Saturday, January 9, 2021

ওদের সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং শেখাতে হয় না



রোনা আবহে সামাজিক দূরত্ব বা দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখা আমাদের ক্ষেত্রে দুষ্কর হয়ে পড়ছে। বারে বারে লকডাউন করে নানান রকমের প্রচার করে সরকার থেকে বেসরকারি সংস্থা সকলেই জোর দিচ্ছে দৈহিক দূরত্ব বা ফিজিক্যাল ডিসটেন্সিং বজায় রাখার জন্য। নিয়ম করা হচ্ছে। নিয়ম ভাঙলে শাস্তির বিধানও জারী হচ্ছে। তবুও আনলক এরপর আর লক ডাউনের আগে বাজারে ভিড় বাড়ছে। দূরত্ব বিধীকে শিকেয় তুলে মানুষ বাঁচার রসদ খুঁজছে। কিন্তু ভাবলে অবাক হবেন মানুষ ছাড়া বেশ কিছু সমাজবদ্ধ প্রাণী অসুস্থ হলে দৈহিক দূরত্ব বজায় রাখে। প্রকৃতি তাদের শিখিয়ে দেয় এই পাঠ ।


পিঁপড়ে, মৌমাছি, বানর, বনমানুষ, বাদুড় ও ইঁদুরের ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণ দেখে চমকে গিয়েছেন জীববিজ্ঞানীরা। এদের আচরণ এর অনেকগুলোই হয়ত মানুষের সঙ্গে মিলবে না কিন্তু অসুস্থতা দূরত্ব বজায় রাখার অভ্যাস যে প্রকৃতি থেকেই শেখা তা হয়ত বোঝা যাবে ।

ব্ল্যাক গার্ডেন অ্যন্ট বা কালো পিঁপড়েদের শ্রমিক পিঁপড়েরা অনেক সময় মেটারহিজিয়াম ব্রুনিয়ম ফাংগাসের দ্বারা আক্রান্ত হয় । ওই ফাংগাসে আক্রান্ত হওয়ার একদিনের মধ্যেই আক্রান্ত শ্রমিক পিঁপড়েটি দিনের অধিকাংশ সময়ই তার বাসার বাইরে কাটাতে থাকে। তাছাড়া কলোনির অন্যান্য পিঁপড়েদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ সে কমিয়ে ফেলে ।


আমেরিকান ফাউলব্রুড ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হয় মৌমাছির লার্ভা। আক্রান্ত লার্ভার গা থেকে দু'ধরনের ফেরোমোনের গন্ধ পাওয়া যায়। একটি স্বাভাবিক ফেরোমন অপরটি আক্রান্ত হওয়ার কারণে একটি বিশেষ ধরনের ফেরোমোন। এই মিশ্রিত গন্ধ যেই পূর্ণাঙ্গ শ্রমিক মৌমাছিরা পায় তারা তৎক্ষণাৎ ওই আক্রান্ত লার্ভা টিকে অপসারণ করে। তাকে তুলে নিয়ে মৌচাকের বাইরে ফেলে দেয় । আমেরিকান বুল ফ্রগের ব্যাঙাচিরা একটি ভয়ঙ্কর ফাঙ্গাস ইনফেকশন চিনে ফেলতে অসম্ভব পটু । ক্যানডিডা হিউমিকোলা নামক ওই ছত্রাকে আক্রান্ত ব্যাঙাচিদের সযত্নে এড়িয়ে যায় সুস্থ ব্যাঙাচিরা ।


ওয়েস্টার্ন লোল্যান্ড গরিলারা দলবদ্ধভাবে থাকে। তাদের দলের মহিলারা বারেবারে দল পরিবর্তন করে এক দল থেকে অন্য দলে যাতায়াত করে। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে এই মহিলা গরিলাদের দল পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হল ইয়জ নামক এক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। ওই রোগাক্রান্ত গরিলাদের মুখে এক ধরনের ঘা হয়। ওই ঘা দেখেই মহিলা গরিলা পুরুষ সঙ্গীকে ছেড়ে সুস্থতর কোন দলে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ৬০০ টিরও অধিক গরিলার ওপর গবেষণা চালিয়ে প্রাণী বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। দেখা গিয়েছে ইয়জ ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত পুরুষ গরিলাদের থেকে সুস্থ মহিলা গরিলারা দূরে সরে গেছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে গরিলারা বুঝে গেছে রোগটি সংক্রামক।


শিম্পাঞ্জিদের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে পোলিও আক্রান্ত শিম্পাঞ্জিকে একঘরে করে রেখে দেয় বাকি শিম্পাঞ্জিরা। আবার আক্রান্ত শিম্পাঞ্জিটি সুস্থ হয়ে গেলে তাকে দলে ফেরত নেওয়া হয়।


ম্যানড্রিল গীবনদের দিনের অধিকাংশ সময়ই কাটে একে অপরের লোম আঁচড়ে দিয়ে। দু'বছর ধরে ২৫ টি ম্যানড্রিল গীবনকে নিয়ে চালানো একটি নিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে পরজীবী আক্রান্ত ম্যানড্রিল গীবনদের তাদের সঙ্গীরা ততটা আদর যত্ন করছে না।

ভ্যাম্পায়ার ব্যটের বেঁচে থাকতে গেলে প্রতিদিন অন্তত এক চামচ রক্তের প্রয়োজন খাদ্য হিসেবে। পরপর তিনদিন যদি ওই রক্তের জোগান না পায় ভ্যাম্পায়ার ব্যাট তাহলে তারা মারা যায়। এরা অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী এবং একে অপরের খাদ্য বন্টন ও গা চুলকে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু দেখা যায় যদি কোন ভ্যাম্পায়ার ব্যাট অসুস্থ হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে সে নিজেকে অন্য বাদুড়দের থেকে আলাদা করে রাখে এবং তাদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খায় না।


২০১৬ য় ইঁদুরের উপর একটি পরীক্ষা করা হয়। ব্যাকটেরিয়ার লাইপো স্যাকারাইড একটি ইঁদুরের গায়ে ইনজেকশন দিয়ে তাকে রেডিও কলার পরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। দেখা যায় ওই ইনজেকশন এর ফলে লাইপো স্যাকারাইডের প্রভাবে ইঁদুরটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ওই অসুস্থ ইঁদুরকে তার দলের অন্য ইঁদুর রা দূরে সরিয়ে না দিলেও অসুস্থ ইঁদুরটি অন্য অসুস্থ ইঁদুরদের থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখে।

ইউল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এর মতে প্রাণীরা শিকার ধরা ও শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য তাদের দৈহিক গঠনে নানা রকম পরিবর্তন ঘটিয়ে কালক্রমে অভিযোজিত হয়ে বিবর্তিত হয়েছে। একইভাবে রোগ সংক্রমণের ফলে দৈহিক ক্ষতি বা মৃত্যু আটকাতেও তাদের ব্যবহারের মধ্যে নানান রকম পরিবর্তন এসেছে। আমাদের যে অভ্যাস সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও আইন প্রশাসন জোর করে শেখায়, প্রাণী জগতে অনেক প্রাণীই শুধুমাত্র বাঁচার তাগিদে ও পৃথিবীতে অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে সেই আচরণ অভ্যাস করে আসছে যুগ যুগ ধরে।

কেমন আছো মন ?



শটা মাস প্রায় কেটে গেল করোনাকে সঙ্গে করে। আর দু মাস পরে একটা বছর ভাইরাসের সঙ্গে ঘর। পালা করে লক ডাউন আনলকের আবর্তে ধীরে ধীরে বাড়ির বাইরে পা রেখেছে নিউ নর্মাল ভারতবর্ষ। আর পা রেখেই দেখেছে অনেকটাই বদলে গেছে তার চারপাশ, চেনা রাস্তাঘাট, অফিস, বাজার, দোকানপাট সবকিছু। বদলে গেছে তার গ্রহণীয়তা, বদলে গেছে সম্পর্কগুলোও। বদলে যাওয়া এই দিনকালে অতিমারিতে যে হয়ত সে বেঁচে 

গেছে; কিন্তু কবলে পড়ছে এক নিঃশব্দ ভয়ঙ্কর মানসিক অবস্থার। লক ডাউনে অনেকের গিয়েছে চাকরি, অনেকের বেতন সংকোচন হয়েছে কিন্তু সংকুচিত হয়নি দৈনন্দিন খরচগুলো। তার ওপর বেড়েছে বৈ কমেনি কোভিডে সংক্রমণের আশংকা। এখন তো আবার নতুন স্ট্রেইনের চোখ রাঙানি। মানুষ গুটিয়ে গেছে নিজেরই বানানো খোলসের মধ্যে। ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করেছে দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, দিশাহীনতা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদ ও শেষ পর্যন্ত ভীষণ ভাবে আঁকড়ে ধরেছে আত্মহননের প্রবণতা।

সারা দেশে করোনার সংক্রমণ প্রায় ১কোটি ৪ লক্ষেরও বেশি।  করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দেড় লক্ষের মত। এই তথ্য যতটা না উদ্বেগজনক তার চেয়েও ঢের আশংকা হল লক ডাউনের ফলে বিভিন্ন সংস্থায় কর্মী সংকোচনের ফলে সৃষ্টি হওয়া বেকারত্ব, ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি, ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবসায়িক সংস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া, আর্থিক সঙ্কট, আর্থিক মন্দা আর সামান্যতম অসুস্থতায় চাপা মানসিক উদ্বেগ। এর ফলে এমন একটা অন্ধকার গুহার মধ্যে ঢুকে পড়েছে জনজীবন যে গুহার অন্য প্রান্তে নেই কোনও সঠিক আলোর দিশা। এই অনিশ্চয়তার দোলাচলে চরম আকার নিচ্ছে উদ্বেগ। দিল্লীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা একটি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের মতে যে ব্যাক্তি অতিমারির আগে হয়ত মৃদু উদ্বেগে আক্রান্ত ছিলেন এই সাড়ে ১০ মাস সময়ের ব্যবধানে দেখা যাচ্ছে তারই মধ্যে তীব্র ভাবে দানা বেঁধেছে প্রচণ্ড উদ্বেগ প্রবণতা। আর উদ্বেগ যত বাড়ছে ততই বাড়ছে নিজেকে আঘাত করা বা আত্মহত্যার ঝুঁকি।

সারা দেশের কিছু তথ্য যা চিন্তা বাড়াচ্ছে সমাজ বিজ্ঞানী ও মনোবিদদের

গুজরাটের একটি অ্যাম্বুলেন্স সংস্থা যারা শুধুমাত্র আপাতকালীন এমারজেন্সি পরিষেবা দেন ও একই সাথে মনোরোগীদের একটি হেল্পলাইন চালান তাঁদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল, মে, জুন এবং জুলাই এই ৪ মাসে তাঁরা ৮০০টি আত্মহননের প্রচেষ্টা এবং ৯০টি আত্মহত্যার ঘটনার খবর পেয়েছেন। একই সাথে ওই সংস্থার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী লক ডাউনের প্রথম ৫ মাসে তাঁরা ১৪২টি ফোন কল পেয়েছেন সেই সব অবসাদগ্রস্ত মানুষদের থেকে যারা তাঁদের জীবন শেষ করে দিতে চান।

