Showing posts with label Bengal. Show all posts
Showing posts with label Bengal. Show all posts

Thursday, July 31, 2025

তারকেশ্বরে শিবের পুজোর নামে চরম ব্যাভিচার!!! পূজারীর জেল, ফাঁসি!!!

 

শ্রাবণ মাস দেবাদিদেব মহাদেবের মাস। ভক্তরা দলে দলে জলের বাঁক কাঁধে ছোটেন তারকেশ্বরে। হুগলী জেলার এই শৈব তীর্থে মনস্কামনা পূরণের জন্য স্বয়ম্ভু শিব শম্ভুর মাথায় জল ঢালেন পূণ্যার্থীরা। তারকেশ্বর মন্দিরের লাগোয়া এক বিরাট পুকুর, নাম, দুধ পুকুর। দুধ পুকুরে স্নান সেরে মন্দিরে পুজো দেওয়াটাই দস্তুর এখানে। মন্দির, দোকানপাট পার করে কিছুটা গেলেই চোখে পড়বে এক বিশাল প্রাসাদ। তারকেশ্বর মন্দিরের শ্রাবণী মেলা এই প্রাসাদের সামনেই বসে। জানেন কি এই বিশাল প্রাসাদের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তারকেশ্বরের ইতিহাসের সবচেয়ে কালো অধ্যায়টা? বর্তমান তারকেশ্বর মন্দির পরিচলন সমিতির জনকল্যাণ মূলক কাজ হুগলী জেলার এই অঞ্চলের উন্নয়নের কাণ্ডারী। কিন্তু আমি যে সময়ের কথা বলছি তখনকার সময়ে এই প্রাসাদের ভুমিকা এখনকার পাশাপাশি রাখলে কল্পনাও করতে পারবেন না কতটা ভয়ঙ্কর কতটা ক্রূর ছিল এই বিশাল প্রাসাদের অতীত। সেই ঘটনাই শুনুন এখন। 




সেটা উনবিংশ শতকের বাংলা। তখন একটা খুনের মামলা এতটাই আলোড়ন ফেলে যে মানুষজন সেই মামলার শুনানি দেখতে টিকিট কেটে আদালতে যায়! শুধু তাই নয় একজন খুনিকে বীরের সম্মান দেওয়া হয়েছিল তখন। এলোকেশী হত্যা মামলা, বাংলার একটি বিরলতম খুনের মামলা। স্বামী নবীন চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বটি দিয়ে স্ত্রী এলোকেশীকে হত্যা করে ব্রিটিশ চৌকিদারের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। 

কালিঘাট পটচিত্র- মোহন্ত মাদক মেশানো পানীয় দিচ্ছে এলোকেশীকে

ঠিক কী হয়েছিল জানব। তবে মূল ঘটনায় যাওয়ার আগে একটু দেখে নেব সেই সময়কার তারকেশ্বর মন্দিরের অবস্থাটা কেমন ছিল? তারকেশ্বর মন্দিরের পরিচলনের ভার ন্যস্ত থাকে গদির ওপরে। গদির কর্তারাই মন্দিরের পরিচালনা, পুজা ও নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষা করেন। তখন গিরি  মোহন্তদের হাতে ছিল মন্দিরের গদির নিয়ন্ত্রণ। এক একজন মোহন্ত ছিলেন প্রবল প্রতাপ ও ধন সম্পদের অধিকারী। তাদের লেঠেল বাহিনী, দারোয়ান এমনকি হাতি পর্যন্ত ছিল। সেই সময়ে একমাত্র সন্ন্যাসীরা হিমালয় পার করে তিব্বত পর্যন্ত যেতে পারতেন। আর এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য করতেন গিরি মোহন্তরা। তারা ভুটান হয়ে ওল্ড সিল্ক রুট দিয়ে তিব্বত যেতেন ব্যবসা, বাণিজ্য করতে। স্বভাবতই শাসক ব্রিটিশদের সঙ্গে এই মোহন্তদের খাতির ও দহরম মহরম ছিল। তাই এরা হয়ে উঠেছিলেন এক একজন জমিদার। মন্দিরের সম্পত্তির পাশাপাশি অনেকেরই ছিল বিপুল ব্যক্তিগত সম্পত্তি। এরফলে মন্দিরের বেশ কিছু মোহন্তের বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ উঠতে থাকে। ১৮২৪এর ১৩ই মার্চ মোহন্ত শ্রীমন্ত গিরি এক বেশ্যার উপপতিকে খুনের দায়ে ফাঁসির সাজা প্রাপ্ত হন। তবে এসবকিছুকে বোধহয় অতিক্রম করে ছিল এলোকেশী হত্যা মামলা। ১৮৭৩ সালের এলোকেশী হত্যা মামলাকে আজও তারকেশ্বরের ইতিহাসের একটা কালো অধ্যায় হিসাবেই ধরা হয়। 

