Showing posts with label painting. Show all posts
Showing posts with label painting. Show all posts

Tuesday, April 3, 2018

অটিজম কোন প্রতিবন্ধকতা নয় বরং অন্যভাবে চিন্তাভাবনা করার দারুন অস্ত্র | World Autism Day | #LightUpBlue


একটা গাছ ,তিনটে ইঁদুর ,সাতটা ঘড়ি , বাউল গানের আসর ,একটা হাতি এই ছবি গুলো শৈশব আর কৈশোর মনের কল্পনা। একটু অন্য রকম একটু সাধারণ চিন্তা ভাবনার চেয়ে সরে বাইরে গিয়ে। এগুলো এঁকেছে আদিত্য গাঙ্গুলি , উজ্জীবন রায় , অভিষেক সরকার , বর্ষা দেব , ঈশান গুহ , শুভ্রনীল দাস রা। শুভ্রনীলের কথা আমার আগের Blog এ বলেছি এরাও শুভ্রনীলের মত অনেক পাহাড় প্রমান অসুবিধে নিয়ে বাঁচে। আমাদের সাধারণ করে দেওয়া অভ্যাস , জেনারালাইজ করার জন্যে আমরা বলে থাকি ' প্রতিবন্ধকতা ' । কিন্ত ওদের একনিষ্ঠ প্রয়াস আজ হার মানিয়েছে ওই সাধারণ করে দেওয়া শব্দটাকে। সব বাধা , কষ্ট , নিজেকে ব্যক্ত করতে না পারার যন্ত্রনা , অনবরত মাথার ভেতর জ্বলে ওঠা হাজার ঝাড়বাতির আলোকে সামলে ওরা হয়ে উঠেছে অ-সাধারণ। প্রতিবন্ধকতা নামক অপমানটাকে নিজেদের গা থেকে ঝেড়ে ফেলে ওরা হয়ে উঠেছে একেকটা নয়নতারা।


অভিষেক কোন এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকতে পারে না। আনন্দের উচ্ছাসে বারবার কুঁচকে যাই অভিষেক সরকারের মুখ। মাথা নুয়ে এসে গলার সাথে লেগে যায়। সামাজিক জমায়েতে গুটিয়ে যায় অভিষেক সরকার কিন্ত ওর ছবি বলে অন্য কথা। যেন অন্য এক মানুষ বসত করে অভিষেকের মনের ঘরে যে একমনে ছবি আঁকে। যে ছবি ক্যানভাসের দ্বিমাত্রিকতা ছাড়িয়ে কখন যেন বহুমাত্রিকতায় পৌঁছে যায়।
অভিষেক সরকার 



অভিষেকের ছবি
বর্ষা দেবের ছবির বিশেষত্বই হল বহু র ভিতর একের খোঁজ চালিয়ে সেই অনেক কে এক করে দেওয়া। যেন আমাদের মাঝে হাজারো ভেদাভেদ থাকলেও আমরা আসলে একই।
বর্ষার ছবির পরিমিতি বা শিল্পগুণ ছাড়াও কতটা নিখুঁত সেটা পরীক্ষা করতে হলে উপরের ছবি তা দেখুন। বাউলদের গলায় হারের পুঁতির সংখ্যা প্রায় সব ক্ষেত্রেই ১৭ , কয়েকটায় ১৮। ভাবতে অবাক লাগে এত ধৈর্য ও পায় কোথায়। আসলে ওটাই ওর অসুবিধে , অস্বস্তি। রিপিটেটিভ বিহেবিয়ার। ওদের কষ্ট, ওদের জিন ও পরিবেশ গত অসুবিধের কথা না হয় পরে দেখব পরে ভাবব এখন বর্ষার ছবি দেখি।
বর্ষা দেব 






