Friday, October 2, 2020
Tuesday, September 22, 2020
ডেটলাইন ২১ সেপ্টেম্বর এবং...
কর্মজীবনের শুরুটা হয়েছিল তৎকালীন অবিভক্ত মেদিনীপুরে। ফলে সংবাদ মাধ্যমের বেশ কয়েকজন বন্ধু বান্ধব আছেন সেখানে। তাদের মধ্যেই কয়েকজনের জন্য ২০০৬ এর ২১ সেপ্টেম্বর মারাত্মক চিন্তায় কেটেছিল দিনটা। সেদিন মেদিনীপুরের লালগড়ের ঝিটকার জঙ্গলে ঘটেছিল এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। বন্ধু সৌম্যেশ্বর,সঞ্জীব এবং আরও কয়েকজন মারাত্মক আহত হন সেই দিন।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বাজেয়াপ্ত করা আইইডি ল্যান্ড মাইন নিস্ক্রিয় করার কথা ছিল সেইদিন। আর সেইমত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির কভারেজে গিয়েছিলেন অপু(সঞ্জীব) , সুমন, সোম( সৌম্যেশ্বর), দেবনাথ, অরুন দা রা। সব ঠিকঠাক চলছিল। ল্যাণ্ড মাইন ডিফিউজ করা শুরু হয়েছে। ক্যামেরা রোল করেছে। পুলিশ কর্মী দেখাচ্ছেন কিভাবে কাজটি করেন তাঁরা। হঠাৎ গগন বিদারী আওয়াজ। মারাত্মক আহত সোম আর অপু।
সোম বরাবর দারুণ ফ্রেমের জন্য যা খুশি তাই করত। বিস্ফোরণে ওই বোমার স্প্লিণ্টার ওর মুখে লাগে। একটা চোখ বাঁচিয়ে দিয়েছিল ক্যামেরা টা। অন্য চোখটা কেড়ে নিয়েছিল।
অপুর সারা গায়ে লেগে ছিল বোমার স্প্লিণ্টার। দুমাস শয্যাশায়ী হয়ে ছিল হাসপাতালে। আরও বন্ধুরাও আহত হয়েছিলেন।
আর ওই পুলিশকর্মী যিনি নিস্ক্রিয় করছিলেন আইইডিটি, তিনি মারা গিয়েছিলেন বিস্ফোরণের তীব্র অভিঘাতে।
সে দিন ওই ঘটনার পর যখন ওদের কোনও খবর পাচ্ছি না তখন প্রচণ্ড উৎকণ্ঠায় কাটছিল দিনটা, কলকাতায় আমিও সেদিন অ্যাসাইনমেণ্টে। সারাটা দিন কাজে মন দিতে পারিনি।
বারবার মনে পড়ছিল মেদিনীপুরে থাকাকালীন পঞ্চুর চকের নিত্ত নৈমিত্তিক আড্ডা। যে যার অ্যাসাইনমেণ্ট শেষ করে অলিখিত প্রেস ক্লাব, পঞ্চুর চকে এসে জুটত। কত আড্ডা হত- পেশগত, ব্যক্তিগত, সিরিয়াস, হালকা। সব যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল।
কাট টু
বাংলাদেশ গিয়ে আলাপ হয়েছিল জহিরুলের সঙ্গে। ওখানে যতবার কভারেজে গিয়েছি ওর সাথে সখ্যতা বেড়েছে। জহিরুল (জনির) হঠাৎ বেশ কিছুদিন কোনও ফোন নেই, ফেসবুক আপডেট নেই কী খবর? জানা গেল রাবার বুলেট লেগেছে ওর হাতে। উত্তাল জনতার বিক্ষোভ কভার করছিল ও। দুমাস হাসপাতালে। তারপরেও ঢাকায় অন্য একটি বহুল আলোচিত আন্দোলন কভার করতে গিয়ে ভিড় থেকে উড়ে আসে ককটেল বোম,পুলিশকে লক্ষ্য করে। পুলিশের ঠিক পিছনে ক্যামেরায় চোখ রাখা জনির লিভারের একটু ওপরে এসে ফাটে সেই "ককটেল"। সে চোট কাটতেও সময় লাগে বেশ কিছু দিন ।
কাট টু
ছোট আঙারিয়া, গড়বেতা, কেশপুর নিয়ে উত্তাল মেদিনীপুর তখন রোজই সংবাদ শিরোনামে। আমাদের গাড়ির চালক ছিলেন যিনি তাঁর পিতৃদত্ত নামটাই জানতাম না। সবাই ডাকত "হণ্ডা দা" বলে। একদিন অ্যাম্বাসেডরের বনেটে বসে পা এর ওপর পা তুলে সেই প্রবীণ সারথি হণ্ডা দা বলেছিলেন, "দেখো বাবা আমরা খবর করতে এসেছি খবর হ'তে নয়"।
আজকের দিনে আর প্রাসঙ্গিক মনে হয় না ওই কথাগুলো। যখন দেখি বিপন্ন সহকর্মীদের ছবি বিজ্ঞাপন হয়। যখন দেখি কোমর জলে বা গলা জলে দাঁড়িয়ে কাজ করাটা অর্ডার অফ দ্যা ডে হয়।
একটু কি সিনেম্যাটিক হতে পারে না আমাদের মিডিয়ার শট ডিভিশন? গঙ্গায় জল উঠলে বা নামলে একটা বড় টাইমল্যাপস হয়ত ১০ সেকেণ্ডে আট ঘণ্টার গল্প বলতে পারত। যদি একটা স্টেডিয়াম তৈরি বা একটা বীজের অঙ্কুরোদগম দেখানো সম্ভব হতে পারে তাহলে জোয়ার ভাঁটা তো বাচ্চো কা খেল!