কালিঘাট পটচিত্র- মোহন্তের কাছে প্রতিদিন আসতে বাধ্য ছিল এলোকেশী

তারকেশ্বরের কাছেই কুমরুল নামের এক ছোট্ট গ্রামের ব্রাহ্মণ নীলকমল মুখোপাধ্যায়ের ছিল তিন কন্যা। বড় মেয়ে প্রসন্নময়ী,মেজ মেয়ে এলোকেশী, আর ছোট মেয়ে মুক্তকেশী। মেজ মেয়ে এলোকেশী ছিল রূপে অসামান্যা সুন্দরী। এলোকেশীর বিয়ে হয় কলকাতার বাবু  নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে।এদিকে নীলকমল মুখোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী বিয়োগের পর তিনি বিবাহ করেন মন্দাকিনী নামের এক মহিলাকে। মন্দাকিনীর সঙ্গে তারকেশ্বরের গিরি মোহন্তদের যোগাযোগ ছিল। 

কালিঘাট পটচিত্র-মোহন্ত ও এলোকেশী

নবীনচন্দ্রের সঙ্গে এলোকেশীর বিয়ের পর নবীনের পরিবারে  কেউ না থাকায় এলোকেশী থাকত তার বাপের বাড়ি কুমরুলে। আর নবীন চাকরিসুত্রে বসবাস করত কলকাতায়। এদিকে বিয়ের পরেও এলোকেশীর সন্তান না হওয়ায় সৎ মা মন্দাকিনী এলোকেশীকে নিয়ে যান তাঁর পূর্ব পরিচিত মোহন্ত মাধব গিরির কাছে। মোহন্ত সন্ন্যাসী হলেও শিবের আরাধনার আড়ালে ছিলেন মারাত্মক ব্যাভিচারি। মোহন্ত মাধব গিরি এলোকেশীকে কোনও নেশার ওষুধ খাইয়ে অচৈতন্য করে তার সতীত্ব নষ্ট করে। শুধু তাই নয় এলোকেশীর বাবা নীলকমলকে প্রচুর টাকাপয়সা পাঠায় মোহন্ত। একই সঙ্গে মোহন্ত জানত মন্দাকিনীর আছে সোনার গয়নার প্রতি অদম্য লোভ। সে মন্দাকিনীকে দেয় প্রচুর স্বর্ণালংকার। এভাবে প্রতিদিন একপ্রকার বাধ্য করে এলোকেশীকে তারকেশ্বরের মোহন্তের প্রাসাদে আসতে। রোজ বিকেলে কুমরুল থেকে প্রাসাদে এসে পরদিন সকালে বাড়ি ফিরত ১৩-১৪ বছরের এলোকেশী। একা নয়। তাকে নিয়ে আসত নীলকমলের বাড়ির লোকজন। কখনও প্রসন্নময়ী, কখনও মন্দাকিনী আবার কখনও বা কাজের ঝি তেলি বউ থাক। মোহন্ত মাধব গিরি আর এলোকেশীর অবৈধ প্রণয়ের এই ঘটনা নিয়ে চরম হাসাহাসি হয়, ক্রমে তা স্থানীয় মানুষজনের কাছে মুখরোচক চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।

