। টাটা। কতবার। কতজনকে টাটা বলেছি। টাটা করেছি। টাটা আসলে কী? সিনেমার জগ্গা জাসুস তো তাও শতেক হোটেল আগাপাশতলার মধ্যে আসল হোটেল আগাপাশতলা খুঁজে পেল কিন্তু আমার বেলা ? ক্যা হ্যায় ইয়ে টাটা কা মসলা ? ইংরেজি হাই ৫ এ টাটার মজা নেই আছে উদ্দামতা। টাটা করার মধ্যে বিষাদ বিষাদ মুখমন্ডলে মেঘ মেঘ চোখে অশ্রু মাখা হাসি নিয়ে প্রতীক্ষা আছে। আছে যেতে নাহি দিব র টান। আর সেই অদৃশ্য আকর্ষণেই বোধহয় ফিরিয়ে আনে প্রিয় মানুষ টিকে। ফিরিয়ে আনে ফিসপ্লেট খোলা রেলপথ বাঁচিয়ে , ব্রেকফেল রাজপথ এড়িয়ে , দুর্যোগের জলপথ মাড়িয়ে। ফিরিয়ে আনে এটিসি হারানো বৈমানিক কে , দিকভ্রষ্ট নাবিককে , জীবন যুদ্ধে মার খাওয়া সাধারণ আটপৌরে নাগরিককে।
সিধু গুগুল জ্যাঠার কাছেও টাটার মানে গুডবাই। শুধুই কি একটা ইন্টারজেকশন বা ধন্বাত্মক অব্যয়?
দাশরথী থাকিলে বলিতেন, "জন্ম যদি তব বঙ্গে তিষ্ঠ ক্ষণকাল! পাগল না হাফপ্যান্ট? বাঙলায় বাস করে টাটা কে অব্যয় বলছ? ওনলি স্কাই ইজ দ্য লিমিট ফর টাটা। মানে কিন্তু শুধু টাটা স্কাই না। ওরে সিঙ্গুরে সিঁদুরে মেঘ দেখোনি বাপু! টাটা অনুঘটক ছাড়া অমন রাজনৈতিক বিক্রিয়া সম্ভব! বিক্রিয়ার আগের লাল রঙের বাঙলার মাটি দুর্জয় কখন রঙ বদলে সবুজ হয়ে মা আর মানুষের হাত ধরে নিল। টাটা ঝামেলা বুঝে মুখ গুঁজল গুজরাতে। বিক্রিয়ায় অবিক্রিত টাটা অতএব টাটা অনুঘটক। " ওরে দাশু ওটা অবিক্রিত নয় অবিকৃত। দাশু বলত," যাহাই সর্বাধিক বিকৃত তাহাই সর্বাধিক বিক্রিত। আনন্দে বাজারে ঘোরো কাগজটাগজ দেখোনি? চলি আমার এখন টাটা চলছে।" টাটা চলছে? মানে? " আরে টা টা, টাকাপয়সার টানাটানি"।
তবে সে যাই হোক হজবরল বুলন্দ ভারতে টাটা কিন্তু এক উজ্জ্বল উচ্ছল ছবি। মণিবন্ধে শুধু সময়ের তালে তাল রাখাই নয় সে যেন অহঙ্কার, আঙুলে হীরক ছটার চোখ ধাঁধানো দ্যূতিতে এক উপাখ্যান। সর জমীন এ আসমান তার ব্যাপ্তি। কৃষিপণ্য, সার, পণ্য পরিবহন, অটোমোবাইল, মোবাইল ফোন ও পরিষেবা, ওষুধপথ্য, হোটেল হাসপাতাল, ইমারতি দ্রব্য থেকে এরোস্পেস রিসার্চ, মিডিয়া, মার্কেটিং, তথ্য প্রযুক্তি সব ক্ষেত্রে টাটার জয়জয়কার। খাবারে স্বাদের চাবিকাঠি নুন তাও টাটা সাম্রাজ্যের অবদান। সকালের চা দিয়ে আমাদের টাটারোজনামচা শুরু।
যত ট্রাক রাস্তায় চলে বেশিরভাগই টাটা। ট্রাক বলতেই পঞ্জাবি ড্রাইভার আর আসি টাটা আবার দেখা হবে, বা Ok TATA Fir Milenge, কখনও O TATA K কখনও আবার রাত্রে ডায়পার ব্যবহার করতে বললেও ধাবমান বাণীতে টাটার বানান ঠিক। Use Diper at Night OK TATA যেন জীবন নদীর সাঁতার কাটা ক্লান্ত এক পথিক বা প্রেমিককে আশ্বাস দিয়ে কালো পিচে চাকায় রুটির গন্ধ নিয়ে ছুটে চলেছে সে চালক, অন্ধকার রাতে। আলো ফুটলেই আসবে গন্তব্য , তারপর ঘর। তার আগে হাতে সময় কই! আসি ভাই টাটা।
এটা নাকি বলা হয় মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে জীবনের ঝাঁকি দর্শন করে মানুষ। পথ দুর্ঘটনায় ট্রাক চাপা পড়ে যার নটে গাছ মুড়োল তার কাছে আসি TATA তো পুনর্জন্মের প্রলোভন। তার ঝাঁকি দর্শনে তো ফিরবেই ফড়িং, বটের চারা, বুনো শালিক, নিদেনপক্ষে একটা খুচরো নগন্য চড়াই, পিঁপড়ে বা শ্যওলা। যে কোন রূপে আবার মৃত্যুর আগল ভেঙে ফিরে আসতে চাই। তাইতো যাই। টাটা তো আসলে যাওয়া নয় ফেরার প্রতিশ্রুতি  অঙ্গীকার।
শোনা যায় একবার কোন এক ইওরোপীয় হোটেলে ঢুকতে বাধা পান এক ভারতীয়। সেই হোটেলের দোরগোড়ায় ছিল এক বিজ্ঞপ্তি Dogs and Indians are not allowed inside সেই পরাধীন ভারতীয়  মনস্থ করেন এক প্রাসাদোপম হোটেল বানিয়ে উপহার দেবেন দেশের মাটিতে দেশীয় মানুষজনকে। তিনি আর কেউ নন জামসেটজি নাসেরওয়ানজি টাটা। প্রত্যয়ী প্রতিভাবানেরা বোধহয় এমন ই হন। কোন বিরোধ, ঈর্ষা, কলহের পাঁক তাদের স্পর্শ করতে পারেনা। তাঁরা নিজেদের লক্ষ্যে স্থির, অবিচল।
 গুজরাতের এক জরাথ্রুষ্টিয় পুজারি পরিবারে জন্মগ্রহণ করে ভারতের উজ্জ্বল অঁত্রপনিয়ে হয়ে ওঠা তাঁর জীবন ভারতীয় ইতিহাসে এক মহীরূহের মত। সাকচির আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের যাঁর ছোঁয়াতে টিসকো হয়ে ওঠা তাঁর নিজের নাম একটা নামের গণ্ডি ছাড়িয়ে একটা ব্রান্ড একটা কালচার হয়ে ওঠা কোন রূপকথার চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়। সেই মানুষ বটগাছটির ১৭৯তম জন্মদিন সদ্য পেরোল। যদিও টাটা শব্দের অর্থ বিদায় বোধক কিন্তু আমাদের কাছে তার অর্থ আরও ব্যাপক আরও গভীর। যাকে ভেঙে খান খান করার ক্ষমতা কোন ২৬/১১র নেই।
আজকের মত টাটা।