কিংবা একটা ড্রোণ উড়ে এসে যদি বিদ্ধস্ত আর্তদের জলমগ্ন স্কুলবাড়ি বা উঁচু দাওয়ায় ধরে তাহলে সেই হোভার শট হাজার শব্দকে থামিয়ে এক জোরালো প্রতিশব্দ রাখতে পারে জীবনের।
অথচ আজও বিপন্ন হতে হয় আমার আমাদের বন্ধু, ভাইবোনদাদাদিদিসম চিত্রগ্রাহকদের, সংবাদকর্মীদের। অথচ একটা সঠিক, একটা সেরা মুহূর্তের খোঁজে আমরা ভিউ ফাইণ্ডারে এক একটা জীবন অতিবাহিত করি। ক্যামেরাকে সন্তান সম আদরে সামলে রাখি। ক্যামেরাকে প্রেয়সীর মত আলিঙ্গন করি। পড়লে ক্যামেরাকে বুকের ওপর নিয়ে পড়ি। উঠলে ক্যামেরা মাথার ওপর নিয়েই উঠি, সব সমস্যা, প্রতিকুলতা, সমালোচনার ঊর্ধ্বে। অথচ...
কাট ইট (কী যাতা করে চলেছ তখন থেকে এসব কেউ দেখে নাকি? লেখে নাকি? শোনে নাকি? বলে নাকি? স্টপ ইট। প্যাক আপ... )
Monday, September 21, 2020
নিঃস্বকর্মা
মেচেদার প্রসেঞ্জিত মণ্ডলের বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। নিয়মিত ওষুধ পথ্য চলত। ওষুধ শেষ হয়ে গিয়েছিল তাই বাড়ির একমাত্র রোজগেরে ছেলে প্রসেঞ্জিতকে তার বাবা বলেছিলেন ওষুধটা আনতে। পকেটে একটাও পয়সা ছিল না। বেতন বকেয়া। দিশাহীন,নিরুপায় প্রসেঞ্জিত অসহায় হয়ে মেচেদা টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ভিতরই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন।
১১ মাস বেতন না পেয়ে লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালে বাড়ি ফেরার সময় চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করেন সুশান্ত প্রামাণিক।
একই ভাবে আলিপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জের সুজয় দাসও আত্মহননের পথ বেছে নেন। ওনারা সবাই ছিলেন বিএসএনএলের ঠিকা শ্রমিক।
এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ১৪ জন বিএসএনএলের কর্মী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তার মধ্যে ১১জনই এই বাংলার। কেন আত্মহত্যা করছেন একসময়ে ভারত সরকারের টেলিকম দপ্তরের আওতায় থাকা কর্মীরা?
তথ্য বলছে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা বিএসএনএল গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ৭৮,৫৬৯ জন কর্মীকে ভিআরএস দেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের ব্যায়ভার ১২০০ কোটি টাকা থেকে ৩০০ কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? ঠিকা শ্রমিকদের বকেয়া এখনও কেন মিটছে না? কেন স্থায়ী কর্মীরা দুমাসে একবার করে বেতন পাচ্ছেন? কোনও সদুত্তর নেই।
এই লক ডাউনের মধ্যে অন্যান্য বেসরকারি টেলিকম সংস্থা গুলি যেখানে চাপের মুখে পড়েছে গ্রাহক ছেড়ে চলে যাওয়ায় সেখানে বিএসএনএলের গ্রাহক বেড়েছে ২,০০,০০০ এর ও বেশি। শুধু তাইই নয়। লক ডাউন ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিমাসে ১৪০০ থেকে ১৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে বিএসএনএল। তবুও কেন থাকছে এমন দুর্দশা?
বেসরকারি টেলিকম ও মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করে থাকে বিএসএনএলেরই ইনফ্রাস্ট্রাকচার। এর বাবদ ওই সংস্থা গুলো থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে কেন্দ্র সরকার। বেশ কিছুদিন অনাদায়ী হয়ে পড়েছে কেন্দ্র সরকারের প্রাপ্য সেই অর্থ। সম্প্রতি দেশের শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল ওই বেসরকারি টেলিকম সংস্থা গুলি। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছেন ওই বকেয়া মেটানোর সময়সীমা আগামী ১০ বছর বর্ধিত করা হল।
তার ওপর বিএসএনএলে 4G নেটওয়ার্ক যুক্ত করবার বিষয় টিকে এখনও মঞ্জুর করল না টেলিকম দপ্তর। বিএসএনএলের কর্মীদের সংগঠন বিএসএনএল এমপ্লয়িজ অ্যাসোশিয়েসনের পক্ষে এ নিয়ে লাগাতার আন্দোলন চলছে। সংগঠনের পক্ষে অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়, অনিমেষ মিত্ররা বলছেন এখন দ্বিমুখী আন্দোলন চালাতে হচ্ছে , প্রথমটা শ্রমিক ছাঁটাই প্রতিরোধ একই সাথে 4G নেটওয়ার্কের সংযুক্তিকরণ।
টেলিকম মন্ত্রক দায় ঝেড়ে ফেলে বলেছে ঠিকা শ্রমিকদের বকেয়া মেটানোর কোনও দায় নেই সরকারের। এই অবস্থাতেই দিন কাটাচ্ছেন রক্তমাংসের বিশ্বকর্মারা নিঃস্ব কর্মা হয়ে।
কেন নিজের গান গাইতে পারছেন না শিলাজিৎ? কারা বাধা দিচ্ছে?
ভাবুন তো
বব ডিলান "ব্লোয়িং ইন দ্য উইণ্ডস" গাইতে গেলে কারও অনুমতি নিচ্ছেন, "মে আই সিং মাই সং?"
বা রজার ওয়াটার্স কিংবা মাইকেল জ্যাকসন অনুমতি নিচ্ছেন " মে আই? সিং?"
বা সলিল চৌধুরী হারমোনিয়ামের বেলো টেনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন একটা অনুমতির, তবেই তিনি গাইবেন "ও আলোর পথযাত্রী এ যে রাত্রি এখানে থেমো না।"
বা আয়ুব বাচ্চু, বা আবিদা পরভিন, বা চিস্তি বাউল, বা এ আর রহমন বা... আরও অনেক সপ্তসুরের সারথিরা অনুমতি নিচ্ছেন? "আমি কি আমার গান গাইতে পারি?????? মহাশয়, মহাশয়া"
কী ভাবছেন ভুল বকছি? একদমই নয় এমনটাই হচ্ছে। । এই শহরেই হচ্ছে। ঘোরতর ভাবে হচ্ছে, প্রতিনিয়ত, রোজ হচ্ছে।
যার সঙ্গে হচ্ছে তাঁর পাঁজরে আলপিন বিঁধে যাওয়ার মত যন্ত্রণা নিঃশব্দে রক্ত ক্ষরণ ঘটাচ্ছে লাবডুব করা হৃৎপিণ্ডে।
মন, মাথা, শরীর মশাল হয়ে জ্বলছে। নিজের লেখা সুর করা গান তাঁর কণ্ঠ হতে কারা "নিল ভুলায়ে" ?