কালিঘাট পটচিত্র- নবীন আঁশ বটির কোপে হত্যা করে এলোকেশীকে

নবীন কলকাতায় থাকায় এসব কিছুই জানত না। কুমরুলে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সে এই ঘটনা জানতে পারে। একপ্রস্থ বাগবিতণ্ডা হয় নবীন-এলোকেশীর মধ্যে। এলোকেশী বলে এই অবৈধ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সে, কিন্তু তা করতে চাইলে মাধব গিরি তাকে মেরে ফেলবে। নবীন হ্নতদন্ত হয়ে ছুটে যায় মোহন্তের প্রসাদে। মোহন্তকে একপ্রকার শাসিয়ে আসে সে। সে চায় এলোকেশীকে কলকাতা নিয়ে গিয়ে নতুন করে সংসার করবে।  সেইমতো পালকি ভাড়া করে নবীন। কিন্তু মোহন্ত তার লেঠেল বাহিনী দিয়ে গোটা তারকেশ্বর ঘিরে ফেলেন। পালকি নীলকমলের বাড়ি পর্যন্ত আসতেই পারে না। এলোকেশীর কলকাতা যাওয়া আর হয়ে ওঠে না। এমন অবস্থায় নবীন একটি আঁশবটি দিয়ে স্ত্রীর গলায় কোপ দিয়ে তাকে হত্যা করে। আর নিজে পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করলেও নবীন জানায় এই পরিস্থিতির জন্য প্রকৃতপক্ষে দায়ি মোহন্ত মাধব গিরি। নবীনের হয়ে মামলা লড়েন উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। কোর্টে এই মামলা চলাকালীন মামলার শুনানি সংবাদ পত্রের শিরোনাম হয়। লোকমুখে তা এত জনপ্রিয়তা পায় যে টিকিট কেটে মানুষজন শুনানি দেখতে আসে।

কালিঘাট পটচিত্র- কোর্টে শুনানি, টিকিট কেটে দেখত সবাই

পরবর্তীকালে এই ঘটনায় মোহন্ত ও নবীন দুজনেই দোষী সাব্যস্ত হলেও কিছু বছর সাজা খেটে তারা জেল থেকে মুক্ত হয়। নবীনকে বীরের সম্মান দিয়ে বাড়ি ফেরায় মানুষ। কিন্তু এই ঘটনা তারকেশ্বর সত্যাগ্রহ ও অত্যাচারি গিরি মোহন্তদের হাত থেকে তারকেশ্বর মন্দিরকে মুক্ত করার ঘটনাক্রমে অনুঘটকের কাজ করে। এলোকেশীর ঘটনার পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু তারকেশ্বরে আসেন। বহু পালা, যাত্রা, প্রহসন তৈরি হতে থাকে। কালিঘাট পটের বিষয় হয়ে ওঠে এলোকেশী মামলা। স্টার থিয়েটারে চলতে থাকে 'মোহন্তের একি কাণ্ড' পালা। মাইকেল মধুসুদন দত্তের নাটকের চেয়েও বেশি বিক্রি হত সেই সময়ে মোহন্ত মাধব গিরির ব্যাভিচারের নাটক। এলোকেশী হত্যা মামলা স্টার থিয়েটারকে খ্যাতির চূড়ায় তুলে আনে। তবে যতই কালো হোক না কেন এলোকেশীর ঘটনা। এই ঘটনায় যে জন জাগরণ হয়েছিল তাতে একজোট হয়েছিল বহু শুভ শক্তির যা তারকেশ্বরের অন্ধকার ও ব্যাভিচারের ইতিহাসকে শেষ করে।    


এই ব্লগটির তথ্যসুত্র প্রজ্ঞা পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত শ্রী মানব মণ্ডলের বই - প্রসঙ্গ তারকেশ্বর। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন Wonder World Bangla য় প্রকাশিত এই বিস্তারিত ভিডিওটি। 

ব্লগের লেখাটি আপনাদের কেমন লাগল, জানান আমাকে। নিচের কমেন্ট বক্সে আপনি কমেন্ট করতে পারেন। আপনার সুচিন্তিত মতামত, ভালো বা খারাপ যাই হোক না কেন, আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আর কী ধরনের ব্লগ পড়তে চান? জানান সেটাও। আজ এই পর্যন্ত।  