Thursday, March 1, 2018

দোলের নেশা । হোলির মাদকতা

 এগুলো গতকাল কলকাতার বড়বাজার এলাকার ছবি। দোলের আগের দিন , আকাশে বাতাসে নেশা নেশা ভাব। তা তো হবেই। আমি আর আমার স্ত্রী আমরা যে কোনো উৎসব এর সময় ক্যামেরা নিয়ে গন্তব্য হীন ভাবে বেরিয়ে পড়ি।  তেমনই গতকাল এর এই ট্রিপ। চারদিকে আবির গুলাল রং এর মাঝে এই দৃশ্য আমার চোখ টানছিলো।

হাহাকার এর এমন কোলাজ দেখিনি। গুঁতোগুঁতি করে, ধাক্কা মেরে এতো লোকজন কিসের জন্যে হন্যে ?
দূর থেকে দেখে অন্য দিকে এগোলাম।
ফুটপাথে সারসার দোকান। অবাঙালি পরিবার এর বাবা মা সন্তান রা  রাস্তার ওপর অস্থায়ী দোকান নিয়ে বসেছে। গুলাল এর গন্ধে ম ম করছে গোটা চত্ত্বর।



একসময় লিখেছিলাম

"পিচকিরিতে প্রাণ ঢেলেছি
এগিয়ে এলো দোল
রাই কিশোরী ও জানেমন
বিনোদবেনি  খোল"                     
                                                             চতুর্দিকে রঙের রায়ট। হাজারো চোখধাঁধানো রং এর পিচকিরি। বাজারের থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি হচ্ছে সব কিছু। অনেক রকমের পিচকিরি।  কোনটা চিরাচরিত  পিস্টন, কোনটা আধুনিক প্লাষ্টিক এর। এই যেমন এই দোকানটার দুইতলা জোড়া শোকেসে সাজানো রয়েছে শুধুই পিচকিরি।















অনেক রং। কোনটা বাঁদুরে কোনটা ভেষজ। কোনটা লাল কোনটা বেগুনি , কোনটা সবুজ কোনটা নীল। রঙের স্থায়ীত্ব অনুযায়ী দাম।

 পাইকারি ছাড়াও রয়েছে খুচরো ব্যবসায়ী রা। রং কেনার আগে টেস্ট করে নেওয়ার সুযোগ দিতে দিতে ওদের দোল শুরু হয়েছে সাততাড়াতাড়ি। রং থেকে বাঁচার জন্য রয়েছে ডিজাইনার টুপি স্কাল, চুল। রয়েছে মুখোশ বা মাস্কও।
 