তিনি শিলাজিৎ মজুমদার। নব্বই এর দশকে নতুন ধারার বাংলা গানকে যে সব শিল্পীরা অন্য খাতে বইয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন আজ নিজের গানের লিরিক ও সুরের কপিরাইটের জন্য খুব কষ্টে আছেন। কোনও পাবলিক পারফরমেন্সে নিজের গান গাইবার আইনত অধিকার নাকি নেই তাঁর।
নব্বই এর দশকে বেসিক বাংলা গানের ধারা বাংলা গানের ইতিহাসে না এলে কী হত তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে গবেষণা করতে পারে আগামী দিনের সাহিত্য বা সঙ্গীতের ছাত্রছাত্রীরা। সেই নতুন ধারার বাংলা গানের এক উজ্জ্বল শিল্পী গাইতে পারছেন না নিজের গান। ভাবতে পারেন 'বাজল ছুটির ঘণ্টা', বা 'ঘুম পেয়েছে বাড়ি যা' বা 'প্রেম যেন ওয়েসিস' এখন শোনা যাবে না শিলাজিৎ এর কণ্ঠে! কোনও লাইভ অনুষ্ঠানে! এমন কি "ওলোলোমামা তালালামাতিনি মামাআমিতে" এই মন মাতানো ইয়ডেলিং ও আমি আপনি আর শুনতে পাব না শিলাজিৎ এর কণ্ঠে! উনি পারবেন না গান গুলি গাইতে! সুরগুলো ছাড়তে! অথচ গান গুলি তাঁরই লেখা। তাঁরই সুর করা। কী রকম কষ্ট হয় ভাবতে পারেন?
ওই যে কোভিড সংক্রমণের শুরুর সময় একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, মনে আছে? এক স্বাস্থ্যকর্মী মা তিন সপ্তাহ বাড়ি যেতে পারেন নি। তারপর তাঁর স্বামী তাদের তিন বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালের সামনে। প্রায় কুড়ি ফুট দূর থেকে মা আর মেয়ের দেখা হচ্ছে। ওই স্বাস্থ্যকর্মী মা তাঁর সন্তানকে আদর করতে পারছেন না, পাছে সংক্রমণ ছড়িয়ে যায়। অঝোর ধারায় কাঁদছে মা আর ৩ বছরের শিশু কন্যা! এ বিচ্ছেদ যেন তার সাথেই তুলনীয়। কোথাও তার চেয়েও বেশি। ওই স্বাস্থ্যকর্মী মা হয়ত এখন ফিরে পেয়েছেন তাঁর কোলে সন্তানটিকে কিন্তু আমাদের নাগরিক বাউল?
লেখকরা এক একটা অক্ষর লেখেন অনেক আদর দিয়ে, অনেক আবেগ মিশিয়ে। সুরকাররা লেখায় প্রাণ দান করেন সাত সুর বুলিয়ে বুলিয়ে। আর গায়ক সেই গানে নিজের সেরা এক্সপ্রেশনটা দিয়ে তাকে মানুষের মনে গেঁথে দেন। তাই তো গান হিট হয়। সুর হণ্ট করে। কথা ভাবায়। আর এই লেখা, সুর করা এবং গাওয়া এই তিনটি কাজ যদি একটি মানুষই করে গানটিকে অমর করে তাহলে তো সেই গান তাঁর সন্তানসম। তাঁর থেকে সেই গান কেড়ে নেওয়া তো শুধু অপরাধই নয়, পাপ।
এরকমই কাজ চলছে। আমাদের শহরে। যে মিউজিক কোম্পানির সঙ্গে আজীবন কাজ করে এসেছেন শিলাজিৎ তারাই তাঁকে কপিরাইট স্ট্রাইক করছে। শিল্পী বলছেন "১৯৯৪ এর ১ সেপ্টেম্বর আমার যে অ্যালবাম বেরিয়েছিল আমি তা গাইতে পারব না। আমার লেখা, আমার সুর, আমার চিৎকার, আমার শীৎকার, আমার আবেগ অন্যকে বিক্রি করে দিয়েছে ওই কোম্পানি, আমাকে অন্ধকারে রেখে। তাই আমি চাইলেও ওই গান গুলো গাইতে পারব না। আমার প্রভিডেণ্ট ফাণ্ড নেই, ওই গান গুলিই আমার সন্তান, আমার সম্পদ। অথচ আমাকে তাদের ছুঁতে দেওয়া হচ্ছে না। চাইলেও আদর করে গাইতে দেওয়া হচ্ছে না ওই গান গুলো।"
শুধু 'ভূমিকা'ই নয় ওনাদের সঙ্গে রেকর্ড করা সমস্ত গানেই কপিরাইট স্ট্রাইক করছে শিল্পীকে। আর সেই গানের সংখ্যাও নেহাত কম নয় ৫০এর ও বেশি।
তবে যখন সাধারণ মানুষ হেরে যায় হতাশ হয় তখনই সেই হতাশার স্তুপ থেকেই জেগে ওঠে একজন শিল্পীর সত্ত্বা। তাই বোধহয় শিল্পীদের প্রতিবাদ তাদের সৃষ্টিতে। সেই পথেই হেঁটেছেন শিলাজিৎ। তাই ১ সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে নিজের ইউটউবে শিলাজিৎ শুরু করলেন রি-ভুমিকা। প্রতিদিন গেয়েছেন ১টি করে নদিনে মোট ৯টি গান। সেই গানগুলি গাইতে গিয়ে বারে বারে কথা ও সুর পাল্টেই গেয়েছেন শিলাজিৎ। তৈরি হয়েছে নতুন এক একটা গান। ২০ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠান হল ভুমিকা রিলিজের ২৬ বছরের উদযাপনে। "ভূমিকা থেকে রিভূমিকা" শীর্ষক ওই অনলাইন অনুষ্ঠানের টাইটেল কার্ডে স্বকীয় ভঙ্গিতে শিলাজিৎ বলছেন -" আসবিস আসবিস, না আসবিস না আসবিস, আমরা থাকবিস"।
Tuesday, May 19, 2020
মাতৃভাষা-জিন্দাবাদ !! ১৯শে মে
প্রান্তিকের ব্লগ My Travel And Pictures
পিয়ালীর ব্লগ
Piyali's Talk (যাঁরা পিয়ালীকে চেনেন আমি জানি তাঁরা পিয়ালীর ব্লগের নামটার শেষে লিখতে চাইবেন that continues )
Sunday, May 10, 2020
মা মানে কি শুধুমাত্র নারী সত্ত্বা?