Friday, March 30, 2018

শুভ্রনীলের মধ্যে নীহারিকার বাস,ও যে খেলা করে ছায়াপথ জুড়ে | Subhranil A Wonder Kid | Artist of Bengal

ঈশানকে মনে আছে? ঈশান নন্দ কিশোর আওয়াস্তি। তারে জমিন পর এর আট বছরের সেই কিশোর বর্ণমালার অক্ষরগুলো যার চোখের সামনে এসে নাচত অবিরাম। অঙ্কের সংখ্যাদের কাল্পনিক নাচ যার উত্তর গুলিয়ে দিত। ডিসলেক্সিয়া ডিসঅর্ডারের আড়ালে চাপা পড়ে ছিল যার একটা পরিপূর্ণ শৈল্পিক সত্ত্বা। সবাই তাকে ভুল বুঝত। বাবা, মা, দাদা, স্কুলের টিচাররা, সব্বাই। কুঁড়ে অপদার্থ ভাবত । তাই শাস্তি হিসেবে তাকে পাঠানো হল বোর্ডিং স্কুলে। চেনা মানুষজন, চেনা পরিবেশ থেকে উপড়ে গিয়ে কুঁকড়ে গেল তার শিশু মন। তারপর কী হয়েছিল তা সবারই জানা। রাম শঙ্কর নিকুম্ভ স্যারের যাদুকাঠি বা তুলির ছোঁয়ায় বদলে গেল ঈশানের জীবনের গতিপথ। অমনোযোগী ঈশান ছবি আঁকার সাথে সাথে পড়াশোনাতেও ভাল করতে লাগল।
নক্ষত্ররা মাটিতেই থাকে শুধু তাদের খুঁজে বের করতে হয় 