রঙ খেলার এতো আয়োজনের মধ্যে প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো ওই প্রথম ছবিটার। ওটা কিসের দোকান ? কোলাহল কলরব এর মাঝে একটা ঘোর কাজ করছিলো। ক্যানিং স্ট্রিট আর তার আশেপাশে মহাত্মা গান্ধী রোডের গলিগুলোতে এই দু এক দিন অন্য সব ব্যবসা মোটামুটি বন্ধ। সব ই রঙের দখলে।






এতকিছুর মাঝেও আবার সেই দৃশ্যটা মনে পড়ে গেল ওই দোকান তা কিসের। ছবি বলছিল চেনা সুরাগৃহ কি ওটা ? মগজ বলছিলো মনে হয় না। মনমাথার দ্বিধা দ্বন্দ্ব নিয়ে ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেলাম। 

বড়বাজারের অতি পরিচিত প্রতাপমল গোবিন্দরাম গুলাল স্টোর।  ১৯০০ সালে স্থাপিত। শতবর্ষ প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায় ভেষজ গুলাল। যে গুলালের বিশেষত্ত্বের জন্য দাম ও বাজারে চলতি গুলালের চেয়ে অনেকটাই বেশি। কতটা বেশি ?
গোলাপি গুলাল / আবির      ২০ গ্রাম  - ৬০   টাকা 
                                             ৫০ গ্রাম  - ১৩০ টাকা 
                                           ১০০ গ্রাম  - ২৩০ টাকা 

অন্য রঙের গুলাল / আবির   ২০ গ্রাম - ৫০   টাকা 
                                               ৫০ গ্রাম - ১০০ টাকা 
                                             ১০০ গ্রাম - ১৫০ টাকা 

এত দাম তারপরেও এত চাহিদা সুতরাং আবিরের গুণমানের সম্বন্ধে ধারণা স্পষ্ট হল। সত্যি শুধুমাত্র মাদক এর নেশাই যে প্রকৃত নেশা নয় ! কেউ যেমন রাবড়ির নেশা করতে পছন্দ করেন তেমনই অনেকেই আবার আবির গুলাল এর নেশা করতেও পছন্দ করেন। আর এই নেশার জন্য অপেক্ষা পুরো একটা বছরের। 

সকলকে রঙিন শুভেচ্ছা। দোল হোলি ভাল কাটুক। Wrong নয় রঙ On হোক সব্বার জীবনে। 



Monday, February 19, 2018

নাথিং অ-ফিসিয়াল...




আমার এক পিসি ছিলেন। খুব ছোট বয়সে তাঁর বিয়ে হয় এক বিপত্নীকের সাথে। বিয়ের অল্প দিনের মধ্যে সামান্য ব্যবধানে হতে থাকে বাচ্ছাকাচ্ছা। তিন সন্তানের জননী বালিকা পিসি তাঁর পরিণত বয়সে আসার আগেই স্বামী হারা হন। অল্প বয়সে বিধবা নিজের জীবনের সব জৌলুস বিসর্জন দিয়ে সাদা থানের পরিধিতে সন্তানদের মানুষ করতে থাকেন। আমার স্মৃতিতে পিসির প্রথম মোলাকাত যখন  তখন তিনি প্রায় ৫০ ছুঁই ছুঁই। আমি বড় হতে লাগলাম পিসি বৃদ্ধা হতে লাগলেন। আমরা ভাইবোনরা কোন এক অদৃশ্য পারিবারিক বর্ণ বিপর্যয়ের উত্তারিধাকারে পিসিকে 'আপি' সম্বোধনে ডাকতাম। আপির যত বয়স বাড়তে লাগলো তাঁর হাঁটা চলা কথাবলা সব কিছুর মধ্যে অনাবিল এক হাস্যরস সঞ্চার হত আমাদের মনে। স্বল্প শিক্ষিতা, আবেগ সর্বস্ব, জীবনের ঘোরপ্যাঁচ না জানা, পূর্ণিমা অমাবস্যার ঘোরতর পালনে, এঁটো সকড়ি ক্লিষ্ট মমতাময়ী আপি যেন ছিলেন সবার পারিবারিক ক্রেস, উপোসের বাইবেল আর আমাদের কাছে ভুল শব্দের ডিকশনারী। যেমন ধরো বেসিন, আপি বলবেন ডেসিন। আবার তর্ক করবেন "তোরা হাসছিস ? তবে কী ওটা মেশিন না কী বেসিন"
এরকমই  চলত। অনেক শব্দ ভুলভাল রূপে হাজির হতো আমাদের শৈশবে। হিসি করতে যাওয়া আপির ডিকশনারী তে হয়ে যেত "ফাঁকে" যাওয়া। আমাদের চাপা হাসির রোল থামতো না।
যেমন মাছের আঁশ থাকে কিন্তু আপির ডিকশনারীতে মাংস ,ডিম , পেঁয়াজ ,রসুন সব্বার আঁশ ছিল।
আসলে বাঙালি বোধহয় এমনই। পাকস্থলীকে মাছ দিয়ে ভরিয়ে রাখে। শাক দিয়ে ঢেকে রাখে স্মৃতিজাল তবু সে স্মৃতির লতাপাতা ঠেলে প্রাণপণ বেরিয়ে আসে রুপোলি মেছো মন।