পুনরাবৃত্তি বর্ষার ছবির বৈশিষ্ঠ কিন্ত শিশু শিল্পী মনের পরিস্ফুটনে সেই পুনরাবৃত্তি কখনোই একঘেঁয়েমি আনে না। বরং একটা বিস্তারকে দেখায়। এই বুঝি খেলনাঝুড়ি উপুড় হবে বেরিয়ে আসবে বর্ষার সিস্টার্স ইন ল , জুস ড্রিঙ্কার্স , বাউল এন্ড হিস্ ওয়াইফ, দেবীদের রূপসব  বা অন্য চরিত্ররা। ওরা যেন সব পুতুল। যেন গুগাবাবার ড্রয়িং খাতার স্কেচ সব। মুখ গম্ভীর একই রকম কিন্ত কোথাও যেন সবাই মিলে জগতের আনন্দযজ্ঞে নিমন্ত্রণ জানাচ্ছে। 

ছোট্ট ঈশানকে দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করবে। অথচ ওর মনের গভীরে গেলে আপনার চরাচর মাখামাখি হয়ে যাবে নিদারুন এক বিষাদে। আপাতদৃষ্টিতে হাইপারঅ্যাক্টিভ বা চঞ্চল। কিন্ত ভাবতেও পারবেন না কী পরিমান উদ্বেগ বাসা বেঁধেছে ওই ক্ষুদেমনে!!! ঈশানের সব ইমোশনকে কন্ট্রোল করে মৃত্যুচিন্তা। ওকে পড়তে হবে পরীক্ষায় ভাল করার জন্যে , তবে ভাল চাকরি পাবে , চাকরি পেলে বিয়ে করে সংসার পাতবে , তবেই ওর সন্তানাদি হবে সেই সন্তান প্রতিষ্টিত হলে ও বৃদ্ধ হবে , দাদু হবে , তারপর অমোঘ সত্য- ওর তুঁহ মম শ্যাম সমান মরণ আসবে।মা চমকে ওঠেন। মা কে প্রশ্ন করে ঈশান তারপর আমার আত্মা আবার পুনর্জন্ম নেবে তো তুমিই আমার মা হবে তো। 
"জন্মেছি আমি আগেও অনেক মরেছি তোমারই কোলে 
 মুক্তি পাইনি শুধু তোমাকেই আবার দেখব বলে " 
আমাদের যুক্তিগ্রাহ্য মন ব্যাখ্যা পায় না কিভাবে শৈশব এমন সৎ ও সত্য ফিলোজফিকে আঁকড়ে ধরতে পারে। আসলে ওরা অমনই। খুব ছোটবেলায় এক মৃত্যু চোখের সামনে দেখে মৃত্যু সম্পর্কে মিথ ,ভয় ,আড়ষ্টতা কেটে মৃত্যুর প্রকৃত অবয়ব পরিষ্কার ঈশানের। তা হল মৃত্যুর চেয়ে বড় সত্য নেই তাই জীবনটাকে বাঁচো। প্রতি পাকে বাঁচো। ঘূর্ণির মত ঘুরছে পেন্সিল কালি কলম। বেরিয়ে আসছে একেকটা ছবি। আনন্দ পাচ্ছে ঈশান।নাক কুঁচকে চশমার তলায় হাসছে দুটো উজ্জ্বল চোখ। 
ঈশান গুহ 






শুভ্রনীল দাস সম্বন্ধে আপনারা জেনেছেন। ওর লড়াই সম্পর্কে আমার ব্লগপাঠকরা ওয়াকিবহাল। ওর লেখাটার ক্যাপশনে আমি লিখেছিলাম ও খেলা করে ছায়াপথে। কিছু না জেনেই।ছবিগুলো দেখে মনে হয়েছিল ওটা ছাড়া ক্যাপশন হতেই পারে না। ব্লগটা দেখে শুভ্রনীলের মা চমকিত। কারণ। শুভ্রনীলের একটা ছবির ক্যাপশন Universe is my playground . তারমানে ট্রান্সমিট হচ্ছে। ও যেটা বলতে চাইছে সমাজ সেটা বুঝতে পারছে।ব্যাখ্যা করতে পারছে। তারমানেই আর্ট থেরাপি দিয়ে কেবল ওকে সুস্থতার পথ দেখানোতে থেমে থাকল না ওর আর্ট ওয়ার্ক। সমাজের গ্রহণযোগ্যতায় ফাইন আর্টসের পর্যায়ে উন্নীত হল শুভ্রনীলের কাজ। 
শুভ্রনীল দাস 