বেঙ্গালুরুতে আবার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে যে সমস্ত মানুষদের তাঁদের মধ্যে জমাট হতাশায় বেড়েছে আত্মহননের প্রবণতা।

ডিপ্রেশন বা অবসন্নতা এবং অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি তে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৭০% 

পানিপথে নব বিবাহিত এক দম্পতি( আভেদ ও নাজমা ) গলায় দড়ি দিয়ে শেষ করেছে নিজেদের জীবন। অথচ মাত্র একমাস আগে বিয়ে করেছিল তারা।

বাড়ি ফিরে এসে উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী শ্রমিক রামবাবু ও ছোটকু কাজের জন্য হন্যে হয়ে ঘোরে। কে দেবে কাজ? অতএব জীবন শেষ করে ফেলে তারা।

উত্তরপ্রদেশেরই আর একটি ঘটনা মর্মান্তিক। লক ডাউনে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় বিবেক নামক এক ব্যবসায়ীর। অভাব, দিশা হীনতা ও উদ্বেগে বিবেক তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে মেরে নিজেও আত্মঘাতী হয়।

দেশের রাজধানী দিল্লিতে দুই ভাইয়ের ঝুলন্ত দেহ একটি গয়নার দোকানে পাওয়া যায়। তাদের সুইসাইড নোটে তারা লিখে গেছে ব্যবসায়ে চরম মন্দা ও ক্ষতি তাই আত্মহতার পথ বেছে নিল তারা।

ওড়িশায় ৫০ বছরের একজন মানুষের ভাইপো করোনা আক্রান্ত হয়। এই খবর শোনার পর তিনি নিজের আক্রান্ত হওয়ার আশংকায় একটি কুয়োতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এতটাই সুতীব্র হয়ে উঠেছিল উদ্বেগ ও মানসিক চাপ।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ জ্বর বা সর্দি কাশি হলেও রোগীদের মধ্যে দানা বাঁধছে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ভয় ও তার সাথে জড়িত সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ। বন্ধ রোজগারের পথ, বন্ধ ছাত্রদের শিক্ষা, ভবিষ্যতে সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি, বিবাহের চিন্তায় অন্ধকারে ভারতবর্ষ। একই সাথে চিন্তা বাড়াচ্ছে ব্যাঙ্কের ইএমআই, প্রতি নিয়ত কমতে থাকা সঞ্চয়, একই সাথে গৃহবন্দী থাকার ফলে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ।

আশার আলোও আছে

বড়দের হচ্ছে অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার আর গৃহবন্দীত্বে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আবেগ হচ্ছে আহত। তাই বিশেষজ্ঞ মনোবিদরা অভিভাবকদের বলছেন শিশুদের সঙ্গে সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ হতে। বিভিন্ন সংস্থা তাদের কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নানা রকম কার্যক্রম শুরু করেছে সেগুলিতে অংশগ্রহণ করতে।

মুম্বাইতে শুরু হয়েছে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর ৩০ দিনের একটি ক্র্যাশ কোর্স । উদ্দেশ্য যাতে সাধারণ ডাক্তারবাবুরাই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক চিকিৎসাটা দিতে পারেন।

দেখা যাচ্ছে ৩০% কোভিড আক্রান্তরা মানসিক ডিসঅর্ডারের শিকার হচ্ছেন তাই অরুনাচল প্রদেশ সরকার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিতে মানসিক চিকিৎসার জন্য সাইকিয়াট্রির বিভাগ খুলেছে। সেখানে রোগীদের মৃদু অনিদ্রা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপের লক্ষণ দেখা দিলেও হচ্ছে তার চিকিৎসা।

কেরালায় জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের উদ্যোগে চালু হয়েছে হেল্প লাইন। অবসন্ন মানুষ ফোন করলে তার প্রাথমিক কাউন্সেলিং করে তার এলাকার জেলা মানসিক স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে দেওয়া হচ্ছে পরবর্তী চিকিৎসার দায়িত্ব।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিজের মধ্যে চাপ জমতে না দেওয়া। সুস্থ জীবনযাপন, পরিবারের ও বন্ধুদের সঙ্গে নিজের সমস্যা নিয়ে কথা বলা। এবং মানসিক চাপ, উদ্বেগ, আশংকা বাড়লেই ডাক্তার বা হেল্প লাইনে কল করা।

হাল ছেড়ো না বন্ধু

জীবন তো একটাই এত সহজে হেরে যাবে তুমি মন? তোমার মন খারাপ হলেই বন্ধুকে ডেকে বলো "কেমন আছ?" তার কথা শোনো না একটু,  তোমার কথাও বলো তাকে। যেমন ভাবে ক্লান্ত আকাশকে সন্ধ্যে গল্প শোনায় সেভাবে গল্প করো। অনেক কষ্টতেও দেখবে ভাল লাগবেই।

Friday, October 2, 2020

Tuesday, September 22, 2020

ডেটলাইন ২১ সেপ্টেম্বর এবং...

 কর্মজীবনের শুরুটা হয়েছিল তৎকালীন অবিভক্ত মেদিনীপুরে। ফলে সংবাদ মাধ্যমের বেশ কয়েকজন বন্ধু বান্ধব আছেন সেখানে। তাদের মধ্যেই কয়েকজনের জন্য ২০০৬ এর ২১ সেপ্টেম্বর মারাত্মক চিন্তায় কেটেছিল দিনটা। সেদিন মেদিনীপুরের লালগড়ের ঝিটকার জঙ্গলে ঘটেছিল এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। বন্ধু সৌম্যেশ্বর,সঞ্জীব এবং আরও কয়েকজন মারাত্মক আহত হন সেই দিন।


জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বাজেয়াপ্ত করা আইইডি ল্যান্ড মাইন নিস্ক্রিয় করার কথা ছিল সেইদিন। আর সেইমত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির কভারেজে গিয়েছিলেন অপু(সঞ্জীব) , সুমন, সোম( সৌম্যেশ্বর), দেবনাথ, অরুন দা রা। সব ঠিকঠাক চলছিল। ল্যাণ্ড মাইন ডিফিউজ করা শুরু হয়েছে। ক্যামেরা রোল করেছে। পুলিশ কর্মী দেখাচ্ছেন কিভাবে কাজটি করেন তাঁরা। হঠাৎ গগন বিদারী আওয়াজ। মারাত্মক আহত সোম আর অপু।

সোম বরাবর দারুণ ফ্রেমের জন্য যা খুশি তাই করত। বিস্ফোরণে ওই বোমার স্প্লিণ্টার ওর মুখে লাগে। একটা চোখ বাঁচিয়ে দিয়েছিল ক্যামেরা টা। অন্য চোখটা কেড়ে নিয়েছিল।

অপুর সারা গায়ে লেগে ছিল বোমার স্প্লিণ্টার। দুমাস শয্যাশায়ী হয়ে ছিল হাসপাতালে। আরও বন্ধুরাও আহত হয়েছিলেন।

আর ওই পুলিশকর্মী যিনি নিস্ক্রিয় করছিলেন আইইডিটি, তিনি মারা গিয়েছিলেন বিস্ফোরণের তীব্র অভিঘাতে।

সে দিন ওই ঘটনার পর যখন ওদের কোনও খবর পাচ্ছি না তখন প্রচণ্ড উৎকণ্ঠায় কাটছিল দিনটা, কলকাতায় আমিও সেদিন অ্যাসাইনমেণ্টে। সারাটা দিন কাজে মন দিতে পারিনি।

বারবার মনে পড়ছিল মেদিনীপুরে থাকাকালীন পঞ্চুর চকের নিত্ত নৈমিত্তিক আড্ডা। যে যার অ্যাসাইনমেণ্ট শেষ করে অলিখিত প্রেস ক্লাব, পঞ্চুর চকে এসে জুটত। কত আড্ডা হত- পেশগত, ব্যক্তিগত, সিরিয়াস, হালকা। সব যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল।

কাট টু

বাংলাদেশ গিয়ে আলাপ হয়েছিল জহিরুলের সঙ্গে। ওখানে যতবার কভারেজে গিয়েছি ওর সাথে সখ্যতা বেড়েছে। জহিরুল (জনির) হঠাৎ বেশ কিছুদিন কোনও ফোন নেই, ফেসবুক আপডেট নেই কী খবর? জানা গেল রাবার বুলেট লেগেছে ওর হাতে। উত্তাল জনতার বিক্ষোভ কভার করছিল ও। দুমাস হাসপাতালে। তারপরেও ঢাকায় অন্য একটি বহুল আলোচিত আন্দোলন কভার করতে গিয়ে ভিড় থেকে উড়ে আসে ককটেল বোম,পুলিশকে লক্ষ্য করে। পুলিশের ঠিক পিছনে ক্যামেরায় চোখ রাখা জনির লিভারের একটু ওপরে এসে ফাটে সেই "ককটেল"। সে চোট কাটতেও সময় লাগে বেশ কিছু দিন ।

কাট টু

ছোট আঙারিয়া, গড়বেতা, কেশপুর নিয়ে উত্তাল মেদিনীপুর তখন রোজই সংবাদ শিরোনামে। আমাদের গাড়ির চালক ছিলেন যিনি তাঁর পিতৃদত্ত নামটাই জানতাম না। সবাই ডাকত "হণ্ডা দা" বলে। একদিন অ্যাম্বাসেডরের বনেটে বসে পা এর ওপর পা তুলে সেই প্রবীণ সারথি হণ্ডা দা বলেছিলেন, "দেখো বাবা আমরা খবর করতে এসেছি খবর হ'তে নয়"।

আজকের দিনে আর প্রাসঙ্গিক মনে হয় না ওই কথাগুলো। যখন দেখি বিপন্ন সহকর্মীদের ছবি বিজ্ঞাপন হয়। যখন দেখি কোমর জলে বা গলা জলে দাঁড়িয়ে কাজ করাটা অর্ডার অফ দ্যা ডে হয়।

একটু কি সিনেম্যাটিক হতে পারে না আমাদের মিডিয়ার শট ডিভিশন? গঙ্গায় জল উঠলে বা নামলে একটা বড় টাইমল্যাপস হয়ত ১০ সেকেণ্ডে আট ঘণ্টার গল্প বলতে পারত। যদি একটা স্টেডিয়াম তৈরি বা একটা বীজের অঙ্কুরোদগম দেখানো সম্ভব হতে পারে তাহলে জোয়ার ভাঁটা তো বাচ্চো কা খেল!