এই যেমন এখন আমার লতাপাতা চাপা স্মৃতিতে ভিড় করে আসছে ছেলেবেলার মফঃস্বল রেল শহরের ছোট মাছ বাজার। মাটিতে গোল করে বড় জোর ১০ কী ১৫ জন মাছ বিক্রেতা। বাবা ডিউটি তে গিয়ে প্রায়ই ২দিন কী ৩ দিন পর ফিরতেন। সাইকেল নিয়ে হাফ প্যান্ট আমি হাজির হতাম পালান কাকু ,লক্ষী পিসি বা বাতাসী পিসির সামনে মনমত মাছ বেছে ওজন করে নিলেই কাজ মিটে যেত। দর দাম মেটানোর পর্ব হত বাবা বাজার যাওয়ার দিনে। সে সব দিন এখন শীর্ষেন্দু র উপন্যাস এর মতোই অলীক।

এমনই অলীক কয়েকটা দিন কেটেছিল শ্রীনগরে। একটা জনপ্রিয় ভ্রমণ শো তে তখন কাজ করি। অমরনাথ যাত্রা শ্যুট করে লাদাখ যাব। ইন্টারলাইন পারমিট শুটিং এর অনুমতি আর পর্যটন দপ্তরের কিছু টুকটাক কাজ বাকি। অতএব প্রায় সপ্তাহ খানেক থাকতে হবে শ্রীনগরে। সকালে অফিসিয়াল কাজ সেরে গোটা দিন নিরবিচ্ছিন্ন বিশ্রাম। কাশ্মীর কি কলি র ডাল যতই মোহময়ী হোক না কেন আমার কাছে তখন ভাসমান হাউজ বোটের নিঃসঙ্গতা নিরস দিন বিরস করে দিচ্ছিল। হাউজ বোটের এক কেয়ারটেকার একটা ছিপ হাতে ধরিয়ে পরামর্শ দিলেন মাছ ধরার । লেগে পড়লাম। সারা দুপুর চার আর ছিপ সম্বল করে ভাগ্য অন্বেষণ। প্রথম প্রথম কিছুই এল না। ঝাঁঝি, পানা, পাতাকে মাছ ভাবলাম। তারপর ফাতনা নড়ল ছিপে টান লাগল ছোট ছোট মাছ আসতে লাগল। সামনে শালিমার বাগ নিসাদবাগ, চারচিনার।  ডাল লেকের পটভূমিতে উড়ে যাচ্ছে কত মাছরাঙা,  ভেসে যাচ্ছে রঙিন শিকার। শিকারীর চোখ নিয়ে একা আমি সে সব দৃশ্যকল্প থেকে দূরে একা ধনঞ্জয়ের মত মাছের ধ্যান।
পদ্মার ইলিশ ডিলিশিয়াস শুনেছিলাম। প্রথম চোখে এবং চেখে দেখলাম চিটাগাং ক্লাবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটবোর্ড বিদেশী সাংবাদিকদের অভ্যর্থনায় একটা পার্টি থ্রো করেছিল ভারত বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা ট্রাইনেশন কাপের সময় ২০১১ সালে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শচীন তেন্ডুলকরের টেস্ট সেঞ্চুরি দেখা, ৫ ফুটের ভিতর দাঁড়িয়ে মাস্টারব্লাস্টারের নেটে নকিং দেখা যদি লাইফটাইম এক্সপিরিয়েন্স হয় তাহলে ওরিজিনাল পদ্মার ইলিশ খাওয়া আর একটা লাইফটাইম এক্সপিরিয়েন্স এর সমাপতন। সে ইলিশ ভাজা আর বিরিয়ানির স্বাদ শব্দে বর্ণনার অতীত।
ইলিশ নিয়ে বিস্তর আদিখ্যেতায় যে সব মোহনবাগানী এতক্ষণে ভ্রু কোঁচকাচ্ছেন তাঁদের জন্য এবার একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। সালটা ২০০৬ সুন্দরবনের ডাকাতদের নিয়ে একটা তথ্যচিত্র র শ্যুটিং করছি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনবিভাগের সহযোগিতা য় শ্যুট চলছিল খাঁড়ি আর জঙ্গলের গভীরে। সাথে সাথে বিশাল ম্যানগ্রোভ অরণ্যের মাঝে মাঝে জেগে থাকা জনজীবনের হালহকিকত দেখছিলাম আমরা। সুধন্যখালির পথে যেতে এরকমই এক গ্রামে খেয়েছিলাম এ গ্রেড কাঁকড়া আর দারুণ চিংড়ি। সুন্দরবন এ আধা নোনা জলের চিংড়ির স্বাদ ভেড়ির চিংড়ির থেকে অনেকটাই আলাদা। আকারে বড় বিশেষ নয় কিন্তু স্বাদে অতুলনীয়।  গোয়ার সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন স্যাকে অবশ্য ওজনে বড় চিংড়ি বা 'লবস্টার' পাওয়া যায়। খাওয়ার আগে সেগুলোর ছবি তুলে হাঁটু জলে পা ডুবিয়ে নৈশাহারে চরম তৃপ্তি, পরম সুখ।