শুভ্রনীলের ছবি 



গতকাল বিশ্ব অটিজম দিনে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায় ওরা এসেছিল। ওরা মানে আদিত্য,উজ্জীবন,অভিষেক,বর্ষা,ঈশান, শুভ্রনীলরা। ওদের সবারই রয়েছে কমবেশি অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার। সারা জীবনব্যাপী জটিল, মানসিক ও শারীরিক পরিবর্ধনের সমস্যার সম্মুখীন ওরা। ASD বা 
অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার কোন রোগ বা মেন্টাল রিটার্ডেশন নয়। সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা , শিক্ষাব্যাবস্থা ও তাদের ঠিকমত অভ্যাস ও অনুসরণ করলে সমাজে অটিস্টিক শিশুরা অর্থপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে এরাই তার জ্বলন্ত উদহারণ। আরো অনেক উদহারণ পাবেন একটু গুগল করলেই।আলবার্ট আইনস্টাইন , মোৎজার্ট , লিউইস ক্যারোল , চার্লস ডারউইন এনারা সবাই স্ব স্ব ক্ষেত্রে নক্ষত্র , এনারা সবাই কিন্তু অটিজমকে মোকাবিলা করেই জীবন যুদ্ধে শুধু জয়ীই নন পৃথিবীকে নতুন পথের দিশা দিয়েছেন ,কারণ তাঁরা অন্য ভাবে ভাবতে পারেন। অটিজম তাঁদের কাছে প্রতিবন্ধকতা নয় অস্ত্র। একটা এজেন্ট যখন আমাদের মস্তিষ্কে দুটো আলো জ্বালে তখন সেই একই এজেন্ট ওদের মাথায় কমপক্ষে ২০টি আলো জ্বালে। অটিজমের খুব সহজ ব্যাখ্যা বোধহয় এটাই। তাই সেই জ্বলে ওঠা ঝাড়বাতিটি যে একটু অন্যরকম আলো দেবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে কি ?
এবার এক নজরে দেখে নিন ২রা এপ্রিলের সন্ধ্যেটা কিভাবে কাটালো পৃথিবী। বুর্জ খলিফা থেকে নায়াগ্রা জলপ্রপাত, হোয়াইট হাউস থেকে কুতুব মিনার , রোমান ক্যাথলিক চার্চ থেকে সিডনি অপেরা হাউস , সারা পৃথিবীর সেরা সব স্থাপত্যগুলো রেঙেছিল অটিজিমের সচেতনতার প্রচারে ঘননীল রঙে। গোটা এপ্রিল মাসটা অটিজমের মাস। জানতে হবে। তবেই ওদের সুস্থ সুন্দর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। তাই #LightUpBlue হ্যাসট্যাগও জেনারেট হয়েছে। 
গতকাল বিশ্বের সেরা স্থাপত্যের গায়ে নীল আলো
আর আমাদের রাজ্যে দারুন কাজ করে চলেছে অটিজম সোসাইটি ওয়েস্ট বেঙ্গল। অটিজম বিষয়ক কর্মশালা ,সচেতনতা বিস্তার ,বাবা মা এর প্রশিক্ষণ , মূলধারার স্কুলে অটিস্টিক শিশুদের যোগদান থেকে পেশাগত প্রশিক্ষণ সবেতেই ASWB সাহায্য করতে হাত বাড়িয়ে রেখেছে। ধরবেন নাকি ওদের হাত মুঠোটা কিন্তু শক্ত বেশ। 
ওঁনাদের সাথে যোগাযোগ করুন। 
Autism Society Of West Bengal
D/1/1A Katjurnagar, Kolkata -700032
Tel 033 54581576
Mobile 9830139173
e mail : autismsocietywb@gmail.com
web: www.autismsocietywb.org