আমার youtube চ্যানেল Mother Nature আর আমার Nandan Paul চ্যানেলে আপনাদের স্বাগত। ফেসবুকে আসুন Mother Nature আর Nandan Paul পেজে কথা হবে। সবাই ঘরে থাকুন , ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
Sunday, July 15, 2018
হাসেন অন্তর্যামী : শহরের প্লাস্টিক দূষণ মাড়িয়ে চলল ইস্কন রথের চাকা Plastic Pollution in ISKCON Ratha Yatra

ভাণ্ডারাওয়ালারা পুণ্যলাভের লোভে ভুলে গেলেন ওই পথেই আসছেন জগন্নাথ। চারপাশ পলিথিন প্লাস্টিক মলিন করে তাঁরা তখন মানুষজনকে জোরাজোরি করছেন সেবা নেওয়ার জন্য।
পড়ে রইল প্লাস্টিক। তার ওপরই মেয়েরা নাচগান করল। শহরের আপামর জনগন অপেক্ষা করল। আর রথ ,মূর্তি, সেবাইত সবাই চললেন সেই দূষণ মাড়িয়ে। হো হো হাসিতে মেতে উঠলেন জগতের নাথ।

হয়ত অনেকেই জানেন প্লাস্টিকের ভয়াবহতা। তাঁরা এটাও জানেন সম্প্রতি মুম্বই আর দিল্লিকে প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এখনও টেলিভিশন প্রাইমটাইমে , বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ রয়েছি প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। আর যাঁরা প্লাস্টিক দূষণকে হালকা ভাবে নেন তাঁরা এই ব্লগপোস্টটিকে পাগলের প্রলাপ, অর্বাচিনের মন্তব্য অনেককিছুই বলতে পারেন তাতে কিচ্ছু যায় কিম্বা আসে না।
পরিশেষে একটা কথা ঈশ্বর ভক্তির অছিলায় ভক্তদের সেবা যদি করতেই হয় তাহলে উচ্ছিষ্ট পরিষ্কার করাও সেই সেবারই অঙ্গ এটা মাথায় রাখাও উচিত।
Friday, June 8, 2018
পরিবেশকে ভাল রাখার ৫০ টি সহজ উপায় | 50 Easy Ways You can HELP Nature
শুধুই গেল গেল করব ? নাকি আমাদের ও করণীয় কিছু আছে। পরিবেশ বাঁচাতে কী কী করব আমরা সে সব নিয়ে আজ কয়েকটা সহজ টোটকা। তার আগে দেখে নিন ভিডিওটা। জল বাঁচানোর কী দারুন সহজ বৈজ্ঞানিক উপায়। শুধু মাত্র একটা ডিভাইস। প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল খুব ভাল ভাবে বাঁচানো যায় এই ছোট্ট ডিভাইসটি দিয়ে।
৪) পশু পাখির প্রতি স্নেহশীল হন। পথের পড়ে থাকা কুকুর ছানা বিড়াল ছানাদের বাড়িতে পুষুন। অবশ্যই প্রপার ভ্যাক্সিনেশন করে।
৫) জোর গান , লাউড স্পিকার বাজানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন।
৯) যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলবেন না। তাতে মাইক্রোপ্লাস্টিক হওয়া এড়ানো যাবে।
১০) পুকুর , নদী ,নালা বা অনত্র যেখানে প্লাস্টিক দেখবেন সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে। ফেলুন
১১) এলাকায় প্লাস্টিক পরিষ্কার অভিযান আয়োজন করুন , জনমত তৈরী করুন।
১২) মাইক্রোবিডস বিহীন প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। ইন্টারনেটে খোঁজ নিন কিসে কিসে মাইক্রোবিডস আছে।
১৩) যে সব কাপড়এ মাইক্রোফাইবার আছে তার ব্যবহার ও পরিষ্কারের ব্যাপারে সচেতন হন।
১৪) প্রাকৃতিক ফাইবার যুক্ত জামাকাপড় ব্যবহার করুন।
১৫) বাজার করতে গেলে কাপড়ের ব্যাগ , চটের ব্যাগ ব্যবহার করুন।
১৬) বাড়ি ও গাড়িতে প্রয়োজন ছাড়া এসি বন্ধ রাখুন।
১৭) গাড়ির হর্ন বাজানোর অভ্যাস কমান।
১৮) প্রয়োজন ছাড়া ইলেকট্রিক আলো পাখা বন্ধ রাখুন। সিএফএল বা কম ওয়াটের আলো ব্যবহার করুন। বাড়িতে প্রাকৃতিক আলো আসার পথ বাড়ান।
১৯) সোলার আলো পাখা খুব একটা বেশি দাম নয়। অনলাইন শপিং এ বা বাজারে পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করুন।
২০) দাড়ি কাটার ফোমের জায়গায় জেল ব্যবহার করুন।
২১) রুম স্প্রের জায়গায় ধুপ। ডিওডেরেন্টের জায়গায় পারফিউম বা আতর ব্যবহার করুন। ফুলের ব্যবহার করুন।
২২) পুজোর ফুল বেলপাতা ও অন্যান্য পুজোর সামগ্রী নদীতে ফেলা থেকে নিজে বিরত থাকুন। অন্য কেউ একাজ করছে দেখলে তাকেও আটকান।