আর আমাদের  তাজপুর, মন্দারমণি, শঙ্করপুর বা দীঘা তো মেছো বাঙালির অভয়ারণ্য। যাঁরা এই অঞ্চলে  গেছেন পারলে একবার শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর বা দীঘা মোহনার মাছ বাজার ঘুরে আসতে পারেন। তাজা সামুদ্রিক মাছের এত ভাল বাজার সকাল সকাল ফুরফুরে করে দেবে প্রাণমন।  যেমন পারেন বর্ষাকালে  শিয়ালদহ থেকে ডায়মন্ড হারবার লোকালে চেপে বসতে। ইলিশের মরসুমে স্টেশন থেকে ভ্যান রিকশা  নিয়ে যান মাছের আডৎ। দেখবেন সার সার ট্রলার থেকে কুইন্টাল কুইন্টাল ইলিশ এসে স্তুপাকারে জমা হচ্ছে। বিশাল বিশাল দাঁড়ি পাল্লায় বেলচা করে তোলা হচ্ছে সাধের ইলিশ । আমার ভেতো বাঙালি মনে কালচারাল শক লেগেছিল । বেলচা বাহিত ইলিশের করুন দৃশ্যকল্প অতি বড় মোহনবাগানী ও সইতে পারবেন না। নিলামের দরদাম হাঁকডাক, কলরব, কোলাহল কাটিয়ে বাড়ি ফেরার পরও নাকে ভাসবে ইলিশের মোহময় সুগন্ধ।

মাছের গন্ধে গদগদ বাঙালি। কিন্তু সেই গন্ধই কখনও কখনও প্রাণ ঘাতিকা হয়ে যায়। না আমি শুঁটকির মৎস্যগন্ধা থেকে সুস্বাদু যোজনগন্ধা হয়ে ওঠার গল্প বলছি না। আমি ফিস সসের কথা বলছি। সময়টা ২০১১ সালের দুর্গাপুজোর সময়। ভিয়েতনাম যাচ্ছি ১০-১২ ঘন্টার বিমান যাত্রা আর তারপর ঘন্টা তিনেক গাড়িতে আসার পর রাত ২টো নাগাদ হোটেল পৌঁছলাম। খিদেয় পেট চুঁইচুঁই। রুম সার্ভিস শেষ অর্ডার দিয়ে গেল, নুডুলস । টেবলে সল্ট, পেপার, চিলি, টোমাটো সসের সাথে ছোট্ট কাচের বোতলে ফিস সস। আমার সহকর্মী সাংবাদিক খিদের চোটে সব সসের সাথে ফিস সসও ঢেলে নিল নুডুলস এ। প্রথম গ্রাস মুখে তোলার পর তার মুখের মানচিত্র গেল বদলে। দ্বিতীয় গ্রাস মুখে উঠতেই তার গা গুলিয়ে বমি উঠে এল। তারপর সারা ভিয়েতনাম সফর মুর্তিমান ত্রাসের মত হয়ে রইল ফিস সস। দু দেশের কত মিল মাছে ভাতে মিল, জাতীয় ফুলের পদ্মে মিল, ফুটবল প্রেমে মিল। শুধু ফিস সসের দুশমনীর জন্যই "তোমার নাম আমার নাম ভিয়েতনাম" হল না।

পূর্বের থেকে পশ্চিমে গেলেও আমার সঙ্গে আঁশের মত এঁটে রইল মাছ। ডেনমার্কের হিরৎস্যালস বন্দরের কাছেই পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম সামুদ্রিক মাছের অ্যাকোরিয়াম। আর তার পরের স্টেশনেই অগুনতি ফিস ক্যাফে আর ফিস বুটিক। ঢুঁ মারতেই ট্রাউট, টুনা, সার্কের অসাধারণ সব ডিশ আর তার সাথে প্রণ, লোবস্টার। ফিলে করা কাঁচা মাছের হিমশীতল শোকেস রয়েছে তারপাশেই। একটু এগিয়ে গেলেই সার সার বিলাস বহুল ইয়াচ তাদের সেরা গেমের ছবি সাজিয়ে নোঙর ফেলে দাঁড়িয়ে অ্যাঙ্গলিং টুরিস্ট দের অপেক্ষায়। পকেটের কিছু ক্রোণ খরচ করলেই নর্ন সি বা আটলান্টিকের গভীরে নিয়ে গিয়ে মাছ ধরা দেখিয়ে সেই মাছ সহযোগে ভরপেট পেটপুজো করিয়ে তীরে ফেরত।















লেখাটা লিখছি মণিপুরের ইম্ফল থেকে। ফুটবল ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচারের কাজে এসেছি। গত মাসেও এসেছিলাম। তখন ২৬শে জানুয়ারি। বনধ চলছে। কোথাও একটাও জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যাচ্ছে না। ফাঁকা বাজারের একপাশে শুধু একটা দোকান খোলা। খবরের কাগজে শুকনো কিছু ভাজা মাছ (স্থানীয় ভাষায় 'নারি' ) সাজিয়ে বসে আছেন এক মহিলা। কোনও ক্রেতা কোত্থাও নেই। শুধু মিলিটারির অ্যান্টি এক্সপ্লোসিভ সাঁজোয়া গাড়ি আর ভারী বুটের শব্দ। মনে হল খবরের কাগজের ওপর এই মৎস্য অবতারই আজকের হেডলাইন।