চলুন না সবাই মিলে নীলের প্রসার প্রচারে সামিল হই। আর যদি হাতে সময় থাকে তো চলে জান গগনেন্দ্র প্রদর্শালায় আজই সামনে থেকে দেখে প্রথমে অবাক হোন তারপর পিঠ চাপড়ে দিন ক্ষুদেগুলোকে আর কুর্নিশ জানান ওদের অভিভাবকদের। কী অসাধ্যটাই না সাধন করছেন ওরা। তাইতো আজ ওরা অ-সাধারণ, মুক্ত আকাশেই ওদের ব্যপ্তি গোটা পৃথিবী জোড়া ওদের রং গোটা আসমান জোড়া ওদের ক্যানভাস। 









  





Friday, March 30, 2018

শুভ্রনীলের মধ্যে নীহারিকার বাস,ও যে খেলা করে ছায়াপথ জুড়ে | Subhranil A Wonder Kid | Artist of Bengal

ঈশানকে মনে আছে? ঈশান নন্দ কিশোর আওয়াস্তি। তারে জমিন পর এর আট বছরের সেই কিশোর বর্ণমালার অক্ষরগুলো যার চোখের সামনে এসে নাচত অবিরাম। অঙ্কের সংখ্যাদের কাল্পনিক নাচ যার উত্তর গুলিয়ে দিত। ডিসলেক্সিয়া ডিসঅর্ডারের আড়ালে চাপা পড়ে ছিল যার একটা পরিপূর্ণ শৈল্পিক সত্ত্বা। সবাই তাকে ভুল বুঝত। বাবা, মা, দাদা, স্কুলের টিচাররা, সব্বাই। কুঁড়ে অপদার্থ ভাবত । তাই শাস্তি হিসেবে তাকে পাঠানো হল বোর্ডিং স্কুলে। চেনা মানুষজন, চেনা পরিবেশ থেকে উপড়ে গিয়ে কুঁকড়ে গেল তার শিশু মন। তারপর কী হয়েছিল তা সবারই জানা। রাম শঙ্কর নিকুম্ভ স্যারের যাদুকাঠি বা তুলির ছোঁয়ায় বদলে গেল ঈশানের জীবনের গতিপথ। অমনোযোগী ঈশান ছবি আঁকার সাথে সাথে পড়াশোনাতেও ভাল করতে লাগল।
নক্ষত্ররা মাটিতেই থাকে শুধু তাদের খুঁজে বের করতে হয় 