তবে শুভ্রনীল দাসের নিকুম্ভ স্যার ছিল না। মা ছিল। শুধু ডিসলেক্সিয়াই ছিল না। ছিল সেন্সরি প্রসেসিং ইস্যু সম্পর্কিত হাইপারঅ্যাক্টিভিটির সমস্যা আর তারই কারণে অটিজিম ও ডিসলেক্সিয়া । কী এই সেন্সরি প্রসেসিং ইস্যু? কোন দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শের প্রতি অতিরিক্ত রিঅ্যাকটিভ হয় এই শিশুরা। কখনও আবার কম রিঅ্যাকট্ভ ও হয়।  দৃশ্য,শব্দ,স্পর্শ, গন্ধ ও স্বাদ এই সব কটি অনুভূতি ওদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে এদিক ওদিক করে দিতে পারে। বর্তমান সময়ে অনেক শিশুরই হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার এর সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু সেন্সরি প্রসেসিং ইস্যু র সাথে হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার। একটু বিরল। হয়নি এ সংক্রান্ত কোন বিস্তারিত রিসার্চ। এই রকম অবস্থায় শুভ্রনীলের লড়াইটা বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল। ক্ষুদে শুভ্রনীল হাতে পেন্সিল ধরতে পারত না। তার সাথে ছিল হাইপারঅ্যাক্টিভিটির কারণে প্রচন্ড ছটফটানি। পেশায় চিকিৎসক মা তাই ছেলেকে ছবি আঁকিয়ে সুস্থির করতে চাইলেন। কিন্তু যে পেন্সিল ধরে থাকতে পারে না হাতে সে কি করে ছবি আঁকবে !!! নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা আর মায়ের মমতা মিশিয়ে কাজ শুরু করলেন ডা: জ্যোতিশুভ্রা দাস। প্রথমে ছেলের হাতে জল লাগিয়ে সেই হাত শুকনো দেওয়ালে আলতো চাপ দিলেন। ফুটে উঠল করতলের জলছবি ! পুঁচকে মনটা আনন্দে খিলখিল করে উঠল। এরপর জলে গুলে দিলেন রঙ। ছেলেকে বললেন ওই রং ভেজা হাতের ছাপ দেওয়ালে দিতে। একটা দিগন্ত খুলে গেল। এরপর ধীরে ধীরে অভ্যাস চলল। করতল , আঙ্গুল , হাতের তালু। রঙ পেয়ে শুভ্রনীলের শ্বেতশুভ্র শৈশবের ক্যানভাসেও আনন্দের লাল,গোলাপি,নীল অনুভূতিগুলো ডানা মেলল। বাড়িতেই পাড়ার এক আঁকার শিক্ষকের কাছে ছেলের ক্লাস শুরু করলেন জ্যোতিশুভ্রা। শুধু শিক্ষককে বলে দিলেন কী ধরণের ছবি আঁকাতে হবে তাঁর ক্ষুদেটিকে। এও এক থেরাপি।
এ এক নতুন আর্ট ফর্ম 
সেন্সরি প্রসেসিং ইস্যু সম্পর্কিত হাইপারঅ্যাক্টিভিটির মোকাবিলায় আর্ট থেরাপি। আশেপাশে অনেকেই হয়ত তখন বিশ্বাস করতে পারেনি কী চমক অপেক্ষা করছে ছেলেটির আগামী জীবনে।
এদিকে বাড়িতে রবীন্দ্রসংগীত শোনার চল ছিল। তাই কিভাবে,কোন অবচেতনে যেন ওই হুড়মুড় দুর্দ্দার কাঁচামনে পাকা আসন পেতে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। হয়ত ওর বাবার রোল খেতে রাস্তার দোকানে গেছে শুভ্রনীল, দোকানদার তখনও স্টোভ জ্বালেনি।
ব্যাস শুরু হয়ে গেল , " আগুন জ্বালো
আগুন জ্বালো ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো। একলা রাতের অন্ধকারে আমি চাই পথের আলো ॥ "
কিংবা স্কুলে রাখিবন্ধন চলছে। একা গুটিয়ে বসে আছে শুভ্রনীল। মায়ের সাথে বাড়ি ফিরতে ফিরতে মায়ের কানে ফিসফিস করে সুর আসছে , " মনে করে সখি বাঁধিয়া রাখিও আমার হাতের রাখি তোমার কনক কঙ্কনে। "
জ্যোতিশুভ্রা মনে মনে ভাবলেন ঠিকই চলছে।
মা , ডা: জ্যোতিশুভ্রা দাসের সাথে শুভ্রনীল  
কে বলবে এ ছেলে বাহ্যজ্ঞানরহিত। এর মধ্যে যে নীহারিকার বাস , এ যে খেলা করে ছায়াপথ জুড়ে।
ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে শুভ্রনীল। ও এখন পেন পেন্সিল ধরতে পারে।  এই কিশোর বয়েসেই ও নিজস্ব একটা ফর্ম তৈরী করে ফেলেছে। সম্প্রতি একাডেমি অফ ফাইন আর্টসে হয়ে গেল মমার্তের সামার শো। সেই প্রদর্শনীতে ছিল শুভ্রনীলের চারটি ছবি। সিরিয়ার শিশুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে নিজের শিল্পসৃষ্টিও করল সে। অনেক দূর যেতে হবে শুভ্রনীল। তোমার পরিচয় তুমি একজন শিল্পী। আর কে না জানে শিল্পীদের মন মাপার ক্ষমতা সাধারণ মানুষদের এক্তিয়ারের বাইরে। এগিয়ে চলো বন্ধু।  ছবি গুলো দেখুন। আর এই লেখাটা শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।  যাতে অনেক শুভ্রনীল যারা এখনো আলোর দিশা পায়নি তারা অন্তত জানতে পারে যে হয়।  চেষ্টা আর উদ্যম থাকলে অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব করা যায়।
ডানদিকের ৪টি ছবি শুভ্রনীলের আঁকা 