কিংবা একটা ড্রোণ উড়ে এসে যদি বিদ্ধস্ত আর্তদের জলমগ্ন স্কুলবাড়ি বা উঁচু দাওয়ায় ধরে তাহলে সেই হোভার শট হাজার শব্দকে থামিয়ে এক জোরালো প্রতিশব্দ রাখতে পারে জীবনের।

অথচ আজও বিপন্ন হতে হয় আমার আমাদের বন্ধু, ভাইবোনদাদাদিদিসম চিত্রগ্রাহকদের, সংবাদকর্মীদের। অথচ একটা সঠিক, একটা সেরা মুহূর্তের খোঁজে আমরা ভিউ ফাইণ্ডারে এক একটা জীবন অতিবাহিত করি। ক্যামেরাকে সন্তান সম আদরে সামলে রাখি। ক্যামেরাকে প্রেয়সীর মত আলিঙ্গন করি। পড়লে ক্যামেরাকে বুকের ওপর নিয়ে পড়ি। উঠলে ক্যামেরা মাথার ওপর নিয়েই উঠি, সব সমস্যা, প্রতিকুলতা, সমালোচনার ঊর্ধ্বে। অথচ...

কাট ইট (কী যাতা করে চলেছ তখন থেকে এসব কেউ দেখে নাকি? লেখে নাকি? শোনে নাকি? বলে নাকি? স্টপ ইট। প্যাক আপ... )  

Monday, September 21, 2020

নিঃস্বকর্মা

 


মেচেদার প্রসেঞ্জিত মণ্ডলের বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। নিয়মিত ওষুধ পথ্য চলত। ওষুধ শেষ হয়ে গিয়েছিল তাই বাড়ির একমাত্র রোজগেরে ছেলে প্রসেঞ্জিতকে তার বাবা বলেছিলেন ওষুধটা আনতে। পকেটে একটাও পয়সা ছিল না। বেতন বকেয়া। দিশাহীন,নিরুপায় প্রসেঞ্জিত অসহায় হয়ে মেচেদা টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ভিতরই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন।

১১ মাস বেতন না পেয়ে লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালে বাড়ি ফেরার সময় চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করেন সুশান্ত প্রামাণিক।

একই ভাবে আলিপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জের সুজয় দাসও আত্মহননের পথ বেছে নেন। ওনারা সবাই ছিলেন বিএসএনএলের ঠিকা শ্রমিক।

এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ১৪ জন বিএসএনএলের কর্মী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তার মধ্যে ১১জনই এই বাংলার। কেন আত্মহত্যা করছেন একসময়ে ভারত সরকারের টেলিকম দপ্তরের আওতায় থাকা কর্মীরা?

তথ্য বলছে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা বিএসএনএল গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ৭৮,৫৬৯ জন কর্মীকে ভিআরএস দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের ব্যায়ভার ১২০০ কোটি টাকা থেকে ৩০০ কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? ঠিকা শ্রমিকদের বকেয়া এখনও কেন মিটছে না? কেন স্থায়ী কর্মীরা দুমাসে একবার করে বেতন পাচ্ছেন? কোনও সদুত্তর নেই।

এই লক ডাউনের মধ্যে অন্যান্য বেসরকারি টেলিকম সংস্থা গুলি যেখানে চাপের মুখে পড়েছে গ্রাহক ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেখানে বিএসএনএলের গ্রাহক বেড়েছে ২,০০,০০০ এর ও বেশি। শুধু তাইই নয়। লক ডাউন ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিমাসে ১৪০০ থেকে ১৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে বিএসএনএল। তবুও কেন থাকছে এমন দুর্দশা?

বেসরকারি টেলিকম ও মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করে থাকে বিএসএনএলেরই ইনফ্রাস্ট্রাকচার। এর বাবদ ওই সংস্থা গুলো থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে কেন্দ্র সরকার। বেশ কিছুদিন অনাদায়ী হয়ে পড়েছে কেন্দ্র সরকারের প্রাপ্য সেই অর্থ। সম্প্রতি দেশের শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল ওই বেসরকারি টেলিকম সংস্থা গুলি। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছেন ওই বকেয়া মেটানোর সময়সীমা আগামী ১০ বছর বর্ধিত করা হল।

তার ওপর বিএসএনএলে 4G নেটওয়ার্ক যুক্ত করবার বিষয় টিকে এখনও মঞ্জুর করল না টেলিকম দপ্তর। বিএসএনএলের কর্মীদের সংগঠন বিএসএনএল এমপ্লয়িজ অ্যাসোশিয়েসনের পক্ষে এ নিয়ে লাগাতার আন্দোলন চলছে। সংগঠনের পক্ষে অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়, অনিমেষ মিত্ররা বলছেন এখন দ্বিমুখী আন্দোলন চালাতে হচ্ছে , প্রথমটা শ্রমিক ছাঁটাই প্রতিরোধ একই সাথে 4G নেটওয়ার্কের সংযুক্তিকরণ।

টেলিকম মন্ত্রক দায় ঝেড়ে ফেলে বলেছে ঠিকা শ্রমিকদের বকেয়া মেটানোর কোনও দায় নেই সরকারের। এই অবস্থাতেই দিন কাটাচ্ছেন রক্তমাংসের বিশ্বকর্মারা নিঃস্ব কর্মা হয়ে।


কেন নিজের গান গাইতে পারছেন না শিলাজিৎ? কারা বাধা দিচ্ছে?

 ভাবুন তো 

বব ডিলান "ব্লোয়িং ইন দ্য উইণ্ডস" গাইতে গেলে কারও অনুমতি নিচ্ছেন, "মে আই সিং মাই সং?"
বা রজার ওয়াটার্স কিংবা মাইকেল জ্যাকসন অনুমতি নিচ্ছেন " মে আই? সিং?"
বা সলিল চৌধুরী হারমোনিয়ামের বেলো টেনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন একটা অনুমতির, তবেই তিনি গাইবেন "ও আলোর পথযাত্রী এ যে রাত্রি এখানে থেমো না।"
বা আয়ুব বাচ্চু, বা আবিদা পরভিন, বা চিস্তি বাউল, বা এ আর রহমন বা... আরও অনেক সপ্তসুরের সারথিরা অনুমতি নিচ্ছেন? "আমি কি আমার গান গাইতে পারি?????? মহাশয়, মহাশয়া"

কী ভাবছেন ভুল বকছি? একদমই নয় এমনটাই হচ্ছে। । এই শহরেই হচ্ছে। ঘোরতর ভাবে হচ্ছে, প্রতিনিয়ত, রোজ হচ্ছে।

যার সঙ্গে হচ্ছে তাঁর পাঁজরে আলপিন বিঁধে যাওয়ার মত যন্ত্রণা নিঃশব্দে রক্ত ক্ষরণ ঘটাচ্ছে লাবডুব করা হৃৎপিণ্ডে।
মন, মাথা, শরীর মশাল হয়ে জ্বলছে। নিজের লেখা সুর করা গান তাঁর কণ্ঠ হতে কারা "নিল ভুলায়ে" ?



তিনি শিলাজিৎ মজুমদার। নব্বই এর দশকে নতুন ধারার বাংলা গানকে যে সব শিল্পীরা অন্য খাতে বইয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন আজ নিজের গানের লিরিক ও সুরের কপিরাইটের জন্য খুব কষ্টে আছেন। কোনও পাবলিক পারফরমেন্সে নিজের গান গাইবার আইনত অধিকার নাকি নেই তাঁর।

নব্বই এর দশকে বেসিক বাংলা গানের ধারা বাংলা গানের ইতিহাসে না এলে কী হত তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে গবেষণা করতে পারে আগামী দিনের সাহিত্য বা সঙ্গীতের ছাত্রছাত্রীরা। সেই নতুন ধারার বাংলা গানের এক উজ্জ্বল শিল্পী গাইতে পারছেন না নিজের গান। ভাবতে পারেন 'বাজল ছুটির ঘণ্টা', বা 'ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা' বা 'প্রেম যেন ওয়েসিস' এখন শোনা যাবে না শিলাজিৎ এর কণ্ঠে! কোনও লাইভ অনুষ্ঠানে! এমন কি "ওলোলোমামা তালালামাতিনি মামাআমিতে" এই মন মাতানো ইয়ডেলিং ও আমি আপনি আর শুনতে পাব না শিলাজিৎ এর কণ্ঠে! উনি পারবেন না গান গুলি গাইতে! সুরগুলো ছাড়তে! অথচ গান গুলি তাঁরই লেখা। তাঁরই সুর করা। কী রকম কষ্ট হয় ভাবতে পারেন?
ওই যে কোভিড সংক্রমণের শুরুর সময় একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, মনে আছে? এক স্বাস্থ্যকর্মী মা তিন সপ্তাহ বাড়ি যেতে পারেন নি। তারপর তাঁর স্বামী তাদের তিন বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালের সামনে। প্রায় কুড়ি ফুট দূর থেকে মা আর মেয়ের দেখা হচ্ছে। ওই স্বাস্থ্যকর্মী মা তাঁর সন্তানকে আদর করতে পারছেন না, পাছে সংক্রমণ ছড়িয়ে যায়। অঝোর ধারায় কাঁদছে মা আর ৩ বছরের শিশু কন্যা! এ বিচ্ছেদ যেন তার সাথেই তুলনীয়। কোথাও তার চেয়েও বেশি। ওই স্বাস্থ্যকর্মী মা হয়ত এখন ফিরে পেয়েছেন তাঁর কোলে সন্তানটিকে কিন্তু আমাদের নাগরিক বাউল?

লেখকরা এক একটা অক্ষর লেখেন অনেক আদর দিয়ে, অনেক আবেগ মিশিয়ে। সুরকাররা লেখায় প্রাণ দান করেন সাত সুর বুলিয়ে বুলিয়ে। আর গায়ক সেই গানে নিজের সেরা এক্সপ্রেশনটা দিয়ে তাকে মানুষের মনে গেঁথে দেন। তাই তো গান হিট হয়। সুর হণ্ট করে। কথা ভাবায়। আর এই লেখা, সুর করা এবং গাওয়া এই তিনটি কাজ যদি একটি মানুষই করে গানটিকে অমর করে তাহলে তো সেই গান তাঁর সন্তানসম। তাঁর থেকে সেই গান কেড়ে নেওয়া তো শুধু অপরাধই নয়, পাপ।

এরকমই কাজ চলছে। আমাদের শহরে। যে মিউজিক কোম্পানির সঙ্গে আজীবন কাজ করে এসেছেন শিলাজিৎ তারাই তাঁকে কপিরাইট স্ট্রাইক করছে। শিল্পী বলছেন "১৯৯৪ এর ১ সেপ্টেম্বর আমার যে অ্যালবাম বেরিয়েছিল আমি তা গাইতে পারব না। আমার লেখা, আমার সুর, আমার চিৎকার, আমার শীৎকার, আমার আবেগ অন্যকে বিক্রি করে দিয়েছে ওই কোম্পানি, আমাকে অন্ধকারে রেখে। তাই আমি চাইলেও ওই গান গুলো গাইতে পারব না। আমার প্রভিডেণ্ট ফাণ্ড নেই, ওই গান গুলিই আমার সন্তান, আমার সম্পদ। অথচ আমাকে তাদের ছুঁতে দেওয়া হচ্ছে না। চাইলেও আদর করে গাইতে দেওয়া হচ্ছে না ওই গান গুলো।"
শুধু 'ভূমিকা'ই নয় ওনাদের সঙ্গে রেকর্ড করা সমস্ত গানেই কপিরাইট স্ট্রাইক করছে শিল্পীকে। আর সেই গানের সংখ্যাও নেহাত কম নয় ৫০এর ও বেশি।