তবে শুভ্রনীল দাসের নিকুম্ভ স্যার ছিল না। মা ছিল। শুধু ডিসলেক্সিয়াই ছিল না। ছিল সেন্সরি প্রসেসিং ইস্যু সম্পর্কিত হাইপারঅ্যাক্টিভিটির সমস্যা আর তারই কারণে অটিজিম ও ডিসলেক্সিয়া । কী এই সেন্সরি প্রসেসিং ইস্যু? কোন দৃশ্য, শব্দ, গন্ধ, স্পর্শের প্রতি অতিরিক্ত রিঅ্যাকটিভ হয় এই শিশুরা। কখনও আবার কম রিঅ্যাকট্ভ ও হয়।  দৃশ্য,শব্দ,স্পর্শ, গন্ধ ও স্বাদ এই সব কটি অনুভূতি ওদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে এদিক ওদিক করে দিতে পারে। বর্তমান সময়ে অনেক শিশুরই হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার এর সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু সেন্সরি প্রসেসিং ইস্যু র সাথে হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার। একটু বিরল। হয়নি এ সংক্রান্ত কোন বিস্তারিত রিসার্চ। এই রকম অবস্থায় শুভ্রনীলের লড়াইটা বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল। ক্ষুদে শুভ্রনীল হাতে পেন্সিল ধরতে পারত না। তার সাথে ছিল হাইপারঅ্যাক্টিভিটির কারণে প্রচন্ড ছটফটানি। পেশায় চিকিৎসক মা তাই ছেলেকে ছবি আঁকিয়ে সুস্থির করতে চাইলেন। কিন্তু যে পেন্সিল ধরে থাকতে পারে না হাতে সে কি করে ছবি আঁকবে !!! নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা আর মায়ের মমতা মিশিয়ে কাজ শুরু করলেন ডা: জ্যোতিশুভ্রা দাস। প্রথমে ছেলের হাতে জল লাগিয়ে সেই হাত শুকনো দেওয়ালে আলতো চাপ দিলেন। ফুটে উঠল করতলের জলছবি ! পুঁচকে মনটা আনন্দে খিলখিল করে উঠল। এরপর জলে গুলে দিলেন রঙ। ছেলেকে বললেন ওই রং ভেজা হাতের ছাপ দেওয়ালে দিতে। একটা দিগন্ত খুলে গেল। এরপর ধীরে ধীরে অভ্যাস চলল। করতল , আঙ্গুল , হাতের তালু। রঙ পেয়ে শুভ্রনীলের শ্বেতশুভ্র শৈশবের ক্যানভাসেও আনন্দের লাল,গোলাপি,নীল অনুভূতিগুলো ডানা মেলল। বাড়িতেই পাড়ার এক আঁকার শিক্ষকের কাছে ছেলের ক্লাস শুরু করলেন জ্যোতিশুভ্রা। শুধু শিক্ষককে বলে দিলেন কী ধরণের ছবি আঁকাতে হবে তাঁর ক্ষুদেটিকে। এও এক থেরাপি।
এ এক নতুন আর্ট ফর্ম 
সেন্সরি প্রসেসিং ইস্যু সম্পর্কিত হাইপারঅ্যাক্টিভিটির মোকাবিলায় আর্ট থেরাপি। আশেপাশে অনেকেই হয়ত তখন বিশ্বাস করতে পারেনি কী চমক অপেক্ষা করছে ছেলেটির আগামী জীবনে।
এদিকে বাড়িতে রবীন্দ্রসংগীত শোনার চল ছিল। তাই কিভাবে,কোন অবচেতনে যেন ওই হুড়মুড় দুর্দ্দার কাঁচামনে পাকা আসন পেতে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। হয়ত ওর বাবার রোল খেতে রাস্তার দোকানে গেছে শুভ্রনীল, দোকানদার তখনও স্টোভ জ্বালেনি।
ব্যাস শুরু হয়ে গেল , " আগুন জ্বালো
আগুন জ্বালো ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো। একলা রাতের অন্ধকারে আমি চাই পথের আলো ॥ "
কিংবা স্কুলে রাখিবন্ধন চলছে। একা গুটিয়ে বসে আছে শুভ্রনীল। মায়ের সাথে বাড়ি ফিরতে ফিরতে মায়ের কানে ফিসফিস করে সুর আসছে , " মনে করে সখি বাঁধিয়া রাখিও আমার হাতের রাখি তোমার কনক কঙ্কনে। "
জ্যোতিশুভ্রা মনে মনে ভাবলেন ঠিকই চলছে।
মা , ডা: জ্যোতিশুভ্রা দাসের সাথে শুভ্রনীল  
কে বলবে এ ছেলে বাহ্যজ্ঞানরহিত। এর মধ্যে যে নীহারিকার বাস , এ যে খেলা করে ছায়াপথ জুড়ে।
ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে শুভ্রনীল। ও এখন পেন পেন্সিল ধরতে পারে।  এই কিশোর বয়েসেই ও নিজস্ব একটা ফর্ম তৈরী করে ফেলেছে। সম্প্রতি একাডেমি অফ ফাইন আর্টসে হয়ে গেল মমার্তের সামার শো। সেই প্রদর্শনীতে ছিল শুভ্রনীলের চারটি ছবি। সিরিয়ার শিশুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে নিজের শিল্পসৃষ্টিও করল সে। অনেক দূর যেতে হবে শুভ্রনীল। তোমার পরিচয় তুমি একজন শিল্পী। আর কে না জানে শিল্পীদের মন মাপার ক্ষমতা সাধারণ মানুষদের এক্তিয়ারের বাইরে। এগিয়ে চলো বন্ধু।  ছবি গুলো দেখুন। আর এই লেখাটা শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন।  যাতে অনেক শুভ্রনীল যারা এখনো আলোর দিশা পায়নি তারা অন্তত জানতে পারে যে হয়।  চেষ্টা আর উদ্যম থাকলে অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব করা যায়।
ডানদিকের ৪টি ছবি শুভ্রনীলের আঁকা 