Friday, September 9, 2016

My write up on Hilsha in Hyangla Henshel

ইলিশ বিলাস বাঙালির চিরকালীন ঐতিহ্য। সেই ইলিশ নিয়ে হ্যাংলা হেঁসেল এর পাতায় হয়ে গেল গঙ্গা-পদ্মা ঘটি-বাঙাল এর ঠোকাঠুকি হাতায় হাতায়, কলমে কলমে। একবার পদ্মা বলে আমায় দেখ তো একবার গঙ্গা বলে আমায় দেখ। তাবড় তাবড় বিশেষজ্ঞ, সেফ, লিখিয়েদের সঙ্গে হংস মধ্যে বক যথা আমি। দু'কলম লিখলাম ডেনমার্ক যেতে যেতে দুবাই এয়ারপোর্ট এ বসে। পড়ে দেখো/দেখিস/দেখুন সবাই।
সেদিন ফেসবুকে কিছু ছবি দেখছিলাম এক বন্ধুর বন্ধু তুলেছেন দীঘা মোহনার, ভুল করলাম কোনও ফুল ভেবে। যেন রূপোলী শতদল। ছবিটা জুম করে দেখলাম যত্ন করে সাজানো ইলিশ। চকচক করছে। দীঘায় পর্যটকরা এই সময় তাজা ইলিশের আকর্ষণে এই সময় পাড়ি জমান। দীঘা, শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর, মন্দারমণী র নিকটবর্তী অঞ্চলে এবার ইলিশের আহরণ বেশ ভাল। ভাল ইলিশের জোগানে তাই মাছের বাজারেও বেশ একটা চাঙ্গা ভাব। সাধারণত ইলিশ পূর্ণিমা র আগের সাতদিন থেকে পূর্ণিমার দিন ও তার পরের সাতদিন পর্যন্ত মোট পনেরো দিন ধরে কম বেশি ডিম পাড়ে। স্ত্রী ইলিশ ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ ইলিশ সেই ডিম কে নিষিক্ত করে। ডিম ফুটে দু দিনের মধ্যে রেণু ইলিশ তৈরি হয়। কিছু দিনের মধ্যে এই রেণু ইলিশ পোনায় রুপান্তরিত হয়। পোনা ইলিশ একটু বড় হলে তাকে বলা হয় জাতক ইলিশ বা জাটকা ইলিশ। ইলিশের ডিম পাড়ার জলের লবনাক্ততার ওপর নির্ভর করে ইলিশের গুণগত মান। ইলিশ সাধারণত আধা মিঠা আধা নোনা জলের মিশ্রিত পরিবেশকে ডিম পাড়ার আদর্শ স্থান হিসেবে বেছে নেয়। ভারত, বাংলাদেশ ও মায়ানমার গোটা বিশ্বের ইলিশ উৎপাদনের অধিকাংশ যোগান দেয়। আজকের হ্যাংলার পাতায় হাতের কাছে ইলিশের প্রাপ্তিস্থানের হদিস দিতে গিয়ে একটা ছোট্ট অনুরোধ রাখছি। দয়া করে কম দামের লোভে পড়ে নয় ইঞ্চির কম ইলিশ কেনা থেকে বিরত থাকুন। নয় ইঞ্চির কম জাতক ইলিশ ইলিশ ধরা ও তার ক্রয় বিক্রয় আইনত নিষিদ্ধ। হ্যাংলার ইউটিউব চ্যানেলে