If you like it comment below in the comment box and follow
Me in facebook , twitter & youtube




প্যারালাল মিডিয়া এ প্রকাশিত 


Wednesday, February 7, 2018

এক অন্য প্রেমের গল্প | কে ভি প্যারাডাইস... K V Paradise | A different Love Story

আজ একটা প্রেমের গল্প শোনাবো।

প্রেম মরতে শেখায়, প্রেম বাঁচতে শেখায়; প্রেম মৃত্যুর দুয়ার থেকে জীবন এর দোরগোড়ায় মানুষকে ঝুঁটি ধরে টেনে আনে। কিন্তু এই প্রেম জীবন নদীর ওপারে গিয়েও উজ্জ্বল হয়ে থাকে ভালোবাসার উত্তাপে। জীবন মরণের সীমানা ছাড়িয়ে এই প্রেম অমরত্ব লাভ করে। জেগে থাকে নিষ্পলক।
উত্তর পূর্বের রাজ্য মিজোরামে ছোট্ট শহর আইজল। শহরে গেলে প্রথমেই চোখে পড়বে পথে দোকানে, পাবলিক প্লেস গুলোতে অহরহ এডস এর প্রচার বার্তা। অবাধ যৌনতা, যথেচ্ছ নেশা ও মাদক এর ব্যবহার আর  লাগামহীন জীবনযাত্রায় মিজো গড়পড়তা মানুষজনের মধ্যে এডস আর যক্ষা রোগ মহামারীর আকার নিয়েছে। গড় আয়ু ৫০ বছরে নেমে এসেছে গোটা জনগোষ্ঠীর। কাজেই সরকারি প্রচারে প্রতি ৫০ মিটারে পোস্টারিং, শারীরিক মেলামেশায় কন্ডোমের ব্যবহার এর। মনে হবে এ কোন জাহান্নামে এসে পড়লাম। ভিতর ভিতর একটা পঙ্কিল ভয় কাজ করবে। ঘিনঘিনে ভয়। রাত্রে ফাঁকা পথে একলা পুরুষ ও নিরাপদ নয় এখানে। রাত গভীর হলে রাত্রির নীরবতা খান খান করে সশব্দে ছুটে চলে দুচাকা চারচাকা যান। শহরের আলো আঁধারি গলি ঘুঁজিতে মিশকালো অন্ধকারে মিশে যায় দুটো শরীর। নেশাগ্রস্ত পা গুলো টলতে টলতে কোন আস্তানায় পৌঁছায় সে খবর আরক্ত চোখও রাখে না।
ব্যাভিচার এর এমন পীঠস্থানের পাঁকেই ফুটে উঠেছে প্রেমের শতদল।


Map of K V Paradise

আইজল শহর থেকে ৪৫মিনিটের দূরত্বে ব্যাংখঙ , ব্যাংখঙ এর কাছেই  ধূর্তলাং পাহাড়ে যে কাউকে মিনি তাজমহল এর ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেই  দেখিয়ে দেবে কে ভি প্যারাডাইস।
কে ভি - খলহ্রিং আর ভার্তে র নামের আদ্যাক্ষর।  খলহ্রিং এর স্ত্রী ভার্তে  ২০০১ সালে একটি পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। স্বভাবতই ভেঙে পড়েন খলহ্রিং। স্ত্রীর হঠাৎ বিয়োগে এলোমেলো করে যাওয়া জীবন হতেই পারত আর পাঁচটা জীবনের মত।  বিস্মৃতির আর স্বজন বিয়োগের বিরহে জীবন কাটিয়ে দিতেই পারতেন খলহ্রিং। কিন্তু সে পথে না হেঁটে অন্য রাস্তায় পা বাড়ালেন খলহ্রিং।

পাহাড়ের ঢালে
একটা জমি ছিল তার।  সে জমি তে ভার্তে র স্মৃতিতে তৈরী করলেন এক সৌধ।
নীল আকাশের পটভূমিতে তিনতলা শ্বেতশুভ্র সৌধ। যেন জমে থাকা নয়নের জল।
চারিদিকে ফিসফিস করে কথা বলে হাওয়া রা। পায়ের কাছে নীল লাল সাদা হলুদ নাম না জানা ফুল। আর চোখ ঝলসে দেওয়া সাদা মিনার- কে ভি প্যারাডাইস। একটু উঁচুতে মূল সৌধ তে উঠতে হয়। প্রায় ৫০-৬০ টি সিঁড়ি। গোটা সৌধকে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য পাইন গাছ। সিঁড়ি পার করে সাদা চাতালে ওঠার মুখে একজন বৃদ্ধ কেয়ারটেকার। প্রবেশ মূল্য নিলেন ১০ টাকা। চোখ ধাঁধানো সাদার ওপর তখন বিকেলের রোদ পড়েছে। মূল দরজা পেরিয়ে ঢুকলাম সৌধর নিচের তলায়।
ভার্তে র বিশাল একটি ছবি আর ফুলের সমারোহ ঘিরে আছে সমাধি।