২৩) বেড়াতে গেলে খেয়াল রাখুন যাতে আপনি প্লাস্টিক দূষণ না করেন। অন্য কেউ প্লাষ্টিক ফেলে গেলে সেগুলো ওয়েস্ট বিনে ফেলুন।
২৪) ঘর পরিষ্কার করার জন্য বিষাক্ত কেমিক্যাল ছেড়ে ভেষজ ক্লিনার ব্যবহার করুন। লেবুর রস , বেকিং সোডা বা ভিনিগার দিয়ে কী দারুন ঘর পরিষ্কার হয় জানেন!! রাসায়নিক ক্লিনারের বদলে ওগুলো ব্যবহার করুন। আরও পরিবেশ ও জল বান্ধব বিকল্প খুঁজুন। নিজে জানুন অপরকে জানান।
২৫) মশা মারার ক্ষতিকর ধুপ বা লিকুইড ছেড়ে ধুনোয় কালকাসুন্দা পাতা ব্যবহার করুন। মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস ফিরিয়ে আনুন।
২৬) শিশুদের জু গার্ডেন পার্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে যাওয়ার নিয়মিত অভ্যেস করুন। ওদের সেখান স্বুস্থ পরিবেশের গুরুত্ব।
২৭) অতিফলনশীল নয় স্থানীয় ফসল চাষ করুন যে ফসল এর ভ্যারাইটিগুলো প্রাকৃতিক ভাবেই কম জল টানে। মনে রাখবেন MORE CROP MORE DROP . বাগানের গাছের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। রাসায়নিক ছাড়া চাষ করুন। জৈব সার ব্যবহার করুন।
২৮) রোজকার বাড়ির কাজে যত কম পারেন রাসায়নিকের ব্যবহার করুন। আর যদি রাসায়নিক ব্যবহার করতেই হয় সেগুলো সঠিক স্থানে ফেলুন যাতে ওই সব ক্ষতিকর জিনিসগুলি মাটিতে না মেশে ,কখনই মাটিতে ফেলবেন না।
২৯) খেয়াল রাখুন যাতে বাড়ির ব্যবহার্য রং , ওষুধ , মোটর অয়েল , ইঞ্জিন অয়েল সরাসরি মাটিতে না মেশে।
৩০) ফ্রিজের ব্যবহার কমিয়ে মাটির জালা বা কুঁজো ব্যবহার করুন। জলের অপচয় কম করুন। ব্রাশ করতে করতে ,বা দাড়ি কাটতে কাটতে বেসিনের ট্যাপ বন্ধ রাখুন।
৩১) বাড়ির ছাদে জলের ট্যাঙ্কে অটোকাট বাজার লাগান। যাতে জল ভরে গেলেই পাম্প বন্ধ হয়ে যায়।
৩২) সারা বাড়ির জলের লাইনের নিয়মিত পরীক্ষা করান প্লাম্বারকে দিয়ে। কোন কল, সিস্টার্ন, ভালভ দিয়ে যেন জল নষ্ট না হয়ে যায়। যাঁরা বাস্তুশাস্ত্র বিশ্বাস করেন তারাও বলেন জল নষ্ট হওয়া খারাপ বাস্তুর লক্ষণ। আপনি আপনার আগামীর কথা ভেবে করুন।
৩৩) পারলে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ও পরবর্তীতে সেই জল ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
৩৪) স্নান ,কাপড় কাচা প্রয়োজন। ওগুলোকে বিলাসিতা করে ফেলবেন না। ৫ মিনিটের বেশি স্নান মানে আপনি ক্ষতি করছেন ,এটা মাথায় রাখবেন।
৩৫) দিনের ঠান্ডা সময় গুলোতে অর্থাৎ ভোরে আর সূর্য ডোবার ঠিক পর বাগানের লনে আর গাছে জল দিন।
৩৬) কাগজ ,প্লাষ্টিক , কার্ডবোর্ড ,কাচ রিসাইকেল করুন। যে সব জিনিস তৈরিতে বেশি জল লাগে চেষ্টা করুন সেগুলো কম ব্যবহার করতে।
৩৭) GROUNDWATER RECHARGE, RAIN WATER HARVESTING বা WATER DONATE এর ব্যাপারে জানুন ,বাড়ির শিশু ও মহিলাদের জানান , বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।
৪১) বিল পেমেন্টের ক্ষেত্রে কাগজের ব্যবহার একদম না করতে অনলাইনে বিল পেমেন্ট করুন। অর্থকরি লাভও পাবেন সাথে সাথে বেশ কিছু গাছের অকাল মৃত্যুও বাঁচাতে পারবেন।
৪৮) বাজার করার সময় সার দেওয়া সব্জি বা চালানি মাছ এর চেয়ে স্থানীয় সব্জি বা মাছ কিনুন। খেয়াল রাখবেন যে বেগুনটি পোকায় খাওয়া সেটির স্বাদ অন্য বেগুনের চেয়ে ভাল হয়। কারণ পতঙ্গ রাসায়নিক বিষ দেওয়া সবজিতে বসে না।
৪৯) টিস্যু পেপারের বদলে রুমাল আর প্যাকেজ পানীয় জলের বদলে ধাতব জলের বোতল ব্যবহার করুন।
৫০) ছোটদের কাঠের পুতুল , মাটির পুতুল , তালপাতার সেপাই , তালপাতার বাঁশি জাতীয় খেলনা দিন। প্লাস্টিক খেলনা ওদের কচি ত্বকের জন্য খারাপ।
Tuesday, June 5, 2018
"ওহ মা ! আর পারছি না !" এই মা আসলে কে ? World Environment Day