যে ভিডিও আপনারা দেখেন তার শ্যুটিং এ আমি আর সুমিত ক্যামেরা নিয়ে ঘুরছিলাম। এক বৃষ্টি ঝিরঝির দিনে ডায়মন্ডহারবার লোকাল ধরে দুপুর দুপুর ডায়মন্ডহারবার পৌঁছলাম। মৎস্য দফতরের জেটিতে তখন ভিড় করেছে এম ভি সাবিত্রী, জয় মা তারা, মা যোগমায়া, জয় মা তারিণী, এম ভি জাহ্নবী, এম ভি নাড়ুগোপাল, মা প্রিয়া, বাবা শম্ভুনাথরা। হরেক ট্রলারের উজ্জ্বল রঙ চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দিচ্ছে। হাওয়ায় ডানা মেলে উড়ছে শঙ্খচিল। ইলিশ নামানোর পর তখন 'বরফ লোডিং' হচ্ছে ট্রলারে। জাল শুকিয়ে ছেঁড়া জাল মেরামতিও চলছে। এরই মাঝে এম ভি শম্ভুনাথের কাছে যেতেই বোঁটকা আঁশটে গন্ধ নাকে এল। খবর নিয়ে জানলাম শেষ যাত্রায় প্রায় পাঁচশো মণ ইলিশ জালে পড়েছে শম্ভুনাথের ; কিন্তু বরফের জোগান অত মাছ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত না থাকায় প্রচুর মাছ পচে গেছে। শহুরে বাঙালি মনে ইলিশ পচানো (!?) বিষয়টা ভাল ভাবে নেওয়া গেল না। একটা কালচারাল শক লাগল। বলে কি? এরা? সাত পাঁচ ভাবছি হঠাৎ দেখি সাদা শাড়ি পরা এক বৃদ্ধা ওই নদীর জলে ভাসতে থাকা আধপচা বাতিল ইলিশ গুলো কুড়োচ্ছে। ক্যামেরাকে পেশা করে অনেক ছবিই করতে বাধ্য হই আমরা। কিন্তু এ কোন ছবি? ডায়মন্ডহারবার ব্লকে প্রায় শতাধিক ট্রলার আছে। অখিল প্রামাণিকের ট্রলার চোদ্দজনকে নিয়ে ইলিশ ধরার জন্য ভেসে পড়ার আগে মজুত করে পনেরোশ লিটার ডিজেল, সত্তর পঁচাত্তর ব্লক বরফ,দুশো কিলো চাল। এছাড়াও ডাল,আলু,পেঁয়াজ,সরষের তেল,মশলাপাতি,চা,চিনি মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার টাকার সামগ্রী। জটাধর বর, সঞ্জয় প্রামাণিক, শেখ আবু শফি,নীলোৎপল মন্ডল,গরাই মিদ্দা,প্রসেনজিৎ কবিররা বছরের অন্য সময় চাষবাস, হাতের কাজ, কাঠের কাজ করেন বা দিনমজুর খাটেন। কিন্তু বছরের এই সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর ভেসে পড়েন রুপোলি ফসলের আশায়। নোনা হাওয়ায় করকর করে চোখের কোন। খর নুন চোখের সাদা অংশ আরক্ত হয়ে ওঠে।