তবে যখন সাধারণ মানুষ হেরে যায় হতাশ হয় তখনই সেই হতাশার স্তুপ থেকেই জেগে ওঠে একজন শিল্পীর সত্ত্বা। তাই বোধহয় শিল্পীদের প্রতিবাদ তাদের সৃষ্টিতে। সেই পথেই হেঁটেছেন শিলাজিৎ। তাই ১ সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে নিজের ইউটউবে শিলাজিৎ শুরু করলেন রি-ভুমিকা। প্রতিদিন গেয়েছেন ১টি করে নদিনে মোট ৯টি গান। সেই গানগুলি গাইতে গিয়ে বারে বারে কথা ও সুর পাল্টেই গেয়েছেন শিলাজিৎ। তৈরি হয়েছে নতুন এক একটা গান। ২০ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠান হল ভুমিকা রিলিজের ২৬ বছরের উদযাপনে। "ভূমিকা থেকে রিভূমিকা" শীর্ষক ওই অনলাইন অনুষ্ঠানের টাইটেল কার্ডে স্বকীয় ভঙ্গিতে শিলাজিৎ বলছেন -" আসবিস আসবিস, না আসবিস না আসবিস, আমরা থাকবিস"।

Tuesday, May 19, 2020

মাতৃভাষা-জিন্দাবাদ !! ১৯শে মে


 কথায় বলে গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না।  আজ ঐ ওপরের মানুষগুলোর কথা আমাদের স্মরণে নেই। অথচ বাংলা ভাষার জন্য ওনাদের অবদান কিংবা ১৯শে মে এর গুরুত্ব ২১ শে ফেব্রুয়ারি র চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এগার জন ভাষা শহীদের আত্মবলিদান আজ প্রায় বিস্মৃত, বাঙালি।  বাঙালি বলতে আমি পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কথা বলছি। যাঁরা ২১শের সকালে ফেসবুক টুইটার হোয়াটস্যাপে পারলে হ্যাপি ভাষা দিবস মেসেজ পাঠাতেও কার্পণ্য করেন না।  শুভ ভাষা দিবস তো মুড়ি মুড়কির মত ছড়িয়ে পড়ে সাইবার মঞ্চে। ভাষা শহীদ দের সাথে 'শুভ' শব্দটা যায় ! আহ বাঙালি ! বাহ বাঙালি ! কেন কী বলা বাঙালি ! অনেকই  খুশি হলাম বলা বাঙালি ! খুব কষ্ট হয় যখন ভাবি এই ভাষাটার, উচ্চারণের অধিকার চেয়ে বুলেটের সামনে বুক পাততেও কার্পণ্য করেন নি কিছু মানুষ।কাঁটাতারের দুই পারের বাঙালি, বাংলা ভাষার অভিমানে জীবন বিসর্জন করতেও পিছপা হন নি।  ইতিহাস সাক্ষী রেখেছে গরম সীসের আর রক্তে ভেসে যাওয়া জন্মভূমির। জন্মদাত্রী মা , ভাষাও তো মা। ভাষা আবার সেতুও।  কিন্তু সেই ভাষা যখন রাজনীতির বিষয় তখনই ঘটে বিপত্তি। 








৬০ এর দশকে আসামের বরাক উপত্যকায় বসবাসকারী বাঙালির সংখ্যা অসমের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ছিল। সেই বরাক উপত্যকার জনসাধারণের ওপর অসমীয়া ভাষাকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।  ১০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালের সেই সময়ের অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা অসমীয়াকে আসামের একমাত্র সরকারী ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। উত্তর করিমগঞ্জ-এর বিধায়ক রণেন্দ্রমোহন দাস এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ অক্টোবর প্রস্তাবটি বিধানসভায় গৃহীত হয়।

নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার তাগিদেই তারা অসমীয়কে সরকারী ভাষা মেনে নিয়ে বাংলা ভাষাকে পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন শুরু করেন ওই এলাকার বাঙালিরা । অন্য ভাষাভাষী গোষ্ঠীও বাঙালিদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করে। বরাক তীরের বাঙালীরা দৃপ্ত শপথ গ্রহণ করে যে কোন মূল্যে বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষার। আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। অসমের খাসিয়া, গারো, বোরো, মিশামী, ডিমসা, মণিপুরী, বিষ্ণুপ্রিয়াসহ সংখ্যালঘু প্রায় জনগোষ্ঠীই এতে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন প্রদান করে। এতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অসমীয়া উত্তেজিত জনতা বাঙালি অভিবাসীদের আক্রমণ করে। জুলাই ও সেপ্টেম্বরে সহিংসতা যখন উচ্চ রূপ নেয়, তখন প্রায় ৫০,০০০ বাঙালি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যায়। আরো  ৯০,০০০ বাঙালি বরাক উপত্যকা ও উত্তর-পূর্বের অন্যত্র পালিয়ে যায়।গোপাল মেহরোত্রার নেতৃত্বে এক ব্যক্তির একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কামরূপ জেলার গোরেশ্বর অঞ্চলের ২৫টি গ্রামের ৪,০১৯টি কুঁড়েঘর এবং ৫৮টি বাড়ি ধ্বংস ও আক্রমণ করা হয়; এই জেলা ছিল সহিংসতার সবচেয়ে আক্রান্ত এলাকা।
এই অন্যায়ের প্রতিবাদে বরাক উপত্যকায় তৈরী হয় কাছাড় গণ সংগ্রাম পরিষদ , ১৯৬১ র ৫ ই ফেব্রুয়ারি। ২৪শে এপ্রিল থেকে ২রা মে অসমের ২০০ মাইল ব্যাপী একটি পদযাত্রার আয়োজন করে ওই পরিষদ।  গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার চালাতে থাকেন পরিষদের যুবকরা । পদযাত্রার শেষে পরিষদের মুখ্যাধিকারী রথীন্দ্রনাথ সেন ঘোষণা করেছিলেন যে, যদি ১৩ এপ্রিল,১৯৬১ সালের ভিতর বাংলাকে সরকারী ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা না হয়, ১৯ মে তে তাঁরা ব্যাপক হরতাল করবেন। ১২ মে তে অসম রাইফেল, মাদ্রাজ রেজিমেন্ট ও কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী শিলচরে ফ্ল্যাগ মার্চ করেছিল। ১৮ মে তে অসম পুলিশ আন্দোলনের নেতা নলিনীকান্ত দাস, রথীন্দ্রনাথ সেন ও বিধুভূষণ চৌধুরী (সাপ্তাহিক যুগশক্তির সম্পাদক) কে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও গ্রেফতার হন ছাত্রনেতা নিশীথরঞ্জন দাস| ভাষা আন্দোলনের ডাক গোটা কাছাড়ের চেহারা পাল্টে দিয়েছিল | তাই এ গ্রেফতারে প্রত্যেকটি জনপদ গ্রাম যেন বিক্ষোভে আরও ফুঁসে উঠল। সহস্র বলিষ্ঠ কণ্ঠে আওয়াজ উঠল মাতৃভাষা-জিন্দাবাদ। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য গোটা কাছাড় প্রস্তুত হয়ে রইল।
শিলচর ,করিমগঞ্জ , হাইলাকান্দিতে ব্যাপক হরতাল ও পিকেটিং শুরু হয় ১৯শে মে ১৯৬১র সকাল থেকে।  স্থির করা হয়েছিল বিকেল চারটের ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর উঠবে হরতাল ও পিকেটিং। সকাল থেকে একটিও টিকিট বিক্রি হয় নি তখনকার তারাপুর, বর্তমানের শিলচর স্টেশনে। বিমান বন্দরের রানওয়ে তে শুয়ে পড়ে সত্যাগ্রহীরা , অফিসের সামনেও পিকেটিং করেন তাঁরা। জারি হয় ১৪৪ ধারা। 








দুপুর আড়াইটে- কাটিগোরার কাছে ৯ জন আন্দোলনকারীকে  গ্রেপ্তার করে একটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তারাপুর স্টেশনের পিকেটিংকারীদের তীব্র অবরোধের মুখে পড়ে ওই ট্রাকটি। ভয় পেয়ে ড্রাইভার ট্রাকটি নিয়ে পালতে গেলে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ ট্রাকটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণ করে দমকল। এরপর দমন ও উৎপীড়ন চরমে ওঠে। 
দুপুর ২টো ৩৫- প্যারামিলিটারী বাহিনী লাইনে শুয়ে থাকা ও স্টেশনে অবরোধকারীদের বন্দুক ও লাঠি দিয়ে মারা শুরু করে. এরই মধ্যে চলে গুলি। সাত মিনিটে ফায়ার হয় সতেরটি বুলেট, আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে। বারো জনের দেহে লাগে গুলি। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৯ জন। ২জন বীরেন্দ্র সূত্রধর ও সত্যেন্দ্র দেব পরে. ২১শে মে মারা যান। সারা বিশ্বের ভাষা আন্দোলনের একমাত্র নারী শহীদ কমলা ভট্টাচার্য তখন সবে মাধ্যমিক দিয়েছেন , রেজাল্ট প্রকাশিত হয় নি।  ষোল বছরের তরুণীর ডান চোখের তলা দিয়ে মাথা ফুঁড়ে দেয় একটি বুলেট।  

২০শে মে শিলচরের জনগণ ভাষা শহীদদের শবদেহ নিয়ে শোকমিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের ঝাঁঝে সরকারী ঘোষণা আসে।  বরাক উপত্যকার ভাষা হিসেবে বাংলা সরকারী স্বীকৃতি পায়। 

ছাত্র সমাজের ডাকা এক আন্দোলন গণঅভ্যূথানের চেহারা নেয় শুধুমাত্র ভাষার অভিমানে। আজ তাই মূল্যায়নের সময় এসেছে আমাদের মাতৃভাষার কারণে যাঁরা প্রাণ দিলেন তাঁদের কথা আলোচনার তাঁদের জানার সময় এসেছে। 
সবাই ভাল থাকবেন। 

আজকের এই লেখাটা শেষ করব আমার খুব প্রিয় দুজনের কথা বলে। প্রান্তিক দেব আর পিয়ালী দাস আমার স্নেহভাজন দুজন , এই ছেলে মেয়ে দুটি নতুন ব্লগ শুরু করেছে।  বড় ভাল লেখে ওরা।  আমার মতন আবোল তাবোল নয়। ওদের ব্লগে একবার করে বেরিয়ে আসবেন।  ভাল লাগবে। 

প্রান্তিকের ব্লগ  
My Travel And Pictures     

পিয়ালীর ব্লগ

Piyali's Talk  (যাঁরা পিয়ালীকে চেনেন আমি জানি তাঁরা পিয়ালীর ব্লগের  নামটার শেষে লিখতে চাইবেন that continues )


আর আমাদের পরিবেশ ও প্রকৃতি সংক্রান্ত আমার পেজ Mother Nature আর আমার শ্যুট করা  পাখি সাপ ও অন্যান্য ভিডিও দেখতে চলে আসুন মাদার নেচারের এই চ্যানেলে 

Sunday, May 10, 2020

মা মানে কি শুধুমাত্র নারী সত্ত্বা?