এই ধরুন কিছুদিন ধরে সকালে কাগজ খুললে দেখছি পচা মাংস মাছ খাবার হিসেবে নাকি খেয়েছি আমরা বেশ কিছু দিন। সন্ধেয় টেলিভিশনে বা সারাদিনের ই ভিডিওতে সেই পচা গলা মাংস বাজেয়াপ্ত করার সম্প্রচার। এদিকে আবার নিপা ভাইরাস ছড়াচ্ছে আম, লিচু , মুরগিতে। খাবেন কী মশাই ? ভয়েই মরে যাবেন। আপনার আমার মত সাধারণ মানুষ সাতেও নেই পাঁচেও নেই তাদের মানসিক শান্তি নয়ছয় করে দেওয়ার জন্য এই নিউজ ফিড গুলো যথেষ্ট। দাদা এই তো পরিবেশ। তার আবার দিবস!!! ও কি খায় না মাথায় মাখে ? ঠিকই তো। এই যে কুকুর খেয়েছি মাটন ভেবে এই ভাবনা মনে ঢোকার পর থেকে চাইলেও বমি করতে পারছি না এ কি কম জ্বালা। দাদাভাই ভাববেন না। কষ্ট করে একটু গুগল করুন দেখবেন কুকুর , বিড়াল , ষণ্ডের অন্ডকোষ , টিকটিকি, আরশোলা , মাকড়সা , স্যাপ, ব্যাঙ , জ্যান্ত অক্টপাস , সব খায় তামাম দুনিয়ার মানুষ। দুনিয়া কী এই দেশেই মিজো সমাজে কুকুর খুব সম্মানীয় ও উপাদেয় পদ হিসাবে পরিবেশন করা হয়। আবার গুগুল করুন পচা আমিষ খাবার। পচা দুধ ,পচা চিজ , সার্ক মেরে তাকে মাটির তলায় চাপা দিয়ে পচিয়ে তাকে শুকিয়ে সেই প্রায় কাঁচা সার্ক যার পোশাকি নাম হাকর্ল সেটা পরিবেশন করা হয়। অবশ্য সেটা নাক খোলা রেখে কিভাবে খাওয়া সম্ভব যাঁরা খেয়েছেন তাঁরাই জানেন। অথবা ইতালির কাসু মারজু। সত্যিকারের পচা চিজ যার থেকে পোকা (ম্যাগট ) বেরোচ্ছে সেটা চাঁদ মুখ করে ওনারা খেয়ে নেন। আর আপনি ধাপার ভাগাড় ফেরত মাংস খেয়ে দ্বিধা করছেন কী খেলাম কী খেলাম ? এ তো দেখছি শাখা প্রশাখার আনন্দ বাবুর মত দাদু আমি একনম্বর জানি দু নম্বর জানি শুনে "কী শুনলাম কী শুনলাম !!!"
ভাবনা ছাড়ুন বরং ভাবুন গোটা পৃথিবীতে উন্নত দেশগুলোয় উল্টোপাল্টা খাবার পচা খাবার আনন্দ সহকারে খাওয়া হয় সেই আনন্দযজ্ঞের নিমন্ত্রনে আপনি পাত পেড়ে খেয়ে এলেন।
ও দাদা , ও দিদি আমাদের এই কলকাতা শহরে যত হাসপাতাল , ছোট খাবারের দোকান রয়েছে সেখানকার উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহ করে নিয়ে কিছু লোকজন সব মিলিয়ে মিশিয়ে একথালা করে পেট ভর্তি খাবার এই কলকাতার হ্যাভ নটসদের দেয়। দু এক টাকার বিনিময়ে। ওদের খিদে যে বড় মারাত্মক। পাকস্থলী ভরাতে উচ্ছিষ্ট আর পচা সব এক। আয়তন ডাজ ম্যাটার নট কোয়ালিটি।
জানি মারাত্মক গা গুলোচ্ছে। পচা পচা লাগছে। ভেবেছেন কেন এত মানুষ ফুটপাথে থাকবে? দেশ কেন তাদের খাদ্য , বস্ত্র বাসস্থানের দায়িত্ত্ব নেবে না? সব সম্বলহীন কিন্তু উন্মাদ নয়, তাদের শ্রম দিয়ে যা রোজগার সেই অর্থে তারা সম্মানের জীবন কাটাতে পারে। আসলে আমাদের জীবনযাত্রার জটিলতা বাড়ার সাথে সাথে সবচেয়ে বেশি পচেছি আমরা। আমাদের টার্গেট মুখী জীবন আমাদের মনকে ওই সার্কের মতই স্বার্থপরতার বালি পাথরে চাপা দিয়ে পচিয়ে দিয়েছে। ভাগাড়ের মাংস তো সেই পচনেরই বহিঃপ্রকাশ। আপনার বিশ্বাসের পুঁজি নিয়ে যদি কোন ব্যবসায়ী বা খাদ্য বিক্রেতা আপনাকে পচা মাংস , পচা খাবার খাওয়ায় তাহলে সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে পচেছে তার হৃদয় , মনুষত্ব।
আজ পরিবেশ দিবস। আমার পরিবেশ ? ঘরের ড্রয়িং রুমে ভয় দেখানো খবরীলাল টেলিভিশন। যাদের কাছে অনুপ্রাণিত করার মত খবরের অভাব। ঘন্টা খানেক এর স্বঘোষিত জিরো আওয়ার করে তারা পাতি ঠেকের ঝগড়া বসায় তর্কের নামে। সেটের আলো নিভলে পেমেন্ট নিয়ে আবার পরের দিনের ঝগড়ার জন্য তৈরী হয় ঝগড়ুটেরা। বিনোদন চ্যানেলগুলোতেও মূল উপজীব্য ঝগড়া। আর বস্তাপচা কুসংস্কার ,অন্ধকার। যেন পিরিয়ডিক্যাল সিরিজ হলেই ডায়লগ একটু গেঁয়ো করে দিলেই হল। এদের স্ক্রিপ্ট রাইটাররা কলকাতা সৰ্বস্ব, বাস্তবজ্ঞান রহিত। এদের কাছে গ্রাম মানেই নেগেটিভ অশিক্ষিত জনগণ । এই গেল সান্ধ্য বা মোটামুটি বিনোদনের ডেইলি ডোজ।