Tuesday, January 2, 2018

A Green Taxi Full of TOONS | Kolkata's Nature Love | CAR-TOON On The Go

"আগে শোধরাও নিজে
দেখবে তোমার রুক্ষ শহর
ধুলোর ধোঁয়ার শহর 

একদিন ঠিক বদলে গিয়ে 
সবুজ এবং ভিজে "


"দিনে দিনে মুছে যাচ্ছে যারা -

রুগিপাগল চিকিৎসক 
ছাত্রপ্রিয় সুশিক্ষক 
ভালোমানুষ ছোটধুতি 
মাথায় কালো ছাতা 
তোমায় খুঁজে পেতেই হবে 
হারানো কলকাতা"

এই লিমেরিক গুলো চোখে পড়েছে আপনার ? আমার শহরে ধাবমান এই লাইন গুলো রংরুটে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটা গাড়ি। সাদা আম্বাসাডর। ছা পোষা তার চালক। নম্বর WB 20 G 6872 আপাতত ওই লাইন গুলোর ঠিকানা এই গাড়িটাই। কার টুন।  টেনে টুনে সংসার চালান ধনঞ্জয়। ডাকনাম বাপি। পপুলার বাপি গ্রিন ট্যাক্সি নামেই। বিগত ৫ বছর ধরে সাদামাটা ট্যাক্সি তে পরিবেশ ভাবনার বার্তা ছড়িয়ে চাকা চালাচ্ছেন ব্যাপী। এবার এগিয়ে এসেছে কিছু শুভানুধ্যায়ী মানুষজন আর কার্টুনদল, বাপিকে নামমাত্র অর্থের বিনিময় এ একটি দুধ সাদা আম্বাসাডর দিয়েছেন চিত্রশিল্পী প্রদীপ  মৈত্র। সাদা আম্বাসাডর তো নয়।  

এ যেন ক্যানভাস। এগিয়ে এলেন চিত্রশিল্পী পার্থ দাশগুপ্ত ,দেবদত্ত গুপ্ত , রিদ্ধিক দত্ত ও কার্টুনদল। একদম পিকনিক পিকনিক উদ্যমে কাজ শুরু হল। উপল গানে গানে রহস্যের জাল বিস্তার করে কার টুনএর প্রমোশনাল ভিডিও তে জানালেন নতুন বছরে কলকাতা পেতে চলেছে দারুন একটা বিষয়।

শহর জুড়ে আকাশমুখি অট্টালিকা বিকেল সকাল এর রোদচোর। খালি কনস্ট্রাকশন আর প্রোমোটিং। সবুজ খুঁজতে হয় দূরবীন দিয়ে আকাশ এর নীল তো ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে এখন গ্রে। প্রশ্বাসে নেওয়া বাতাস এ ভাসমান ধূলিকণার পরিমান রোজ বাড়ছে তবু উদাসীন। সবাই। কোথায় চলেছি আমরা? প্রশ্নটা সবার মনে কিন্তু নিজের মতো করে সচেতনতার পাঠ টা যিনি শেখাতে চেয়েছিলেন সেই ধনঞ্জয় চক্রবর্তী সবুজ নিধন এর কুফলের প্রচারে এবারে পেলেন কার-টুন। ব্যাঙ্গচিত্র এমন মোক্ষম মাধ্যম যার জোর হাজার শব্দ হাজার চিত্রর চেয়েও বেশি। প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট উদয় দেবএর বার্তায় উদ্যম পেল কার-টুন। 