মা , মাতরঃ ,মাদার ,ময়েডর ,মারে ,মায়র ,মাকি ,মাজকে ,মাঈকা ,মুক্যুইন ,মেমে ,মামিঙ্কা ,মর ,মত্তার ,মতিনা ,মাটকা ,মি ,আম্মি ,মাটার ; এমন হাজারো শব্দে বিশ্ব জুড়ে মা কে ডাকা হয়।  অপার স্নেহ, মায়া ও মমতা মাখা জন্মদাত্রী রা ভাষার পরিবর্তনে, দেশের পরিবর্তনে তাই বোধহয় এমন সুক্ষ্ম এক মিলে মিলেমিশে যান। আপনি ইংরেজিতে AM লিখুন, এবার ঐ শব্দের অক্ষর গুলি উল্টে দিন, দেখুন MA হয়ে গেছে। অর্থাৎ কিনা I AM HERE FOR MA আজ মাতৃত্বের উদযাপন চলছে সারা দেশ জুড়ে। আসলে কী কোনও একটা দিনে মা এর উদযাপনকে সীমাবদ্ধ রাখা যায়? আমাদের সবার , সম্পূর্ণ প্রাণীজগতের অস্তিত্বই তো মা এর কারনে, মা এর কল্যাণে। আজ শোনাব কিছু মা দের  গল্প যারা নারী না হয়েও কিন্তু মা ! হ্যাঁ ঠিকই পড়লেন। 
ছোট্ট অবিনাশের সাথে আদিত্য 

পুনের আদিত্য তিওয়ারি। চাকরি করতেন আই টি ফার্মে ।  অবিনাশকে দত্তক নেবার জন্য আইনি লড়াই শুরু করেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে ২০১৬ এ তিনি অবিনাশ বলে একটি ডাউন্স সিনড্রোম শিশুকে একক অভিভাকত্বে নেন। অবিনাশের পরিচর্যা আদিত্যকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। দারুণ মজায় আছেন দুজনে। আদিত্য মনে করেন পেরেনটিং জেন্ডার বায়াসড নয়। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃত্ব দিবসে আদিত্য ভূষিত হচ্ছেন Best Mommy Of The World পুরস্কারে। ইউনাইটেড নেশনসে আয়োজিত  শিশুর বিকাশ ও বড় হওয়ার ওপর একটি সেমিনারে যোগদানের আমন্ত্রণও পেয়েছেন আদিত্য।
কি বলবেন !
ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট গৌরি সাওয়ান্ত

ণেশ সুরেশ সাওয়ান্ত,  এখন লিঙ্গ পরিবর্তন করে গৌরি। ২০০১ এ সোনাগাছির থেকে একটি কন্যা শিশুকে তিনি দত্তক নেন।শিশুটির মা ছিলেন দেহ পসারিণী। HIV AIDS এ সেই মহিলা মারা যাবার পর শিশুটির দিদিমা ঠিক করেন মেয়েও মা এর মতই নামবে দেহ ব্যবসায় কিন্ত গৌরির অদম্য মনের ইচ্ছা, মমতা ও সহমর্মিতা  শিশুটিকে দেয় এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। গৌরিও  নিজের মধ্যে আনেন অনেক পরিবর্তন। মেয়ে যেন আমূল পাল্টে দিয়েছে ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট গৌরি সাওয়ান্তকে।  কি বলবেন! "কুমাতা কখনও নয়"। 
পাড়ার গলিতে বাচ্চা দেওয়া নেড়ি , মুখে করে ছানা নিয়ে যাওয়া দুধ, মাছ চোর পুষি কিম্বা কাকের বাসায় ডিম পাড়া কোকিল সবাই আসলে মা। পুরনো হিন্দি সিনেমার মা এর চরিত্রে অভিনয় করা নিরুপা রায়ের মতই নিরুপায় ওরা। যেমন নিরুপায় মলিন ছেঁড়া কাপড়ের পাগলি টা। কোনও তথাকথিত সভ্য সমাজে বসবাসকারী পুরুষের লালসার শিকার যে হয় নির্জন রাত গভীরে। খাবার হুঁশ নেই, কাপড়ের হুঁশ নেই তবুও পাগলি সন্তানকে স্তন্য পান করায় । কে শেখায় ওকে? হয়ত মাতৃত্বই শেখায়। তাই শুধু একটা দিন নয় ৩৬৫ দিন ধরে চলুক এই সব মায়েদের জয়গান। যারা আঁচলে হলুদ মাখা হাত মুছতে মুছতে নিজের ক্যরিয়ার, শখ সব উৎসর্গ করে দেয় সন্তানদের জন্য তাদের কি আর একটা দিনে ধন্যবাদ দেওয়া যায়?

আমার youtube চ্যানেল Mother Nature আর আমার Nandan Paul চ্যানেলে আপনাদের স্বাগত। ফেসবুকে আসুন Mother Nature আর Nandan Paul পেজে কথা হবে।  সবাই ঘরে থাকুন , ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

Sunday, July 15, 2018

হাসেন অন্তর্যামী : শহরের প্লাস্টিক দূষণ মাড়িয়ে চলল ইস্কন রথের চাকা Plastic Pollution in ISKCON Ratha Yatra

তকাল ছিল রথযাত্রা। প্রতিবছরের মতন রথের ছবি করতে বেরিয়েছিলাম। অগুনতি ভক্তজন, কৃপাপ্রার্থী, সাধারণ মানুষের জনজোয়ারের ভিড়ে মিশে গিয়ে উৎসবের আঁচ গায়ে মাখতে মাখতে ছবি করছিলাম। শহর,রাজ্য,দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের ভিড়। পথে নেমেছেন জগতের নাথ। সবার রঙে রঙ মেশাতে। সবাইকে মিলিয়ে দিতে। 'জয় জগন্নাথ' ধ্বনিতে গমগম করছে পথ। আগে দেখুন সে ছবির কোলাজ তারপর বাকি গল্প।











এপর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। হৃদয় উজাড় করা শ্রদ্ধা ভক্তি। নামগান। দুবাহু তুলে হরিবোল। বিদেশি উচ্চারণে 'হারে কৃষ্ণা হারে রামা'। মনে হচ্ছিল বিশ্ব সমাগম মিছিলে যোগ দিয়েছেন জগন্নাথ যোগ দিয়েছে জনতা। 
নাচ , গান, আল্পনা , ধুনুচি , ছৌ সব মিলে দারুন এক আবহ , সুন্দর এক পরিবেশ। প্রতিটি রথ ও  ট্যাবলোর আগে ও পিছনে জল ও পানীয়বাহি ভ্যান গাড়ির ব্যবস্থা করেছিল ইস্কন কর্তৃপক্ষ। প্রচন্ড আর্দ্রতা ও গরমে যাতে অসুস্থ না হয়ে পড়ে কোনো ভক্ত তারই জন্য।  






এরই মাঝে ঘটল ঘটনাটা। শরৎ বোস রোডে কিছু মানুষজন রথযাত্রার পুণ্যার্থীদের সরবত খাওয়াতে আরম্ভ করলেন। গোলাপি সরবত প্লাস্টিকের গ্লাসে। মানুষ খেলেন কম ফেললেন বেশি। পড়ে রইলো আধখাওয়া প্লাস্টিক গ্লাস সমেত সরবত। 


ভাণ্ডারাওয়ালারা পুণ্যলাভের লোভে ভুলে গেলেন ওই পথেই আসছেন জগন্নাথ। চারপাশ পলিথিন প্লাস্টিক মলিন করে তাঁরা তখন মানুষজনকে জোরাজোরি করছেন সেবা নেওয়ার জন্য।
পড়ে রইল প্লাস্টিক। তার ওপরই মেয়েরা নাচগান করল। শহরের আপামর জনগন অপেক্ষা করল। আর রথ ,মূর্তি, সেবাইত সবাই চললেন সেই দূষণ মাড়িয়ে। হো হো হাসিতে মেতে উঠলেন জগতের নাথ।













হয়ত অনেকেই জানেন প্লাস্টিকের ভয়াবহতা। তাঁরা এটাও জানেন সম্প্রতি মুম্বই আর দিল্লিকে প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এখনও টেলিভিশন প্রাইমটাইমে , বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ রয়েছি প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। আর যাঁরা প্লাস্টিক দূষণকে হালকা ভাবে নেন তাঁরা এই ব্লগপোস্টটিকে পাগলের প্রলাপ, অর্বাচিনের মন্তব্য অনেককিছুই বলতে পারেন তাতে কিচ্ছু যায় কিম্বা আসে না।
পরিশেষে একটা কথা ঈশ্বর ভক্তির অছিলায় ভক্তদের সেবা যদি করতেই হয় তাহলে উচ্ছিষ্ট পরিষ্কার করাও সেই সেবারই অঙ্গ এটা মাথায় রাখাও উচিত।  

Friday, June 8, 2018

পরিবেশকে ভাল রাখার ৫০ টি সহজ উপায় | 50 Easy Ways You can HELP Nature



শুধুই গেল গেল করব ? নাকি আমাদের ও করণীয় কিছু আছে। পরিবেশ বাঁচাতে কী কী করব আমরা সে সব নিয়ে আজ কয়েকটা সহজ টোটকা।  তার আগে দেখে নিন ভিডিওটা। জল বাঁচানোর কী দারুন সহজ  বৈজ্ঞানিক উপায়। শুধু মাত্র একটা ডিভাইস। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল খুব ভাল ভাবে বাঁচানো যায় এই ছোট্ট ডিভাইসটি দিয়ে।




১) বাড়ির চারধারে যতটা পারেন সবুজ গাছ লাগান। পারলে ফল ও ফুলের গাছ লাগান। বাই প্রোডাক্ট হিসেবে মরসুমি ফল আর মধু পাবেন।
২) বাগান যদি থাকে বাগানে মাটি রাখুন যাতে বৃষ্টির জল মাটির গভীরে যাওয়ার রাস্তা পায়।
৩) টবে গাছ লাগান। একটা সবুজ বন্ধু আপনার উপকারই করবে।
৩) কিছু গাছে পাখির জন্য ছোট ছোট বাসা বানিয়ে রাখুন। নুতুন অতিথিতে বাড়িটা ভরে যাবে।
৪) পশু পাখির প্রতি স্নেহশীল হন। পথের পড়ে থাকা কুকুর ছানা বিড়াল ছানাদের বাড়িতে পুষুন। অবশ্যই প্রপার ভ্যাক্সিনেশন করে।
৫) জোর গান , লাউড স্পিকার বাজানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন।
৬) রাস্তায় হাঁটতে  হাঁটতে বা ড্রাইভ করতে করতে গান শোনার অভ্যাস মারাত্মক ! প্রথমত অন্য গাড়িকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বেশি হর্ন দিতে হয়।  দ্বিতীয়ত এই অভ্যাস আপনার প্রাণঘাতীও হতে পারে। 
৭) হাতে সময় নিয়ে রাস্তায় বেরোন। ড্রাইভ করলে হর্ন ফ্রি ড্রাইভ করুন। এটা অনেকেই সাফল্যের সাথে করে থাকে।  এই শহরেই এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা হর্ন বাজান না।  বিশ্বাস করুন একদিন পরীক্ষামূলক ভাবে হর্ন ছাড়া ধৈর্য ধরে গাড়ি চালিয়ে দেখুন। অনেকটা মানসিক আরাম পাবেন।  
৮) প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করুন।
৯) যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলবেন না।  তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক হওয়া এড়ানো যাবে।
১০) পুকুর , নদী ,নালা বা অনত্র যেখানে প্লাস্টিক দেখবেন সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে। ফেলুন