ঘোরানো সিঁড়ি উঠে গেছে ২য় তলায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় একটি কাঁচের আলমারি। সার সার সাজানো আছে মহিলাদের  জামাকাপড়। মিজো হরফ তর্জমা করে যা বুঝলাম সেগুলো ভার্তে র ব্যবহৃত পোশাক। সামনেই সেই অভিশপ্ত ট্রাডিশনাল মিজো ড্রেস যা পরে শেষ যাত্রায় সওয়ার

হয়েছিলেন ভার্তে। তারপর সার সার ভার্তে র পছন্দের পোশাক।  মন ভারাক্রান্ত হয়ে আসে। একটা মানুষের অস্তিত্ব যেন ওই পোশাক গুলোর মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট। এখানেই যেন কোথাও আছে সে। কোথাও যেন গেছে সে, এখনই এসে খুলে দেবে এই কাঁচের আলমারি ,তুলে ধরবে এ সব প্রিয় পোশাক ,প্রিয় ব্যবহার্য জিনিস। দূর পাহাড়ে সূর্যের আলোর তেজ কমে আসে। পড়ন্ত বেলায় কে যেন বলে ,
 "কৌন আয়েগা ? কোই নেহি আয়া হোগা !
সায়েদ হাওয়ানে মেরে দরওয়াজা হিলায়া হোগা ! "




এরপর ওপরের তলা। সিঁড়ি দিয়ে উঠে গম্বুজ এর মত অল্প আলোর ধ্যান কক্ষ। মনের দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ, বিহ্বলতা, সব কিছুর ওপরে জেগে থাকেন যে সর্বশক্তিমান । তাঁর অস্তিত্ত্বের  খোঁজে দু মিনিট বসলে কখন যেন আধ ঘন্টা কেটে যায়।
ভার্তে র সৌধ থেকে নেমে আসছি হঠাৎ নারী কণ্ঠের ফিসফিস, চাপা হাসি। সূর্যাস্তের লালিমা গোটা ভ্যালি জুড়ে। নাস্তিক মনেও হঠাৎ সন্দেহ এল !!! তবে কি ভার্তে ? ভুল ভাঙল ২য় তলায় এসে।


এক প্রেমিক যুগল অন্তরঙ্গ হয়ে বসে। এ তো আসলে ভার্তেই। এ তো আসলে খলহ্রিং এর স্বপ্ন। যে তাঁর প্রিয়তমা বেঁচে থাকবেন মৃত্যুর পরও।
ভাবতে অবাক লাগে এই গোটা কর্মকান্ড একটা মানুষ এর ব্যক্তিগত প্রয়াস। যে কর্মকান্ডের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর প্রেয়সীর প্রতি অদম্য ভালোবাসা।
শরীরী প্রেম এর তাৎক্ষণিকতা, প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে বিশ্বাসহীনতা ,ঘরে ঘরে বিচ্ছেদ যখন রোজনামচায় পরিণত হয়েছে সেই সময়ে খলহ্রিং এর এই প্রেম কাহিনী যেন অন্য এক দিগন্ত খুলে দেয়।

কে ভি প্যারাডাইসের ভিডিও
KV PARADISE | MINI TAJMAHAL


If you like it comment below in the comment box and follow
Follow me in facebook twitter & YouTube



Tuesday, April 26, 2016

এক দিন দল বেঁধে। My write up on Picnic in #Hangla Magazine

শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে ম্যাটাডোর উড়িয়ে ক'জন মিলে কাছে বা দূরে সবুজ ঘাসের উপর, নদীর ধারে বা পাহাড়ের কোলে এক দিনের জিন্দেগী। সেলিব্রিটি দের পিকনিক গুলো ও অনেক টা আমাদের চেনা ছেলেবেলা কে ফিরে দেখার মত। তাই নিয়েই এই লেখা, হ্যাংলা হেঁসেল এ প্রকাশিত।
The picnic experiences of celebrities are quite like our very known childhood days. Their emotions, friendships, camaraderie and naughty behaviors will surely toast up some funny moments for you. Read this article published in famous food magazine Hangla Hneshel.



Do Share your VIEWS and REVIEWS in the comment box below.

Follow me in facebook https://www.facebook.com/nandan2017/
                       twitter https://twitter.com/Nandanpaul