রাস্তায় আমার পরিবেশ। হর্নের দাপটে কান পাতা দায়। তার সাথে বেআইনি সাইলেন্সার ওয়ালা বাইক। পুলিশ দেখছে কিন্তু কিছু করার নেই। কারণ শব্দদূষণের জন্য আইন ততটা কড়া এখনো নয় এখানে।
আর পথচারী ? কানে হেডফোন সোজা যেন ব্রেনে তার ঢুকে গেছে। ও ভাই ,ও বোনটি রাস্তা তো গান শোনার জায়গা নয়। বাড়িতে শোনো। ড্রাইভ করতে করতেও সে তখন সংগীত সুধা পান করে চলেছে। অতএব আমার পরিবেশ অস্থির , ভয়ার্ত , অবিশ্বাসের বিষে নষ্ট পচা।
এবার আসি মা প্রকৃতির কথায়। এর বেশ কয়েকটা আগের ব্লগে জল , প্লাষ্টিক এসব নিয়ে বলেছি। সংরক্ষণ কর্মীদের কথা আজ একটু হোক। পৃথিবীটা মানুষের একচেটিয়া অধিকার কায়েম করার জায়গা নয় এখানে একটা গুবরে পোকা যতটা গুরুত্বপূর্ণ , ততটাই একটা হাতি বা বটগাছ বা হাঙ্গর। শুধু মানুষের উন্নতির কথা ভাবলে বাড়বে দূষণ ,বদলাবে জলবায়ু। এই ধরণের বিশ্বাসকে ধর্ম করে চলা পরিবেশ আক্টিভিস্ট দের মধ্যে ২০১৫ সালে প্রায় ১৮৫ জন আর ২০১৬এ প্রায় ২০০ জন পরিবেশ কর্মী খুন হয়েছেন। ভারতে পরিবেশ কর্মীদের কবর খোঁড়ার সংখ্যাটা বাড়ছে।
Wednesday, May 9, 2018
মিছে কোলাহল - ২৫ শে বৈশাখ
![]() |
| ছবি: ইন্টারনেট |
রবি ঠাকুর আপনার প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, সম্মান নেই আমাদের। যদিও আজ আপনার দিন, আজ আপনাকে নিয়ে গদগদ ভাবাবেশ। তবু আজই বোধহয় সত্যি কথাটা কনফেস করা প্রয়োজন। বাঙালির কাছে আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয় আপনার সঙ্গীত। আপনার প্রবন্ধ গদ্য ছোটগল্পের ভাঁড়ার নিয়ে পশ্চিম বাংলার আম বাঙালির তেমন ইন্টারেস্ট নেই। আপনি বলতে সাধারণ বাঙালি যা বোঝে সেই সঙ্গীতের জনগণতান্ত্রীকতার জন্য বরাদ্দ এখন ট্রাফিক বাতির লাউড স্পিকার। যেখানে কাঠফাটা রোদে মিসম্যাচ আপনার একা জ্যোৎস্না রাতে ঘরে না থাকার আকুতি। ছুটন্ত শহর সময়ের পিছনে তাড়া করছে যখন, তখন আপনার সুর, কথা, কোথায় কী ?!! সেকেন্ড বদলাতে থাকা ইলেকট্রনিক মনিটরে তখন সব চোখ।
মাফ করবেন রবিন ঠাকুর!!! আজ আমরা আপনার ঐতিহ্য সম ব্যক্তিত্যের গায়ে পড়া আলোর প্রতিফলন টুকু নেওয়ার জন্য উন্মাদ। আপনার জন্মদিনে আপনার সৃষ্টি আপনার পৌত্তলিকতার কাছে হার মেনেছে। আপনি যতই দাবি করুন না কেন "মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক আমি তোমাদেরই লোক। " আমরা সযত্নে আপনাকে দামি, সুদৃশ্য, অ্যান্টিক শো পিসের মত সাজিয়ে গুজিয়ে আপনাকে দেবত্ব প্রদান করেছি। আপনার পুজোর বাহ্যিক আড়ম্বরে মৃত আপনার সৃষ্টি, আপনার মূল্যবোধ, আপনার অন্তরাত্মা। আর সেই ঠাকুর আপনির নৈবেদ্যর তলায় অবিশ্বাসের পচন, স্বার্থপরতার দুর্গন্ধ, হানাহানির শঙ্কা, আর ধর্মীয় মোহের অন্ধতা। আর ওপরে জেগে থাকে বাটিকের শৌখিন পাঞ্জাবি শাড়ি , বিদেশী পারফিউম আর রজনীগন্ধার বাহার।
সত্যি বলছি, একশো ভাগ খাঁটি, খুব রাগ হয়। আপনার অসহায়তা দেখে! আপনার ছবির বুক ঢেকে যাচ্ছে ফুলে, মালায়। অন্তরের নৈবেদ্য নেই, নেই আপনার কাজের চর্চা, আছে শুধু চোখ জ্বালা করা ধুপের ধোঁয়া, দীপের আলোর ধাপ্পাবাজি। কাগজে, পাথরে, কাপড়ে, সিল্কে, সুতিতে, টেরাকোটায়, তামায়, পিতলে, ব্রোঞ্জে, ফাইবার গ্লাসে আপনার মূর্তি বানানো। "প্রাণের ঠাকুর", "আলোর দিশারী", "জীবন কাণ্ডারী" নানান বিশেষণে আজ আপনি সবিশেষ। কিন্তু সত্যিটা ভাঙা রেকর্ডের মতই দূরে কোথাও একলা অবহেলায় বাজছে- "তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না করে শুধু মিছে কোলাহল, সুধা সাগরের তীরেতে বসিয়া পান করে শুধু হলাহল।" আপনি বাঙালির এস্ট্যাবলিশমেন্ট শট, গোটা জাতটার ব্র্যান্ড এম্বাসাডার, আইকনিক ফিগার। কিন্তু আপনার পর আপনাকে, আপনার চেতনার পথকে অনুসরণ করতে আমরা কী করেছি? বৎসরান্তে দুর্গাপুজোর মত পাড়ায় পাড়ায় মাচা ঠুকে ২৫শে বৈশাখ পালন, দু এক পিস সিডি রেকর্ড করা, ইউটিউব সিংগলস্ করা, বিজ্ঞাপনে আপনাার সৃষ্টির বিকৃতি করা, বিদগ্ধ মানুষজনের বৈবাহিক ডিভিডিতে আপনার গান এডিট করে লাগিয়ে দেওয়া।