১১) এলাকায় প্লাস্টিক পরিষ্কার অভিযান আয়োজন করুন , জনমত তৈরী করুন।
১২) মাইক্রোবিডস বিহীন প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। ইন্টারনেটে খোঁজ নিন কিসে কিসে মাইক্রোবিডস আছে।
১৩) যে সব কাপড়এ মাইক্রোফাইবার আছে তার ব্যবহার ও পরিষ্কারের ব্যাপারে সচেতন হন।
১৪) প্রাকৃতিক ফাইবার যুক্ত জামাকাপড় ব্যবহার করুন।
১৫) বাজার করতে গেলে কাপড়ের ব্যাগ , চটের ব্যাগ ব্যবহার করুন।
১৬) বাড়ি ও গাড়িতে প্রয়োজন ছাড়া এসি বন্ধ রাখুন।
১৭) গাড়ির হর্ন বাজানোর অভ্যাস কমান।
১৮) প্রয়োজন ছাড়া ইলেকট্রিক আলো পাখা বন্ধ রাখুন। সিএফএল বা কম ওয়াটের আলো ব্যবহার করুন। বাড়িতে প্রাকৃতিক আলো আসার পথ বাড়ান।
১৯) সোলার আলো পাখা খুব একটা বেশি দাম নয়।  অনলাইন শপিং এ  বা বাজারে পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করুন।
২০) দাড়ি কাটার ফোমের জায়গায় জেল ব্যবহার করুন।

২১) রুম স্প্রের জায়গায় ধুপ। ডিওডেরেন্টের জায়গায় পারফিউম বা আতর ব্যবহার করুন। ফুলের ব্যবহার করুন।
২২) পুজোর ফুল বেলপাতা ও অন্যান্য পুজোর সামগ্রী নদীতে ফেলা থেকে নিজে  বিরত থাকুন। অন্য কেউ একাজ করছে দেখলে তাকেও আটকান।
২৩) বেড়াতে গেলে খেয়াল রাখুন যাতে আপনি প্লাস্টিক দূষণ না করেন।  অন্য কেউ প্লাষ্টিক ফেলে গেলে সেগুলো ওয়েস্ট বিনে ফেলুন।
২৪) ঘর পরিষ্কার করার জন্য বিষাক্ত কেমিক্যাল ছেড়ে ভেষজ ক্লিনার ব্যবহার করুন। লেবুর রস , বেকিং সোডা বা ভিনিগার দিয়ে কী দারুন ঘর পরিষ্কার হয় জানেন!! রাসায়নিক ক্লিনারের বদলে ওগুলো ব্যবহার করুন। আরও পরিবেশ ও জল বান্ধব বিকল্প খুঁজুন। নিজে জানুন অপরকে জানান।
২৫) মশা মারার ক্ষতিকর ধুপ বা লিকুইড ছেড়ে ধুনোয় কালকাসুন্দা পাতা ব্যবহার করুন। মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস ফিরিয়ে আনুন।
২৬) শিশুদের জু গার্ডেন পার্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে যাওয়ার নিয়মিত অভ্যেস করুন।  ওদের সেখান স্বুস্থ পরিবেশের গুরুত্ব।
২৭) অতিফলনশীল নয় স্থানীয় ফসল চাষ করুন যে ফসল এর ভ্যারাইটিগুলো প্রাকৃতিক ভাবেই কম জল টানে। মনে রাখবেন MORE CROP MORE DROP . বাগানের গাছের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। রাসায়নিক ছাড়া চাষ করুন। জৈব সার ব্যবহার করুন।
২৮) রোজকার বাড়ির কাজে যত কম পারেন রাসায়নিকের ব্যবহার করুন। আর যদি রাসায়নিক ব্যবহার করতেই হয় সেগুলো সঠিক স্থানে ফেলুন যাতে ওই সব ক্ষতিকর জিনিসগুলি মাটিতে না মেশে ,কখনই মাটিতে ফেলবেন না।
২৯)  খেয়াল রাখুন যাতে বাড়ির ব্যবহার্য রং , ওষুধ , মোটর অয়েল , ইঞ্জিন অয়েল সরাসরি মাটিতে না মেশে।
৩০)  ফ্রিজের ব্যবহার কমিয়ে মাটির জালা বা কুঁজো ব্যবহার করুন। জলের অপচয় কম করুন। ব্রাশ করতে করতে ,বা দাড়ি কাটতে কাটতে বেসিনের ট্যাপ বন্ধ রাখুন।

৩১)  বাড়ির ছাদে জলের ট্যাঙ্কে অটোকাট বাজার লাগান। যাতে জল ভরে গেলেই পাম্প বন্ধ হয়ে যায়।
 ৩২) সারা বাড়ির জলের লাইনের নিয়মিত পরীক্ষা করান প্লাম্বারকে দিয়ে। কোন কল, সিস্টার্ন, ভালভ দিয়ে যেন জল নষ্ট না হয়ে যায়। যাঁরা বাস্তুশাস্ত্র বিশ্বাস করেন তারাও বলেন জল নষ্ট হওয়া খারাপ বাস্তুর লক্ষণ। আপনি আপনার আগামীর কথা ভেবে করুন।
৩৩) পারলে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ও পরবর্তীতে সেই জল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
৩৪)  স্নান ,কাপড় কাচা প্রয়োজন। ওগুলোকে বিলাসিতা করে ফেলবেন না। ৫ মিনিটের বেশি স্নান মানে আপনি ক্ষতি করছেন ,এটা মাথায় রাখবেন।
৩৫)  দিনের ঠান্ডা সময় গুলোতে অর্থাৎ ভোরে আর সূর্য ডোবার ঠিক পর বাগানের লনে আর গাছে জল দিন।
৩৬) কাগজ ,প্লাষ্টিক , কার্ডবোর্ড ,কাচ রিসাইকেল করুন। যে সব জিনিস তৈরিতে বেশি জল লাগে চেষ্টা করুন সেগুলো কম ব্যবহার করতে।
৩৭) GROUNDWATER RECHARGE, RAIN WATER HARVESTING বা  WATER DONATE এর ব্যাপারে জানুন ,বাড়ির শিশু ও মহিলাদের জানান , বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।
৩৮) অনুষ্ঠান বা জমায়েত এ থার্মোকল এর থালা বাতি গ্লাস কিংবা কাগজের কাপ প্লেটের বদলে কাচ , স্টিল এর বাসন ব্যবহার করুন। অনুষ্ঠান বাড়িতে শাল পাতা বা কলা পাতা কিংবা পদ্ম পাতা স্বাস্থ্যে ফিট , স্টাইলেও হিট।  
৩৯) বাড়িতেও বাসনপত্রে প্লাস্টিক এর নো এন্ট্রি করুন। 
৪০) গ্যাস , কয়লা , কাঠ এর ব্যবহার কমিয়ে ইন্ডাকশন হিটার বা সোলার কুকার , ইলেকট্রিক কুকারের ব্যবহার শিখুন। অন্যকেও সেখান। 

৪১) বিল পেমেন্টের ক্ষেত্রে কাগজের ব্যবহার একদম না করতে অনলাইনে বিল পেমেন্ট করুন। অর্থকরি লাভও পাবেন সাথে সাথে বেশ কিছু গাছের অকাল মৃত্যুও বাঁচাতে পারবেন। 
৪২) সাইকেল এর ব্যবহার বাড়ান। দূষণ মুক্ত এই যানটির জনপ্রিয়তা আমাদের দেশে পড়তি হলেও। উন্নত দেশ গুলিতে এটি এখনো একটি জনপ্রিয় পরিবহন। 
৪৩) কার পুল করুন। 
৪৪) ব্যাটারি চালিত পরিবহন  সম্বন্ধে জানুন ও বন্ধুদের জানান। 
৪৫) গাড়ির সার্ভিসিং নিয়মিত করান। দূষণ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। 
৪৬) সেল ফোনের বা ল্যাপটপের নিয়মিত সার্ভিসিং করান যাতে বেশি পাওয়ার কনজিউম না করে। 
৪৭) এসির পাইপ থেকে বেরোনো জল জমিয়ে রেখে সেটিকে ঘর মোছার বা পরিষ্কার করার কাজে লাগান।
৪৮) বাজার করার সময় সার দেওয়া সব্জি বা চালানি মাছ এর চেয়ে স্থানীয় সব্জি বা মাছ কিনুন। খেয়াল রাখবেন যে বেগুনটি পোকায় খাওয়া সেটির স্বাদ অন্য বেগুনের চেয়ে ভাল হয়। কারণ পতঙ্গ রাসায়নিক বিষ দেওয়া সবজিতে বসে না।
৪৯) টিস্যু পেপারের বদলে রুমাল আর প্যাকেজ পানীয় জলের বদলে ধাতব জলের বোতল ব্যবহার করুন।
৫০) ছোটদের কাঠের পুতুল , মাটির পুতুল , তালপাতার সেপাই , তালপাতার বাঁশি জাতীয় খেলনা দিন।  প্লাস্টিক খেলনা ওদের কচি ত্বকের জন্য খারাপ।