" কেউ শিক্ষা দিয়ে যায় , কেউ শিখিয়ে দিয়ে যায় I যার বা যাদের হারাবার কিছু নেই, তারাই বোধহয় খোলস থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কিছু করতে চায় I যাদের লোভ কম ,তাদের সাহস বেশি I সেই রকম মানুষ যারা কোনো দিনই কোনো কিছুকে নিজের বলেই দাবি করে না , আঁকড়ে থাকতে না থাকতে চায় না , সেই সকল অন্য মানুষদের জীবনে সম্পদ শুধু একটাই , যা তাঁরা আজীবন ধরে সঞ্চয় করে I আত্মসম্মান I এমনই একজন অন্য রকম মানুষ বাপি দা I আমাদের সকলের বাপি দা I যার নুন আনতে পান্তা ফুরোয় I বৃষ্টি হলেই আকাশের সাথে সাথে বাড়ির ছাদ ফুটো হয়ে টপ টপ করে জল পড়ে I আর জল পড়লেও বা কি , বাপি দার একদিন ও ভুল হয় না পাখিদের জন্য মাটির মালসাতে করে জল ধরে রাখতে I সারা দিন ঘ্যান ঘ্যান..... ' আচ্ছা বলতো দাদা , নতুন আর কি করা যায় !" " একটু ছবি আঁকা শেখাবে ?" "আমি সব সময় তো কিছু না কিছু ভেবেই চলেছি , আঁকতে গেলে আমার ভাবনাটাকে আর ছবির মাধ্যমে ফোটাতে পারি না " I এরম ঘ্যান ঘ্যান আর শোনা যায় না I এরম ভাবে আর বিরক্ত করে না কেউ ,কাউ কে I যুক্তি আর তক্কো কিন্তু সব সত্যি গপ্পো I স্বপ্ন সত্যি হতে দেখতে কে না ভালোবাসে ? আমরা, কার্টুনদল চেষ্টা করেছিল বাপি দার স্বপ্নকে ভাগ করে নিতে I কেউ ডাক্তার ,কেউ আই টির প্রোগ্রামার , কেউ নৃত্য শিল্পী, কিন্তু এদের সকলের স্বপ্নের সাথে বাপি দার স্বপ্নের রং মিলে যায় ,অন্য রকম কিছু করতে হবে I ছবি আঁকতে হবে I ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের প্রতিভা দেখে সকলে মুগ্ধ . দেবদত্ত দা(গুপ্ত ) , প্রদীপ দা (মৈত্র ).হিরণ দা (মিত্র ), অনুশ্বেতা, ঋদ্ধিক, পিয়ালী ,রজতেন্দ্র, ছোটু , সায়ন্তিকা , সংহতি , সম্প্রীতি , সকলেই বাপিদার স্বপ্ন ছোট ছোট করে ভাগ করে নিয়েছিলেন I নতুন বছরে আরও রঙিন স্বপ্নের জন্য সকলে অপেক্ষায় আছে প্রিয় বাপি দা I 
ভালো থেকো I "

হৈ হৈ করে নতুন বছরের প্রথম দিন এ রাস্তায় ছুটলো কার-টুন যার ভিতরে বাইরে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা। আশা সাধারণ মানুষ ,শিশুরা এসব দেখে অন্তত বুঝবে একমাত্র প্রকৃতিই পারে আমাদের বাঁচাতে তাই সবুজ প্রকৃতিকে কোনো ভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।    



 শহরের পথে কার-টুন 



বাপিদার সবুজ রথ 
এত দিন পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়েছেন এই ট্যাক্সিতেই 


এই দারুন কর্মকাণ্ডের সব লাইভ ভিডিও ও পোস্টের লিঙ্ক নিচে দেওয়া হল। 








লেখাটির তথ্য ঋণ শ্রী উদয় দেব এর ফেসবুক পেজ...




Do Share your VIEWS and REVIEWS in the comment box below.

Follow me in facebook https://www.facebook.com/nandan2017/
                       twitter https://twitter.com/Nandanpaul

Saturday, March 21, 2015

খ্যাপার মন বৃন্দাবন

পেন নিয়ে কাগজে কাটাকুটি হিজিবিজি, এলোমেলো অক্ষর গুলো কি যে করে! আর আমি মনে মনে বলি "কি যে করি মন যেতে চায় তাই" । এমন এক নষ্ট সময়ের বিচ্ছিন্ন ফসল।