Do Share your VIEWS and REVIEWS in the comment box below.

Follow me in facebook https://www.facebook.com/nandan2017/
                       twitter https://twitter.com/Nandanpaul

Monday, October 26, 2015

পাগলের পুজো

পাগলের পুজো
ষষ্ঠী র সকাল বাজার করতে বেরিয়ে মুদির দোকানে ফর্দ জমা দিয়ে মোড়ের
চা দোকানে প্রভাতী সিগারেট সহ এক কাপ চায়ে চুমুক দিচ্ছি, একদল ছেলেমেয়ে
হুহু করে দৌড়ে গিয়ে অপেক্ষমান বাসে উঠল। পুজোর সকাল ঝলমল করে উঠল।
"মরবে মরবে সব মরবে" ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি পাড়ার পরিচিত এক পাগল বিড়বিড় করছে।
"মরবে মরবে সব মরবে "
চা দোকানি গলা ঝাঁঝিয়ে বলল সকাল সকাল বাজে বকা শুরু করলি? চুপচাপ চা খেয়ে
কেটে পড়। সকালের কাগজ অাটখানা হয়ে হাতে হাতে ঘুরছে। পুজোর উপচে পড়া জনস্রোতের
ছবি আর সুদৃশ্য প্রতিমার ছবির মাঝে খচখচ করছে দক্ষিণ কলকাতার এক প্যাণ্ডেলে পুজো বন্ধ
হয়ে যাওয়ার ঘটনা । অত্যুৎসাহী এক চা খোর বলল শুধু হুডোহুড়ি?  দু একজন মারাও  গেছে শুনছি!
পাগল আবার বলল "মরবে মরবে সব মরবে"
আমি মজা পেয়ে গেলাম, পাগলের সাথে আলাপ জমানো শুরু করলাম । জিজ্ঞেস করলাম কে মরবে? কেন মরবে? ও বলা শুরু করল "সব মরবে, আমার গা জ্বালা করে" এর মধ্যে চা এল। দোকানদার কে বললাম পাগলা টা কে বিস্কুট দিতে। চায়ে ডুবিয়ে বিস্কুট খেতে খেতে পাগল বলল Thank you আবার জিজ্ঞেস
করলাম বল কে মরবে, "আগে এই সময় আমার ঠান্ডা ঠান্ডা আরাম লাগত, এখন গা পুড়ে যায় সব সময়, তোরা তো খালি আকাশের দিকে তাক করে বাড়ি বানাচ্ছিস, হৈ হৈ করে। আমার কথা ভাবিস?আমার বড্ড গরম লাগে গা জ্বালা করে ।"
আমি বললাম গরমই যদি লাগে তো কম্বল গায়ে দাও কেন? ও বলল "পাগল কোথাকার কম্বল গায়ে দিলে কত আরাম জানিস মুড়ি দিয়ে নিলেই ঠান্ডা আহ্"
চা শেষ করে পাগল আবার বকবক করা শুরু করল "আমাকে পাগল বলিস , জানিস তোরা কত বড় পাগল? এই যে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে হন্যে হয় ঠাকুর দেখিস আর টপাটপ ছবি তুলিস কি পাস তোরা? জানিস মাইকের গাঁক গাঁক আওয়াজে আমাদের মত সাধারণ পাগলদের কত অসুবিধে হয়? এমনিতেই মাথার ভেতর কত আওয়াজ! প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ উড়ে গেল, কল থেকে  ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ল, ভোর রাতে হাওয়ার ভেতর রোজ একজন কাঁদে । শুনতে পাস? বুঝতে পারিস? বুঝবি না তোরা বুঝবি না। তোদের কান মোটা হয়ে গেছে । এই যে সকাল থেকে রাত ছুটে বেড়াস, কী পাস তোরা এত দৌড়ে?
আস্তে আস্তে ভিড় পাতলা হল চায়ের দোকানে । পাগল ও নিজের কাজে মন দিল। একটা পুরোনো খবরের কাগজে পেন দিয়ে হিজিবিজি লিখতে লাগল।অন্য দিন লোকটা হাত নেড়ে ট্র্যাফিক কন্ট্রোল করে, আজ লিখছে দেখে মজা করে জিজ্ঞেস করলাম কি লিখছ? পাগল বলল ওপারে ওরা দুঃশাসন আর এপারে আমি প্রশাসন, বুঝলি আমি প্রশাসন, তাই সব কিছু লিখে রাখছি, সব হিসাব, সব হিসসা, সব কিসসা, সব কিসু । মরবে মরবে সব মরবে । বললাম আবার শাপ দিচ্ছ। ও বলল দেবো না? জানিস তোরা নালির ধারে কাগজ জ্বালিয়ে ভাত রাঁধতে কেমন লাগে? কুকুরের মত ভ্যাট থেকে পচা খাবার খেতে কেমন লাগে? তোদের পুজো তে একবার ও মনে হয় আমাদের কথা? কখনও তোদের ইচ্ছে হয় আমাদের দুমুঠো খেতে দিতে? গু মুতের মত ভাবিস আমাদের, তাই না? আমাদের ভোট নেই, তাই আমরা ভাটের। চল আমরা গুয়ের মতই ফেলনা, আমার দরকার নেই তোদের, মর তোরা।
একা দাঁড়িয়ে রইলাম, সত্যি ই কি আমাদের বিপুল পরিমাণ বৈভব আর আনন্দের সাথে ওদের খুব সামান্য কিছু প্রয়োজন কে জুড়ে নিলে শারদোৎসব কি যথার্থই সর্বাঙ্গীন হত না?
উৎসব সর্বস্ব বিবেক নিয়ে হতভম্ব হয়ে রইলাম । সত্যিই কি উৎসব আমাদের সার্বজনীন?
(লেখাটি আসলে কল্পনা প্রসূত না হলেও, এটাকে কাল্পনিক অথবা পাগলের প্রলাপ ভেবে নিয়ে দেখুন, অদ্ভুত আরাম লাগবে । স্থান কাল পাত্র কারও সাথে মিল সম্পুর্ণ কাকতালীয় , কাউকে  বা কারও ধর্মীয় ভাবাবেগ এ আঘাত করা এ লেখার প্রাথমিক উদ্দেশ্য নয়)



Do Share your VIEWS and REVIEWS in the comment box below.

Follow me in facebook https://www.facebook.com/nandan2017/
                       twitter https://twitter.com/Nandanpaul