Monday, October 26, 2015

পাগলের পুজো

পাগলের পুজো
ষষ্ঠী র সকাল বাজার করতে বেরিয়ে মুদির দোকানে ফর্দ জমা দিয়ে মোড়ের
চা দোকানে প্রভাতী সিগারেট সহ এক কাপ চায়ে চুমুক দিচ্ছি, একদল ছেলেমেয়ে
হুহু করে দৌড়ে গিয়ে অপেক্ষমান বাসে উঠল। পুজোর সকাল ঝলমল করে উঠল।
"মরবে মরবে সব মরবে" ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি পাড়ার পরিচিত এক পাগল বিড়বিড় করছে।
"মরবে মরবে সব মরবে "
চা দোকানি গলা ঝাঁঝিয়ে বলল সকাল সকাল বাজে বকা শুরু করলি? চুপচাপ চা খেয়ে
কেটে পড়। সকালের কাগজ অাটখানা হয়ে হাতে হাতে ঘুরছে। পুজোর উপচে পড়া জনস্রোতের
ছবি আর সুদৃশ্য প্রতিমার ছবির মাঝে খচখচ করছে দক্ষিণ কলকাতার এক প্যাণ্ডেলে পুজো বন্ধ
হয়ে যাওয়ার ঘটনা । অত্যুৎসাহী এক চা খোর বলল শুধু হুডোহুড়ি?  দু একজন মারাও  গেছে শুনছি!
পাগল আবার বলল "মরবে মরবে সব মরবে"
আমি মজা পেয়ে গেলাম, পাগলের সাথে আলাপ জমানো শুরু করলাম । জিজ্ঞেস করলাম কে মরবে? কেন মরবে? ও বলা শুরু করল "সব মরবে, আমার গা জ্বালা করে" এর মধ্যে চা এল। দোকানদার কে বললাম পাগলা টা কে বিস্কুট দিতে। চায়ে ডুবিয়ে বিস্কুট খেতে খেতে পাগল বলল Thank you আবার জিজ্ঞেস
করলাম বল কে মরবে, "আগে এই সময় আমার ঠান্ডা ঠান্ডা আরাম লাগত, এখন গা পুড়ে যায় সব সময়, তোরা তো খালি আকাশের দিকে তাক করে বাড়ি বানাচ্ছিস, হৈ হৈ করে। আমার কথা ভাবিস?আমার বড্ড গরম লাগে গা জ্বালা করে ।"
আমি বললাম গরমই যদি লাগে তো কম্বল গায়ে দাও কেন? ও বলল "পাগল কোথাকার কম্বল গায়ে দিলে কত আরাম জানিস মুড়ি দিয়ে নিলেই ঠান্ডা আহ্"
চা শেষ করে পাগল আবার বকবক করা শুরু করল "আমাকে পাগল বলিস , জানিস তোরা কত বড় পাগল? এই যে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে হন্যে হয় ঠাকুর দেখিস আর টপাটপ ছবি তুলিস কি পাস তোরা? জানিস মাইকের গাঁক গাঁক আওয়াজে আমাদের মত সাধারণ পাগলদের কত অসুবিধে হয়? এমনিতেই মাথার ভেতর কত আওয়াজ! প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ উড়ে গেল, কল থেকে  ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ল, ভোর রাতে হাওয়ার ভেতর রোজ একজন কাঁদে । শুনতে পাস? বুঝতে পারিস? বুঝবি না তোরা বুঝবি না। তোদের কান মোটা হয়ে গেছে । এই যে সকাল থেকে রাত ছুটে বেড়াস, কী পাস তোরা এত দৌড়ে?
আস্তে আস্তে ভিড় পাতলা হল চায়ের দোকানে । পাগল ও নিজের কাজে মন দিল। একটা পুরোনো খবরের কাগজে পেন দিয়ে হিজিবিজি লিখতে লাগল।অন্য দিন লোকটা হাত নেড়ে ট্র্যাফিক কন্ট্রোল করে, আজ লিখছে দেখে মজা করে জিজ্ঞেস করলাম কি লিখছ? পাগল বলল ওপারে ওরা দুঃশাসন আর এপারে আমি প্রশাসন, বুঝলি আমি প্রশাসন, তাই সব কিছু লিখে রাখছি, সব হিসাব, সব হিসসা, সব কিসসা, সব কিসু । মরবে মরবে সব মরবে । বললাম আবার শাপ দিচ্ছ। ও বলল দেবো না? জানিস তোরা নালির ধারে কাগজ জ্বালিয়ে ভাত রাঁধতে কেমন লাগে? কুকুরের মত ভ্যাট থেকে পচা খাবার খেতে কেমন লাগে? তোদের পুজো তে একবার ও মনে হয় আমাদের কথা? কখনও তোদের ইচ্ছে হয় আমাদের দুমুঠো খেতে দিতে? গু মুতের মত ভাবিস আমাদের, তাই না? আমাদের ভোট নেই, তাই আমরা ভাটের। চল আমরা গুয়ের মতই ফেলনা, আমার দরকার নেই তোদের, মর তোরা।
একা দাঁড়িয়ে রইলাম, সত্যি ই কি আমাদের বিপুল পরিমাণ বৈভব আর আনন্দের সাথে ওদের খুব সামান্য কিছু প্রয়োজন কে জুড়ে নিলে শারদোৎসব কি যথার্থই সর্বাঙ্গীন হত না?
উৎসব সর্বস্ব বিবেক নিয়ে হতভম্ব হয়ে রইলাম । সত্যিই কি উৎসব আমাদের সার্বজনীন?
(লেখাটি আসলে কল্পনা প্রসূত না হলেও, এটাকে কাল্পনিক অথবা পাগলের প্রলাপ ভেবে নিয়ে দেখুন, অদ্ভুত আরাম লাগবে । স্থান কাল পাত্র কারও সাথে মিল সম্পুর্ণ কাকতালীয় , কাউকে  বা কারও ধর্মীয় ভাবাবেগ এ আঘাত করা এ লেখার প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়)



Do Share your VIEWS and REVIEWS in the comment box below.

Follow me in facebook https://www.facebook.com/nandan2017/
                       twitter https://twitter.com/Nandanpaul