এই ভাবেই বাঙালি চর্বিত চর্বণ করছে ,করে চলেছে আপনাকে। আর মাল্টিপ্লেক্সের সিনেমার শুরুতে আপনার গানের ভ্যাঙানি ভার্সন - "জ্যান জ্ঞান ম্যান ইয়াধি ন্যাঈয়াক জ্যায় হে। হে হে রাভিন্দরনাথ!!বোধহয় এভাবে শুনতে ভাল লাগছে না, জানি কিন্তু কী করব বলুন! সত্য তো ভালতেও সত্য, মন্দতেও সত্য। আর ভাল লাগছে না বলেই লিখছি। আনুষ্ঠানিক উপাচারের বাইরে আজ কোথায় আপনি? আমাদের দৈনন্দিন জীবন চর্চা, আমাদের দৈনন্দিন বিনোদন, আমাদের সৃষ্টি, কৃষ্টি, সংস্কৃতি আজ আপনাকে ছাড়াই সাবলম্বী। টেলিভিশন এর ভীষণ ভাষণ বা আধাখেঁচড়া বাংলা শুনে বড় হচ্ছে যে প্রজন্ম তাদের কথা তো বাদই দিন। যাদের হাতে টেলিভিশনাচারের গুরু দায়িত্ব তাদের আলমারিতে আপনি থাকলেও মননে - ঠাঁই নেই ঠাঁই নেই । কিংবা সংবাদ পত্রে যাঁরা উদ্বেগ জনক খবরকে গুরুত্ব দেন যাঁরা, ধর্ষকাম কে ধিক্কার দিয়ে মনের মত বন্ধু বান্ধবী বা মাসাজ পার্লারের বিজ্ঞাপন আবার তাঁরাই ছাপেন। তাঁরাই আবার প্রান্তিকে বাড়ি করেন আপনার ছত্রছায়ায় থাকবেন বলে। আপনার নামে ট্রেন, বাস, হোটেল, ট্যুরিজম কোম্পানি, চায়ের দোকান, মনিহারী, চাউমিন ব্রান্ড। ঠাকুর, কিতনে আদমি হ্যায়!!! ও ঠাকুর হাট হাট। হাট বসেছে। আর সেই হাটে একমাত্র পণ্য আপনি। বিশ্বে বাংলার ব্রান্ড ভ্যালু আপনি। বাংলার ইউ এস পি, আপনি। অথচ আজ ভয়ঙ্কর ভাবে অনুপস্থিত আপনার অস্তিত্ত্ব। এ পোড়া জাতটাকে একবার বেঁচে উঠতে বলুন আপনার অন্তরাত্মাকে অনুসরণ করে। পৌত্তলিকতা , আপনার ভজনা আপনাকে আক্ষরিক অর্থে ঠাকুর বানিয়ে ফেলা বোবা বাঙালিকে বোকা বাঙালির বোধোদয় এর প্রার্থনা করুন আপনিও, রবীন্দ্রনাথ।
![]() |
| ছবি : ইন্টারনেট |
পরিশেষে আর একটি সোশাল সাইটে বহুল প্রচারিত ছড়া দিলাম ছড়িয়ে।
তোমার নামে সদন যেথায়,
সেথায় আমরা প্রেম করি ;
তিনটে স্টেশন তোমার নামে,
রোজ সকালে ট্রেfন ধরি !
ভর দুপুরে ট্রাফিক জ্যামে
রোদ্দুরেতে কাঠ ফাটে,
লাউড- স্পিকারে তোমারি গান –
“পায়ের চিহ্ন এই বাটে”
আজকে তোমার হচ্ছে পুজো
ঝাড়ছি ধুলো, জ্বালছি ধূপ
বেবিডল আজ কৃষ্ণকলি
তোমার ফটোয় ফুলের স্তূপ।
কাল-ই কিন্তু স্টোর রুমেতে তে
পাঠিয়ে দেব তোমায় ঠিক,
প্রাণ জুড়োবে গান শুনিয়ে
রেডিও মির্চি রাবীন্দ্রিক !
আজকে তোমার মুর্তি ধুয়ে
করছি আমরা পরিপাটি
কাল থেকে ফের তোমার মাথায়
কাক পক্ষী করবে পটি....
আমরা পড়ব ব্যস্ত হয়ে,
আই পি এল এই সব দিনই
দাড়িবুড়ো তোমার জন্যে
বরাদ্দ বস একদিন-ই.....
ফ্যান তো হেথায় ভালোই জোটায়
অরিজিত আর হানি সিং
তোমার ফ্যানের কাউন্ট জানো?
ছদ্মবেশী ভানুসিং?
তোমার নামে পেজ রয়েছে
ফেসবুকে আজ খান শয়েক....
স্বর্গ থেকেই লাইক ঠুকে দাও
পেজ গুলোতে খান কয়েক ....
দেখবে কেমন ভরে যাবে
তোমার এফ বি নিউজ ফিড...
দেড়শ বছর পরেও তুমি
ইকুয়ালি সুপারহিট .....
আধুনিকের সংগা তুমি
তুমি গুরু তুলনাহীন
তুমি বিনা আমরা যেন
ফুচকাটা টক জল বিহীন ....
আগামী মাস টা বিয়ের সিজিন
ব্যাস্ত থাকবো প্রায় দিনই
কবিগুরু তোমার জন্য
বরাদ্দ বস এক দিনই.....
অসম্ভব একটা খারাপ লাগা থেকে উৎপন্ন হওয়া হতাশা থেকে এই লেখাটা লিখলাম। কারো খারাপ লাগলে হয় পাগলের প্রলাপ বলে ভুলে যাবেন। নয়ত নিজ গুনে ক্ষমা করবেন।
Monday, May 7, 2018
Pradip Sur : Philosopher, Artist and Artisan

Follow me in twitter , facebook and youtube


