Tuesday, June 5, 2018

"ওহ মা ! আর পারছি না !" এই মা আসলে কে ? World Environment Day

মি মাঝে মাঝেই ভাবি , এই যে আমরা ক্লান্ত হয়ে বলি "ওহ মা ! আর পারছি না !" এই মা আসলে কে ? জন্মদাত্রী মা ? কোন দেবী ? কে ? কে এই মা যার স্মরণাপন্ন হই আমরা ঘন ঘন। ক্লান্তি তে দিনের শেষে ঘুমের জগতে পাড়ি দেওয়ার আগে যাকে রোজ মনে মনে ধন্যবাদ দিই আমি আপনি সবাই। জন্মদাত্রী নন কারণ তাঁর সামনে "ওহ মা" বলে  ডাকলেও তিনি কোন প্রতিক্রিয়া দেন না। দেবী দেবতা হওয়ার কোন প্রশ্নই নেই। অনেক ভেবে দেখেছি , এই মা হলেন প্রকৃতি মাতা। মাদার নেচার। যাঁর জন্য আজ বড় জাঁকজমক। তিনি ভাল নেই। বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধার চেয়েও খারাপ আছেন তিনি। ফুটপাথে পাঁপড় বিক্রি করা সন্তান দ্বারা বিতাড়িত মা এর চেয়েও কষ্টে তিনি। প্রতি নিয়ত সন্তানরা তাঁকে ধর্ষণ করছে। অথচ পরম মমতায় সেই সন্তানদেরই তিনি আদর করে আগলে রেখেছেন। বুকে ক্যান্সার বাতাস। সবুজ সজীব গায়ে প্লাষ্টিক পচন। পরনের সমুদ্র নীল শাড়ির মত স্বচ্ছ জলে ঘন কাল বিষ। ভাল নেই প্রকৃতি, ভাল নেই আমাদের চারপাশ ,পরিবেশ।
 এই ধরুন কিছুদিন ধরে সকালে কাগজ খুললে দেখছি পচা মাংস মাছ খাবার হিসেবে নাকি খেয়েছি আমরা বেশ কিছু দিন।  সন্ধেয় টেলিভিশনে বা সারাদিনের ই ভিডিওতে সেই পচা গলা মাংস বাজেয়াপ্ত করার সম্প্রচার। এদিকে আবার নিপা ভাইরাস ছড়াচ্ছে আম, লিচু , মুরগিতে। খাবেন কী মশাই ? ভয়েই মরে যাবেন। আপনার আমার মত সাধারণ মানুষ সাতেও নেই পাঁচেও নেই তাদের মানসিক শান্তি নয়ছয় করে দেওয়ার জন্য এই নিউজ ফিড গুলো যথেষ্ট। দাদা এই তো পরিবেশ। তার আবার দিবস!!! ও কি খায় না মাথায় মাখে ? ঠিকই তো। এই যে কুকুর খেয়েছি মাটন ভেবে এই ভাবনা মনে ঢোকার পর থেকে চাইলেও বমি করতে পারছি না এ কি কম জ্বালা। দাদাভাই ভাববেন না। কষ্ট করে একটু গুগল করুন দেখবেন কুকুর , বিড়াল , ষণ্ডের অন্ডকোষ , টিকটিকি, আরশোলা , মাকড়সা , স্যাপ, ব্যাঙ , জ্যান্ত অক্টপাস , সব খায় তামাম দুনিয়ার মানুষ। দুনিয়া কী এই দেশেই মিজো সমাজে কুকুর খুব সম্মানীয় ও উপাদেয় পদ হিসাবে পরিবেশন  করা হয়। আবার গুগুল করুন পচা আমিষ খাবার। পচা দুধ ,পচা চিজ , সার্ক মেরে তাকে মাটির তলায় চাপা দিয়ে পচিয়ে তাকে শুকিয়ে সেই প্রায় কাঁচা সার্ক যার পোশাকি নাম হাকর্ল সেটা পরিবেশন করা হয়। অবশ্য সেটা নাক খোলা রেখে কিভাবে খাওয়া সম্ভব যাঁরা খেয়েছেন তাঁরাই জানেন। অথবা ইতালির কাসু মারজু। সত্যিকারের পচা চিজ যার থেকে পোকা (ম্যাগট ) বেরোচ্ছে সেটা চাঁদ মুখ করে ওনারা খেয়ে নেন। আর আপনি ধাপার ভাগাড় ফেরত মাংস খেয়ে দ্বিধা করছেন কী খেলাম কী খেলাম ? এ তো দেখছি শাখা প্রশাখার আনন্দ বাবুর মত দাদু আমি একনম্বর জানি দু নম্বর জানি শুনে "কী শুনলাম কী শুনলাম !!!"
ভাবনা ছাড়ুন বরং ভাবুন গোটা পৃথিবীতে উন্নত দেশগুলোয় উল্টোপাল্টা খাবার পচা খাবার আনন্দ সহকারে খাওয়া হয় সেই আনন্দযজ্ঞের নিমন্ত্রনে আপনি পাত পেড়ে খেয়ে এলেন।
ও দাদা , ও দিদি আমাদের এই কলকাতা শহরে যত হাসপাতাল , ছোট খাবারের দোকান রয়েছে সেখানকার উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহ করে নিয়ে কিছু লোকজন সব মিলিয়ে মিশিয়ে একথালা করে পেট ভর্তি খাবার এই কলকাতার হ্যাভ নটসদের দেয়। দু এক টাকার বিনিময়ে। ওদের খিদে যে বড় মারাত্মক। পাকস্থলী ভরাতে উচ্ছিষ্ট আর পচা সব এক। আয়তন ডাজ ম্যাটার নট কোয়ালিটি।
জানি মারাত্মক গা গুলোচ্ছে। পচা পচা লাগছে। ভেবেছেন কেন এত মানুষ ফুটপাথে থাকবে? দেশ কেন তাদের খাদ্য , বস্ত্র বাসস্থানের দায়িত্ত্ব নেবে না? সব সম্বলহীন কিন্তু উন্মাদ নয়, তাদের শ্রম দিয়ে যা রোজগার সেই অর্থে তারা সম্মানের জীবন কাটাতে পারে। আসলে আমাদের জীবনযাত্রার জটিলতা বাড়ার সাথে সাথে সবচেয়ে বেশি পচেছি আমরা। আমাদের টার্গেট মুখী জীবন আমাদের মনকে ওই সার্কের মতই স্বার্থপরতার বালি পাথরে চাপা দিয়ে পচিয়ে দিয়েছে। ভাগাড়ের মাংস তো সেই পচনেরই বহিঃপ্রকাশ। আপনার বিশ্বাসের পুঁজি নিয়ে যদি কোন ব্যবসায়ী বা খাদ্য বিক্রেতা আপনাকে পচা মাংস , পচা খাবার খাওয়ায় তাহলে সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে পচেছে তার হৃদয় , মনুষত্ব।
আজ পরিবেশ দিবস। আমার পরিবেশ ? ঘরের ড্রয়িং রুমে ভয় দেখানো খবরীলাল টেলিভিশন। যাদের কাছে অনুপ্রাণিত করার মত খবরের অভাব। ঘন্টা খানেক এর স্বঘোষিত জিরো আওয়ার করে তারা পাতি ঠেকের ঝগড়া বসায় তর্কের নামে। সেটের আলো নিভলে পেমেন্ট নিয়ে আবার পরের দিনের ঝগড়ার জন্য তৈরী হয় ঝগড়ুটেরা। বিনোদন চ্যানেলগুলোতেও মূল উপজীব্য ঝগড়া। আর বস্তাপচা কুসংস্কার ,অন্ধকার। যেন পিরিয়ডিক্যাল সিরিজ হলেই ডায়লগ একটু গেঁয়ো করে দিলেই হল। এদের স্ক্রিপ্ট রাইটাররা কলকাতা সৰ্বস্ব, বাস্তবজ্ঞান রহিত। এদের কাছে গ্রাম মানেই নেগেটিভ অশিক্ষিত জনগণ । এই গেল সান্ধ্য বা মোটামুটি বিনোদনের ডেইলি ডোজ।
রাস্তায় আমার পরিবেশ। হর্নের দাপটে কান পাতা দায়। তার সাথে বেআইনি সাইলেন্সার ওয়ালা বাইক। পুলিশ দেখছে কিন্তু কিছু করার নেই। কারণ শব্দদূষণের জন্য আইন ততটা কড়া এখনো নয় এখানে।
আর পথচারী ? কানে হেডফোন  সোজা যেন ব্রেনে তার ঢুকে গেছে। ও ভাই ,ও বোনটি রাস্তা তো গান শোনার জায়গা নয়। বাড়িতে শোনো। ড্রাইভ করতে করতেও সে তখন সংগীত সুধা পান করে চলেছে। অতএব আমার পরিবেশ অস্থির , ভয়ার্ত , অবিশ্বাসের বিষে নষ্ট পচা।
এবার আসি মা প্রকৃতির কথায়। এর বেশ কয়েকটা আগের ব্লগে জল , প্লাষ্টিক এসব নিয়ে বলেছি।  সংরক্ষণ কর্মীদের কথা আজ একটু হোক।  পৃথিবীটা মানুষের একচেটিয়া অধিকার কায়েম করার জায়গা নয় এখানে একটা গুবরে পোকা যতটা গুরুত্বপূর্ণ , ততটাই একটা হাতি বা বটগাছ বা হাঙ্গর। শুধু মানুষের উন্নতির কথা ভাবলে বাড়বে দূষণ ,বদলাবে জলবায়ু।  এই ধরণের বিশ্বাসকে ধর্ম করে চলা পরিবেশ আক্টিভিস্ট দের মধ্যে ২০১৫ সালে  প্রায় ১৮৫ জন আর ২০১৬এ প্রায় ২০০ জন পরিবেশ কর্মী খুন হয়েছেন। ভারতে পরিবেশ কর্মীদের কবর খোঁড়ার সংখ্যাটা বাড়ছে।




শীলা মাসুদ বাঘ বাঁচানোর আন্দোলন ও করাপ্সন এর বিরুদ্ধে কাজ করতে  গিয়ে ২০১১এ বাড়ির সামনে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলিবিদ্ধ হলেন। আবার কেরালার কাদার আদিবাসীদের হাতির পরিযান পথ ও রেন ফরেস্টের সংরক্ষণের জন্য ১৫ বছরের সংগ্রাম ভারতের পরিবেশ আন্দোলনে এক উজ্জ্বল উদাহরণ। 
এসব তো জানা কথা। এতক্ষন কিছুটা আশা অনেকটা হতাশা , খানিকটা ভয় সব হল। এখন চলুন দেখি পরিবেশ রক্ষায় আপনি আমি কি করতে পারি।   
১) বাড়ির চারধারে যতটা পারেন সবুজ গাছ লাগান। 
২) বাগান যদি থাকে বাগানে মাটি রাখুন যাতে বৃষ্টির জল  গভীরে যাওয়ার রাস্তা পায়। 
৩) কিছু গাছে পাখির জন্য ছোট ছোট বাসা বানিয়ে রাখুন। নুতুন অতিথিতে বাড়িটা ভরে যাবে। 
৪) পশু পাখির প্রতি স্নেহশীল হন। 
৫) জোর গান , লাউড স্পিকার বাজানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন। 
৬) প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করুন। 
৭) বাজার করতে গেলে কাপড়ের ব্যাগ , চটের ব্যাগ ব্যবহার করুন। 
৮) বাড়ি ও গাড়িতে প্রয়োজন ছাড়া এসি বন্ধ রাখুন। 
৯) গাড়ির হর্ন বাজানোর অভ্যাস কমান। 
১০) প্রয়োজন ছাড়া ইলেকট্রিক আলো পাখা বন্ধ রাখুন। 
১১) সোলার আলো পাখা খুব একটা বেশি দাম নয়।  অনলাইন বা বাজারে পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করুন। 
১২) দাড়ি কাটার ফোমের জায়গায় জেল ব্যবহার করুন। 
১৩) রুম স্প্রের জায়গায় ধুপ। ডিওডেরেন্টের জায়গায় পারফিউম বা আতর ব্যবহার করুন। ফুলের ব্যবহার করুন। 
১৪) পুজোর ফুল বেলপাতা নদীতে ফেলা থেকে বিরত থাকুন। 
১৫) বেড়াতে গেলে খেয়াল রাখুন যাতে আপনি প্লাস্টিক দূষণ না করেন।  অন্য কেউ প্লাষ্টিক ফেলে গেলে সেগুলো ওয়েস্ট বিনে ফেলুন। 
১৬) ঘর পরিষ্কার করার জন্য বিষাক্ত কেমিক্যাল ছেড়ে ভেষজ ক্লিনার ব্যবহার করুন। 
১৭) মশা মারার ক্ষতিকর ধুপ বা লিকুইড ছেড়ে ধুনোয় কালকাসুন্দা পাতা ব্যবহার করুন। 
১৮) শিশুদের জু গার্ডেন পার্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে যাওয়ার নিয়মিত অভ্যেস করুন।  ওদের সেখান স্বুস্থ পরিবেশের গুরুত্ব।  

Wednesday, May 9, 2018

মিছে কোলাহল - ২৫ শে বৈশাখ

Whatsapp এ একটা ছবি পেলাম। ছবিটা দেখে বমি বমি ভাব মানে বিবমিষা লাগছিলো। একজন মানুষ যাঁর কাজ বহু মানুষ কে আলোর পথ দেখিয়েছে তাঁর ব্যক্তি সত্ত্বার প্রতি আমাদের কিছু মানুষের অন্ধতা যেমন হতাশাব্যাঞ্জক তেমনই  কুরুচিকর ও হতাশাব্যাঞ্জক এই ফটোশপ। একটা বাজে লেখার শুরু করছি।
ছবি: ইন্টারনেট 


রবি ঠাকুর আপনার প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, সম্মান নেই আমাদের। যদিও আজ আপনার দিন, আজ আপনাকে নিয়ে গদগদ ভাবাবেশ। তবু আজই বোধহয় সত্যি কথাটা কনফেস করা প্রয়োজন। বাঙালির কাছে আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয় আপনার সঙ্গীত। আপনার প্রবন্ধ গদ্য ছোটগল্পের ভাঁড়ার নিয়ে পশ্চিম বাংলার আম বাঙালির তেমন ইন্টারেস্ট নেই। আপনি বলতে সাধারণ বাঙালি যা বোঝে সেই সঙ্গীতের জনগণতান্ত্রীকতার জন্য বরাদ্দ এখন ট্রাফিক বাতির লাউড স্পিকার। যেখানে কাঠফাটা রোদে মিসম্যাচ আপনার একা জ্যোৎস্না রাতে ঘরে না থাকার আকুতি। ছুটন্ত শহর সময়ের পিছনে তাড়া করছে যখন, তখন আপনার সুর, কথা, কোথায় কী ?!! সেকেন্ড বদলাতে থাকা ইলেকট্রনিক মনিটরে তখন সব চোখ।
মাফ করবেন রবিন ঠাকুর!!! আজ আমরা আপনার ঐতিহ্য সম ব্যক্তিত্যের গায়ে পড়া আলোর প্রতিফলন টুকু নেওয়ার জন্য উন্মাদ। আপনার জন্মদিনে আপনার সৃষ্টি আপনার পৌত্তলিকতার কাছে হার মেনেছে। আপনি যতই দাবি করুন না কেন "মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক আমি তোমাদেরই লোক। " আমরা সযত্নে আপনাকে দামি, সুদৃশ্য, অ্যান্টিক শো পিসের মত সাজিয়ে গুজিয়ে আপনাকে দেবত্ব প্রদান করেছি। আপনার পুজোর বাহ্যিক আড়ম্বরে মৃত আপনার সৃষ্টি, আপনার মূল্যবোধ, আপনার অন্তরাত্মা। আর সেই ঠাকুর আপনির নৈবেদ্যর তলায় অবিশ্বাসের পচন, স্বার্থপরতার দুর্গন্ধ, হানাহানির শঙ্কা, আর ধর্মীয় মোহের অন্ধতা। আর ওপরে জেগে থাকে বাটিকের শৌখিন পাঞ্জাবি শাড়ি , বিদেশী পারফিউম আর রজনীগন্ধার বাহার।
সত্যি বলছি, একশো ভাগ খাঁটি, খুব রাগ হয়। আপনার অসহায়তা দেখে! আপনার ছবির বুক ঢেকে যাচ্ছে ফুলে, মালায়। অন্তরের নৈবেদ্য নেই, নেই আপনার কাজের চর্চা, আছে শুধু চোখ জ্বালা করা ধুপের ধোঁয়া, দীপের আলোর ধাপ্পাবাজি। কাগজে, পাথরে, কাপড়ে, সিল্কে, সুতিতে, টেরাকোটায়, তামায়, পিতলে, ব্রোঞ্জে, ফাইবার গ্লাসে আপনার মূর্তি বানানো। "প্রাণের ঠাকুর", "আলোর দিশারী", "জীবন কাণ্ডারী" নানান বিশেষণে আজ আপনি সবিশেষ। কিন্তু সত্যিটা ভাঙা রেকর্ডের মতই দূরে কোথাও একলা অবহেলায় বাজছে- "তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না করে শুধু মিছে কোলাহল, সুধা সাগরের তীরেতে বসিয়া পান করে শুধু হলাহল।" আপনি বাঙালির এস্ট্যাবলিশমেন্ট শট, গোটা জাতটার ব্র্যান্ড এম্বাসাডার, আইকনিক ফিগার। কিন্তু আপনার পর আপনাকে, আপনার চেতনার পথকে অনুসরণ করতে আমরা কী করেছি? বৎসরান্তে দুর্গাপুজোর মত পাড়ায় পাড়ায় মাচা ঠুকে ২৫শে বৈশাখ পালন, দু এক পিস সিডি রেকর্ড করা, ইউটিউব সিংগলস্ করা, বিজ্ঞাপনে আপনাার সৃষ্টির বিকৃতি করা, বিদগ্ধ মানুষজনের বৈবাহিক ডিভিডিতে আপনার গান এডিট করে লাগিয়ে দেওয়া।এই ভাবেই বাঙালি চর্বিত চর্বণ করছে ,করে চলেছে আপনাকে। আর মাল্টিপ্লেক্সের সিনেমার শুরুতে আপনার গানের ভ্যাঙানি ভার্সন - "জ্যান জ্ঞান ম্যান ইয়াধি ন্যাঈয়াক জ্যায় হে। হে হে রাভিন্দরনাথ!!বোধহয় এভাবে শুনতে ভাল লাগছে না, জানি কিন্তু কী করব বলুন! সত্য তো ভালতেও সত্য, মন্দতেও সত্য। আর ভাল লাগছে না বলেই লিখছি। আনুষ্ঠানিক উপাচারের বাইরে আজ কোথায় আপনি?  আমাদের দৈনন্দিন জীবন চর্চা, আমাদের দৈনন্দিন বিনোদন, আমাদের সৃষ্টি, কৃষ্টি, সংস্কৃতি আজ আপনাকে ছাড়াই সাবলম্বী। টেলিভিশন এর ভীষণ ভাষণ বা আধাখেঁচড়া বাংলা শুনে বড় হচ্ছে যে প্রজন্ম তাদের কথা তো বাদই দিন। যাদের হাতে টেলিভিশনাচারের গুরু দায়িত্ব তাদের আলমারিতে আপনি থাকলেও মননে - ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই । কিংবা সংবাদ পত্রে যাঁরা উদ্বেগ জনক খবরকে গুরুত্ব দেন যাঁরা, ধর্ষকাম কে ধিক্কার দিয়ে মনের মত বন্ধু বান্ধবী বা মাসাজ পার্লারের বিজ্ঞাপন আবার তাঁরাই ছাপেন। তাঁরাই আবার প্রান্তিকে বাড়ি করেন আপনার ছত্রছায়ায় থাকবেন বলে। আপনার নামে ট্রেন, বাস, হোটেল, ট্যুরিজম কোম্পানি, চায়ের দোকান, মনিহারী, চাউমিন ব্রান্ড। ঠাকুর, কিতনে আদমি হ্যায়!!! ও ঠাকুর হাট হাট। হাট বসেছে। আর সেই হাটে একমাত্র পণ্য আপনি। বিশ্বে বাংলার ব্রান্ড ভ্যালু আপনি। বাংলার ইউ এস পি, আপনি। অথচ আজ ভয়ঙ্কর ভাবে অনুপস্থিত আপনার অস্তিত্ত্ব। এ পোড়া জাতটাকে একবার বেঁচে উঠতে বলুন আপনার অন্তরাত্মাকে অনুসরণ করে। পৌত্তলিকতা , আপনার ভজনা আপনাকে আক্ষরিক অর্থে ঠাকুর বানিয়ে ফেলা বোবা বাঙালিকে বোকা বাঙালির বোধোদয় এর প্রার্থনা করুন আপনিও, রবীন্দ্রনাথ।
ছবি : ইন্টারনেট 

পরিশেষে আর একটি সোশাল সাইটে বহুল প্রচারিত ছড়া দিলাম ছড়িয়ে।

তোমার নামে সদন যেথায়,
সেথায় আমরা প্রেম করি ;
তিনটে স্টেশন তোমার নামে,
রোজ সকালে ট্রেfন ধরি !
ভর দুপুরে ট্রাফিক জ্যামে
রোদ্দুরেতে কাঠ ফাটে,
লাউড- স্পিকারে তোমারি গান –
“পায়ের চিহ্ন এই বাটে”
আজকে তোমার হচ্ছে পুজো
ঝাড়ছি ধুলো, জ্বালছি ধূপ
বেবিডল আজ কৃষ্ণকলি
তোমার ফটোয় ফুলের স্তূপ।
কাল-ই কিন্তু স্টোর রুমেতে তে
পাঠিয়ে দেব তোমায় ঠিক,
প্রাণ জুড়োবে গান শুনিয়ে
রেডিও মির্চি রাবীন্দ্রিক !
আজকে তোমার মুর্তি ধুয়ে
করছি আমরা পরিপাটি
কাল থেকে ফের তোমার মাথায়
কাক পক্ষী করবে পটি....
আমরা পড়ব ব্যস্ত হয়ে,
আই পি এল এই সব দিনই
দাড়িবুড়ো তোমার জন্যে
বরাদ্দ বস একদিন-ই.....
ফ্যান তো হেথায় ভালোই জোটায়
অরিজিত আর হানি সিং
তোমার ফ্যানের কাউন্ট জানো?
ছদ্মবেশী ভানুসিং?
তোমার নামে পেজ রয়েছে
ফেসবুকে আজ খান শয়েক....
স্বর্গ থেকেই লাইক ঠুকে দাও
পেজ গুলোতে খান কয়েক ....
দেখবে কেমন ভরে যাবে
তোমার এফ বি নিউজ ফিড...
দেড়শ বছর পরেও তুমি
ইকুয়ালি সুপারহিট .....
আধুনিকের সংগা তুমি
তুমি গুরু তুলনাহীন
তুমি বিনা আমরা যেন
ফুচকাটা টক জল বিহীন ....
আগামী মাস টা বিয়ের সিজিন
ব্যাস্ত থাকবো প্রায় দিনই
কবিগুরু তোমার জন্য
বরাদ্দ বস এক দিনই.....

অসম্ভব একটা খারাপ লাগা থেকে উৎপন্ন হওয়া হতাশা থেকে এই লেখাটা লিখলাম। কারো খারাপ লাগলে হয় পাগলের প্রলাপ বলে ভুলে যাবেন। নয়ত নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।